ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি? রেলওয়েতে ক্যারিয়ার গড়তে জেনে নিন

সরকারি চাকরি মানেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ধোপদুরস্ত পোশাক, এসি রুম আর ফাইলের স্তূপ। কিন্তু সব সরকারি চাকরি কি এমন? একদম না। রেলওয়ের চাকরিক্ষেত্রে এমন কিছু পদ আছে যা আক্ষরিক অর্থেই ঘাম ঝরানো পরিশ্রম দাবি করে, কিন্তু বিনিময়ে দেয় আজীবনের নিশ্চয়তা। এমনই একটি পদ হলো ‘ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস’। আপনি যদি রেলওয়েতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তবে ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি তা জানা আপনার জন্য ফরজ।

আজকের এই গাইডটি কোনো তাত্ত্বিক বুলি নয়। একদম মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা দিয়ে সাজানো হয়েছে। ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কি কাজ করে, তাদের ডিউটি কতটা চ্যালেঞ্জিং, আর মাস শেষে প্রাপ্তিটাই বা কী- সবকিছুই আমরা খুঁটিয়ে দেখব। চলুন, সরকারি চাকরির এই ‘সোনার হরিণ’ এর পেছনের গল্পটা জেনে নিই।

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি? রেলওয়েতে ক্যারিয়ার গড়তে জেনে নিন
ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি? রেলওয়েতে ক্যারিয়ার গড়তে জেনে নিন

Table of Contents

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস পদটির পরিচয়

সহজ বাংলায় বলতে গেলে, ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস মানে হলো ‘শিক্ষানবিশ কারিগর’। রেলওয়ে বা বড় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের হৃদপিণ্ড হলো তাদের ওয়ার্কশপ। আর এই ওয়ার্কশপ সচল রাখার জন্য প্রয়োজন একদল দক্ষ টেকনিশিয়ান। ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিসরা হলেন সেই হবু টেকনিশিয়ান, যারা হাতে-কলমে কাজ শিখে ভবিষ্যতে ওস্তাদ মিস্ত্রি বা ইঞ্জিনিয়ারদের ডান হাত হয়ে ওঠেন।

অনেকে মনে করেন, এটি হয়তো নিছকই হেল্পারের কাজ। ধারণাটি পুরোপুরি ভুল নয়, আবার ঠিকও নয়। শুরুতে ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস চাকরির কাজ মূলত সিনিয়রদের সাহায্য করা হলেও, এটি আসলে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের অংশ। এখান থেকেই তৈরি হয় রেলওয়ের ভবিষ্যৎ দক্ষ জনবল।

আরো পড়ুনঃ ট্রেন কন্ট্রোলার এর কাজ কি? রেলওয়ের নেপথ্যদের আসল দায়িত্ব

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি: 

অনেকেই জানতে চান, ভাই ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি বা এদের দিয়ে আসলে কী করানো হয়? সত্যি বলতে, এদের কাজের পরিধি বিশাল। রেলওয়ের চাকা সচল রাখতে যা যা করা দরকার, তার প্রায় সবকিছুতেই এদের অংশগ্রহণ থাকে। বিষয়টিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করলে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হবে:

১. ওয়ার্কশপ মেইনটিনেন্স বা রক্ষণাবেক্ষণ

রেলওয়ের ইঞ্জিন, বগি বা ওয়াগনগুলো নির্দিষ্ট সময় পর পর মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে আসে (যেমন: পাহাড়তলী বা সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ)। এখানে রেলওয়ে ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কাজ হলো গাড়ির বিভিন্ন পার্টস খোলা, পরিষ্কার করা এবং পুনরায় ফিটিং করা।

২. যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত

ধরুন, একটি ইঞ্জিনের কুলিং ফ্যানে সমস্যা হয়েছে অথবা বগিতে স্প্রিং ভেঙে গেছে। এই ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করা এবং সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশমতো তা মেরামত করা ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস দায়িত্ব কি কি তার মধ্যে পড়ে।

৩. শিডিউল চেকআপ

প্রতিটি ট্রেনের যাত্রার আগে বা পরে একটি রুটিন চেকআপ হয়। চাকার নাট-বল্টু ঠিক আছে কি না, ব্রেকিং সিস্টেম কাজ করছে কি না—এসব চেক করাও এদের কাজের অংশ।

আরো পড়ুনঃ ট্রেন এক্সামিনার এর কাজ কি? জেনে নিন রেলওয়ের চাকরির খুঁটিনাটি

৪. টুলস ও ইকুইপমেন্ট পরিচালনা

একজন এ্যাপ্রেন্টিসকে প্রচুর ভারী যন্ত্রপাতি নাড়াচাড়া করতে হয়। ড্রিল মেশিন, লেদ মেশিন, ওয়েল্ডিং মেশিন, গ্রাইন্ডিং মেশিন—এগুলোর সঠিক ব্যবহার জানা এবং কাজ শেষে সেগুলো গুছিয়ে রাখা ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস জব ডেসক্রিপশন এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কি কাজ করে: 

সব এ্যাপ্রেন্টিসের কাজ এক নয়। আপনি কোন ট্রেড বা বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন, তার ওপর নির্ভর করবে ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কি ধরনের কাজ করে। নিচে প্রধান কয়েকটি ট্রেডের কাজের বিবরণ দেওয়া হলো:

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কি কাজ করে
ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কি কাজ করে
  • ফিটার (Fitter): এদের কাজ সবচাইতে বেশি। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ফিটিং করা, অ্যাসেম্বলিং করা এবং মেশিনের পার্টস ঠিকঠাক জায়গায় বসানো এদের কাজ।
  • ওয়েল্ডার (Welder): ভাঙা লোহা জোড়া লাগানো বা নতুন কাঠামো তৈরি করতে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতে হয়। এটি বেশ ঝুঁকির কাজ, কারণ আগুনের ফুলকি আর ধোঁয়ার মধ্যেই থাকতে হয়।
  • ইলেকট্রিশিয়ান (Electrician): ট্রেনের ফ্যান, লাইট, এসি এবং জেনারেটর রক্ষণাবেক্ষণ করা এদের মূল দায়িত্ব। ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কাজ বাংলায় বলতে গেলে এরা রেলের ‘বিদ্যুৎ মিস্ত্রি’।
  • কার্পেন্টার (Carpenter): ট্রেনের বগির সিট, জানালা, বা কাঠের ফ্লোর মেরামতের কাজ করেন এরা।
  • পেইন্টার (Painter): পুরো ট্রেন বা ইঞ্জিনে রঙ করা এবং স্টেনসিল দিয়ে নাম বা নম্বর লেখার কাজ এদের।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কাজ: 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কাজ একটু আলাদা। আমাদের দেশে রেলের অবকাঠামো অনেক পুরোনো। তাই কাজের চাপটাও বেশি থাকে। একজন এ্যাপ্রেন্টিসের দিনটা সাধারণত যেভাবে কাটে:

  1. সকাল ৮:০০ – হাজিরা: ওয়ার্কশপে ঢুকে প্রথমেই বায়োমেট্রিক বা খাতায় হাজিরা দিতে হয়। সময়ানুবর্তিতা এখানে খুব কড়াকড়ি।
  2. সকাল ৮:৩০ – কাজের বণ্টন: শপ সুপারভাইজার বা ইনচার্জ সবাইকে কাজ বুঝিয়ে দেন। কাকে কোন ইঞ্জিনে বা কোন মেশিনে কাজ করতে হবে, তা ঠিক করে দেওয়া হয়।
  3. দুপুর ১:০০ – বিরতি: দুপুরের খাবার এবং নামাজের বিরতি।
  4. বিকেল ৫:০০ – ছুটি: কাজ গুছিয়ে, হাত-মুখ ধুয়ে বাড়ির পথে।

তবে জরুরি প্রয়োজনে বা শিফটিং ডিউটিতে এই সময়ের হেরফের হতে পারে। বিশেষ করে ঈদের সময় বা ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটলে ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস ডিউটি কি তা ঘড়ির কাঁটা মেনে চলে না। তখন দিন-রাত কাজ করতে হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ {আজকের ১০০% নির্ভুল সমাধান} বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ । Bangladesh Railway Job Question Solution 2026

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস চাকরির কাজ: 

অনেকে মনে করেন সরকারি চাকরি মানেই আরাম। কিন্তু ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস চাকরির কাজ মোটেও আরামদায়ক নয়। এটি শতভাগ কায়িক পরিশ্রমের কাজ। আপনাকে যা ফেস করতে হবে:

  • কালিময় হাত: কাজ করতে গেলে হাতে-মুখে গ্রিজ বা মবিল লাগবেই। পরিষ্কার পোশাকে ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরা প্রায় অসম্ভব।
  • শারীরিক ধকল: ভারী লোহার পাত বা যন্ত্রাংশ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়া লাগতে পারে। কোমরে বা পিঠে ব্যথা হওয়া নতুনদের জন্য খুব স্বাভাবিক।
  • শব্দদূষণ: ওয়ার্কশপে হাতুড়ির বাড়ি, মেশিনের ঘড়ঘড় শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যেতে পারে।
  • গরম ও ধুলো: অনেক সময় ফ্যানহীন শেডে বা রোদের মধ্যে কাজ করতে হয়।

তাই যারা এই চাকরিতে আসবেন, তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে যে, ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি তা কোনো অফিশিয়াল ডেস্ক জব নয়।

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস দায়িত্ব কি কি: 

যেহেতু ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ, তাই নিরাপত্তা এখানে সবার আগে। ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস দায়িত্ব কি কি তালিকার শীর্ষে থাকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা।

  • PPE ব্যবহার: হেলমেট, সেফটি সু (জুতো), গগলস এবং গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক।
  • সতর্কতা: লেদ মেশিন বা কাটিং মেশিনে কাজ করার সময় একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
  • পরিবেশ রক্ষা: ব্যবহৃত তেল বা কেমিক্যাল যেন যত্রতত্র না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা।

একজন দক্ষ এ্যাপ্রেন্টিস শুধু কাজই করেন না, তিনি নিশ্চিত করেন যেন তার দ্বারা কোনো সহকর্মীর ক্ষতি না হয়।

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস জব ডেসক্রিপশন ও পদোন্নতি

অফিশিয়াল ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস জব ডেসক্রিপশন অনুযায়ী এটি একটি প্রশিক্ষণ পদ। সাধারণত ৩ থেকে ৪ বছরের একটি কোর্স বা প্রশিক্ষণকাল থাকে। এই সময়ে আপনাকে শিখতে হবে, জানতে হবে এবং নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।

ক্যারিয়ার গ্রোথ কেমন?
প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করার পর, আপনি স্থায়ী পদে নিয়োগ পাবেন। তখন পদবী পরিবর্তন হয়ে ‘জুনিয়র টেকনিশিয়ান’ বা ‘ক্রাফট ম্যান’ হতে পারে। অভিজ্ঞতার সাথে সাথে আপনি ‘সিনিয়র টেকনিশিয়ান’, ‘মাস্টার ক্রাফট ম্যান’ এমনকি ‘শপ সুপারভাইজার’ পর্যন্ত হতে পারেন। অর্থাৎ, ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কাজ বাংলায় শুরুটা নিচে থেকে হলেও, ওঠার সিঁড়ি অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিসর পদে কর্মরতদের কাজ কী: 

আমরা কয়েকজন কর্মরত এ্যাপ্রেন্টিসের সাথে কথা বলে জেনেছি তাদের অভিজ্ঞতার কথা। তাদের মতে, ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিসর পদে কর্মরতদের কাজ কী তা শেখার কোনো শেষ নেই।

“প্রথম ৬ মাস খুব কষ্ট হতো। মনে হতো ছেড়ে দিই। কিন্তু যখন নিজের হাতে একটা অচল ইঞ্জিন ঠিক করলাম এবং সেটা চলতে শুরু করলো, সেই আনন্দটা বলে বোঝানো যাবে না। এখন কাজটাকে এনজয় করি।” — একজন রেলওয়ে কর্মচারী।

আসলে, রেলওয়ে ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কাজ তাদের জন্যই, যারা মেশিনের ভাষা বোঝেন এবং টেকনিক্যাল কাজ ভালোবাসেন।

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিসদের বেতন ভাতা 

কাজের কথা তো অনেক হলো, এবার আসি ‘পাওনা’র কথায়। এত পরিশ্রমের পর মাস শেষে কী মিলবে?

  • বেতন স্কেল: শুরুতে শিক্ষানবিশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট ভাতা বা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-২০ বা ১৯-এ বেতন নির্ধারণ হয়।
  • বাসস্থান: রেলওয়ের নিজস্ব কোয়ার্টারে থাকার সুবিধা পাওয়া যায়, যা বড় শহরের বাসা ভাড়ার খরচ বাঁচিয়ে দেয়।
  • চিকিৎসা: রেলওয়ে হাসপাতালে নিজের এবং পরিবারের চিকিৎসার সুবিধা।
  • ফ্রি পাস: বছরে নির্দিষ্ট কয়েকবার পরিবারসহ ট্রেনে ফ্রি ভ্রমণের সুযোগ।
  • পেনশন: চাকরি শেষে আজীবনের জন্য পেনশনের নিশ্চয়তা।

এত সব সুবিধার কারণেই ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস ডিউটি কি বা কতটা কষ্টের, তা অনেকেই ভুলে যান এবং এই চাকরির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস পদে কারা আবেদন করবেন? 

আপনি যদি এসএসসি পাস হন এবং বিজ্ঞান বিভাগ বা ভোকেশনাল থেকে পড়াশোনা করে থাকেন, তবে আপনি এগিয়ে থাকবেন। ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি তা জেনে যদি মনে হয় আপনি পারবেন, তবে প্রস্তুতি নিন।

প্রস্তুতির টিপস:
১. বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের বেসিক ঝালিয়ে নিন। অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির বইগুলো যথেষ্ট।
২. টেকনিক্যাল বিষয়গুলো সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান রাখুন। যেমন—কোন টুলের নাম কী, ইঞ্জিনের সাধারণ কার্যপ্রণালী ইত্যাদি।
৩. শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখুন।

আরও বিস্তারিত চাকরির খবর এবং প্রস্তুতির জন্য দেখতে পারেন: [https://dailyictpost.com]

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর সুবিধা ও অসুবিধা: 

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চলুন এক নজরে দেখে নিই এই পেশার ভালো ও মন্দ দিকগুলো।

সুবিধাঅসুবিধা
১০০% সরকারি চাকরির নিশ্চয়তাপ্রচুর শারীরিক পরিশ্রম ও ধকল
পেনশনের সুবিধাকর্মপরিবেশ অনেক সময় নোংরা ও গরম থাকে
থাকার জন্য সরকারি কোয়ার্টারপদোন্নতি কিছুটা ধীরগতির হতে পারে
ডিউটি শেষে বাড়তি আয়ের সুযোগ (ব্যক্তিগত কাজ)শুরুর দিকে বেতন কাঠামো কিছুটা কম
রেলওয়ে পাস ও চিকিৎসা সুবিধাছুটির দিনেও জরুরি তলব হতে পারে

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস সংক্রান্ত প্রশ্ন ও উত্তর 

আপনাদের মনে উঁকি দেওয়া আরও কিছু প্রশ্নের সহজ উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

১. ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি খুব কঠিন?

উত্তর: শুরুতে যেকোনো কাজই কঠিন মনে হতে পারে। যেহেতু এখানে শারীরিক পরিশ্রম আছে, তাই প্রথমদিকে কষ্ট হয়। তবে ৬ মাস বা ১ বছর কাজ করার পর শরীর ও মন অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন আর তেমন কঠিন মনে হয় না।

২. মেয়েদের জন্য কি এই চাকরি উপযুক্ত?

উত্তর: বর্তমান যুগে মেয়েরা সব সেক্টরেই কাজ করছে। তবে সত্যি বলতে, রেলওয়ে ওয়ার্কশপের পরিবেশ এবং ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কি ধরনের কাজ করে তা বিবেচনা করলে এটি মেয়েদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে যারা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য সুযোগ আছে।

৩. ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস ডিউটি কি নাইট শিফটে হয়?

উত্তর: সাধারণত জেনারেল শিফট (সকাল ৮টা – বিকেল ৫টা) থাকে। তবে কাজের চাপ বাড়লে বা ইমার্জেন্সি মেইনটিনেন্সের প্রয়োজনে নাইট শিফটেও কাজ করতে হতে পারে।

৪. প্রশিক্ষণ চলাকালীন কি বেতন পাওয়া যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, প্রশিক্ষণ চলাকালীন সরকার নির্ধারিত হারে একটি মাসিক ভাতা বা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়।

৫. ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কাজ বাংলায় শেখার জন্য কি আগে থেকে অভিজ্ঞতা লাগে?

উত্তর: না, আগে থেকে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। নিয়োগ পাওয়ার পর রেলওয়ে তাদের নিজস্ব ট্রেনিং সেন্টারে আপনাকে হাতে-কলমে কাজ শেখাবে।

৬. চাকরি কি স্থায়ী হবে?

উত্তর: জি, সফলভাবে ট্রেনিং পিরিয়ড শেষ করার পর নিয়ম অনুযায়ী চাকরি স্থায়ী করা হয় এবং আপনি সব সরকারি সুবিধা পাবেন।

৭. আমি কি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব?

উত্তর: ডিউটির ফাঁকে পড়াশোনা করাটা একটু কঠিন। তবে আপনি যদি নাইট শিফটে বা ছুটির দিনে সময় বের করতে পারেন, তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা সান্ধ্যকালীন কোর্সে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

৮. ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিসর পদে কর্মরতদের কাজ কী বদলিযোগ্য?

উত্তর: হ্যাঁ, এটি বদলিযোগ্য চাকরি। বাংলাদেশের যেকোনো রেলওয়ে জোন বা ওয়ার্কশপে আপনাকে বদলি করা হতে পারে।

৯. পদোন্নতি পেয়ে সর্বোচ্চ কোন পদে যাওয়া যায়?

উত্তর: দক্ষতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে আপনি শপ সুপারভাইজার বা সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে) পর্যন্ত যেতে পারেন।

১০. ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস জব ডেসক্রিপশন এ কি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ থাকে?

উত্তর: হ্যাঁ, নিজের কাজের জায়গা এবং মেশিন পরিষ্কার রাখা একজন এ্যাপ্রেন্টিসের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একে ছোট কাজ ভাবার সুযোগ নেই।

উপসংহার: 

সবশেষে বলতে চাই, ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কোনো বিলাসী চাকরি নয়, এটি মাটির কাছাকাছি থাকার কাজ। কিন্তু এই চাকরিতে আছে সম্মান, নিরাপত্তা এবং নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। আপনি যদি ঘাম ঝরাতে প্রস্তুত থাকেন এবং কারিগরি কাজকে ভালোবাসেন, তবে ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস চাকরির কাজ আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।

ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস কি কাজ করে বা ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস দায়িত্ব কি কি- এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নিশ্চয়ই এতক্ষণে পেয়ে গেছেন। এখন প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি। মনে রাখবেন, কোনো কাজই ছোট নয়, বিশেষ করে যে কাজ দেশের চাকা সচল রাখে।

Please don’t forget to leave a review of my article.

Author

  • Daily ICT News Reporter

    The dailyictpost.com team presents job recruitment notices, various government and private job question solutions, government post activities and technology-based information in simple and practical language. Along with this, we explain ICT, mobile, computer, apps, online income, digital tools, government services, national elections and cyber security-related issues in such a way that the reader can understand and learn.

    We believe that learning technology is not difficult, if it is explained correctly. Therefore, we present complex topics like using new software, mobile settings or digital marketing step by step in such a language that it feels like someone is sitting next to you and explaining it in a simple way.

    Our goal is only one - that the reader gets accurate information, learns with confidence and can use that knowledge in real life.

Visited 1,633 times, 1 visit(s) today