এনআইডি কার্ড ছাড়া কি ভোট দেওয়া যাবে?

আমরা এই পোস্টে আজ আলোচনা করব- এনআইডি কার্ড ছাড়া কি ভোট দেওয়া যাবে? আমরা সকলেই জানি যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, অর্থাৎ ভোটের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনার এনআইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ডটি খুঁজে পাচ্ছেন না। কিংবা আপনি হয়তো নতুন ভোটার হয়েছেন, কিন্তু এখনো প্লাস্টিকের কার্ডটি হাতে পাননি।

এখন মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে- “আমার কি ভোট দেওয়া হবে না? কার্ড ছাড়া কি কেন্দ্রে ঢুকতে দিবে?”

এই দুশ্চিন্তা শুধু আপনার একার নয়, লাখ লাখ ভোটারের। সহজ উত্তর হলো-হ্যাঁ, আপনি এনআইডি কার্ড ছাড়াও ভোট দিতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। চলুন, একদম সহজ ভাষায় জেনে নিই নির্বাচন কমিশনের আইন এই ব্যাপারে কি বলছে।

এনআইডি কার্ড ছাড়া কি ভোট দেওয়া যাবে
এনআইডি কার্ড ছাড়া কি ভোট দেওয়া যাবে

এনআইডি কার্ড ছাড়া কি ভোট দেওয়া যাবে?

এনআইডি কার্ড ছাড়া কি ভোট দেওয়া যাবে? হ্যাঁ, যাবে। আমাদের অনেকেরই একটা ভুল ধারণা আছে যে, এনআইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ড হলো ভোট দেওয়ার টিকিট। কার্ড নেই তো ভোট নেই। বিষয়টি আসলে তেমন নয়।

একটা সহজ উদাহরণ দিই। ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে আপনার চেক বই সাথে থাকা ভালো। কিন্তু চেক বই হারিয়ে গেলে কি আপনার টাকা সব শেষ? একদম না। ব্যাংকের কম্পিউটারে আপনার নাম আর আঙুলের ছাপ মিললেই আপনি টাকা তুলতে পারেন।

ভোটের ব্যাপারটাও ঠিক তাই। আসল হলো ‘ভোটার তালিকা’ বা ভোটার লিস্ট। আপনার নাম যদি ভোটার তালিকায় থাকে, তবে পকেটে কার্ড থাকুক বা না থাকুক তবে ভোট দেওয়ার অধিকার আপনার আছে।

নির্বাচন আইন কি বলে?

নির্বাচন কমিশনের (EC) আইন বা ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ’ (RPO) অনুযায়ী, একজন নাগরিকের ভোট দেওয়ার জন্য দুটি জিনিস নিশ্চিত হওয়া জরুরি:
১. তার নাম ওই নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় থাকতে হবে।
২. তাকে তার পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

প্লাস্টিকের স্মার্ট কার্ডটি শুধু আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম মাত্র, একমাত্র মাধ্যম নয়।

এনআইডি কার্ড না থাকলে ভোট দিবেন কিভাবে? 

আপনার এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে বা না থাকলেও নিচের ধাপগুলো ফলো করে আপনি খুব সহজেই ভোট দিতে পারবেন:

১. ভোটার নম্বর বা স্লিপ সংগ্রহ করুন

ভোটের কয়েক দিন আগে সাধারণত প্রার্থীদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি এসে একটি ছোট কাগজের স্লিপ দিয়ে যান। একে ‘ভোটার স্লিপ’ বলে। এতে আপনার নাম, ভোটার নম্বর এবং পোলিং বুথ নম্বর লেখা থাকে। এই স্লিপটিই ভোটের দিন এনআইডি কার্ডের চেয়ে বেশি জরুরি। এটি সাথে থাকলে অফিসাররা দ্রুত তালিকায় আপনার নাম খুঁজে বের করতে পারবেন।

২. নিজের পরিচয় নিশ্চিত করুন

আপনি যখন কেন্দ্রে ঢুকবেন, পোলিং অফিসার আপনার নাম ও চেহারার সাথে ভোটার তালিকার ছবি মিলিয়ে দেখবেন। যদি তালিকাভুক্ত ছবির সাথে আপনার চেহারা মিলে যায়, তবে আর কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই।

৩. আঙুলের ছাপ (যদি ইভিএম থাকে)

যদি ইভিএম (EVM) পদ্ধতিতে ভোট হয়, তবে এনআইডি কার্ডের কোনোই দরকার নেই। মেশিনে আঙুল দিলেই আপনার ছবি ও নাম ভেসে উঠবে। আঙুলের ছাপ মিলে গেলে আপনি ভোট দিতে পারবেন।

নতুন ভোটারদের করণীয় কি কি?

যারা ২০২৫ বা ২০২৬ সালে নতুন ভোটার হয়েছেন কিন্তু এখনো স্মার্ট কার্ড বা হার্ড কপি পাননি, তাদের ভয়ের কিছু নেই। নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে আপনার তথ্য আছে।

আপনি শুধু নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে আপনার ভোটার নম্বরটি টুকে নিন অথবা অনলাইন কপিটি প্রিন্ট করে সাথে রাখুন। এটিই আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট।

প্রিজাইডিং অফিসারের ক্ষমতা

মাঝেমধ্যে এমন হতে পারে যে, আপনার কাছে কোনো স্লিপ নেই, কার্ডও নেই, শুধু মুখস্থ আছে যে আপনি ভোটার। সেক্ষেত্রে কি করবেন?

সেক্ষেত্রে ভোট কেন্দ্রের প্রধান বা প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে যান। আইন অনুযায়ী, তিনি যদি আপনার কথায় সন্তুষ্ট হন এবং ভোটার লিস্টে আপনার নাম খুঁজে পান, তবে তিনি আপনাকে ভোট দেওয়ার অনুমতি দিতে বাধ্য। তবে নিজের পরিচয় প্রমাণের জন্য সাথে অন্য কোনো আইডি (যেমন: জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স) বা ফটোকপি রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে, যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়।

শেষ কথা

ভোট আপনার সাংবিধানিক অধিকার। এনআইডি কার্ড নেই বলে এই অধিকার থেকে নিজেকে বঞ্চিত হবেন না। এনআইডি কার্ড হারানো কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ভোট না দেওয়াটা বোকামি।

তাই এনআইডি কার্ড খুঁজাখুঁজি বাদ দিয়ে আগে নিশ্চিত করুন ভোটার তালিকায় আপনার নাম ও কেন্দ্র কোনটি। নাম থাকলে, ভোট দিতে পারবেনই। 

Author

  • Daily ICT News Reporter

    The dailyictpost.com team presents job recruitment notices, various government and private job question solutions, government post activities and technology-based information in simple and practical language. Along with this, we explain ICT, mobile, computer, apps, online income, digital tools, government services, national elections and cyber security-related issues in such a way that the reader can understand and learn.

    We believe that learning technology is not difficult, if it is explained correctly. Therefore, we present complex topics like using new software, mobile settings or digital marketing step by step in such a language that it feels like someone is sitting next to you and explaining it in a simple way.

    Our goal is only one - that the reader gets accurate information, learns with confidence and can use that knowledge in real life.

Visited 528 times, 1 visit(s) today

Comments are closed.