[Updated] সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ কি (Certificate Assistant Duties) | চাকুরির প্রস্তুতি (Bonus)

সরকারি চাকরির প্রস্তুতির সময় অনেকেই “সার্টিফিকেট সহকারী” বা “Certificate Assistant” পদটি দেখে থমকে যান। ডিসি অফিস বা কালেক্টরেটগুলোতে এই পদের সার্কুলার প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, আবেদন করার আগে বা ভাইভা বোর্ডে যাওয়ার আগে অনেকেই বুঝতে পারেন না—আসলে সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ কি (Certificate Assistant Duties)? এটি কি সাধারণ অফিস সহকারীর মতোই, নাকি এর দায়িত্বে বিশেষ কোনো ভিন্নতা আছে?

সত্যি বলতে, বাইরে থেকে দেখে সরকারি অফিসের ভেতরের কাজের ধরণ বোঝা কঠিন। আমি চেষ্টা করব একদম সহজ ভাষায়, বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে এই পদের খুঁটিনাটি তুলে ধরতে। যাতে আপনি শুধু চাকরির জন্যই প্রস্তুত না হন, বরং কাজে যোগদানের পর কী কী দায়িত্ব পালন করতে হবে, তার একটা পরিষ্কার মানসিক ছবি তৈরি করতে পারেন।

এই আর্টিকেলে আমরা সার্টিফিকেট সহকারী কি কাজ করে, তাদের ক্ষমতা কতটুকু, এবং সার্টিফিকেট সহকারী হিসেবে কি করতে হয়—সবকিছু ধাপে ধাপে আলোচনা করব।

Table of Contents

সংক্ষেপে সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ

সার্টিফিকেট সহকারী মূলত ডিসি অফিসের জেনারেল সার্টিফিকেট শাখায় সরকারি পাওনা আদায়ের মামলা পরিচালনায় কাজ করেন।
রিকুইজিশন গ্রহণ, নোটিশ জারি, শুনানি ব্যবস্থাপনা, ওয়ারেন্ট ও নিলাম সংক্রান্ত কাজ তার প্রধান দায়িত্ব

এই পদটি ১৬তম গ্রেডের একটি টেকনিক্যাল সরকারি চাকরি, যেখানে পিডিআর অ্যাক্ট অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

[Updated] সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ কি (Certificate Assistant Duties) চাকুরির প্রস্তুতি (Bonus)
[Updated] সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ কি (Certificate Assistant Duties) চাকুরির প্রস্তুতি (Bonus)

১. সার্টিফিকেট সহকারী বলতে কোন পদবীকে বুঝি?

সহজ কথায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (DC Office), উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, বা উপজেলা ভূমি অফিসে (AC Land Office) সরকারের পাওনা টাকা আদায়ের জন্য একটি আলাদা শাখা থাকে, যাকে বলা হয় ‘জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা’। এই শাখার মূল চালিকাশক্তি হলেন সার্টিফিকেট সহকারী। জেনারেল সার্টিফিকেট শাখায় যে সার্টিফিকেট সহকারী পদটি বিরাজমান থাকবে বিষয়টি এমন নয়। কর্তৃপক্ষের আদেশে অফিসে যেকোন শাখায় পদায়িত হয়ে থাকেন সার্টিফিকেট সহকারীগণ।

এটি ১৬তম গ্রেডের (முর্বে যা ৩য় শ্রেণী ছিল) একটি সরকারি চাকরি। পদটি সাধারণ ক্লারিক্যাল মনে হলেও, এর কাজের পরিধি এবং আইনি গুরুত্ব সাধারণ অফিস সহকারীর চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। কারণ, এখানে আপনাকে সরাসরি ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট’ বা পিডিআর আইন নিয়ে কাজ করতে হয়।

আরো পড়ুন: প্রতিটি সরকারি অফিসে কার্য সহকারীর কাজ কি কি থাকে?

২. সার্টিফিকেট কেস বা মামলা সংক্রান্ত কাজ

সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ কি (Certificate Assistant Duties)—এটা বোঝার জন্য আপনাকে আগে ‘সার্টিফিকেট কেস’ জিনিসটা বুঝতে হবে। খুব সহজ উদাহরণ দেই—
ধরুন, কোনো ব্যক্তি সরকারি ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছেন না। অথবা কেউ বিআরটিএ-এর ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন। তখন ওই ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান ডিসি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ বা ‘রিকুইজিশন’ পাঠায়। এই অনাদায়ী টাকা আদায়ের জন্য যে আইনি প্রক্রিয়া বা মামলা শুরু হয়, তাকেই বলা হয় সার্টিফিকেট মামলা। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় যিনি বিচারক বা সার্টিফিকেট অফিসারকে সাহায্য করেন, তিনিই হলেন সার্টিফিকেট সহকারী।

৩. পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট (PDR Act, 1913) এর ভূমিকা

একজন সার্টিফিকেট সহকারীর বাইবেল হলো ১৯১৩ সালের পিডিআর অ্যাক্ট। আপনার টেবিলের প্রতিটি কাজ এই আইনের কোনো না কোনো ধারার সাথে সম্পর্কিত। সার্টিফিকেট সহকারী সরকারি চাকরি কাজ এর মূল ভিত্তিই হলো এই আইন। আপনাকে আইনের ৭ ধারা (নোটিশ), ২৯ ধারা (ওয়ারেন্ট) এবং নিলাম সংক্রান্ত নিয়মগুলো নখদর্পণে রাখতে হবে। ঘাবড়ানোর কিছু নেই, চাকরিতে ঢোকার পর কাজ করতে করতেই এগুলো মুখস্থ হয়ে যায়।

৪. সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ কি (Certificate Assistant Duties):

আসুন এবার একটু গভীরে যাই। প্রতিদিন অফিসে গিয়ে আপনাকে আসলে কী করতে হবে? সার্টিফিকেট সহকারীর প্রধান কাজ গুলোকে আমরা কয়েকটি ধাপে ভাগ করতে পারি।

রিকুইজিশন গ্রহণ ও মামলা রুজু করা

আপনার দিনের শুরু হতে পারে নতুন মামলার ফাইল খোলা দিয়ে। যখন কোনো রিকুইজিশন অফিসার (যেমন— সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার) বকেয়া ঋণের তালিকা পাঠাবেন, আপনার কাজ হবে সেটি যাচাই করা। নাম, ঠিকানা, টাকার পরিমাণ সব ঠিক থাকলে আপনি সেটি নির্দিষ্ট রেজিস্টারে (Register 9/10) এন্ট্রি দেবেন এবং একটি কেস নম্বর ফেলবেন। এটাই হলো মামলার জন্ম।

৭ ধারার নোটিশ প্রস্তুত ও জারি

মামলা হওয়ার পর প্রথম কাজ হলো দেনাদার বা খাতককে জানানো। আইনের ভাষায় একে ‘৭ ধারার নোটিশ’ বলে। সার্টিফিকেট সহকারীর দায়িত্ব হলো এই নোটিশটি নির্ভুলভাবে পূরণ করা—যেখানে লেখা থাকবে কত টাকা পাওনা এবং কত দিনের মধ্যে শোধ করতে হবে। এরপর এটি জারিকারক বা প্রসেস সার্ভারের মাধ্যমে খাতকের ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হয়।

আপত্তি বা অবজেকশন পিটিশন ব্যবস্থাপনা

নোটিশ পাওয়ার পর খাতক যদি এসে বলেন, “স্যার, আমি তো টাকা শোধ করে দিয়েছি” বা “আমার টাকার অংক ভুল এসেছে”—তখন তিনি একটি আপত্তি দাখিল করবেন (৯ ধারা অনুযায়ী)। এই আবেদনটি মূল নথির সাথে সংযুক্ত করা এবং শুনানির জন্য অফিসারের সামনে উপস্থাপন করা আপনার অন্যতম কাজ।

শুনানির দিন ব্যবস্থাপনা (Managing Hearing Dates)

আদালতের মতো এখানেও তারিখ পড়ে। প্রতিদিন কোন কোন মামলার শুনানি আছে, তার একটি তালিকা বা ‘কজ লিস্ট’ (Cause List) তৈরি করা সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ। জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসার (GCO) যখন চেয়ারে বসবেন, তার আগেই আপনাকে সব ফাইল গুছিয়ে টেবিলে রাখতে হবে, যাতে তিনি সহজেই শুনানি নিতে পারেন।

আদেশনামা বা অর্ডার শিট লেখা

এটি খুবই টেকনিক্যাল কাজ। শুনানির সময় অফিসার যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটা মামলার ফাইলে লিখে রাখতে হয়। একে বলা হয় ‘অর্ডার শিট’ বা আদেশনামা। অনেক সময় কাজের চাপে অফিসার হয়তো মুখে বলে দেবেন, “পরবর্তী তারিখ দিয়ে দাও” বা “ওয়ারেন্ট ইস্যু করো”—আপনাকে সেটি সুন্দর আইনি ভাষায় নথিতে লিখে অফিসারের স্বাক্ষর নিতে হবে। হাতের লেখা ভালো এবং দ্রুত হওয়া এখানে একটা বড় প্লাস পয়েন্ট।

৫. সার্টিফিকেট সহকারী কি কাজ করে: ওয়ারেন্ট ও কঠোর পদক্ষেপ

টাকা আদায় না হলে কাজের ধরণ কিছুটা কঠোর হয়। তখন Certificate Assistant Duties এর মধ্যে পড়ে ওয়ারেন্ট প্রসেস করা।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant of Arrest) ইস্যু

যদি দেনাদার বারবার নোটিশ অমান্য করেন, তবে অফিসার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। পিডিআর অ্যাক্টের ২৯ ধারা অনুযায়ী এই ওয়ারেন্ট ফর্মটি পূরণ করা এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা আপনার দায়িত্ব।

মালামাল ক্রোক বা Distress Warrant (DW)

অনেক সময় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না করে তার সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ হয়। একে বলা হয় ডিডব্লিউ (DW) বা Distress Warrant। সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ বাংলায় বলতে গেলে—কোন সম্পত্তিটি ক্রোক করা হবে, তার তফসিল উল্লেখ করে পরোয়ানা তৈরি করা আপনার কাজের অংশ।

৬. প্রাত্যহিক দাপ্তরিক কাজ (Daily Routine Work)

মামলা মোকদ্দমার বাইরেও সার্টিফিকেট সহকারী অফিসে কি কাজ করে? একজন সাধারণ অফিস সহকারীর মতো তাকেও কিছু রুটিন মেইনটেইন করতে হয়।

  • ডাক ব্যবস্থাপনা: প্রতিদিন ডাক ফাইলে আসা চিঠিগুলো রিসিভ করা এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে আনা।
  • রিপোর্ট ও রিটার্ন: প্রতি মাসে কত টাকা আদায় হলো, কয়টি মামলা নিষ্পত্তি হলো—তার একটি পরিসংখ্যান তৈরি করে ডিসি স্যার বা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হয়।
  • রেকর্ডরুম ব্যবস্থাপনা: যেসব মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, সেই ফাইলগুলো নষ্ট না করে রেকর্ডরুমে বুঝিয়ে দেওয়া।

৭. সার্টিফিকেট অফিসারের (GCO) সাথে সমন্বয়

একজন জি.সি.ও (General Certificate Officer) সাধারণত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে থাকেন। তিনি প্রশাসনের অনেক কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই সার্টিফিকেট আদালতের পুরো দায়িত্বটাই কার্যত সহকারীর ওপর নির্ভর করে। Certificate Assistant Responsibilities এর মধ্যে পড়ে অফিসারকে আইনের ধারা মনে করিয়ে দেওয়া বা পুরনো মামলার রেফারেন্স দেওয়া। আপনি যত দক্ষ হবেন, আপনার অফিসার তত স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন।

৮. নাজির ও জারিকারকদের তদারকি

আপনার অধীনে প্রসেস সার্ভার বা জারিকারক থাকবেন। তারা ঠিকমতো নোটিশ জারি করে রিপোর্ট দিচ্ছে কিনা, সেটা তদারকি করা সার্টিফিকেট সহকারীর দায়িত্ব কি কি তার মধ্যে পড়ে। নোটিশ জারি না হলে মামলা এগোবে না, আর মামলা না এগোলে টাকা আদায় হবে না। তাই এই চেইনটা ঠিক রাখা জরুরি।

৯. উদাহরণ: 

বিষয়টি আরও পরিষ্কার করার জন্য একটি কাল্পনিক ঘটনা বলি।
ধরুন, একজন ঠিকাদার সরকারি প্রজেক্টের ভ্যাট দেননি।
১. ভ্যাট অফিস থেকে ডিসি অফিসে চিঠি (রিকুইজিশন) আসবে।
২. আপনি (সার্টিফিকেট সহকারী) ফাইল খুলে কেস নম্বর দেবেন।
৩. আপনি ঠিকাদারের নামে নোটিশ ইস্যু করবেন।
৪. ঠিকাদার না আসলে, আপনি অফিসারের নির্দেশে ওয়ারেন্ট ইস্যু করবেন।
৫. পুলিশ ভয় দেখালে ঠিকাদার এসে টাকা জমা দেবেন।
৬. আপনি ট্রেজারি চালানের কপি রেখে মামলাটি ‘নিষ্পত্তি’ বা Solenama হিসেবে নথিজাত করবেন।

এটাই হলো সহজ কথায় What does a Certificate Assistant do এর সারমর্ম।

১০. সার্টিফিকেট সহকারী হওয়ার যোগ্যতা

আপনি যদি এই পদে আবেদন করতে চান, তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা সাধারণত এইচএসসি (HSC) চাওয়া হয়। তবে বর্তমানে গ্র্যাজুয়েটরাই বেশি নিয়োগ পাচ্ছেন। এছাড়া Certificate Assistant Job Description এ এখন কম্পিউটার দক্ষতা অলিখিতভাবে বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং জানা থাকলে কাজ করা অনেক সহজ হয়।

১১. সার্টিফিকেট সহকারীর নিয়োগ পরীক্ষার ধরণ

সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ ভাইভা এবং লিখিত পরীক্ষা—উভয় মাধ্যমেই যাচাই করা হয়।
লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান থাকে। আর ভাইভাতে আপনাকে পিডিআর আইন বা সরকারি অফিস ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে।

১২. ভাইভাতে যা ফেস করবেন

ভাইভা বোর্ডে আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পারে:

  • “আচ্ছা বলুন তো, পিডিআর অ্যাক্ট কত সালের?”
  • “৭ ধারার নোটিশ আর ২৯ ধারার ওয়ারেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী?”
  • “একজন সার্টিফিকেট সহকারী হিসেবে আপনি কি সরাসরি কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেন?” (উত্তর: না, আপনি শুধু আদেশ প্রসেস করতে পারেন)।

১৩. বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা

সার্টিফিকেট সহকারী সরকারি ১৬তম গ্রেডের চাকরি।

  • মূল বেতন স্কেল ৯,৩০০ টাকা থেকে শুরু।
  • এর সাথে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা যুক্ত হবে।
  • সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্টাফ হিসেবে আপনি সামাজিকভাবে বেশ ভালো সম্মান পাবেন।

১৪. পদোন্নতি

অনেকের প্রশ্ন থাকে, “সারা জীবন কি সহকারীই থাকব?” না, সার্টিফিকেট সহকারী সরকারি চাকরি কাজ এ পদোন্নতির ভালো সুযোগ আছে।
ধারাবাহিকতা সাধারণত এমন:
১. সার্টিফিকেট সহকারী
২. সার্টিফিকেট পেশকার
৩. প্রধান সহকারী (Head Assistant)
৪. অফিস সুপারিনটেনডেন্ট (OS)

১৫. সার্টিফিকেট সহকারীর কাজের চাপ কেমন

চাকরি মানেই যে শুধু আরাম, তা কিন্তু নয়। সার্টিফিকেট সহকারী ডিউটি কি—এটা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায় জুন মাসে বা অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে। তখন সরকারি রাজস্ব আদায়ের টার্গেট থাকে। অনেক সময় ছুটির দিনেও অফিস করতে হতে পারে। তবে যারা চ্যালেঞ্জ পছন্দ করেন এবং একঘেয়েমি এড়াতে চান, তাদের জন্য এই কাজ উপভোগ্য।

১৬. আইটি ও কম্পিউটার দক্ষতা

এখন সব সরকারি অফিস ‘ই-নথি’ বা ডিজিটাল ফাইলিং সিস্টেমে চলে যাচ্ছে। তাই Certificate Assistant Duties পালনে এমএস ওয়ার্ডে দ্রুত টাইপ করা এবং এক্সেলে হিসাব রাখার দক্ষতা আপনাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে। আপনি যদি আইটি স্কিল বা অফিসিয়াল সফটওয়্যার নিয়ে আরও জানতে চান, তবে Daily ICT Post ভিজিট করে দেখতে পারেন, সেখানে টেকনোলজি বিষয়ক অনেক দরকারি টিপস পাবেন যা আপনার কর্মজীবনে কাজে লাগবে।

১৭. সার্টিফিকেট সহকারী বনাম অফিস সহকারী

অনেকে এই দুটি পদকে এক মনে করেন, যা ভুল।
| তুলনার বিষয় | সাধারণ অফিস সহকারী | সার্টিফিকেট সহকারী |
| :— | :— | :–
| কাজের ধরণ | সাধারণ চিঠি পত্র আদান-প্রদান | বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া |
| টেকনিক্যাল জ্ঞান | সাধারণ জ্ঞানই যথেষ্ট | পিডিআর আইন জানা বাধ্যতামূলক |
| পাওয়ার প্র্যাকটিস | সীমিত | ওয়ারেন্ট/ক্রোকি পরোয়ানার কারণে প্রভাব বেশি | 

১৮. সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ নিয়ে সমাজে ভুল ধারণা

অনেকে ভাবেন, সার্টিফিকেট সহকারী মানে কি শিক্ষাগত সার্টিফিকেটের কাজ করা? একদমই না। এখানে ‘সার্টিফিকেট’ শব্দটি আইনি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ ‘সরকারি পাওনা আদায়ের লিখিত দাবি’। তাই কেউ যদি ভাবে আপনি মার্কশিট বা সনদপত্র ফটোকপি করবেন, তবে তাকে শুধরে দেবেন।

১৯. মামলা নিষ্পত্তি বা ডিসপোজাল

দিনশেষে আপনার সফলতা নির্ভর করে কতটি মামলা নিষ্পত্তি হলো তার ওপর। যখন কোনো খাতক সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেন, তখন নথিতে ‘Full Satisfaction’ নোট দিয়ে কেসটি ক্লোজ করা সার্টিফিকেট সহকারীর দায়িত্ব। এটি অফিসের জন্য একটি বড় অর্জন।

২০. নিলাম কার্যক্রম (Auction)

সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পার্ট হলো নিলাম। যখন খাতক টাকা দেয় না, তখন তার জমি বা সম্পদ নিলামে তোলা হয়। এই নিলাম ডাকার নোটিশ তৈরি, মাইকিং করানো এবং নিলামের দিন উপস্থিত থেকে কার্যবিবরণী লেখা—সবই আপনার কাজের অংশ।

২১. দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা

হয়তো আপনি ভাবছেন, “আমি তো সামান্য কর্মচারী”। কিন্তু মনে রাখবেন, সরকারের কোটি কোটি টাকা অনাদায়ী রাজস্ব আদায়ে আপনার ভূমিকাই প্রধান। সার্টিফিকেট সহকারী অফিসে কি কাজ করে, তার ওপর ভিত্তি করেই সরকারি কোষাগারে টাকা জমা হয়।

২২. গোপনীয়তা রক্ষা করা

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কার নামে ওয়ারেন্ট হচ্ছে, সেটা যদি আগে জানাজানি হয়ে যায়, তবে আসামী পালিয়ে যেতে পারে। তাই অফিসের গোপনীয়তা রক্ষা করা Certificate Assistant Government Job এর নৈতিক দায়িত্ব। বিশ্বস্ততা এখানে বড় পুঁজি।

২৩. কমিউনিকেশন স্কিল

আপনাকে ব্যাংকের ম্যানেজার থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারণ কৃষক—সবার সাথে কথা বলতে হবে। কেউ হয়তো রেগে যাবে, কেউ ভয়ে কাঁদবে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ধৈর্য এবং ভালো ব্যবহার এই চাকরির বড় গুণ।

২৪. পোস্টিং ও বদলি

আপনার পোস্টিং সাধারণত ডিসি অফিসের জেএম শাখা (JM Section) বা জেনারেল সার্টিফিকেট শাখায় হবে। এছাড়া উপজেলা ভূমি অফিসেও পোস্টিং হতে পারে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলির সুযোগও থাকে, তবে সেটা সময়সাপেক্ষ।

২৫. চাকরির স্থায়িত্ব

১৮ মাস বা ২ বছর শিক্ষানবিশকাল (Probation Period) শেষ হলে চাকরি স্থায়ী হয়। এরপর আপনি জিপিএফ ফান্ড, পেনশন এবং অন্যান্য সরকারি সব সুবিধা পাবেন।

২৬. কাজের বন্টন (এক নজরে)

একজন সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ সারাদিনে কীভাবে বন্টিত হয়, তার একটি ধারণা:

  • ফাইল পুট-আপ ও নোট লিখন: ৪০% সময়।
  • নোটিশ ও ওয়ারেন্ট ইস্যু: ৩০% সময়।
  • শুনানি চলাকালীন সহায়তা: ২০% সময়।
  • রিপোর্ট ও বিবিধ: ১০% সময়।

২৭. এই চাকরির পজিটিভ দিক

  • প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে কাজের সুযোগ।
  • আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেখা যায়।
  • বিভিন্ন দপ্তরের মানুষের সাথে নেটওয়ার্কিং হয়।
  • সামাজিক ও দাপ্তরিক ক্ষমতা উপভোগ করা যায়।

২৮. কিছু চ্যালেঞ্জ বা নেতিবাচক দিক

  • কাজের ভুল হলে শোকজ (Show Cause) খাওয়ার ভয় থাকে।
  • অনেক সময় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের তদবির আসতে পারে, যা হ্যান্ডেল করা কঠিন।
  • কর্মঘন্টার নির্দিষ্ট ঠিক থাকে না কাজের চাপে।

২৯. শেষ কথা

পরিশেষে, সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ কি (Certificate Assistant Duties)—এটা শুধু ফাইল নড়াচড়া করা নয়, বরং এটি একটি দায়িত্বপূর্ণ এবং টেকনিক্যাল জব। আপনি যদি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন এবং গতানুগতিক ক্লারিক্যাল জবের বাইরে একটু ভিন্নধরণের কাজ করতে চান, তবে এই পদটি আপনার জন্য। সরকারি রাজস্ব আদায়ে আপনার ছোট একটি স্বাক্ষর বা নোট অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আশা করি, এই লেখার মাধ্যমে সার্টিফিকেট সহকারী হিসেবে কি করতে হয় সে সম্পর্কে আপনার মনের সব ধোঁয়াশা কেটে গেছে। ডিসি অফিসের বারান্দায় আপনার ক্যারিয়ার শুরু হোক—এই শুভকামনা রইল।

প্রশ্ন ও উত্তর 

চাকরিপ্রার্থীদের মনে সার্টিফিকেট সহকারীর কাজ কি (Certificate Assistant Duties) নিয়ে কিছু কমন প্রশ্ন থাকে। এখানে তার সহজ উত্তর দেওয়া হলো:

১. সার্টিফিকেট সহকারী পদের বর্তমান বেতন স্কেল কত?

উত্তর: এটি ১৬তম গ্রেডের পদ। বর্তমান পে-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন ৯,৩০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ২২,৪৯০ টাকা পর্যন্ত। সাকল্যে শুরুতে প্রায় ১৮-১৯ হাজার টাকা পাওয়া যায় (এলাকাভেদে)।

২. সার্টিফিকেট সহকারীর প্রধান কাজ কি এক কথায় বলা যাবে?

উত্তর: এক কথায়—সরকারি পাওনা আদায়ের লক্ষে পরিচালিত মামলায় সার্টিফিকেট অফিসারকে সাচিবিক ও দাপ্তরিক সহায়তা প্রদান করা।

৩. এই পদ থেকে কি অফিসার হওয়া যায়?

উত্তর: সরাসরি অফিসার হওয়া যায় না। তবে পদোন্নতি পেয়ে আপনি অফিস সুপার বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা পর্যন্ত যেতে পারেন। বিসিএস বা ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষা দিয়ে অফিসার হওয়ার সুযোগ ভিন্ন বিষয়।

৪. মেয়েদের জন্য এই চাকরি কতটা সুবিধাজনক?

উত্তর: এটি মূলত ডেস্ক জব বা অফিস ওয়ার্ক। তাই মেয়েদের জন্য এটি নিরাপদ এবং সম্মানজনক। ফিল্ড ভিজিট বা বাইরে দৌড়াদৌড়ির কাজ নেই বললেই চলে।

৫. সার্টিফিকেট সহকারী কি বিচারক?

উত্তর: না, তিনি বিচারক নন। বিচারক হলেন জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসার (GCO)। সহকারী তাকে বিচারিক কাজে সাহায্য করেন মাত্র।

৬. সার্টিফিকেট সহকারী এবং মিউটেশন সহকারীর মধ্যে পার্থক্য কি?

উত্তর: মিউটেশন সহকারী কাজ করেন জমির নামজারি নিয়ে, আর সার্টিফিকেট সহকারী কাজ করেন বকেয়া টাকা আদায় নিয়ে। তবে এসিল্যান্ড অফিসে অনেক সময় একজনকে দিয়ে দুই কাজ করানো হয়।

৭. ভাইভাতে কি কম্পিউটার টেস্ট নেয়?

উত্তর: অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল টেস্ট নেয়। বিশেষ করে বাংলা টাইপিং স্পিড এবং এমএস ওয়ার্ডের কাজ জানা থাকাটা এখন Certificate Assistant Job Description এর অংশ হয়ে গেছে।

৮. পোস্টিং কি নিজের জেলায় পাওয়া যায়?

উত্তর: নিজ জেলায় পোস্টিং পাওয়ার সুযোগ থাকে, তবে প্রশাসনিক কারণে অন্য জেলাতেও পোস্টিং হতে পারে।

৯. পিডিআর অ্যাক্ট (PDR Act) কি খুব কঠিন?

উত্তর: একদমই না। মাত্র গুটিকয়েক ধারা (৭, ৯, ১৩, ২৯) জানলেই আপনি ৮০% কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। কাজের সাথেই এটা শেখা হয়ে যায়।

১০. চাকরির প্রস্তুতিতে কোন বিষয়ে জোর দেব?

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি ট্রান্সলেশন এবং গণিতের বেসিক স্ট্রং করুন। আর সাধারণ জ্ঞানের জন্য সাম্প্রতিক বিষয়াবলি পড়ুন।

এই তথ্যগুলো যদি আপনার চাকরি প্রস্তুতিতে কাজে আসে, তাহলে শেয়ার করতে পারেন।

Author

  • Daily ICT News Reporter

    dailyictpost.com টিম চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রশ্ন সমাধান, সরকারি পদের কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি–ভিত্তিক তথ্য সহজ ও বাস্তব ভাষায় উপস্থাপন করে। পাশাপাশি আমরা আইসিটি, মোবাইল, কম্পিউটার, অ্যাপস, অনলাইন ইনকাম, ডিজিটাল টুলস ও সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো এমনভাবে ব্যাখ্যা করি, যেন পাঠক বুঝতে বুঝতেই শিখে ফেলেন।

    আমরা বিশ্বাস করি—প্রযুক্তি শেখা কঠিন নয়, যদি সেটি সঠিকভাবে বোঝানো যায়। তাই নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার, মোবাইল সেটিংস কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো জটিল বিষয়গুলো ধাপে ধাপে এমন ভাষায় তুলে ধরি, যেন মনে হয় আপনার পাশেই কেউ বসে সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

    আমাদের লক্ষ্য একটাই—পাঠক যেন নির্ভুল তথ্য পায়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেখে এবং বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে।

Visited 15 times, 1 visit(s) today