পোলিং অফিসারের কাজ কি? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

নির্বাচনী ডিউটির চিঠি হাতে পাওয়ার পর বুকের ভেতর ধক করে ওঠেনি, এমন সরকারি চাকরিজীবী খুব কমই আছেন। নির্বাচনের ডিউটি মানেই একধরণের উত্তেজনা আর অজানা আশঙ্কা। বিশেষ করে সামনে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬, এই নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি হলো পোলিং অফিসারের কাজ, বিশেষ করে সামনে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তখন মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি হলো পোলিং অফিসারের ডিউটি যা সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে পুরো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তখন দায়িত্বের ভারটা একটু বেশিই মনে হতে পারে। অনেকেই ভাবেন, প্রিজাইডিং অফিসারই তো সব, পোলিং অফিসারের আর কি কাজ! কিন্তু বিশ্বাস করুন, মাঠ পর্যায়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আসল কারিগর হলেন আপনি—একজন পোলিং অফিসার।

আপনি যদি প্রথমবারের মতো এই দায়িত্ব পেয়ে থাকেন অথবা নিজের স্মৃতি ঝালিয়ে নিতে চান, তবে এই লেখাটি আপনার জন্য। এখানে আমরা কেতাবি ভাষার বাইরে গিয়ে একদম প্র্যাকটিক্যাল বা বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পোলিং অফিসারের কাজ, সমস্যা এবং সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করব।

পোলিং অফিসারের কাজ কি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬
পোলিং অফিসারের কাজ কি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

 

Table of Contents

পোলিং অফিসার কে? (নির্বাচনী ভাষায় পোলিং অফিসারের কাজ ও ভূমিকা)

সহজ বাংলায় বললে, ভোটের দিন যে ব্যক্তিটি ভোটারের নখ রাঙিয়ে দেন কিংবা ব্যালট পেপারটি হাতে তুলে দেন, তিনিই পোলিং অফিসার। কিন্তু পোলিং অফিসার মানে কি শুধুই কালি লাগানো? একদমই না।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, একটি ভোটকেন্দ্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব প্রিজাইডিং অফিসারের কাঁধে থাকলেও, বুথ বা গোপন কক্ষের আসল পাহারাদার হলেন পোলিং অফিসার। আপনি হলেন সেই ফিল্টার, যার চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো জাল ভোটার বুথে ঢুকতে পারার কথা নয়। অর্থাৎ, নির্বাচনের স্বচ্ছতা আপনার সতর্কতার ওপরই নির্ভর করে।

আরো পড়ুন: কিভাবে মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটাবেন । ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে পোলিং অফিসারের কাজ: শুরু থেকে শেষ গাইড (নতুন নীতিমালা অনুযায়ী)

বাস্তবে পোলিং অফিসারের কাজ মূলত তিনটি ধাপে বিভক্ত:
১. ভোটের আগের দিনের প্রস্তুতি।
২. ভোটের দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ম্যারাথন ডিউটি।
৩. ভোট শেষে গণনা ও মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া।

আসুন, ধাপে ধাপে জেনে নেই পোলিং অফিসারের দায়িত্ব কি কি এবং প্রতিটি ধাপে আপনাকে কতটা স্মার্টলি কাজ করতে হবে।

১. নির্বাচনের আগের দিনের প্রস্তুতি 

আপনার কাজ কিন্তু ভোটের দিন সকালে শুরু হয় না, শুরু হয় আগের দিন দুপুরে। যখন আপনি প্রিজাইডিং অফিসারের সাথে পরিচিত হবেন এবং নির্বাচনী মালামাল বুঝে নেবেন।

নির্বাচনের আগের দিনের প্রস্তুতি 
নির্বাচনের আগের দিনের প্রস্তুতি

এই ধাপে আপনার করণীয়:

  • টিমওয়ার্ক: আপনার বুথে (রুম) কার সাথে ডিউটি পড়েছে, তাদের সাথে ভালো বোঝাপড়া তৈরি করে নিন। লম্বা সময় একসাথে কাজ করতে হবে, তাই সম্পর্ক ভালো থাকা জরুরি।
  • মালামাল যাচাই: প্রিজাইডিং অফিসার যখন মালামাল রিসিভ করবেন, তখন তাকে সাহায্য করুন। বিশেষ করে আপনার বুথের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যালট পেপার (বা ইভিএম), অমোচনীয় কালি, স্ট্যাম্প প্যাড, এবং মোমবাতি ঠিক আছে কিনা দেখে নিন।
  • কেন্দ্রে অবস্থান: বিকেলের মধ্যেই কেন্দ্রে পৌঁছে নিজের সিট প্ল্যান করে ফেলুন। এজেন্টরা কোথায় বসবে, ভোটার কোনদিক দিয়ে ঢুকবে এবং বের হবে—সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখলে ভোটের দিন সকালে চাপ কমবে।

পরামর্শ: ভোটের আগের রাতে ভালো করে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। পরদিন টানা ১০-১২ ঘণ্টা আপনাকে প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে কাজ করতে হবে।

২. ভোটের দিন সকালের কাজ

ভোটগ্রহণ সাধারণত সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়। কিন্তু আপনাকে উঠতে হবে ভোর ৫টায়। পোলিং অফিসার হিসেবে কি করতে হয় একদম ভোরবেলা?

প্রাসঙ্গিক পোস্ট পড়ুন: আপনার ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন করবেন কিভাবে? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

  • খালি বাক্স প্রদর্শন: ভোট শুরুর আগে প্রিজাইডিং অফিসার যখন উপস্থিত এজেন্টদের খালি ব্যালট বাক্স বা ইভিএম মেশিন দেখাবেন, তখন আপনাকে সাক্ষী হিসেবে থাকতে হবে।
  • ফরম পূরণ: ভোট শুরুর আগেই কিছু ফরমের প্রাথমিক কাজ (যেমন নাম, কেন্দ্রের নাম, তারিখ) লিখে রাখলে পরে সময় বাঁচবে।
  • শপথ: নিজের মনে মনে প্রতিজ্ঞা করুন, “আমার বুথে কোনো অনিয়ম হতে দেব না।”

৩. ভোট চলাকালীন পোলিং অফিসারের মূল দায়িত্ব

একটি বুথে সাধারণত দুইজন বা তিনজন পোলিং অফিসার থাকেন। কাজের সুবিধার জন্য একেকজনকে একেকটি দায়িত্ব দেওয়া হয়। আসুন দেখি কার কাজ কী।

ভোট চলাকালীন পোলিং অফিসারের মূল দায়িত্ব
ভোট চলাকালীন পোলিং অফিসারের মূল দায়িত্ব

ক) ১ম পোলিং অফিসারের কাজ

ইনি হলেন বুথের গেটকিপার। পোলিং অফিসারের প্রধান কাজ গুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইনি ভুল করলে পুরো সিস্টেম ভুল পথে যাবে।

  • ভোটার শনাক্তকরণ: ভোটার যখন আসবে, তার এনআইডি বা স্লিপ দেখে ভোটার তালিকায় (Voter List) নাম ও ছবি মিলিয়ে দেখা।
  • জোরে নাম ডাকা: ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বরটি এমনভাবে জোরে ডাকতে হবে যেন পোলিং এজেন্টরা শুনতে পান। এজেন্টরা তাদের কাছে থাকা তালিকায় টিক দেবেন।
  • চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা: যদি কোনো এজেন্ট বলেন, “ইনি সেই ভোটার নন”, তখন ১ম পোলিং অফিসারকেই প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করতে হয়। প্রয়োজনে নাম, বাবার নাম বা জন্ম তারিখ জিজ্ঞেস করতে হবে।

খ) ২য় পোলিং অফিসারের ডিউটি

অনেকে মনে করেন পোলিং অফিসার ডিউটি-র মধ্যে এটি সবচেয়ে সহজ, কিন্তু এটি বেশ টেকনিক্যাল।

  • কালি লাগানো: ভোটারের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখ ও চামড়ার সংযোগস্থলে অমোচনীয় কালি এমনভাবে লাগাতে হবে যেন সহজে মুছে ফেলা না যায়। মনে রাখবেন, নখে তেল বা গ্রিজ থাকলে কালি বসতে চায় না, তাই টিস্যু দিয়ে মুছে কালি লাগাবেন।
  • রেজিস্টারে এন্ট্রি: ভোটার তালিকার কাউন্টার ফয়েলে ভোটারের স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়া। এটিই প্রমাণ যে ভোটার ব্যালট নিয়েছেন।
  • ব্যালট ইস্যু (এনালগ পদ্ধতিতে): অনেক সময় ২য় অফিসারই ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ভোটারের হাতে দেন।

গ) ৩য় পোলিং অফিসারের কাজ 

যদি ইভিএম (EVM) এ ভোট হয়, তবে এই অফিসারের ভূমিকা অনেক বেড়ে যায়। আর ব্যালট পেপারে ভোট হলে ইনি ব্যালট ভাঁজ করে দেন।

  • ব্যালট পেপারে সিল: প্রতিটি ব্যালটের পেছনে ‘অফিসিয়াল সিল’ এবং ‘স্বাক্ষর’ আছে কিনা নিশ্চিত করা।
  • ব্যালট ভাঁজ: ভোটারকে শিখিয়ে দেওয়া কিভাবে ব্যালট ভাঁজ করতে হবে। লম্বালম্বি ও আড়াআড়ি ভাঁজের নিয়ম বুঝিয়ে দেওয়া।
  • ইভিএম ডিউটি: ইভিএম হলে ইনি কন্ট্রোল ইউনিটের ‘Ballot’ বাটন চেপে ভোটারের জন্য ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেন। মনিটরে খেয়াল রাখেন ভোটার ভোট সম্পন্ন করেছেন কিনা।

পোলিং এজেন্টের সাথে কেমন আচরণ করবেন?

ভোটকেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা থাকবেনই। তাদের সাথে ডিল করাটা একটা আর্ট। পোলিং অফিসারের কাজ কি- সেটা যেমন ভোটারকে সাহায্য করা, তেমনি এজেন্টদের ম্যানেজ করাও।

আরও পড়ুন: ভোট কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে ঢোকা যাবে কি? নিয়ম কি কি? ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১. নিরপেক্ষতা বজায় রাখা: কোনো এজেন্টের দেওয়া খাবার খাবেন না বা তাদের সাথে অতিরিক্ত খাতির দেখাবেন না। এতে অন্য পক্ষের এজেন্টরা সন্দেহ করতে পারে।
২. দৃঢ়তা: কেউ যদি অহেতুক ঝামেলা বা তর্ক করার চেষ্টা করে, তবে ভদ্রভাবে কিন্তু দৃঢ় গলায় তাকে থামান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে প্রিজাইডিং অফিসারকে জানান।
৩. স্বচ্ছতা: এজেন্টদের সন্দেহ দূর করতে যা যা দেখানো দরকার (যেমন খালি বাক্স, সিলগালা প্রক্রিয়া) তা দেখান। লুকোচুরির কিছু নেই।

মনে রাখবেন: আপনি রাষ্ট্রের কর্মচারী, কোনো দলের নন। আপনার মেরুদণ্ড সোজা থাকলে এজেন্টরাও আপনাকে সমীহ করবে।

জটিল পরিস্থিতি সমাধানের উপায়

কাজ করতে গেলে সমস্যা হবেই। কিছু সাধারণ সমস্যা ও তার সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

সমস্যা ১: ভোটার এনআইডি না আনলে করণীয়

সমাধান: ভোটার তালিকায় যদি তার নাম ও ছবি থাকে এবং আপনি যদি নিশ্চিত হন যে তিনিই প্রকৃত ভোটার, তবে এনআইডি ছাড়াও তাকে ভোট দিতে দেওয়া যাবে। এনআইডি বাধ্যতামূলক নয়, পরিচয় নিশ্চিত হওয়াটাই আসল।

সমস্যা ২: ইভিএমএ আঙুলের ছাপ না মিললে করণীয়

সমাধান: অনেক সময় বয়স্ক বা শ্রমিক শ্রেণির মানুষের আঙুলের রেখা মুছে যায়। ইভিএমে আঙুল না মিললে প্রিজাইডিং অফিসারের বিশেষ ক্ষমতা (1% বা নির্দিষ্ট কোটা) ব্যবহার করে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে এটি প্রিজাইডিং অফিসারের এখতিয়ার।

সমস্যা ৩: টেন্ডার ভোট 

সমাধান: ধরুন, একজন বৈধ ভোটার এসে দেখলেন তার ভোট আগেই কেউ দিয়ে গেছে। তখন তিনি টেন্ডার ভোট দিতে চাইবেন। এটি মেশিনে বা বাক্সে দেওয়া যায় না। তাকে একটি নির্দিষ্ট ব্যালট পেপার দিতে হয়, তিনি সিল মেরে খামে ভরে আপনার কাছে জমা দেবেন। এটি গণনায় আসে না, কিন্তু রেকর্ড হিসেবে থাকে।

ভোট শেষে গণনা ও প্যাকিং: পোলিং অফিসারের চূড়ান্ত দায়িত্ব

বিকাল ৪টায় ভোট শেষ। কিন্তু আপনার কাজ কি শেষ? একদম না। বরং সবচেয়ে ক্লান্তিকর অংশটি শুরু হয় এখন।

পোলিং অফিসার কি কাজ করে গণনার সময়:

  • ব্যালট শর্টিং: এনালগ ভোট হলে সব ব্যালট বাক্স থেকে ঢেলে প্রার্থীর প্রতীক অনুযায়ী আলাদা করতে হয়।
  • গণনা: ১০০টি করে বান্ডিল তৈরি করা। খুব সাবধানে গুনতে হয়, কারণ একটি ভোটের এদিক-সেদিক হলে ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।
  • প্যাকিং: গণনা শেষে সব মালামাল, অব্যবহৃত ব্যালট, কালি, সিল—সবকিছু আলাদা আলাদা খামে ভরে সিলগালা (Wax Seal) করতে হয়।

এই সময় মাথা ঠান্ডা রাখা খুব জরুরি। সারাদিনের খাটুনির পর এই সময়েই মানুষ বেশি ভুল করে। “স্টেটমেন্ট অফ কাউন্ট” বা ভোটের হিসাব মেলানোটা বেশ জটিল। ব্যবহৃত ব্যালট + নষ্ট ব্যালট + অব্যবহৃত ব্যালট = মোট ব্যালট—এই সমীকরণ মেলাতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খান।

একজন ভালো পোলিং অফিসারের ৫টি গুণ

বইয়ের ভাষায় নয়, অভিজ্ঞতার আলোকে একজন ভালো পোলিং অফিসারের কিছু গুণ থাকা চাই:

১. ধৈর্যশীলতা: নানা ধরণের মানুষ আসবে। কেউ ধীর গতির, কেউ কানে কম শোনে, কেউ বা খিটখিটে। আপনাকে ধৈর্য ধরে তাদের সাহায্য করতে হবে।
২. চোখ-কান খোলা রাখা: আপনার নাকের ডগা দিয়ে যেন কেউ জাল ভোট দিয়ে না যায়।
৩. দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা: ছোটখাটো ঝামেলার জন্য বারবার প্রিজাইডিং অফিসারকে ডাকলে কাজের গতি কমে যাবে।
৪. টিম প্লেয়ার: পাশের কলিগ বা পুলিশ সদস্যের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখলে বিপদে সাহায্য পাবেন।
৫. নিয়ম মানা: নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলী অক্ষরে অক্ষরে পালন করা।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে পোলিং অফিসারের দায়িত্ব 

২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে। হয়তো পেপারলেস ভোটিং বা আরও উন্নত ইভিএম দেখা যেতে পারে। প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সম্পর্কে আপডেট থাকতে এবং বিভিন্ন সরকারি অ্যাপ বা সেবার টিউটোরিয়াল জানতে আপনি Daily ICT Post ভিজিট করতে পারেন। এখানে আমরা নিয়মিত আইসিটি এবং সরকারি সেবা সংক্রান্ত টিপস শেয়ার করি।

পোলিং অফিসার সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নোত্তর 

পোলিং অফিসারের দায়িত্ব নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মনে যেসব প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি আসে, সেগুলোর উত্তর নিচে দেওয়া হলো। চলুন, চটজলদি কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নিই।

১. পোলিং অফিসার কি নিজের ভোট দিতে পারেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই। নির্বাচনের ডিউটিতে থাকলে আপনি “পোস্টাল ব্যালট” (Postal Ballot) এর মাধ্যমে আগেই ভোট দিতে পারবেন। এর জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন করতে হয়।

২. পোলিং অফিসারের ডিউটি কি খুব রিস্কি?
ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকে। তাছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স টহলে থাকে। আপনি সৎ থাকলে ভয়ের কোনো কারণ নেই।

৩. দুপুরের খাবার কি সরকার দেবে?
সাধারণত সরকার থেকে খাবারের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকে। প্রিজাইডিং অফিসার সেই টাকা দিয়ে সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। তবে শুকনো খাবার ও পানি সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. যদি ভুল করে কাউকে দুইবার ব্যালট দিয়ে ফেলি?
এটি মারাত্মক ভুল। এমনটি হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং অফিসারকে জানান। ব্যালটটি বাতিল করতে হবে এবং হিসাবের খাতায় নোট রাখতে হবে।

৫. পোলিং অফিসারের কাজ কি কি—এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন কোনটি?
সবচেয়ে কঠিন হলো ভিড় সামলানো এবং দিনশেষে ব্যালটের হিসাব মেলানো (Ballot Paper Account)। এই হিসাব না মিললে কেন্দ্র থেকে বের হওয়া যায় না।

৬. মহিলা পোলিং অফিসারদের নিরাপত্তা কেমন?
নির্বাচন কমিশন মহিলা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে বেশ সচেষ্ট। সাধারণত তাদের বাড়ির কাছের কেন্দ্রে ডিউটি দেওয়া হয় না, তবে নিরাপদ যাতায়াত এবং থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ থাকে।

৭. অসুস্থ হলে কি ডিউটি বাতিল করা যায়?
উপযুক্ত কারণ এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করলে ডিউটি বাতিল বা পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে এটি নির্বাচনের বেশ কয়েকদিন আগে করতে হয়।

৮. সম্মানী কত পাওয়া যায়?
এটি প্রতি নির্বাচনে পরিবর্তন হয়। তবে কষ্ট এবং ঝুঁকির তুলনায় সম্মানী খুব বেশি নয়। তবুও, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব—এই আত্মতৃপ্তিই বড় পাওনা।

শেষ কথা

নির্বাচন একটি দেশের গণতন্ত্রের উৎসব, আর সেই উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো পোলিং অফিসারের কাজ। আর আপনি সেই উৎসবের একজন গর্বিত স্বেচ্ছাসেবক। পোলিং অফিসারের কাজ শুধু ৯টা-৫টার ডিউটি নয়, এটি একটি গুরুদায়িত্ব। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আপনার সততা, দক্ষতা এবং পরিশ্রম একটি সুন্দর আগামী উপহার দিতে পারে।

ভয় পাবেন না, আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করুন। মনে রাখবেন, আপনি একা নন, পুরো প্রশাসন আপনার সাথে আছে। নিয়ম মেনে কাজ করলে কোনো শক্তিই আপনাকে বিপদে ফেলতে পারবে না। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।

এই আর্টিকেলটি উপকারী মনে হলে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।

Author

  • Daily ICT News Reporter

    dailyictpost.com টিম চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রশ্ন সমাধান, সরকারি পদের কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি–ভিত্তিক তথ্য সহজ ও বাস্তব ভাষায় উপস্থাপন করে। পাশাপাশি আমরা আইসিটি, মোবাইল, কম্পিউটার, অ্যাপস, অনলাইন ইনকাম, ডিজিটাল টুলস ও সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো এমনভাবে ব্যাখ্যা করি, যেন পাঠক বুঝতে বুঝতেই শিখে ফেলেন।

    আমরা বিশ্বাস করি—প্রযুক্তি শেখা কঠিন নয়, যদি সেটি সঠিকভাবে বোঝানো যায়। তাই নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার, মোবাইল সেটিংস কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো জটিল বিষয়গুলো ধাপে ধাপে এমন ভাষায় তুলে ধরি, যেন মনে হয় আপনার পাশেই কেউ বসে সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

    আমাদের লক্ষ্য একটাই—পাঠক যেন নির্ভুল তথ্য পায়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেখে এবং বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে।

Visited 54 times, 1 visit(s) today