বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি করা মানে শুধু একটি জীবিকা নয়, বরং এটি একটি আবেগ। আর এই আবেগের কেন্দ্রে যে পদটি তরুণ প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে লোভনীয়, তা হলো ‘ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস’ বা টিএ (TA)। আপনি হয়তো অনেক জায়গায় শুনেছেন এই পদের কথা, কিন্তু অনেকেই পরিষ্কার নন আসলে ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি বা নিয়োগ পাওয়ার পর তাদের দিনকাল কেমন কাটে।
আজকের এই লেখায় আমি কোনো তাত্ত্বিক বুলি আউড়াবো না। বরং একদম গ্রাউন্ড লেভেল থেকে, বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আপনাদের জানাব ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস কি কাজ করে, তাদের চ্যালেঞ্জগুলো কী এবং কেন এই চাকরিটি রেলওয়ের অন্যান্য পদের চেয়ে আলাদা। চলুন, রেললাইনের ঝিকঝিক শব্দের পেছনের কারিগরদের গল্প শুনি।

১. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস পদের পরিচয়
সহজ বাংলায় বলতে গেলে, ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস হলো রেলওয়ের অপারেটিং বা ট্রাফিক বিভাগের ‘ভবিষ্যৎ লিডার’ তৈরির একটি প্রশিক্ষণার্থী পদ। এটি সরাসরি ১০ম গ্রেডের একটি অত্যন্ত সম্মানজনক পদ। সেনাবাহিনীতে যেমন ক্যাডেট হিসেবে ঢুকে অফিসার হওয়া যায়, রেলেও তেমনি ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস হিসেবে ঢুকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ থাকে। এরা মূলত রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের মেরুদণ্ড।
আরো পড়ুনঃ ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি? রেলওয়েতে ক্যারিয়ার গড়তে জেনে নিন
২. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি
ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস এর অনেক কাজ রয়েছে। নিম্নে ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি কি তা বর্ণনা করা হলো-
ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ হলো মূলত রেলওয়ের ট্রাফিক বা ট্রেন চলাচল ব্যবস্থা, সিগন্যালিং, এবং স্টেশন ব্যবস্থাপনার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ নেওয়া। প্রশিক্ষণ শেষে তারা স্টেশন মাস্টার, ইয়ার্ড মাস্টার বা ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মূল লক্ষ্য থাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা।
৩. কেন জানবেন ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস দায়িত্ব কি কি?
আপনি যদি এই পদে আবেদন করতে চান, তবে কাজের ধরণ জানাটা ফরজ। কারণ, দূর থেকে আমরা শুধু ট্রেন চলতে দেখি, কিন্তু এর পেছনে যে হাজারো জটিল সমীকরণ থাকে, তা একজন ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিসকেই সামলাতে হয়। রেলওয়ে ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস কাজ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে ভাইভা বোর্ডেও আপনি এগিয়ে থাকবেন।
৪. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস পদের চাকরির প্রশিক্ষণকালীন জীবন:
নিয়োগ পাওয়ার পরদিনই আপনি বড় কোনো অফিসার হয়ে যাবেন না। ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস চাকরির কাজ শুরু হয় হালিশহর রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (RTA) থেকে। এখানে আপনাকে শিখতে হবে:
- রেলওয়ের আইন ও কানুন।
- সিগন্যালিং ব্যবস্থার খুঁটিনাটি।
- টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা।
- বাণিজ্যিক বা কমার্শিয়াল নিয়মাবলী।
আরো পড়ুনঃ ট্রেন কন্ট্রোলার এর কাজ কি? রেলওয়ের নেপথ্যদের আসল দায়িত্ব
৫. ফিল্ড ট্রেনিং বা এটাচমেন্ট
একাডেমিক পড়ার পাশাপাশি আপনাকে বিভিন্ন স্টেশনে পাঠানো হবে। একে বলা হয় ‘স্টেশন এটাচমেন্ট’। এই সময়ে আপনি একজন স্টেশন মাস্টারের ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করবেন। ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস কাজ বাংলায় বুঝতে হলে এই সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি দেখবেন কিভাবে একটি ট্রেনকে লাইন ক্লিয়ার দেওয়া হয়, বা কিভাবে পয়েন্টসম্যানদের কাজ তদারকি করা হয়।
৬. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস এর অপারেশনাল দায়িত্বসমূহ:
ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিসদের মূল ফোকাস থাকে অপারেশনের ওপর। ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস কি ধরনের কাজ করে তা অপারেশনাল দিক থেকে নিচে আলোচনা করা হলো:

- প্যানেল বোর্ড অপারেশন: আধুনিক স্টেশনগুলোতে কম্পিউটারাইজড প্যানেল বোর্ড থাকে। কোন ট্রেন কোন লাইনে ঢুকবে, তা এখান থেকেই ঠিক করা হয়।
- সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ: ট্রেনের ড্রাইভার বা লোকো মাস্টার সিগন্যাল ছাড়া এক কদমও আগান না। এই সিগন্যাল সঠিক সময়ে নামানো বা ওঠানো এদের কাজ।
- ক্রসিং পরিচালনা: সিঙ্গেল লাইনে দুটি ট্রেনের ক্রসিং করানো বেশ স্নায়ুক্ষয়ী কাজ। এটি তাদের শিখতে হয়।
৭. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস এর বাণিজ্যিক কাজ
রেল শুধু যাত্রী পরিবহন করে না, আয়ও করে। ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিসর পদে কর্মরতদের কাজ কী তার মধ্যে বাণিজ্যিক দিকটাও পড়ে।

- টিকিট বিক্রি তদারকি করা।
- পার্সেল বা মালামাল বুকিং ঠিকঠাক হচ্ছে কি না দেখা।
- বিনা টিকিটের যাত্রী ধরলে জরিমানার ব্যবস্থা করা।
আরো পড়ুনঃ ট্রেন এক্সামিনার এর কাজ কি? জেনে নিন রেলওয়ের চাকরির খুঁটিনাটি
ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস বনাম স্টেশন মাস্টার পদের কাজের পার্থক্য
| বিষয় | ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস (TA) | স্টেশন মাস্টার (SM) |
|---|---|---|
| মূল ভূমিকা | শিক্ষার্থী বা প্রশিক্ষণার্থী সুপারভাইজার | নির্দিষ্ট স্টেশনের ইনচার্জ |
| দায়িত্ব | সকল বিভাগের কাজ শেখা ও রিপোর্ট করা | স্টেশনের দৈনন্দিন অপারেশন চালানো |
| ভবিষ্যৎ | দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে অফিসার হন | পদোন্নতি ধীরগতিতে হয় |
| ক্ষেত্র | পুরো বিভাগ বা জোন | নির্দিষ্ট স্টেশন চত্বর |
৮. যেখানে ট্রেনের জন্ম হয়
বড় জংশনগুলোতে (যেমন চট্টগ্রাম, ঈশ্বরদী, আখাউড়া) বিশাল সব ইয়ার্ড থাকে। এখানে ট্রেনের বগি জোড়া দেওয়া বা আলাদা করা হয়। একে বলা হয় ‘মার্শালিং’ (Marshalling)। ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস জব ডেসক্রিপশন এর মধ্যে ইয়ার্ডের কাজ বোঝা খুব জরুরি। কোন ইঞ্জিনের সাথে কোন বগি যাবে, তা নিখুঁতভাবে সাজানোই এদের কাজ।
৯. দুর্ঘটনা ও সেফটি ম্যানেজমেন্ট
রেলওয়েতে একটা কথা আছে—”Safety First” বা নিরাপত্তাই প্রথম। বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস কাজ এর অন্যতম প্রধান অংশ হলো দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা। লাইনে কোনো ফাটল আছে কি না, বা পয়েন্ট ঠিকমতো সেট হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। আল্লাহ না করুক, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধারকারী দলের সাথে কাজ করাও তাদের শিখতে হয়।
১০. কন্ট্রোল রুমের ডিউটি:
প্রতিটি বিভাগে একটি করে কন্ট্রোল রুম থাকে। এখান থেকে পুরো বিভাগের সব ট্রেনের অবস্থান মনিটর করা হয়। ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিসদের এখানেও ডিউটি করতে হয়। তারা শেখে কিভাবে গ্রাফ পেপারে ট্রেনের গতিপথ আঁকতে হয় এবং ড্রাইভারদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয়।
১১. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস ডিউটি কি:
রেলগাড়ি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই চলে। তাই এদের ডিউটির কোনো ধরাবাঁধা ‘অফিস টাইম’ নেই। সাধারণত শিফটিং ডিউটি করতে হয়।
- সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা।
- দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা।
- রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা।
এই রোটেশন বা রোস্টার অনুযায়ী তাদের কাজ করতে হয়। তাই মানসিক প্রস্তুতি থাকাটা খুব জরুরি।
১২. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস রিপোর্ট তৈরি ও দাপ্তরিক কাজ
মাঠের কাজের পাশাপাশি প্রচুর দাপ্তরিক কাজও থাকে। ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস কি কাজ করে—তা শুধু বাইরে দৌড়াদৌড়ি নয়, বরং টেবিলেও অনেক কাজ।
- দৈনিক ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা রিপোর্ট তৈরি।
- স্টেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো।
- ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের (DTS/DTO) কাছে পরিদর্শন রিপোর্ট পাঠানো।
১৩. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস এর বেতন ও সুযোগ-সুবিধা:
কাজের এত চাপ, তাহলে পাওয়াটা কী? ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস চাকরির কাজ যেমন কঠিন, এর প্রতিদানও ভালো।
- বেতন স্কেল: ১০ম গ্রেড (১৬,০০০ – ৩৮,৬৪০ টাকা)।
- চাকরি শুরুর সময়েই সর্বসাকুল্যে প্রায় ২৭-২৮ হাজার টাকা (এলাকাভেদে) পাওয়া যায়।
- এর সাথে যুক্ত হয় ওভারটাইম বা মাইলেজ সুবিধা, যা মূল বেতনের চেয়েও অনেক সময় বেশি হয়।
- রেলওয়েতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভ্রমণের জন্য ফ্রি পাস ও পিটিও (PTO) সুবিধা।
১৪. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস এর ক্যারিয়ার ভবিষ্যৎ কি
এই পদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো প্রমোশন। একজন সাধারণ স্টেশন মাস্টার যেখানে সারা জীবন একই পদে থাকতে পারেন, সেখানে একজন ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস খুব দ্রুত পদোন্নতি পান।

- ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস (প্রশিক্ষণার্থী)।
- স্টেশন মাস্টার / ইয়ার্ড মাস্টার (সাময়িক)।
- ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (TI)।
- সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (ACS/ATO) — যা বিসিএস ক্যাডার সমমান।
১৫. প্রযুক্তি ও আধুনিকায়নের ছোঁয়া
রেলওয়ে এখন আর আগের মতো এনালগ নেই। কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলকিং সিস্টেম (CBI) চালু হয়েছে। তাই ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস কাজ বাংলায় জানতে হলে কম্পিউটার দক্ষতাও প্রয়োজন। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এবং আইটি বিষয়ক নানা টিপস পেতে আমাদের পার্টনার ওয়েবসাইট https://dailyictpost.com ভিজিট করতে পারেন, যেখানে ক্যারিয়ার সহায়ক নানা তথ্য পাওয়া যায়।
১৬. শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস
এই কাজে আপনাকে মাইলের পর মাইল হাঁটতে হতে পারে। ইয়ার্ডে রোদে পুড়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করতে হয়। তাই শারীরিক ফিটনেস খুবই জরুরি। আর মানসিকভাবেও খুব শক্ত হতে হয়, কারণ হাজারো যাত্রীর জীবনের দায়িত্ব আপনার কাঁধে।
১৭. চ্যালেঞ্জসমূহ:
সবই যে ভালো, তা কিন্তু নয়। কিছু কঠিন দিকও আছে:
- ঘুমের ব্যাঘাত: নাইট ডিউটির কারণে ঘুমের অনিয়ম হয়।
- ছুটির সমস্যা: ঈদ বা পূজার সময় যখন সবাই বাড়ি যায়, তখন রেলকর্মীদের ছুটি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। কারণ তখন যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- রিমোট পোস্টিং: মাঝে মাঝে খুব প্রত্যন্ত স্টেশনে পোস্টিং হতে পারে যেখানে আধুনিক সুবিধা কম।
১৮. পাবলিক রিলেশন বা জনসেবা
স্টেশনে যাত্রীদের নানামুখী প্রশ্নের জবাব দেওয়া, তাদের অভিযোগ শোনা এবং সমাধান দেওয়া-এগুলোও ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস দায়িত্ব কি কি এর অংশ। বিশেষ করে ট্রেন লেট করলে যাত্রীদের শান্ত রাখাটা একটা আর্ট, যা তাদের শিখতে হয়।
১৯. প্রটোকল ডিউটি
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশী মেহমানরা রেলে ভ্রমণ করলে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে হয়। ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিসরা এই ভিআইপি মুভমেন্টের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২০. গুডস বা মালবাহী ট্রেনের গুরুত্ব
আমরা শুধু যাত্রীবাহী ট্রেন দেখি, কিন্তু রেলওয়ের মূল আয় আসে মালবাহী ট্রেন থেকে। কন্টেইনার, তেল বা সারবাহী ট্রেন লোড-আনলোড এবং সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করা রেলওয়ে ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস কাজ এর একটি ভাইটাল অংশ।
২১. কাদের জন্য এই পেশা?
আপনি যদি রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, যদি চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় না পান এবং যদি একটি ইউনিফর্ম পরা জবের স্বপ্ন দেখেন—তবে এটি আপনার জন্যই। যারা ৯টা-৫টার বোরিং অফিস জব পছন্দ করেন না, তাদের জন্য রেলওয়ে এক বিশাল ক্যানভাস।
২২. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি
এই সোনার হরিণ পেতে হলে আপনাকে কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি রেলওয়ে সম্পর্কিত প্রশ্নও আসে। ভাইভাতে আপনার স্মার্টনেস এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখা হয়।
২৩. একজন সফল ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিসের গুণাবলী
- নেতৃত্ব: শত শত কর্মীকে পরিচালনা করার ক্ষমতা।
- ধৈর্য: যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখা।
- সময়ানুবর্তিতা: রেল চলে সময়ের কাঁটায়, তাই আপনাকেও হতে হবে সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
২৪. নারীর ক্ষমতায়ন ও ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস
আগে মনে করা হতো রেলের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুধু ছেলেদের জন্য। কিন্তু ধারণা এখন পাল্টেছে। মেয়েরাও এখন ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস কি ধরনের কাজ করে তা হাতে-কলমে প্রমাণ করছেন। কন্ট্রোল রুম ম্যানেজমেন্ট বা স্টেশন মাস্টারের দায়িত্বে নারীরা অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।
২৫. সামাজিক মর্যাদা
রেলওয়ের একজন সুপারভাইজরি অফিসার হিসেবে আপনি সমাজে যথেষ্ট সম্মান পাবেন। স্টেশন এলাকায় স্টেশন মাস্টার বা ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের কথা সবাই মান্য করে। এটি এমন একটি পদ যা আপনাকে ক্ষমতা এবং সম্মান—দুটোই দেবে।
২৬. ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে মেগা প্রজেক্ট চলছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, দোহাজারী-কক্সবাজার লাইন, মেট্রো রেল—সব মিলিয়ে রেলওয়ের পরিধি বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতে ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস চাকরির কাজ এর ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে এবং পদোন্নতির সুযোগও বাড়বে।
ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস পদে আবেদন করার যোগ্যতা কী?
সাধারণত যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকলে আবেদন করা যায়।
২. ট্রেনিং পিরিয়ডে কি বেতন পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, প্রশিক্ষণ চলাকালীন নির্ধারিত স্কেলে বেতন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়া যায়।
৩. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস থেকে সর্বোচ্চ কোন পদে যাওয়া যায়?
সঠিকভাবে কাজ করলে এবং বিভাগীয় পরীক্ষায় পাস করলে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট বা তার উপরের পদেও যাওয়া সম্ভব।
৪. ডিউটি কি খুব কষ্টের?
শুরুতে শিফটিং ডিউটি এবং ফিল্ড ওয়ার্ক একটু কষ্টের মনে হতে পারে, তবে সময়ের সাথে সাথে অভ্যাস হয়ে যায়।
৫. পোস্টিং কি নিজের এলাকায় পাওয়া যায়?
সরকারি চাকরি হওয়ায় দেশের যেকোনো প্রান্তে পোস্টিং হতে পারে। তবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিজের জোনে পোস্টিং পাওয়ার সুযোগ থাকে।
৬. ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস কি ট্রেন চালায়?
না, তারা ট্রেন চালায় না। ট্রেন চালানোর কাজ লোকো মাস্টারদের। ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিসরা ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা ম্যানেজ করেন।
৭. এই চাকরির কি পেনশন সুবিধা আছে?
অবশ্যই, এটি ১০০% সরকারি চাকরি, তাই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা আছে।
৮. মেয়েদের জন্য নিরাপত্তা কেমন?
রেলওয়েতে মেয়েদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয় এবং সাধারণত তাদের সুবিধাজনক স্টেশনে বা দাপ্তরিক কাজে পোস্টিং দেওয়া হয়।
৯. চশমা থাকলে কি আবেদন করা যাবে?
ট্রাফিক বিভাগে দৃষ্টিশক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কালার ব্লাইন্ডনেস থাকলে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে সাধারণ পাওয়ারের চশমা গ্রহণযোগ্য হতে পারে (নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত সাপেক্ষে)।
১০. কাজের চাপ কেমন থাকে?
ঈদ বা উৎসবের সময় কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, তবে সাধারণ সময়ে রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি করায় পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ থাকে।
২৭. শেষ কথা
পরিশেষে, ট্রাফিক এ্যাপ্রেন্টিস এর কাজ কি—এটা কোনো এক বাক্যের উত্তর নয়। এটি একটি লাইফস্টাইল। এটি এমন একটি চাকরি যেখানে আপনি ঘুমানোর সময়ও কানে ট্রেনের হুইসেল বাজবে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার লাইফলাইন সচল রাখার এই মহান দায়িত্বে যারা নিয়োজিত, তারা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
আপনার যদি ইচ্ছা থাকে দেশের সেবা করার এবং একটি ডাইনামিক ক্যারিয়ার গড়ার, তবে আজই প্রস্তুতি শুরু করুন। রেললাইন আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, নতুন গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
Please don’t forget to leave a review of my article.
