প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক যেহেতু গতকাল প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে তাই প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত এর প্রথম ধাপ পার করে এসেছেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় যারা পাশ করেছেন তাদের প্রথমেই আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। কিন্তু আসল যুদ্ধটা এখনো বাকি। হ্যাঁ, আমি ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার কথা বলছি। এই একটি ধাপেই অনেকের স্বপ্ন পূরণ হয়, আবার অনেকের স্বপ্ন হাতের মুঠো থেকে ফসকে যায়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও শুধুমাত্র সঠিক গাইডলাইন আর আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভাইভা বোর্ডে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন।
আপনার এই দুশ্চিন্তা দূর করতেই আজ আমি নিয়ে এসেছি “প্রাইমারি ভাইভা সহায়িকা pdf” এর আদলে সাজানো এক বিশাল তথ্যভান্ডার। এটি গতানুগতিক কোনো আর্টিকেল নয়; এটি আপনার শিক্ষক হওয়ার যাত্রার শেষ পথের সঙ্গী। চলুন, অপ্রয়োজনীয় কথা না বাড়িয়ে সরাসরি প্রস্তুতি সেরা প্রাইমারি ভাইভা সহায়িকা PDF ডাউনলোডের কাজে নেমে পড়ি।

১. প্রাইমারি ভাইভা/ viva কী? ভয়ের কিছু আছে কি?
ভাইভা শব্দটা শুনলেই আমাদের অনেকের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, ভাইভা বোর্ড আপনাকে বাঘের মতো খেয়ে ফেলবে না! লিখিত পরীক্ষায় আপনি প্রমাণ করেছেন যে আপনার মেধা আছে। ভাইভা বোর্ডে তারা শুধু দেখতে চান—আপনি মানুষটা কেমন? আপনার কথা বলার স্টাইল, আপনার ধৈর্য, আর বাচ্চাদের পড়ানোর মানসিকতা আপনার মধ্যে আছে কি না।
অনেকেই ইন্টারনেটে প্রাইমারি ভাইভা pdf খুঁজে হন্যে হয়ে যান। কিন্তু পিডিএফ ফাইলের চেয়েও জরুরি হলো নিজের মানসিক প্রস্তুতি। নিজেকে বিশ্বাস করা শিখুন- “আমি পারব।”
২. প্রাইমারি ভাইভা ২০২৬:
সময়ের সাথে সাথে ভাইভা বোর্ডের ধরণ পাল্টাচ্ছে। প্রাইমারি ভাইভা ২০২৬ pdf বা গাইডের খোঁজ যারা করছেন, তাদের বলে রাখি- এখন আর শুধু বইয়ের পড়া ধরলে চলে না। এখন স্মার্টনেস আর উপস্থিত বুদ্ধির কদর বেশি। ২০২৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর আইসিটি জ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই নিজেকে আপডেটেড রাখাটা এখন সময়ের দাবি।
প্রাইমারি ভাইভা সহায়িকা PDF ডাউনলোড
প্রাইমারি ভাইভা সহায়িকা PDF ডাউনলোড করার জন্য নিচ থেকে প্রিভিউ দেখে নিন এরপর নিচের ডাউনলোড বাটন থেকে পিডিএফটি ডাউনলোড করে নিন।
৩. প্রাইমারি ভাইভা প্রস্তুতি কোথা থেকে শুরু করবেন?
প্রস্তুতি শুরু করার আগে একটা প্ল্যান বা ছক কষে নেওয়া খুব জরুরি। এলোমেলো পড়ালেখা আপনাকে শুধু বিভ্রান্তই করবে। একটি গোছানো প্রাইমারি ভাইভা গাইড pdf আপনাকে এই ছকটা তৈরি করে দিতে পারে। ভাইভা প্রস্তুতির জন্য এই আর্টিকেল দেখতে পারেন। অথবা প্রাইমারী সহকারী শিক্ষক ভাইভা সাজেশন ২০২৬ | Primary Assistant Teacher Viva Guide

নিচে প্রস্তুতির ধাপগুলো ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো:
ক) মানসিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস
ভাইভা বোর্ডের প্রধান অস্ত্র হলো আপনার আত্মবিশ্বাস। আপনি যদি প্রাইমারি শিক্ষক ভাইভা সহায়িকা খুঁজছেন, তবে জেনে রাখুন- সবচেয়ে বড় সহায়িকা হলো আপনার নিজের মন। নার্ভাসনেস কাটানোর জন্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার প্র্যাকটিস করুন। মনে মনে ভাবুন, আপনি ইতিমধ্যে শিক্ষক হয়ে গেছেন, এখন শুধু ফর্মালিটি বাকি।

খ) বাচনভঙ্গি ও উচ্চারণ
শিক্ষকের প্রধান হাতিয়ার হলো তার কণ্ঠস্বর। স্পষ্ট ও শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা প্র্যাকটিস করুন। আঞ্চলিকতা পরিহার করার চেষ্টা করুন, তবে তা করতে গিয়ে যেন কথা বলা কৃত্রিম না হয়ে যায়। ন্যাচারাল থাকুন।
৪. ভাইভা বোর্ডে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
ভাইভা বোর্ডে যাওয়ার আগে আপনার কাগজপত্র ঠিকঠাক না থাকলে সব প্রস্তুতিই বৃথা। প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক ভাইভা pdf নোটগুলোতে আমরা সবসময় কাগজপত্রের ওপর জোর দিই। নিচে একটি চেকলিস্ট দেওয়া হলো, মিলিয়ে নিন আপনার সব রেডি আছে তো?
| ক্রমিক | কাগজের নাম | কেন প্রয়োজন? |
|---|---|---|
| ১ | লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র | এটি ছাড়া ভাইভায় বসতে দেবে না |
| ২ | অনলাইন আবেদনের কপি (Applicant’s Copy) | আপনার তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য |
| ৩ | সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ | আপনার যোগ্যতার প্রমাণ |
| ৪ | জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) | আপনার নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিশ্চিত করতে |
| ৫ | নাগরিকত্ব সনদ | চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলর অফিস থেকে নিতে হবে |
| ৬ | চারিত্রিক সনদ | প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত |
| ৭ | পাসপোর্ট সাইজের ছবি | সদ্য তোলা রঙিন ছবি (সত্যায়িত) |
পরামর্শ: সব কাগজের অন্তত ২ সেট ফটোকপি এবং মূল কপি আলাদা ফাইলে রাখবেন। প্রাইমারি ভাইভা নোট pdf এ আমরা সবসময় পরামর্শ দিই, ফাইল এমনভাবে সাজাবেন যেন চাইলেই চোখের পলকে নির্দিষ্ট কাগজ বের করে দেওয়া যায়।
৫. পোশাক-পরিচ্ছদ:
কথায় আছে, “আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী।” ভাইভা বোর্ডে ঢোকার পর প্রথম ৩ সেকেন্ডে আপনার পোশাক দেখেই বোর্ড মেম্বাররা আপনার সম্পর্কে একটা ধারণা করে ফেলেন।
- ছেলেদের জন্য: হালকা রঙের ফুল হাতা শার্ট (সাদা, আকাশী বা হালকা গোলাপি)। কালো ফরমাল প্যান্ট। কালো বেল্ট ও কালো সু। চুল ছোট করে ছাঁটা এবং ক্লিন শেভ করা থাকলে ভালো দেখায়।
- মেয়েদের জন্য: মার্জিত শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ। শাড়ি পরলে সুতি বা মার্জিত রঙের শাড়ি বেছে নিন। অতিরিক্ত মেকআপ বা ঝমকালো গয়না পরবেন না। হিজাব পরলে তা যেন মার্জিত হয়।
মনে রাখবেন, প্রাইমারি ভাইভা সাজেশন pdf এ আমরা সবসময় বলি—পোশাক যেন আপনার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে, ঢেকে না দেয়।
৬. ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের আদবকেতা ও আচরণ
দরজায় দাঁড়িয়ে অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢুকবেন। ভেতরে ঢুকে সবাইকে স্পষ্ট স্বরে সালাম বা নমস্কার দেবেন। বসতে বলার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবেন। বসতে বললে ধন্যবাদ দিয়ে বসবেন। এগুলো খুব সাধারণ ভদ্রতা, কিন্তু নার্ভাসনেসের কারণে অনেকেই ভুলে যান। প্রাইমারি ভাইভা প্রশ্ন pdf ঘাটাঘাটি করার আগে এই আচরণগুলো আয়ত্ত করা বেশি জরুরি।
বসার সময় সোজা হয়ে বসবেন। চেয়ারে হেলান দিয়ে বা খুব আড়ষ্ট হয়ে বসবেন না। হাতের ওপর হাত রেখে কোলের ওপর রাখতে পারেন। চোখের দিকে তাকিয়ে (Eye Contact) কথা বলাটা কনফিডেন্সের লক্ষণ। মাটির দিকে বা ছাদের দিকে তাকিয়ে উত্তর দেবেন না।
৭. প্রাইমারি ভাইভা কমন প্রশ্ন ও উত্তর:
ভাইভা বোর্ডে কিছু প্রশ্ন আছে যা প্রায় সবারই মুখোমুখি হতে হয়। এগুলো যদি আগে থেকে গুছিয়ে না রাখেন, তবে সেখানে গিয়ে তোতলামি শুরু হতে পারে। আসুন, প্রাইমারি ভাইভা প্রশ্ন উত্তর pdf এর আলোকে কিছু কমন প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করি। প্রাইমারী ভাইভায় আরো প্রশ্ন কমন পেতে পড়ুন এটা।
“আপনার নিজের সম্পর্কে বলুন” (Introduce Yourself)
এটিই সম্ভবত প্রথম প্রশ্ন হবে। এখানে নিজের নাম, বাবার নাম, জেলার নাম, এবং সর্বশেষ ডিগ্রি সম্পর্কে সংক্ষেপে বলবেন। খুব বেশি বিস্তারিত বা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলবেন না।
“শিক্ষকতা পেশায় কেন আসতে চান?”
খবরদার! ভুলেও বলবেন না “অন্য চাকরি পাচ্ছি না তাই এসেছি।” বলবেন, “স্যার/ম্যাম, ছোটবেলা থেকেই আমি শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। আমি মনে করি, জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা অনেক সম্মানের। শিশুদের শেখানো এবং তাদের মাঝে জ্ঞান বিতরণ করাটা আমি উপভোগ করি।” প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক ভাইভা প্রশ্ন pdf এ এমন পজিটিভ উত্তরের কদর সবসময় বেশি।
নিজ জেলা বা উপজেলা সম্পর্কে প্রশ্ন
আপনার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি, নদী, ঐতিহাসিক স্থান, এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনার জেলার ভূমিকা সম্পর্কে খুঁটিনাটি জেনে যান। যেমন, আপনার জেলায় কোনো বীরশ্রেষ্ঠ বা বিখ্যাত কবি জন্মেছেন কি না। প্রাইমারি ভাইভা সহায়িকা pdf ডাউনলোড করে সেখানে জেলার তথ্যাবলি সেকশনটা ভালো করে পড়ে নেবেন।
৮. প্রাইমারি ভাইভার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি:
আপনি যে বিষয়ে অনার্স বা মাস্টার্স করেছেন, সেই বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হবে। তবে প্রাইমারি লেভেলের বইগুলোর ওপরও ধারণা থাকা চাই।
- বাংলা: সাহিত্যিকদের জীবনী, ছদ্মনাম, বিখ্যাত পংক্তি এবং ব্যাকরণ (কারক, সমাস, সন্ধি)। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের জন্ম-মৃত্যু সাল একদম ঠোঁস্থ থাকা চাই।
- ইংরেজি: সাধারণ ট্রান্সলেশন, Parts of Speech, Tense এবং Vocabulary। ছোট ছোট বাক্যের ইংরেজি করা প্র্যাকটিস করুন। যেমন—”সে সাঁতার কাটতে জানে না”, “সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে” ইত্যাদি।
- গণিত: জ্যামিতির সাধারণ সংজ্ঞা (বর্গ, রম্বস, বৃত্ত), নামতা এবং ছোটখাটো মানসিক অংক। প্রাইমারি ভাইভা প্রস্তুতি pdf ম্যাটেরিয়ালে গণিতের বেসিক সূত্রগুলো এক নজর দেখে নেওয়া ভালো।
- সাধারণ জ্ঞান: বাংলাদেশের সংবিধান, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক বিশ্ব। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল-এগুলো নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
৯. মুক্তিযুদ্ধ: জানতেই হবে
বাংলাদেশের যেকোনো সরকারি চাকরির ভাইভায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করাটা এক অলিখিত নিয়ম। প্রাইমারি ভাইভা সম্পূর্ণ গাইড pdf ঘাটলে দেখবেন, এই টপিকটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
- ৭ই মার্চের ভাষণ।
- মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের নাম এবং আপনার জেলা কত নম্বর সেক্টরে ছিল।
- বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ও তাদের অবদান।
এগুলো না পারাটা নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়।
১০. পরিস্থিতি সামাল দেওয়া
মাঝেমধ্যে বোর্ড মেম্বাররা আপনাকে বিপদে ফেলার জন্য অদ্ভুত কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন—
“ক্লাসে বাচ্চারা খুব চেঁচামেচি করছে, আপনি কী করবেন?”
উত্তর হতে পারে: “আমি রেগে না গিয়ে তাদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য কোনো মজার গল্প শুরু করব বা তাদের কোনো অ্যাক্টিভিটিতে ব্যস্ত করে দেব।”
এই ধরণের প্রশ্নের জন্য উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগাতে হয়। প্রাইমারি শিক্ষক ভাইভা সহায়িকা বা অভিজ্ঞদের পরামর্শ এক্ষেত্রে খুব কাজে দেয়।
১১. “জানিনা” বলার সৎ সাহস
ভাইভা বোর্ডে সব প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর না জানেন, তবে আমতা-আমতা করবেন না বা ভুল উত্তর দেবেন না। বিনয়ের সাথে বলুন, “দুঃখিত স্যার, এই মুহূর্তে বিষয়টি আমার মনে পড়ছে না।” আপনার সততা দেখে তারা খুশিই হবেন। প্রাইমারি ভাইভা নোট pdf এ আমরা সবসময় বলি—ভুল বলার চেয়ে না বলা হাজারগুণ শ্রেয়।
১২. ভাইভা বোর্ড থেকে বিদায় নেওয়ার নিয়ম
প্রশ্ন শেষ হলে বোর্ড মেম্বাররা আপনাকে যাওয়ার অনুমতি দেবেন। তখন হুট করে দৌড় দেবেন না। উঠে দাঁড়িয়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তারপর সালাম বা নমস্কার দিয়ে ধীরস্থিরভাবে দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসুন। বের হওয়ার সময় দরজার দিকে পিঠ না দিয়ে বের হওয়াটা ভালো দেখায়।
১৩. প্রাইমারি ভাইভা প্রশ্ন ও উত্তর
ভাইভা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মনে হাজারও প্রশ্ন থাকে। নিচে প্রাইমারি ভাইভা সহায়িকা pdf ও প্রস্তুতি সম্পর্কিত ১০টি কমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।
১. প্রাইমারি ভাইভায় কত নম্বর থাকে?
ভাইভায় সাধারণত ২০ থেকে ২৫ নম্বর থাকে। এর মধ্যে সনদের ওপর, সাধারণ জ্ঞানের ওপর এবং স্মার্টনেসের ওপর আলাদা মার্কস থাকে।
২. ভাইভা কি ইংরেজিতে নেওয়া হয়?
সাধারণত বাংলায় নেওয়া হয়। তবে আপনি ইংরেজিতে কতটা দক্ষ তা যাচাই করতে দু-একটি প্রশ্ন ইংরেজিতে করতে পারে।
৩. আমার সার্টিফিকেটে নামের বানানে ভুল আছে, সমস্যা হবে কি?
ছোটখাটো ভুল হলে সমস্যা নাও হতে পারে। তবে নিরাপদ থাকার জন্য এফিডেভিট করে নেওয়া ভালো এবং বিষয়টি বোর্ডকে সত্যতার সাথে জানানো উচিত।
৪. নিজ জেলা ছাড়া কি অন্য জেলা থেকে প্রশ্ন করে?
হ্যাঁ, করতে পারে। বিশেষ করে আপনি যদি অন্য কোনো জেলায় পড়াশোনা করে থাকেন বা চাকরি করে থাকেন।
৫. শাড়ি পরা কি বাধ্যতামূলক?
বাধ্যতামূলক নয়, তবে শাড়ি বাঙালি সংস্কৃতির অংশ এবং এটি ফরমাল লুক দেয়। তাই শাড়ি পরাই উত্তম। তবে মার্জিত সালোয়ার কামিজও পরা যাবে।
৬. ভাইভার জন্য কি কোচিং করা জরুরি?
মোটেও না। নিজে ভালোভাবে পড়াশোনা করলে এবং বাসায় মক ভাইভা (Mock Viva) প্র্যাকটিস করলে কোচিং ছাড়াই ভালো করা সম্ভব।
৭. প্রাইমারি ভাইভা প্রশ্ন pdf কোথায় পাব?
বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটে বিগত সালের প্রশ্ন পাওয়া যায়। আমাদের সাইটেও চোখ রাখতে পারেন।
৮. ভাইভা বোর্ডে কয়জন সদস্য থাকেন?
সাধারণত ৩ জন সদস্য থাকেন। একজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (DPEO) বা তার প্রতিনিধি এবং অন্য দুইজন বিশেষজ্ঞ।
৯. কতক্ষণ ধরে ভাইভা নেওয়া হয়?
একেকজনের জন্য একেক রকম হতে পারে। গড়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় নেওয়া হয়। তবে বোর্ড চাইলে আরও বেশি সময়ও নিতে পারে।
১০. রেজাল্টের কতদিন পর ভাইভা হয়?
লিখিত পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়ার সাধারণত ১৫ থেকে ১ মাসের মধ্যেই ভাইভা শুরু হয়ে যায়। তাই সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।
১৪. উপসংহার
পরিশেষে একটি কথাই বলব-ভাইভা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করবেন না। প্রাইমারি ভাইভা সহায়িকা pdf বা গাইডবুক আপনাকে যথেষ্ট সাহায্য করবে। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখুন। আপনি লিখিত পরীক্ষায় জয়ী হয়েছেন, মানে আপনার যোগ্যতা আছে। ভাইভা বোর্ডে শুধু সেই যোগ্যতার ছাপ রেখে আসুন।
মনে রাখবেন, একজন ভালো শিক্ষক শুধু বই পড়ান না, তিনি মানুষ গড়েন। আপনি সেই কারিগর হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে আছেন। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল। দেখা হবে বিজয়ের মিছিলে!
Please don’t forget to leave a review of my article.
