জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ | BJSC অফিস সহায়ক পরীক্ষা ২০২৬

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা ও ভবিষ্যৎ সরকারি চাকরিজীবীরা, আসসালামু আলাইকুম।

গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (BJSC) অফিস সহায়ক পদের নিয়োগ পরীক্ষা। পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন- “ইশ! ওই সহজ উত্তরটা কি ভুল করলাম?” আবার কেউ ভাবছো, “কাটমার্ক কত হতে পারে?” একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে আমি সবসময় বলি, শুধু উত্তর মেলালেই চলবে না, কেন উত্তরটি সঠিক এবং বাকিগুলো ভুল, সেই লজিকটা জানা জরুরি।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ বা BJSC অফিস সহায়ক পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রশ্নপত্রটি নিয়ে তোমাদের সাথে একেবারে খোলামেলা আলোচনা করব। প্রতিটি প্রশ্নের গভীরে গিয়ে এমনভাবে ব্যাখ্যা করব, যেন ভবিষ্যতে বিসিএস বা অন্য যেকোনো সরকারি চাকররি পরীক্ষায় এই টপিক থেকে প্রশ্ন এলে তোমরা চোখ বন্ধ করে উত্তর করতে পারো। চলো, খাতা-কলম নিয়ে বসে পড়ি।

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ BJSC অফিস সহায়ক পরীক্ষা ২০২৬
জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ BJSC অফিস সহায়ক পরীক্ষা ২০২৬

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬: ইংরেজি (English Part)

১. Appropriate Preposition

প্রশ্ন: Bangladesh is rich — natural gas.
অপশন: (a) of (b) in (c) for (d) on
সঠিক উত্তর: (b) in

 ব্যাখ্যা:
ইংরেজি গ্রামারে Preposition-এর ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ। যখন কোনো দেশ, স্থান বা বস্তু কোনো নির্দিষ্ট উপাদানে ভরপুর বা সমৃদ্ধ থাকে, তখন rich-এর পর সর্বদা in বসে।
অনেকে ভুল করে rich of ভাবে, কারণ বাংলায় আমরা বলি “গ্যাসের সমৃদ্ধ”। কিন্তু ইংরেজির নিয়ম আলাদা। Rich in একটি Fixed Phrase যার অর্থ “Abounding in” বা প্রচুর পরিমাণে থাকা।
কেন অন্যগুলো নয়: Rich for কোনো কারণ বোঝালে হতে পারে, কিন্তু সম্পদের ক্ষেত্রে নয়। আর Rich of গ্রামাটিক্যালি ভুল।
পরীক্ষার টিপস: মনে রাখবে, খনিজ সম্পদ (Minerals), ভিটামিন (Vitamins) বা কোনো গুণাবলীতে সমৃদ্ধ বোঝালে চোখ বন্ধ করে in বসাবে। যেমন: This fruit is rich in vitamins.

আরো পড়ুন: {এইমাত্র প্রকাশিত} প্রাইমারী সহকারী শিক্ষক পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৬ (Primary Assistant Teacher Exam Result 2026)

২. Sentence Identification

প্রশ্ন: How charming the sight is! is an example of — sentence.
অপশন: (a) assertive (b) Optative (c) interrogaive (d) exclamatory
সঠিক উত্তর: (d) exclamatory

 ব্যাখ্যা:
বাক্যটি দেখলেই বোঝা যাচ্ছে এটি মনের আকস্মিক আবেগ বা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। বাক্যের শেষে একটি বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) বা Note of Exclamation আছে, যা Exclamatory Sentence চেনার সবচেয়ে বড় উপায়।
গঠনটি খেয়াল করো: How + Adjective (charming) + Subject (the sight) + Verb (is) + !
সাধারণত How বা What দিয়ে শুরু হলে আমরা প্রশ্নবোধক বা Interrogative মনে করি। কিন্তু যদি Verb সবার শেষে থাকে এবং প্রশ্নবোধক চিহ্ন না থাকে, তবে সেটি অবশ্যই Exclamatory Sentence। এখানে দৃশ্যের সৌন্দর্য দেখে বক্তা বিস্মিত হয়েছেন।
ভুল ধারণা: অনেকে How দেখেই Interrogative দাগিয়ে ফেলে। কিন্তু Interrogative হতে হলে Verb-টি Subject-এর আগে থাকত (যেমন: How is the sight?)।

৩. Article & Proverb

প্রশ্ন: Man is — architect of his own fate.
অপশন: (a) no article (b) a (c) an (d) the
সঠিক উত্তর: (d) the

 ব্যাখ্যা:
এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রবাদ বাক্য: “Man is the architect of his own fate” (মানুষ নিজেই তার ভাগ্যের নির্মাতা)। গ্রামারের নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো নাউনকে (এখানে architect) নির্দিষ্ট করে বোঝানো হয় বা কোনো বিশেষ উপাধি/পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন তার আগে Definite Article the বসে।
এখানে সব মানুষকে বোঝানো হলেও, ‘স্থপতি’ বা ‘নির্মাতা’ হিসেবে তাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তাছাড়া প্রবাদ বাক্যে প্রচলিত রীতি বা Usage-ই প্রধান। সেখানে গ্রামারের সাধারণ নিয়মের চেয়ে ঐতিহাসিকভাবে কীভাবে বাক্যটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে, সেটাই মুখ্য।
টিপস: প্রবাদ বাক্যগুলো মুখস্থ রাখা জরুরি। যেমন: Honesty is the best policy. এখানে যেমন the বসে, তেমনি Architect-এর আগেও the বসবে।

আরো পড়ুন: প্রাইমারি নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল দেখার উপায় ২০২৬ (SMS ও রোল নম্বর দিয়ে)

৪. Degree of Comparison

প্রশ্ন: Which is — of the two?
অপশন: (a) cheep (b) the cheaper (c) the cheapest (d) the cheap
সঠিক উত্তর: (b) the cheaper

 ব্যাখ্যা:
সাধারণত আমরা জানি Superlative degree-এর আগে the বসে (যেমন: the best)। কিন্তু Comparative degree-এর আগে the বসে না। তবে, এই প্রশ্নটি সেই নিয়মের একটি বড় ব্যতিক্রম!
নিয়ম: যদি বাক্যে of the two উল্লেখ থাকে, অর্থাৎ মাত্র দুজনের মধ্যে তুলনা করে একজনকে বেছে নেওয়া হয়, তখন Comparative form-এর আগেও the বসাতে হয়।
এখানে দুজনের মধ্যে কোনটি সস্তা (cheaper), সেটি নির্দিষ্ট করতে বলা হয়েছে। তাই cheaper-এর আগে the বসেছে।
উদাহরণ: He is the better of the two boys. এখানে better হলো comparative, কিন্তু of the two থাকার কারণে the বসেছে। এটি বিসিএস ও ব্যাংকের পরীক্ষায় খুব কমন একটি ট্রিক।

৫. Preposition of Time

প্রশ্ন: He said nothing — a long time.
অপশন: (a) after (b) during (c) since (d) for
সঠিক উত্তর: (d) for

 ব্যাখ্যা:
এটি Tense এবং Preposition-এর একটি ক্লাসিক উদাহরণ। বাক্যে যখন কোনো কাজের ব্যাপ্তি বা সময়ের দৈর্ঘ্য (Duration of time) বোঝানো হয়, তখন for ব্যবহৃত হয়।
এখানে “a long time” হলো একটি অনির্দিষ্ট দীর্ঘ সময় বা duration। সে কতক্ষণ চুপ ছিল? দীর্ঘ সময় ধরে। তাই for হবে।
Since কেন নয়? যদি নির্দিষ্ট শুরুর সময় (Point of time) বলা থাকত, যেমন “Since morning” বা “Since 1990”, তাহলে since হতো।
After কেন নয়? After মানে পরে। “He said nothing after a long time” অর্থগতভাবে দুর্বল। বাক্যের টোন বলছে সে পুরো সময়টা জুড়ে চুপ ছিল, তাই for বা ‘ধরে’ শব্দটিই সবচেয়ে উপযুক্ত।

৬. Subject-Verb Agreement

প্রশ্ন: Slow and steady — the race.
অপশন: (a) has won (b) win (c) won (d) wins
সঠিক উত্তর: (d) wins

 ব্যাখ্যা:
ঈশপের সেই কচ্ছপ আর খরগোশের গল্পের মোরাল এটি। গ্রামারের ভাষায় একে বলে “Pair Words” বা যুগল শব্দ। নিয়ম হলো, যখন and দ্বারা যুক্ত দুটি শব্দ একই ভাব, ধারণা বা সত্তাকে প্রকাশ করে, তখন তাদের পরে Verb-টি Singular হয়।
“Slow and steady” বলতে দুটি আলাদা গুণ বোঝাচ্ছে না, বরং এটি একটি বিশেষ প্রক্রিয়া—যিনি ধীর কিন্তু লক্ষ্যে অবিচল। এই দুটি গুণ মিলে সাফল্যের একটি একক চাবিকাঠি তৈরি করে। তাই Subject-টি Singular হিসেবে গণ্য হয় এবং Verb-এর সাথে s বা es যুক্ত হয় (Present Indefinite Tense-এ)।
অনুরূপ উদাহরণ: Bread and butter is my favorite food. (রুটি ও মাখন আলাদা নয়, একটি খাবার)।

৭. Quantifiers

প্রশ্ন: We need as — people as possible.
অপশন: (a) enough (b) much (c) many (d) most
সঠিক উত্তর: (c) many

 ব্যাখ্যা:
Countable এবং Uncountable Noun-এর পার্থক্য জানলেই এই উত্তরটি করা সহজ।

  • People: এটি একটি Countable Noun (গণনা করা যায়)। মানুষ ১ জন, ২ জন করে গোনা যায়।
  • Many vs Much: যা গণনা করা যায় (Countable), তার আগে many বসে। আর যা গণনা করা যায় না (Uncountable, যেমন: water, sugar), তার আগে much বসে।
    যেহেতু people গোনা যায়, তাই many people হবে।
    Structure: As + many + noun + as possible. এর অর্থ হলো “যত বেশি সম্ভব মানুষ”।
    ভুল: Much people কখনোই হয় না। Most people হতে পারে কিন্তু বাক্যের গঠন অনুযায়ী as...as এর মাঝে Positive degree বসে, তাই many সঠিক।

৮. Parts of Speech

প্রশ্ন: He runs fast. Here ‘fast’ is –
অপশন: (a) an adverb (b) a verb (c) an adjective (d) a conjunction
সঠিক উত্তর: (a) an adverb

 ব্যাখ্যা:
Parts of Speech নির্ণয় করতে হলে দেখতে হবে শব্দটি বাক্যে কার সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে।
বাক্যটি হলো: He runs fast. (সে দ্রুত দৌড়ায়)।
এখানে runs হলো Verb (ক্রিয়া)। সে কেমন করে দৌড়ায়? উত্তর: fast বা দ্রুত।
যে শব্দ Verb-কে মডিফাই করে বা কাজ করার ধরন (Manner) প্রকাশ করে, তাকে Adverb বলে। এখানে fast শব্দটি দৌড়ানোর গতি বোঝাচ্ছে, তাই এটি Adverb.
বিভ্রান্তি: Fast শব্দটি Adjective-ও হতে পারে। যেমন: “He is a fast runner.” এখানে fast শব্দটি runner (Noun)-কে মডিফাই করছে, তাই সেখানে এটি Adjective। কিন্তু আমাদের প্রশ্নে এটি Verb-এর পরে বসেছে।

৯. Subject-Verb Agreement (Proverb)

প্রশ্ন: All that glitters — not gold.
অপশন: (a) is (b) make (c) look (d) are
সঠিক উত্তর: (a) is

 ব্যাখ্যা:
“চকচক করলেই সোনা হয় না”—এটি একটি সর্বজনীন সত্য বা প্রবাদ বাক্য। গ্রামাটিক্যাল রুল অনুযায়ী, All শব্দটি যখন ‘everything’ বা ‘সমগ্র বস্তু’ অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন সেটি Singular হিসেবে গণ্য হয়।
বিশেষ করে প্রবাদ বাক্যে All that... ক্লজটির পর সাধারণত Singular Verb বসে। এখানে gold বা সোনা একটি Uncountable Noun, আর Uncountable Noun-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত ক্রিয়া সর্বদা Singular হয়।
কেন ‘are’ নয়? অনেকে All দেখে Plural মনে করে are দাগায়। কিন্তু এখানে All বলতে আলাদা আলাদা বস্তুকে বোঝাচ্ছে না, বরং চকচকে বস্তুর পুরো ক্যাটাগরিকে একটি একক সত্তা হিসেবে বোঝাচ্ছে। তাই is হবে।

১০. Quantifiers

প্রশ্ন: The glass contains – during water. (প্রশ্নে ‘during’ শব্দটি সম্ভবত টাইপিং মিস্টেক বা অস্পষ্ট, তবে অপশন দেখে বোঝা যায় এটি পরিমাণ বোঝাচ্ছে। মূল প্রশ্ন হতে পারে “contains — water”)
অপশন: (a) several (b) many (c) a little (d) a few
সঠিক উত্তর: (c) a little

 ব্যাখ্যা:
এখানে মূল ফ্যাক্টর হলো Water শব্দটি। পানি বা Water হলো Uncountable Noun (যা এক-দুই করে গোনা যায় না)।

  • নিয়ম: Uncountable Noun-এর আগে পরিমাণ বোঝাতে a little বা much বসে।
  • Countable: অন্যদিকে many, a few, several—এগুলো বসে Countable Noun-এর আগে।
    যেহেতু পানি গোনা যায় না, তাই many water বা a few water বলা অসম্ভব। সঠিক উত্তর হবে a little water (অল্প পরিমাণ পানি)।
    টিপস: তরল পদার্থ (দুধ, তেল, পানি) সব সময় Uncountable। এদের সাথে কখনোই s/es যুক্ত হয় না এবং এদের আগে সংখ্যাবাচক শব্দ বসে না।

(বি:দ্র: প্রশ্নপত্রে ১১ নং প্রশ্নটি দৃশ্যমান নয়, তাই ১২ নং থেকে শুরু করছি)


জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ | BJSC অফিস সহায়ক পরীক্ষা ২০২৬বাংলা অংশ (Bangla Part)

১২. সন্ধি বিচ্ছেদ

প্রশ্ন: ‘যথার্থ’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
অপশন: (ক) যথা + আথ (খ) যথাঃ+অর্থ (গ) য্থ+অর্থ (ঘ) যথা+অর্থ
সঠিক উত্তর: (ঘ) যথা + অর্থ

 ব্যাখ্যা:
সন্ধির নিয়ম হলো ধ্বনির মিলন। ‘যথার্থ’ শব্দটি বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই: যথা + অর্থ।

  • সূত্র: আ + অ = আ।
    ‘যথা’ শব্দের শেষে আছে ‘আ’ কার এবং ‘অর্থ’ শব্দের শুরুতে আছে ‘অ’ ধ্বনি। বাংলা ব্যাকরণের স্বরসন্ধির নিয়মে, অ কিংবা আ-কারের পর অ কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আকার (া) হয়।
    তাই, যথা (আ) + অর্থ (অ) = যথার্থ (া)।
    সতর্কতা: অপশন (খ)-তে বিসর্গ (ঃ) আছে যা ভুল। সন্ধি বিচ্ছেদে প্রতিটি অংশের অর্থ থাকতে হবে। ‘যথা’ মানে যেমন, ‘অর্থ’ মানে মানে। দুটি মিলেই হয়েছে ‘সঠিক’ বা ‘যথার্থ’।

১৩. সাহিত্য (কবিতা)

প্রশ্ন: ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
অপশন: (ক) সুফিয়া কামাল (খ) সুকুমার রায় (গ) জসিম উদ্দীন (ঘ) কুসুমকুমারী দাস
সঠিক উত্তর: (ঘ) কুসুমকুমারী দাস

 ব্যাখ্যা:
“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?”—ছোটবেলায় পড়া এই বিখ্যাত লাইনগুলো ভুলবার নয়। এই কালজয়ী কবিতাটির নাম ‘আদর্শ ছেলে’। এর রচয়িতা হলেন মহিলা কবি কুসুমকুমারী দাস।
তিনি বিখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশের মা। তাঁর কবিতাগুলো মূলত নীতিশিক্ষামূলক এবং শিশুদের চরিত্র গঠনের জন্য লেখা।
বিভ্রান্তি: অনেকে সুফিয়া কামালের সাথে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু মনে রাখবে, সুফিয়া কামাল নারী আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন, আর কুসুমকুমারী দাস ছিলেন নীতিশিক্ষামূলক ছড়াকার।

১৪. ব্যাকরণ (পুরুষ বা পক্ষ)

প্রশ্ন: তুমি, তোমরা সর্বনামগুলো দিয়ে কোন পক্ষ বোঝায়?
অপশন: (ক) শ্রোতা ও বক্তা উভয় পক্ষ (খ) অন্যপক্ষ (গ) বক্তাপক্ষ (ঘ) শ্রোতাপক্ষ
সঠিক উত্তর: (ঘ) শ্রোতাপক্ষ

 ব্যাখ্যা:
কথা বলার সময় আমরা তিন ধরনের ব্যক্তির মুখোমুখি হই।
১. বক্তাপক্ষ (উত্তম পুরুষ): আমি, আমরা (যে কথা বলে)।
২. শ্রোতাপক্ষ (মধ্যম পুরুষ): তুমি, তোমরা, আপনি (যাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলা হয় বা যে সামনে উপস্থিত)।
৩. অন্যপক্ষ (প্রথম পুরুষ): সে, তারা (যার সম্পর্কে কথা বলা হয় কিন্তু উপস্থিত নেই)।
যেহেতু ‘তুমি’ বা ‘তোমরা’ আমার সামনে উপস্থিত থেকে কথা শুনছে, তাই তারা হলো শ্রোতা বা শ্রোতাপক্ষ। ব্যাকরণের এই সহজ নিয়মটি মনে রাখলে আর ভুল হবে না।

১৫. ব্যাকরণ (বচন)

প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় বচন হলো –
অপশন: (ক) শব্দের ধারণা (খ) রীতির ধারণা (গ) উক্তির ধারণা (ঘ) সংখ্যার ধারণা
সঠিক উত্তর: (ঘ) সংখ্যার ধারণা

 ব্যাখ্যা:
‘বচন’ (Number) শব্দের অর্থই হলো সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বচন বলতে কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির সংখ্যা (এক বা একাধিক) বোঝায়।
যেমন: ‘বালকটি’ (একবচন) মানে একজন, আর ‘বালকগুলো’ (বহুবচন) মানে একের অধিক। অর্থাৎ, বচন মূলত আমাদের জানায় যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদটি সংখ্যায় কত।
লজিক: এটি কোনো উক্তি বা রীতি নয়, এটি পিওর গণিত বা সংখ্যার সাথে সম্পর্কিত ব্যাকরণিক রূপ। তাই সঠিক উত্তর ‘সংখ্যার ধারণা’।

১৬. শব্দার্থ (বিপরীত শব্দ)

প্রশ্ন: ‘কাঁচা’ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
অপশন: (ক) গুণ (খ) অপরিণত (গ) পুণ্য (ঘ) পাকা
সঠিক উত্তর: (ঘ) পাকা

 ব্যাখ্যা:
এটি খুবই সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার হলে অনেক সময় সহজ জিনিসই ভুল হয়। ‘কাঁচা’ শব্দের অনেক অর্থ হতে পারে (যেমন: কাঁচা আম, কাঁচা রাস্তা, কাঁচা সোনা)। তবে সাধারণ অর্থে ‘কাঁচা’ বলতে অপরিণত বোঝায়। এর সরাসরি বিপরীত শব্দ হলো ‘পাকা’ বা পরিপক্ব।
অপশন বিশ্লেষণ:

  • ‘অপরিণত’ হলো কাঁচা-র সমার্থক শব্দ।
  • ‘পুণ্য’ বা ‘গুণ’-এর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
    সুতরাং, কাঁচা আম যেমন পাকে, তেমনি কাঁচা-র বিপরীত ‘পাকা’।

১৭. সাহিত্য (গদ্য)

প্রশ্ন: বাংলা সাধুভাষার জনক কে? (বা বাংলা গদ্যের জনক)
অপশন: (ক) প্রমথ চৌধুরী (খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর: (ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

 ব্যাখ্যা:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বলা হয় ‘বাংলা গদ্যের জনক’। তাঁর আগে বাংলা গদ্য ছিল এলোমেলো ও বিশৃঙ্খল। বিদ্যাসাগরই প্রথম যতিচিহ্ন (দাড়ি, কমা) ব্যবহার করে বাংলা গদ্যকে একটি সুশৃঙ্খল, সাহিত্যিক ও পাঠযোগ্য রূপ দেন। তাঁর লেখা ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ (১৮৪৭) এর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রশ্নে ‘সাধুভাষার জনক’ বলা হয়েছে, যা মূলত সেই সময়কার প্রমিত গদ্যরীতিকেই নির্দেশ করে।
বিভ্রান্তি: প্রমথ চৌধুরী হলেন ‘চলিত রীতির’ প্রবর্তক। আর বঙ্কিমচন্দ্র উপন্যাসের জনক। কিন্তু গদ্যের কাঠামো বিদ্যাসাগরের হাতেই তৈরি।

১৮. ব্যাকরণ (ধ্বনি ও অক্ষর)

প্রশ্ন: উচ্চারণের একক কী?
অপশন: (ক) অক্ষর (খ) শব্দ (গ) ধ্বনি (ঘ) বর্ণ
সঠিক উত্তর: (ক) অক্ষর

 ব্যাখ্যা:
এটি একটি ট্রিকি প্রশ্ন। ৯০% স্টুডেন্ট ভুল করে ‘ধ্বনি’ উত্তর দেয়।

  • ধ্বনি (Sound): ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
  • অক্ষর (Syllable): নিশ্বাসের এক প্রয়াসে বা এক ধাক্কায় শব্দের যতটুকু অংশ উচ্চারণ করা যায়।
    আমরা যখন কথা বলি, তখন আমরা সিলেবল বা অক্ষর অনুযায়ী শব্দ ভেঙ্গে উচ্চারণ করি। যেমন: ‘মা’ (এক অক্ষর), ‘বাবা’ (বা+বা = দুই অক্ষর)। যেহেতু উচ্চারণের সুবিধার জন্য আমরা শব্দকে অক্ষরে ভাগ করি, তাই উচ্চারণের একক হলো অক্ষর।

১৯. সাহিত্য (ছদ্মনাম)

প্রশ্ন: ‘ধূমকেতু’ কার ছদ্মনাম?
অপশন: (ক) কাজী নজরুল ইসলাম (খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র (গ) জীবনানন্দ দাস (ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: (ক) কাজী নজরুল ইসলাম

 ব্যাখ্যা:
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই যেন ছিলেন এক ধূমকেতু। তিনি ১৯২২ সালে ‘ধূমকেতু’ নামে একটি অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। সেখানে তিনি বিপ্লব ও বিদ্রোহের আগুন ঝরানো লেখা লিখতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে স্নেহ করে ‘ধূমকেতু’র সাথে তুলনা করেছিলেন।
যদিও এটি তাঁর সরাসরি সাহিত্যিক ছদ্মনাম নয় (যেমন ‘ভানুসিংহ’ রবীন্দ্রনাথের), তবুও পত্রিকার নাম এবং তাঁর চরিত্রের সাথে মিশে গিয়ে ‘ধূমকেতু’ নামটি নজরুলের সমার্থক হয়ে গেছে। পরীক্ষায় প্রায়ই এটি আসে।

২০. সমার্থক শব্দ

প্রশ্ন: কোনটি ‘গাছ’ এর সমার্থক শব্দ নয়?
অপশন: (ক) বিটপী (খ) বৃক্ষ (গ) তরু (ঘ) অদ্রি
সঠিক উত্তর: (ঘ) অদ্রি

 ব্যাখ্যা:
শব্দভাণ্ডার বা Vocabulary শক্তিশালী না থাকলে এই প্রশ্নের উত্তর করা কঠিন। চলো অপশনগুলো দেখি:

  • বিটপী: মানে গাছ।
  • বৃক্ষ: মানেও গাছ।
  • তরু: মানেও গাছ।
  • অদ্রি: ‘অদ্রি’ শব্দের অর্থ হলো পর্বত বা পাহাড়।
    যেহেতু প্রশ্নে চেয়েছে কোনটি গাছের সমার্থক নয়, তাই সঠিক উত্তর হবে ‘অদ্রি’।
    টিপস: অদ্রি, গিরি, শৈল, ভূধর—এগুলো সব পাহাড়ের সমার্থক শব্দ। এগুলো মুখস্থ রাখবে।

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ | BJSC অফিস সহায়ক পরীক্ষা ২০২৬ গণিত অংশ (Mathematics Part)

২১. জ্যামিতি (ক্ষেত্রফল)

প্রশ্ন: একটি সমকোণী ত্রিভুজের সমকোণসংলগ্ন বাহুদ্বয়ের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৬ সেমি এবং ৪ সেমি হলে ক্ষেত্রফল কত হবে?
অপশন: (ক) ২৪ বর্গ সেমি (খ) ১৫ বর্গ সেমি (গ) ৪৪ বর্গ সেমি (ঘ) ৪২ বর্গ সেমি
সঠিক উত্তর: সঠিক উত্তর অপশনে নেই (সঠিক উত্তর ১২ বর্গ সেমি)।

 ব্যাখ্যা:
সমকোণী ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্র = ১/২ × ভূমি × উচ্চতা।
এখানে সমকোণসংলগ্ন বাহু দুটিই হলো ভূমি এবং উচ্চতা।

  • ভূমি = ৬ সেমি, উচ্চতা = ৪ সেমি।
  • ক্ষেত্রফল = ১/২ × ৬ × ৪ = ৩ × ৪ = ১২ বর্গ সেমি।
    কিন্তু দুঃখের বিষয়, অপশনে ১২ নেই। পরীক্ষক হয়তো ভুল করে ১/২ গুণ করতে ভুলে গেছেন (৬×৪=২৪ দিয়ে দিয়েছেন)। এমন ক্ষেত্রে নেগেটিভ মার্কিং এড়াতে উত্তর না দাগানোই ভালো, তবে কোনো কোনো বোর্ডে কাছাকাছি বা ভুল উত্তরের জন্য বোনাস মার্ক দেয়। কিন্তু গাণিতিকভাবে উত্তর ১২।

২২. পাটিগণিত (ভ্যাট)

প্রশ্ন: ৫% ভ্যাটে ৪০৮০ টাকার বিলে ভ্যাটের পরিমাণ কত টাকা?
অপশন: (ক) ৪০৮ (খ) ২০৪ (গ) ১০৫ (ঘ) ১১৫
সঠিক উত্তর: (খ) ২০৪

 ব্যাখ্যা:
৫% ভ্যাট মানে ১০০ টাকায় ভ্যাট ৫ টাকা।
সহজ ঐকিক নিয়ম:

  • ১০০ টাকায় ভ্যাট = ৫ টাকা
  • ১ টাকায় = ৫/১০০
  • ৪০৮০ টাকায় = (৫ × ৪০৮০) / ১০০
    কাটাকাটি করলে: ৫ দিয়ে ১০০ কে কাটলে ২০। ৪০৮০ কে ২০ দিয়ে ভাগ করলে ২০৪।
    শর্টকাট: ৪০৮০ এর ১০% হলো ৪০৮। ৫% হলো ১০% এর অর্ধেক। তাই ৪০৮ এর অর্ধেক ২০৪। কলম ছাড়াই উত্তর করা সম্ভব!

২৩. বীজগণিত (অনুপাত)

প্রশ্ন: x এর ১০% যদি y এর ২০% এর সমান হয়। তবে x : y = কত?
অপশন: (ক) ১:২ (খ) ৫:১ (গ) ১০:১ (ঘ) ২:১
সঠিক উত্তর: (ঘ) ২:১

 ব্যাখ্যা:
প্রশ্নমতে:
x × ১০% = y × ২০%
উভয় পাশ থেকে পারসেন্টেজ (%) বাদ দিলে পাই:
১০x = ২০y
বা, x / y = ২০ / ১০
বা, x / y = ২ / ১
সুতরাং, x : y = ২ : ১।
মনে রাখবে: যার পারসেন্টেজ কম, তার মান বা পরিমাণ বেশি হবে সমান করার জন্য। x এর মাত্র ১০ ভাগ y এর ২০ ভাগের সমান, মানে x এর ক্ষমতা বা মান y এর দ্বিগুণ। তাই ২:১।

২৪. পরিমাপ

প্রশ্ন: ১ মিটার = কত ইঞ্চি প্রায়?
অপশন: (ক) ৩৭.৩৯ (খ) ৩৯.৬২ (গ) ৩৯.৩৭ (ঘ) ৩৭.৫৪
সঠিক উত্তর: (গ) ৩৯.৩৭

 ব্যাখ্যা:
এটি একটি মুখস্থ মান, যা বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত। মেট্রিক পদ্ধতি ও ব্রিটিশ পদ্ধতির সম্পর্কের ভিত্তি এটি।
১ মিটার = ১০০ সেন্টিমিটার।
আবার ১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেন্টিমিটার।
১০০ কে ২.৫৪ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ৩৯.৩৭ (প্রায়)।
তাই সঠিক উত্তর ৩৯.৩৭ ইঞ্চি। এটি বিসিএস-এরও খুব প্রিয় একটি প্রশ্ন।

২৫. ঐকিক নিয়ম

প্রশ্ন: একজন ব্যবসায়ী প্রতিদিন ২০ কেজি ৪০০ গ্রাম ডাল বিক্রয় করলে মাসে কী পরিমাণ ডাল বিক্রয় করতে পারেন?
অপশন: (ক) ৬০৮ কেজি (খ) ৬১০ কেজি (গ) ৬১২ কেজি (ঘ) ৬২২ কেজি
সঠিক উত্তর: (গ) ৬১২ কেজি

 ব্যাখ্যা:
সাধারণ গণিতে ১ মাস = ৩০ দিন ধরা হয়।

  • ১ দিনে বিক্রি = ২০ কেজি ৪০০ গ্রাম = ২০.৪ কেজি।
  • ৩০ দিনে বিক্রি = ২০.৪ × ৩০
    গুন করার সহজ নিয়ম: ২০৪ কে ৩ দিয়ে গুণ করো (৬১২), তারপর শূন্য আর দশমিক বসাও।
    ২০.৪ × ৩০ = ৬১২.০ কেজি।
    সুতরাং, তিনি মাসে ৬১২ কেজি ডাল বিক্রি করবেন।

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ | BJSC অফিস সহায়ক পরীক্ষা ২০২৬ সাধারণ জ্ঞান (General Knowledge Part)

২৬. প্রাচীন সভ্যতা

প্রশ্ন: প্রথম কারা বর্ণমালা উদ্ভাবন করে?
অপশন: (ক) গ্রিকরা (খ) রোমানরা (গ) মিশরীয়রা (ঘ) ফিনিশীয়রা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ফিনিশীয়রা

 ব্যাখ্যা:
পৃথিবীতে লেখার প্রচলন অনেক আগে শুরু হলেও, আধুনিক বর্ণমালার (Alphabet) জনক বলা হয় ফিনিশীয়দের। তারা ভূমধ্যসাগরের তীরে বসবাসকারী একটি বণিক জাতি ছিল। বাণিজ্যের হিসাব রাখার প্রয়োজনেই তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণ সম্বলিত একটি বর্ণমালা তৈরি করে।
মিশরীয়রা ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা চিত্রলিপি ব্যবহার করত, যা বর্ণমালা নয়। ফিনিশীয়দের বর্ণমালা থেকেই পরে গ্রিক এবং রোমান বর্ণমালার উৎপত্তি হয়েছে। তাই সঠিক উত্তর ফিনিশীয়রা।

২৭. ইতিহাস (আন্দোলন)

প্রশ্ন: বাংলাদেশের ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
অপশন: (ক) পীর মুহসীনউদ্দীন (খ) শাহ ওলিউল্লাহ (গ) মাওলানা কেরামত আলী (ঘ) হাজী শরীয়তুল্লাহ
সঠিক উত্তর: (ঘ) হাজী শরীয়তুল্লাহ

 ব্যাখ্যা:
উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনামলে ফরিদপুর অঞ্চলে যে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাই ফরায়েজী আন্দোলন। ‘ফরায়েজী’ শব্দটি এসেছে ‘ফরজ’ থেকে। ইসলাম ধর্মের অবশ্য পালনীয় কাজ বা ‘ফরজ’ পালনের জন্য হাজী শরীয়তুল্লাহ এই আন্দোলনের ডাক দেন।
তিনি জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধেও কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
মেমরি টিপ: ফরজ কাজ -> ফরায়েজী -> শরীয়ত (আইন) -> হাজী শরীয়তুল্লাহ।

২৮. আন্তর্জাতিক সংস্থা

প্রশ্ন: ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’ এর প্রধান কার্যালয় কোথায়?
অপশন: (ক) জার্মানি (খ) ফ্রান্স (গ) হাঙ্গেরী (ঘ) নেদারল্যান্ড
সঠিক উত্তর: (ক) জার্মানি

 ব্যাখ্যা:
দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (TI)। এর সদর দপ্তর জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অবস্থিত।
১৯৯৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর তারা বিশ্বের দেশগুলোর দুর্নীতির ধারণা সূচক (CPI) প্রকাশ করে। এটি কোনো সরকারি সংস্থা নয়, বরং একটি এনজিও।

২৯. মধ্যযুগের ইতিহাস

প্রশ্ন: প্রথম কোন মুসলিম বাংলা জয় করেন?
অপশন: (ক) শিরান খলজি (খ) বখতিয়ার খলজি (গ) ইলিয়াস শাহ (ঘ) হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর: (খ) বখতিয়ার খলজি

 ব্যাখ্যা:
১২০৪ সালে মাত্র ১৮ জন অশ্বারোহী নিয়ে লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেছিলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি। তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি। তাঁর এই বিজয়ের মাধ্যমেই বাংলায় মধ্যযুগের সূচনা হয়।
ইলিয়াস শাহ বা হোসেন শাহ অনেক পরের শাসক। বাংলার প্রথম মুসলিম বিজেতা হিসেবে বখতিয়ার খলজির নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।

৩০. সংস্থা ও সদর দপ্তর

প্রশ্ন: আসিয়ান (ASEAN) এর সদর দপ্তর কোথায়?
অপশন: (ক) জাকার্তা (খ) ম্যানিলা (গ) সিঙ্গাপুর (ঘ) দিল্লী
সঠিক উত্তর: (ক) জাকার্তা

 ব্যাখ্যা:
ASEAN (Association of Southeast Asian Nations) হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট। এর সদর দপ্তর বা সচিবালয় ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায়
মনে রাখার উপায়: জাকার্তা হলো ইন্দোনেশিয়ার শহর, আর ইন্দোনেশিয়া আসিয়ানের সবচেয়ে বড় দেশ। ১৯৬৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

৩১. উপজাতি ও সংস্কৃতি

প্রশ্ন: নিচের কোনটি বাংলাদেশের মাতৃতান্ত্রিক উপজাতি? (প্রশ্নে ‘মাতৃপ্রধান’ বলা হয়েছে)
অপশন: (ক) খুমি (খ) খাসিয়া (গ) চাকমা (ঘ) মুরং
সঠিক উত্তর: (খ) খাসিয়া

 ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশে বসবাসরত অধিকাংশ উপজাতি পিতৃতান্ত্রিক (বাবার পরিচয়ে পরিচিত)। কিন্তু গারো এবং খাসিয়া—এই দুটি উপজাতি হলো মাতৃতান্ত্রিক। এদের পরিবারে মায়েরাই প্রধান এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারী মেয়েরা হয়।
অপশনে গারো নেই, কিন্তু খাসিয়া আছে। তাই সঠিক উত্তর খাসিয়া। চাকমা, মারমা বা সাঁওতালরা সবাই পিতৃতান্ত্রিক।

৩২. ভৌগোলিক প্রণালী

প্রশ্ন: এশিয়াকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
অপশন: (ক) বেরিং প্রণালী (খ) জিব্রাল্টার প্রণালী (গ) বাবেল মান্দেব প্রণালী (ঘ) বসফরাস প্রণালী
সঠিক উত্তর: (গ) বাবেল মান্দেব প্রণালী

 ব্যাখ্যা:
লোহিত সাগরের মুখে অবস্থিত বাবেল মান্দেব প্রণালী এশিয়া মহাদেশের ইয়েমেন এবং আফ্রিকা মহাদেশের জিবুতিকে আলাদা করেছে।

  • বেরিং: এশিয়া ও আমেরিকা।
  • জিব্রাল্টার: ইউরোপ ও আফ্রিকা।
  • বসফরাস: এশিয়া ও ইউরোপ।
    মানচিত্র মনে রাখলে এই উত্তর করা সহজ।

৩৩. রাষ্ট্রীয় পদক

প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক কোনটি?
অপশন: (ক) একুশে পদক (খ) স্বাধীনতা পদক (গ) বাংলা একাডেমি পদক (ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর: (খ) স্বাধীনতা পদক

 ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের নাগরিকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার বিভিন্ন পদক দেয়। এর মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে সবার ওপরে হলো ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ বা ‘স্বাধীনতা পদক’। এটি ১৯৭৭ সাল থেকে দেওয়া শুরু হয়।
এর পরেই অবস্থান ‘একুশে পদক’-এর। বাংলা একাডেমি পদক শুধুমাত্র সাহিত্যের জন্য দেওয়া হয়, এটি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক নয়।

৩৪. শিল্প বিপ্লব

প্রশ্ন: ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের কোন শিল্প ধ্বংস হয়?
অপশন: (ক) বস্ত্রশিল্প (খ) পাটশিল্প (গ) চিত্রশিল্প (ঘ) রথশিল্প
সঠিক উত্তর: (ক) বস্ত্রশিল্প

 ব্যাখ্যা:
অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে যখন শিল্প বিপ্লব হয়, তখন সেখানে মেশিনে সস্তায় প্রচুর কাপড় উৎপাদন শুরু হয়। ব্রিটিশরা তাদের মেশিনে তৈরি কাপড় ভারতীয় বাজারে শুল্কমুক্তভাবে বিক্রি শুরু করে। অন্যদিকে, বাংলার তাঁতিদের তৈরি বিখ্যাত মসলিন ও অন্যান্য বস্ত্রের ওপর চড়া কর আরোপ করে।
এর ফলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও বস্ত্রশিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ধ্বংস হয়ে যায়। মসলিনের কারিগরদের আঙ্গুল কেটে দেওয়ার মতো নির্মম ইতিহাসও এর সাথে জড়িত।

৩৫. নারীর ভোটাধিকার

প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা সর্বপ্রথম ভোটাধিকার লাভ করেন –
অপশন: (ক) ১৯৩১ সালে (খ) ১৯০২ সালে (গ) ১৯২০ সালে (ঘ) ১৮৮৩ সালে
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯২০ সালে

 ব্যাখ্যা:
গণতন্ত্রের পীঠস্থান বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা ভোট দেওয়ার অধিকার পেতে অনেক সংগ্রাম করেছেন। ১৯২০ সালে মার্কিন সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীর মাধ্যমে নারীদের ভোটাধিকার স্বীকৃত হয়।
এটি নারী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। নিউজিল্যান্ড বিশ্বে প্রথম নারীদের ভোটাধিকার দেয় (১৮৯৩ সালে), কিন্তু পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সালটি (১৯২০) পরীক্ষায় বেশি আসে।

৩৬. লাহোর প্রস্তাব

প্রশ্ন: ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?
অপশন: (ক) আবুল কালাম (খ) চৌধুরী খালেকুজ্জামান (গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (ঘ) এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর: (ঘ) এ কে ফজলুল হক

 ব্যাখ্যা:
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লীগের অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এটিই পরে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ নামে পরিচিতি পায়।
তবে মূল লাহোর প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (States) গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হয়।

৩৭. বেলফোর ঘোষণা

প্রশ্ন: ‘বেলফোর’ ঘোষণা কোন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পর্কিত?
অপশন: (ক) ইসরাইল (খ) কসোভো (গ) কিউবা (ঘ) পাকিস্তান
সঠিক উত্তর: (ক) ইসরাইল

 ব্যাখ্যা:
১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর ইহুদিদের জন্য ফিলিস্তিনে একটি ‘জাতীয় আবাসভূমি’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। এই চিঠিটিই ইতিহাসে ‘বেলফোর ঘোষণা’ নামে পরিচিত।
এর ফলেই ১৯৪৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যের বুকে ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটির জন্ম হয়। অর্থাৎ, বেলফোর ঘোষণা হলো ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্মসনদ।

৩৮. জাতীয় পতাকা

প্রশ্ন: বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য প্রস্থ অনুপাত কত?
অপশন: (ক) ১১:৭ (খ) ১১:৮ (গ) ১০:৬ (ঘ) ৮:৫
সঠিক উত্তর: (গ) ১০ : ৬

 ব্যাখ্যা:
আমাদের লাল-সবুজ পতাকার স্ট্যান্ডার্ড অনুপাত হলো ১০:৬। একে ছোট করলে ৫:৩ হয়।
পরীক্ষায় সাধারণত ১০:৬ থাকে। এটি মনে রাখা খুবই জরুরি। দৈর্ঘ্য ১০ ফুট হলে প্রস্থ ৬ ফুট হবে। পতাকার মাঝখানের লাল বৃত্তটির ব্যাসার্ধ হবে দৈর্ঘ্যের ৫ ভাগের ১ ভাগ।
সঠিক উত্তর অপশন (গ)।

প্রশ্ন ৩৮: জাতীয় পতাকার অনুপাত

প্রশ্ন: বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য প্রস্থ অনুপাত কত?
অপশন:
(ক) ১১ : ৭
(খ) ১১ : ৮
(গ) ১০ : ৬
(ঘ) ৮ : ৫
সঠিক উত্তর: (গ) ১০ : ৬

 ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
এটি আমাদের দেশপ্রেম ও জাতীয় সত্তার সাথে জড়িত একটি প্রশ্ন। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান। ১৯৭২ সালে সরকার পতাকার বর্তমান রূপটি গ্রহণ করে। সংবিধান ও পতাকাবিধি অনুযায়ী, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত হবে ১০:৬ অথবা ৫:৩

অপশনে সাধারণত ১০:৬ থাকে, কারণ এটি পূর্ণসংখ্যায় হিসাব করতে সুবিধা। যদি কখনো দেখো অপশনে ১০:৬ নেই, কিন্তু ৫:৩ আছে, তবে সেটিই সঠিক উত্তর হবে।
আবার অনেক সময় পরীক্ষক চালাকি করে ‘প্রস্থ ও দৈর্ঘ্যের অনুপাত’ জানতে চান। তখন উত্তর উল্টে গিয়ে হবে ৬:১০। তাই পরীক্ষার হলে তাড়াহুড়ো না করে প্রশ্নটি ভালো করে পড়বে—আগে দৈর্ঘ্য চেয়েছে নাকি প্রস্থ। এই ছোট সতর্কতাই তোমাকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী থেকে এগিয়ে রাখবে।

প্রশ্ন ৩৯: মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল ও সেক্টর বিভাজন

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
অপশন:
(ক) ১১
(খ) ১৪
(গ) ৭
(ঘ) ৪
সঠিক উত্তর: (ক) ১১

 ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের অস্তিত্বের অংশ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করার জন্য মুজিবনগর সরকার পুরো বাংলাদেশকে মোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে এই সেক্টরগুলো গঠন করা হয়। এই রণকৌশল ছিল যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মূল চাবিকাঠি।

প্রতিটি সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন একজন সেক্টর কমান্ডার। তবে এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখবে, যা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে—সেটি হলো ১০ নম্বর সেক্টর। এই সেক্টরটি ছিল নৌ-কমান্ডোদের অধীনে এবং এর কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না। যখন যে এলাকায় অভিযান হতো, তখন সেই এলাকার কমান্ডারের অধীনে নৌ-যোদ্ধারা যুদ্ধ করতেন।

কেন এই বিভাজন?
পাকিস্তানের সুশৃঙ্খল বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ করার জন্য ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এই ভাগ করা জরুরি ছিল। যেমন— ১ নং সেক্টর ছিল চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায়, আবার ঢাকা ছিল ২ নং সেক্টরের অধীনে। এই সেক্টরগুলো আবার ৬৪টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত ছিল।

Memory Tip:
মনে রাখবে, ক্রিকেট খেলায় যেমন ১১ জন খেলোয়াড় নিয়ে টিম হয়, তেমনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের টিম বা সেক্টরও ছিল ১১টি। আর ১০ নম্বর সেক্টর হলো ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ বা নৌ-পথ, যার কোনো ফিক্সড বস ছিল না।

প্রশ্ন ৪০: ভৌগোলিক অবস্থান ও ধর্মীয় গুরুত্বপ্রশ্ন: ‘এডামস পিক’ কোথায় অবস্থিত?
অপশন:
(ক) শ্রীলংকা
(খ) ভারত
(গ) ইরান
(ঘ) মিশর
সঠিক উত্তর: (ক) শ্রীলংকা

 ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
‘এডামস পিক’ (Adam’s Peak) বা আদম চূড়া হলো শ্রীলংকার একটি অতি পবিত্র ও রহস্যময় পর্বত। এটি শ্রীলংকার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত এবং এর উচ্চতা প্রায় ২,২৪৩ মিটার। এই পাহাড়টি শুধু একটি ভৌগোলিক স্থাপনা নয়, বরং এটি ধর্মীয সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন।

এই পাহাড়ের চূড়ায় একটি বিশাল পায়ের ছাপ রয়েছে। মুসলমান ও খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করেন, আদি পিতা হযরত আদম (আ.) পৃথিবীতে এসে প্রথম এখানেই পা রেখেছিলেন। তাই এর নাম ‘এডামস পিক’। আবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন এটি দেবাদিদেব শিবের পায়ের ছাপ, তাই তারা একে ‘শিবানিপাদাম’ বলেন। অন্যদিকে বৌদ্ধরা মনে করেন এটি গৌতম বুদ্ধের পায়ের ছাপ। অর্থাৎ, এক পাহাড়, কিন্তু ভক্তি সবার!

পরীক্ষার টিপস:
ভূগোল ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। মনে রাখবে, শ্রীলংকাকে বলা হয় ‘ভারত মহাসাগরের মুক্তা’। আর ‘এডামস পিক’ সেই মুক্তার অন্যতম সৌন্দর্য। অপশনে ভারত বা ইরান থাকলেও বিভ্রান্ত হবে না, কারণ হযরত আদম (আ.)-এর আগমনের সাথে শ্রীলংকার নামই ঐতিহাসিকভাবে জড়িত।

প্রশ্ন ৪১: ল্যান্ডলকড কান্ট্রি ও সামরিক বাহিনী

প্রশ্ন: ভুটানে কোন বাহিনী নেই?
অপশন:
(ক) বিমানবাহিনী
(খ) নৌবাহিনী
(গ) সেনাবাহিনী
(ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: (খ) নৌবাহিনী

 ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
খুবই লজিক্যাল একটি প্রশ্ন। ভুটান আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং হিমালয়ের কোলে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুন্দর দেশ। ভূগোলের ভাষায় ভুটানকে বলা হয় ‘Landlocked Country’ বা ভূ-বেষ্টিত দেশ। অর্থাৎ, ভুটানের চারপাশেই স্থলভাগ (ভারত ও চীন দ্বারা বেষ্টিত), এর কোনো সমুদ্রসীমা বা সমুদ্রবন্দর নেই।

যে দেশের কোনো সমুদ্রই নেই, সেই দেশের নৌবাহিনী (Navy) থাকার কোনো প্রয়োজন বা যৌক্তিকতাও নেই। নৌবাহিনীর কাজ হলো সমুদ্রসীমা রক্ষা করা। যেহেতু ভুটানের কোনো সমুদ্র নেই, তাই তাদের কোনো নৌবাহিনীও নেই। একইভাবে নেপাল, মঙ্গোলিয়া বা আফগানিস্তানেরও কোনো নৌবাহিনী নেই।

অতিরিক্ত তথ্য:
ভুটানের নিজস্ব সেনাবাহিনী (Royal Bhutan Army) আছে এবং তাদের আকাশপথের সুরক্ষার জন্য ছোট পরিসরে এয়ার উইং থাকলেও, পূর্ণাঙ্গ নৌবাহিনী থাকা ভৌগোলিকভাবেই অসম্ভব। ভুটান তার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারতের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

Memory Tip:
ভুটান = পাহাড়ের দেশ। পাহাড়ে জাহাজ চলে না। তাই ভুটানে নৌবাহিনী নেই। সহজ হিসাব।

প্রশ্ন ৪২: জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা

প্রশ্ন: জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা কয়টি?
অপশন:
(ক) ৭
(খ) ৯
(গ) ৮
(ঘ) ৬
সঠিক উত্তর: (ঘ) ৬

 ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
জাতিসংঘ বা United Nations (UN) সারা বিশ্বের অভিভাবক সংস্থা। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার দাপ্তরিক বা অফিসিয়াল ভাষা হলো মোট ৬টি। এই ভাষাগুলোতে জাতিসংঘের সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ লেখা হয় এবং মিটিং পরিচালিত হয়। ভাষাগুলো হলো: ইংরেজি, ফরাসি, স্প্যানিশ, রাশিয়ান, চীনা (ম্যান্ডারিন) এবং আরবি।

ছাত্রছাত্রীরা প্রায়ই ‘অফিসিয়াল ভাষা’ এবং ‘ওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ’ বা ব্যবহারিক ভাষার মধ্যে গুলিয়ে ফেলে। জাতিসংঘের সচিবালয়ে কাজ করার জন্য মূলত ইংরেজি ও ফরাসি ভাষা বেশি ব্যবহৃত হয়, কিন্তু দাপ্তরিক স্বীকৃতি আছে ৬টি ভাষার। সর্বশেষ আরবি ভাষাকে ১৯৭৩ সালে দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়।

মনে রাখার কৌশল (জাদু টিপস):
এই ৬টি ভাষার নাম মনে রাখার জন্য একটি শর্টকাট টেকনিক মনে রাখো: “FRESCA”

  • F = French (ফরাসি)
  • R = Russian (রাশিয়ান)
  • E = English (ইংরেজি)
  • S = Spanish (স্প্যানিশ)
  • C = Chinese (চীনা)
  • A = Arabic (আরবি)
    এই শব্দটি মনে রাখলে আর কখনোই ভুলবে না যে জাতিসংঘের ভাষা কয়টি ও কী কী।

প্রশ্ন ৪৩: প্রত্নতত্ত্ব ও প্রাচীন জনপদ

প্রশ্ন: ‘উয়ারী বটেশ্বর’ কী?
অপশন:
(ক) প্রাচীন বৃক্ষ
(খ) প্রাচীন গ্রন্থ
(গ) প্রাচীন মন্দির
(ঘ) প্রাচীন জনপদ
সঠিক উত্তর: (ঘ) প্রাচীন জনপদ

 ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
বাংলাদেশের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী আবিষ্কার হলো ‘উয়ারী-বটেশ্বর’। নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলায় অবস্থিত পাশাপাশি দুটি গ্রাম—উয়ারী ও বটেশ্বর। ১৯৩৩ সালে প্রথম স্থানীয় স্কুল শিক্ষক হানিফ পাঠান এটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ২০০০ সালের দিকে ব্যাপক খননকার্যের ফলে এখানে আড়াই হাজার বছরের পুরনো এক নগর সভ্যতার সন্ধান পাওয়া যায়।

এটি কোনো গাছ, বই বা একক মন্দির নয়; এটি একটি ‘প্রাচীন জনপদ’ বা দুর্গ-নগরী (Fortified City)। এখানে মাটির নিচে রাস্তাঘাট, রৌপ্যমুদ্রা, এবং পুঁতির মালা পাওয়া গেছে যা প্রমাণ করে যে, যিশু খ্রিস্টের জন্মের বহু আগেই এই বদ্বীপ অঞ্চলে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত সভ্যতা ছিল। এটি মহাস্থানগড় (পুন্ড্রনগর)-এর সমসাময়িক বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও প্রাচীন বলে মনে করা হয়।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
উয়ারী-বটেশ্বর আবিষ্কারের ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসের বয়স বেড়ে গেছে। এটি প্রমাণ করেছে যে আমরা কেবল কৃষিনির্ভর ছিলাম না, আমাদের পূর্বপুরুষরা নগর পরিকল্পনায়ও দক্ষ ছিলেন। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে গড়ে ওঠা এই জনপদটি বাণিজ্যের জন্যও বিখ্যাত ছিল।

প্রশ্ন ৪৪: মুসলিম স্থাপত্য ও সুলতানি আমল

প্রশ্ন: গৌড়ের সোনা মসজিদ কার আমলে নির্মিত?
অপশন:
(ক) শায়েস্তা খান
(খ) ঈশা খাঁ
(গ) ফকরুদ্দীন মোবারক শাহ
(ঘ) হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর: (ঘ) হোসেন শাহ

 ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
এখানে ‘গৌড়ের সোনা মসজিদ’ বলতে মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘ছোট সোনা মসজিদ’কে বোঝানো হয়েছে, যা সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন বলা হয়। এই মসজিদটি আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩–১৫১৯ খ্রি.) নির্মিত হয়। যদিও মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন ওয়ালি মোহাম্মদ নামে একজন ব্যক্তি, কিন্তু সময়কালটি ছিল হোসেন শাহী আমলের।

হোসেন শাহী আমলকে বাংলা সাহিত্যের ও স্থাপত্যের ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়। এই আমলেই স্থাপত্যশিল্পে ব্যাপক উৎকর্ষ সাধিত হয়। এই মসজিদটিকে ‘সোনা মসজিদ’ বলা হয় কারণ একসময় এর গম্বুজগুলোতে সোনার প্রলেপ বা গিল্টি করা ছিল, যা রোদের আলোয় চকচক করত।

বিভ্রান্তি নিরসন:
অনেকে ‘বড় সোনা মসজিদ’-এর সাথে একে গুলিয়ে ফেলে। বড় সোনা মসজিদ বা বারোদুয়ারী মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন সুলতান নুসরাত শাহ। কিন্তু অপশনে হোসেন শাহ থাকায় এবং ‘গৌড়ের সোনা মসজিদ’ হিসেবে ছোট সোনা মসজিদ বেশি পরিচিত হওয়ায় সঠিক উত্তর হোসেন শাহ বা হোসেন শাহী আমল হবে। ঈশা খাঁ বা শায়েস্তা খান অনেক পরের আমল (মুঘল আমল)।

প্রশ্ন ৪৫: মালিকানা ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য

প্রশ্ন: গ্রিনল্যান্ড দ্বীপের মালিক কোন দেশ?
অপশন:
(ক) যুক্তরাষ্ট্র
(খ) ডেনমার্ক
(গ) নরওয়ে
(ঘ) জাপান
সঠিক উত্তর: (খ) ডেনমার্ক

শিক্ষকের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
গ্রিনল্যান্ড হলো বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ। মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখবে এটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের একদম কাছে অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে এটি উত্তর আমেরিকার অংশ। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে বা শাসনতান্ত্রিকভাবে এটি ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের মালিকানাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।

১৮১৪ সাল থেকে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে আছে। যদিও এখানকার নিজস্ব সরকার আছে যারা অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো দেখাশোনা করে, কিন্তু প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যা নিয়ে বেশ হইচই হয়েছিল।

Memory Tip:
নামে ‘গ্রিন’ বা সবুজ হলেও এটি আসলে বরফে ঢাকা একটি সাদা দ্বীপ। আর এর মালিক হলো ডেনমার্ক (D for Denmark, D for Deep connection with Greenland)। নরওয়ে বা যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী হলেও মালিকানা তাদের নয়।

প্রশ্ন ৪৬: আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধনীতি

প্রশ্ন: ‘জেনেভা কনভেনশন’ হলো কতগুলো –
অপশন:
(ক) মানবাধিকার চুক্তি
(খ) যুদ্ধচুক্তি
(গ) সামরিক চুক্তি
(ঘ) অর্থনৈতিক চুক্তি
সঠিক উত্তর: (খ) যুদ্ধচুক্তি (Rules of War)

 ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
যুদ্ধ মানেই কি যা খুশি তাই করা? না। যুদ্ধেরও কিছু নিয়ম আছে। ‘জেনেভা কনভেনশন’ হলো সেই আন্তর্জাতিক নিয়ম বা চুক্তিসমূহ, যা যুদ্ধকালীন মানবিক আচরণের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। মূলত চারটি কনভেনশন এবং তিনটি প্রোটোকল নিয়ে এটি গঠিত।

এই কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধে আহত সৈন্য, যুদ্ধবন্দি (Prisoners of War), এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের সাথে কেমন আচরণ করতে হবে, তা নির্দিষ্ট করা আছে। যেমন—যুদ্ধবন্দিদের হত্যা বা নির্যাতন করা যাবে না। ১৮৬৪ সালে প্রথম এবং ১৯৪৯ সালে চতুর্থ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশনটি স্বাক্ষরিত হয় সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে।

কেন অন্য অপশন নয়?
অনেকে একে শুধু ‘মানবাধিকার চুক্তি’ মনে করতে পারে, কিন্তু এটি বিশেষভাবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্যই প্রযোজ্য। তাই একে ‘যুদ্ধচুক্তি’ বা ‘যুদ্ধকালীন আচরণবিধি’ বলাই শ্রেয়। এটি কোনো বাণিজ্যিক বা সাধারণ সামরিক জোট (যেমন NATO) নয়।

প্রশ্ন ৪৭: বাংলাদেশের কৃষি ও সম্পদ

প্রশ্ন: বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার কোথায় অবস্থিত?
অপশন:
(ক) সাভার
(খ) সিলেট
(গ) চট্টগ্রাম
(ঘ) রাজশাহী
সঠিক উত্তর: (ক) সাভার

 ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে। উন্নত জাতের গরু উৎপাদন এবং দুধের চাহিদা মেটানোর জন্য ঢাকার অদূরে সাভারে কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার (Central Cattle Breeding and Dairy Farm) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ডেইরি ফার্ম।

ঢাকা শহরের বিপুল জনগোষ্ঠীর দুধ ও মাংসের চাহিদা মেটানোর জন্য এবং উন্নত জাতের সিমেন (Semen) সারা দেশে সরবরাহের জন্য সাভারের ভৌগোলিক অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

Memory Tip:
সাভার নামটা শুনলেই আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধের কথা মনে পড়ে। ঠিক একইভাবে মনে রাখবে, গরুর খামার বা ডেইরি শিল্পের ‘রাজধানী’ও এই সাভার। সিলেট চায়ের জন্য বিখ্যাত, রাজশাহী আম ও রেশমের জন্য, কিন্তু দুধের জন্য সাভার সেরা।

প্রশ্ন ৪৮: বাংলাদেশের মানচিত্র পরিচিতি

প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা কোনটি?
অপশন:
(ক) কুড়িগ্রাম
(খ) ঠাকুরগাঁও
(গ) নীলফামারী
(ঘ) পঞ্চগড়
সঠিক উত্তর: (ঘ) পঞ্চগড়

 ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
মানচিত্র থেকে এই প্রশ্নটি বিসিএসসহ যেকোনো পরীক্ষায় ‘কমন’ থাকে। বাংলাদেশের ম্যাপের একদম ওপরের দিকে তাকালে যে জেলাটি দেখা যায়, সেটিই পঞ্চগড়। একে ‘হিমালয় কন্যা’ বলা হয় কারণ এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।

কনফিউশন পয়েন্ট:
ছাত্রছাত্রীরা প্রায়ই ‘জেলা’ এবং ‘উপজেলা/থানা’-র মধ্যে গুলিয়ে ফেলে।

  • সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।
  • সর্ব উত্তরের উপজেলা: তেঁতুলিয়া (এটি পঞ্চগড় জেলারই অংশ)।
  • সর্ব উত্তরের স্থান: বাংলাবান্ধা।

অপশনে কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও বা নীলফামারী থাকলেও এগুলো পঞ্চগড়ের চেয়ে নিচে বা পাশে অবস্থিত। তাই সঠিক উত্তর নিঃসন্দেহে পঞ্চগড়। শীতকালেও এখানে সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হয় এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে।

প্রশ্ন ৪৯: ব্যাংকিং ও অর্থনীতি

প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মেয়াদ কত বছর?
অপশন:
(ক) ৫
(খ) ২
(গ) ৪
(ঘ) ৩
সঠিক উত্তর: (গ) ৪

শিক্ষকের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
বাংলাদেশ ব্যাংক হলো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ‘ব্যাংকগুলোর বাবা’। এই ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে বলা হয় ‘গভর্নর’। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী গভর্নরের চাকরির মেয়াদ সাধারণত ৪ বছর নির্ধারণ করা থাকে। তবে সরকার চাইলে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে নিয়োগ দিতে পারে।

সম্প্রতি আইনের কিছু সংশোধনী বা বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে (যেমন বয়সসীমা বাড়ানো), কিন্তু সাধারণ নিয়ম বা স্ট্যান্ডার্ড মেয়াদ হলো ৪ বছর। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সাধারণত ৪ বছরের জন্যই প্রাথমিক চুক্তি করা হয়।

তুলনা:
জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মেয়াদ ৪ বছর। এই পার্থক্যটাই পরীক্ষক জানতে চান। তাই ৫ বছরে টিক দিলেই ভুল হবে।

প্রশ্ন ৫০: রাজধানী ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

প্রশ্ন: ইরানের রাজধানী কোনটি?
অপশন:
(ক) বাগদাদ
(খ) ইসলামাবাদ
(গ) ইস্তাম্বুল
(ঘ) তেহরান
সঠিক উত্তর: (ঘ) তেহরান

শিক্ষকের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত প্রভাবশালী দেশ ইরান। এর রাজধানীর নাম তেহরান। পারস্য সভ্যতার ধারক ও বাহক এই শহরটি আলবোর্জ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত।

কেন ভুল হয়?
ইরান এবং ইরাক—নাম দুটি কাছাকাছি হওয়ায় অনেকে রাজধানী গুলিয়ে ফেলে।

  • বাগদাদ: এটি ইরাকের রাজধানী (ব-তে বাগদাদ, কিন্তু ই-তে ইরান নয়)।
  • ইসলামাবাদ: এটি পাকিস্তানের রাজধানী।
  • ইস্তাম্বুল: এটি তুরস্কের বিখ্যাত শহর কিন্তু রাজধানী নয় (তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা)।

Memory Tip:
ইরানের শেষে ‘ন’ আছে, তেহরানের শেষেও ‘ন’ আছে।
ইরান -> তেহরান।
ইরাক -> বাগদাদ (ক এবং দ আলাদা)।
এভাবে মিল রেখে পড়লে আর কখনোই ভুল হবে না।

উপসংহার:

স্নেহভাজন শিক্ষার্থীরা, এভাবেই শেষ হলো আমাদের BJSC অফিস সহায়ক পরীক্ষা ২০২৬-এর ৫০টি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান। আমি চেষ্টা করেছি প্রতিটি উত্তরের সাথে এমন কিছু তথ্য জুড়ে দিতে, যা তোমাদের পরবর্তী বিসিএস, ব্যাংক বা প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কাজে লাগে। মনে রাখবে, সাধারণ জ্ঞান বা ব্যাকরণ একদিনে শেখার বিষয় নয়; এটি নিয়মিত চর্চার বিষয়।

আজকের এই সমাধান ক্লাসটি যদি তোমাদের সামান্য উপকারেও আসে, তবেই আমার পরিশ্রম সার্থক। তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। দেখা হবে পরবর্তী ক্লাসে। ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, আর পড়াশোনার সাথেই থেকো।

 প্রশ্নগুলো মোটেও কঠিন ছিল না। প্রয়োজন ছিল শুধু একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করার এবং বেসিক কনসেপ্ট ক্লিয়ার রাখার। যারা উপরের ব্যাখ্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েছ, আমি নিশ্চিত ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রশ্নে তোমরা আর আটকাবে না। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন অফিস সহায়ক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬-এর এই বিশ্লেষণটি তোমাদের উপকারে এলে একজন শিক্ষক হিসেবে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।

Author

  • Daily ICT News Reporter

    dailyictpost.com টিম চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রশ্ন সমাধান, সরকারি পদের কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি–ভিত্তিক তথ্য সহজ ও বাস্তব ভাষায় উপস্থাপন করে। পাশাপাশি আমরা আইসিটি, মোবাইল, কম্পিউটার, অ্যাপস, অনলাইন ইনকাম, ডিজিটাল টুলস ও সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো এমনভাবে ব্যাখ্যা করি, যেন পাঠক বুঝতে বুঝতেই শিখে ফেলেন।

    আমরা বিশ্বাস করি—প্রযুক্তি শেখা কঠিন নয়, যদি সেটি সঠিকভাবে বোঝানো যায়। তাই নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার, মোবাইল সেটিংস কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো জটিল বিষয়গুলো ধাপে ধাপে এমন ভাষায় তুলে ধরি, যেন মনে হয় আপনার পাশেই কেউ বসে সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

    আমাদের লক্ষ্য একটাই—পাঠক যেন নির্ভুল তথ্য পায়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেখে এবং বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে।

Visited 770 times, 7 visit(s) today

Comments are closed.