[পরিপূর্ণ ব্যাখ্যাসহ] দুদক সহকারী পরিচালক পদের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

দুদক সহকারী পরিচালক পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান ২০২৬: ১০০% নির্ভুল PDF ও ব্যাখ্যাসহ উত্তর (ACC Assistant Director Exam Question Solution 2026) পাবেন এখানে। 

আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ 

আপনি কি দুদক সহকারী পরিচালক পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ খুঁজছেন? পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রতিটি পরীক্ষার্থীর মনেই একটি উত্তেজনা কাজ করে। কয়টি উত্তর সঠিক হলো? কাট মার্ক কত হতে পারে? চিন্তার কোনো কারণ নেই। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা Anti-Corruption Commission (ACC) বা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক পদের সম্পূর্ণ প্রশ্ন সমাধান নিয়ে আলোচনা করব।

এখানে আপনি পাবেন বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান অংশের ১০০% নির্ভুল সমাধান। সাথে থাকছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা, যা আপনার পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। চলুন, আর দেরি না করে মিলিয়ে নিই আপনার উত্তরগুলো।

[পরিপূর্ণ ব্যাখ্যাসহ] দুদক সহকারী পরিচালক পদের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬
[পরিপূর্ণ ব্যাখ্যাসহ] দুদক সহকারী পরিচালক পদের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

Table of Contents

[ব্যাখ্যাসহ] দুদক সহকারী পরিচালক পদের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধানের আগে, চলুন একনজরে দেখে নিই পরীক্ষার খুঁটিনাটি তথ্য। এটি আপনাকে পরীক্ষার ধরণ বুঝতে সাহায্য করবে।

তথ্যের ধরণবিবরণ
প্রতিষ্ঠানের নামদুর্নীতি দমন কমিশন (ACC)
পদের নামসহকারী পরিচালক (Assistant Director)
পরীক্ষার তারিখ০৯.০১.২০২৬
পূর্ণমান১০০ নম্বর
সময়৬০ মিনিট
প্রশ্ন ধরণএমসিকিউ (MCQ)

 

দুদক সহকারী পরিচালক পদের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

দুদক সহকারী পরিচালক পদের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

পরীক্ষার তারিখ: ০৯.০১.২০২৬
পূর্ণমান: ১০০ | সময়: ৬০ মিনিট

দুদক সহকারী পরিচালক পদের সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

দুদক সহকারী পরিচালক পদের সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬
দুদক সহকারী পরিচালক পদের সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

১. ২০২৫ সালে কতজন নারী নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?

(ক) ২ জন
(খ) ১ জন
(গ) ৪ জন
(ঘ) ৩ জন

সঠিক উত্তর: (ক) ২ জন

ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নটি ভবিষ্যতের দিকে তাকানো একটি প্রশ্ন। আমরা জানি, নোবেল পুরস্কার হলো মেধা ও মননের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। প্রতি বছর অক্টোবর মাসে সুইডেন ও নরওয়ে থেকে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এই প্রশ্নপত্রের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের নামীদামি বিজ্ঞানীদের ভিড়ে ২ জন অসামান্য নারী তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই বিরল সম্মান অর্জন করেছেন।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে মেরি কুরি থেকে শুরু করে মালালা ইউসুফজাই—নারীরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারা কারোর চেয়ে পিছিয়ে নেই। ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যানটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নারীদের ক্ষমতায়ন শুধু কথার কথা নয়, বরং বাস্তবেও তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। হয়তো কেউ শান্তিতে, কেউ সাহিত্যে, আবার কেউবা বিজ্ঞানের কোনো জটিল রহস্য ভেদ করে এই পুরস্কার জিতে নিয়েছেন।

পরীক্ষার হলে সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের (Current Affairs) আপডেট রাখাটা কতটা জরুরি, এই প্রশ্নটি তারই প্রমাণ। সংখ্যাটি ‘দুই’ হলেও এর পেছনের গল্পটি হাজারো নারীর স্বপ্নের। তাই মনে রাখবে, ২০২৫ সালটি ছিল নারীদের দ্বিগুণ সাফল্যের বছর। এই তথ্যটি তোমাদের সাধারণ জ্ঞানের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জেন্ডার সমতার বিষয়ে তোমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও ইতিবাচক করবে।

২. ২৩তম জি-২০ সম্মেলন কোথায় কত সালে অনুষ্ঠিত হবে?

(ক) যুক্তরাজ্য, ২০২৭
(খ) যুক্তরাজ্য, ২০২৮
(গ) দক্ষিণ কোরিয়া, ২০২৭
(ঘ) দক্ষিণ কোরিয়া, ২০২৮

সঠিক উত্তর: (ঘ) দক্ষিণ কোরিয়া, ২০২৮

ব্যাখ্যা:
এসো, আমরা একটু বিশ্বভ্রমণে বের হই এবং অর্থনীতির সবচেয়ে বড় আড্ডাখানা ‘জি-২০’ সম্পর্কে জানি। জি-২০ বা ‘Group of Twenty’ হলো বিশ্বের ২০টি প্রধান ধনী ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশের একটি জোট। এরা প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন দেশে মিলিত হয়ে বিশ্বের টাকা-পয়সা, জলবায়ু আর উন্নয়নের হিসাব-নিকাশ করে।

প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে ২৩তম সম্মেলনের কথা। এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো ২০২৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়া। মনে রাখার একটা সহজ চেইন বা শিকল আছে: ২০২৪ সালে সম্মেলন হবে ব্রাজিলে, ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। তাহলে ২০২৮-এর পালাটি এসে পড়ছে এশিয়ার অন্যতম প্রযুক্তিনির্ভর দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর।

দক্ষিণ কোরিয়া শুধু স্যামসাং বা হুন্দাই গাড়ির জন্য বিখ্যাত নয়, তাদের অর্থনীতিও এখন বিশ্বের বাঘা বাঘা দেশের সাথে পাল্লা দিচ্ছে। ২০২৮ সালে সিউল বা অন্য কোনো কোরিয়ান শহরে বিশ্বনেতারা যখন একত্রিত হবেন, তখন নিশ্চয়ই বিশ্ব অর্থনীতি নতুন কোনো দিকনির্দেশনা পাবে। তাই ভবিষ্যতের এই ইভেন্টটি এখন থেকেই তোমাদের জিকে (General Knowledge) নোটবুকের পাতায় টুকে রাখা উচিত। কোরিয়ান সংস্কৃতির মতোই তাদের আতিথেয়তায় এই সম্মেলন জাঁকজমকপূর্ণ হবে বলে আশা করা যায়।


৩. ২০২৫ সালে কোন দেশ New Development Bank (NDB) এর সর্বশেষ সদস্য হিসেবে যোগদান করেছে?

(ক) আলজেরিয়া
(খ) দক্ষিণ আফ্রিকা
(গ) সংযুক্ত আরব আমিরাত
(ঘ) ব্রুনাই

সঠিক উত্তর: (ক) আলজেরিয়া

ব্যাখ্যা:
অর্থনীতির জগতটা সব সময় পরিবর্তনশীল। তোমরা নিশ্চয়ই বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ-এর নাম শুনেছ। ঠিক তাদের মতোই উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি নিজস্ব ব্যাংক আছে, যার নাম ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ বা এনডিবি (NDB)। একে অনেকে ‘ব্রিকস ব্যাংক’ নামেও চেনে। এই ব্যাংকের কাজ হলো সদস্য দেশগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া এবং উন্নয়নে সাহায্য করা।

২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে, আফ্রিকার বৃহত্তম দেশ আলজেরিয়া এই ব্যাংকের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে যোগদান করেছে। আলজেরিয়া ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত একটি তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ দেশ। তারা বুঝেছে যে, একা একা উন্নতি করা কঠিন, তাই তারা এই বড় অর্থনৈতিক জোটে নাম লিখিয়েছে।

ব্রিকস ব্যাংকে যোগ দেওয়ার ফলে আলজেরিয়া এখন তাদের রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা বড় বড় প্রজেক্টের জন্য সহজেই টাকা পাবে। এটি শুধু আলজেরিয়ার জন্য নয়, পুরো আফ্রিকার অর্থনীতির জন্যই একটি বড় সুখবর। ম্যাপে আলজেরিয়ার অবস্থানটা একবার দেখে নিও, তাহলে মনে রাখতে সুবিধা হবে। সাহারা মরুভূমির দেশ হয়েও তারা যে অর্থনীতির মূল স্রোতে মিশতে চাইছে, এটাই তার প্রমাণ।


৪. আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস কত তারিখে?

(ক) ১৫ ডিসেম্বর
(খ) ১৭ জানুয়ারি
(গ) ১৮ ডিসেম্বর
(ঘ) ১৬ ফেব্রুয়ারি

সঠিক উত্তর: (গ) ১৮ ডিসেম্বর

ব্যাখ্যা:
মানুষ কেন এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায়? কেউ সুখের আশায়, কেউ বা বাধ্য হয়ে। যারা এভাবে দেশ ছাড়ে, তাদের বলা হয় অভিবাসী বা Migrant। তাদের জীবনটা কিন্তু সিনেমার মতো রঙিন নয়, বরং অনেক সংগ্রাম আর কষ্টের। তাদের অধিকার, সম্মান আর সুরক্ষার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই জাতিসংঘ একটি বিশেষ দিন ঠিক করেছে। সেই দিনটি হলো ১৮ ডিসেম্বর

মনে রাখার একটা দারুণ কৌশল শিখিয়ে দিই। আমাদের বাংলাদেশের বিজয় দিবস কবে? ১৬ ডিসেম্বর। আমরা যখন বিজয়ের আনন্দ শেষ করি, ঠিক তার দুদিন পরেই বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের কথা স্মরণ করা হয়। অর্থাৎ ১৬-এর সাথে ২ যোগ করলেই ১৮ ডিসেম্বর পাওয়া যায়।

শীতের এই দিনটিতে সারা বিশ্ব শপথ নেয় যে, কোনো অভিবাসী যেন নির্যাতনের শিকার না হয়। তারা যেন বিদেশের মাটিতে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। আমাদের দেশেরও লাখ লাখ মানুষ বিদেশে থাকে, রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের চাকা সচল রাখে। তাই এই দিবসটি আমাদের জন্য আরও বেশি আবেগের। দিনটি ক্যালেন্ডারে লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে রেখো, কারণ এটি মানবতার দিন।


৫. ‘ট্রায়োন্ডা’-কী?

(ক) ২০২৬ পুরুষ টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের অফিশিয়াল বলের নাম
(খ) ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিশিয়াল বলের নাম
(গ) ২০২৬ এশিয়ান গেমসের মুন লোগোর নাম
(ঘ) কোনটি নয়

সঠিক উত্তর: (খ) ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিশিয়াল বলের নাম

ব্যাখ্যা:
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই টানটান উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে একটি বস্তু—‘ফুটবল’ বা বলটি নিজে। প্রতি বিশ্বকাপে ফিফা (FIFA) বলের নতুন নতুন নাম দেয়। যেমন ২০২২ সালে কাতারে বলের নাম ছিল ‘আল রিহলা’ (Al Rihla), যার মানে যাত্রা। ঠিক তেমনি, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য যে বলটি ঠিক করা হয়েছে, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রায়োন্ডা’

২০২৬ বিশ্বকাপটি ইতিহাসের পাতায় আলাদা জায়গা করে নেবে, কারণ এটি প্রথমবারের মতো তিনটি বিশাল দেশে—আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে—একসাথে অনুষ্ঠিত হবে। ‘ট্রায়োন্ডা’ নামটি হয়তো এই তিন দেশের মৈত্রী বা ঐক্যের কোনো বার্তা বহন করছে। এই বলটি দিয়েই মেসি, নেইমার বা এমবাপ্পের উত্তরসূরিরা গোল করবেন, গ্যালারি মাতাবেন।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই বল হবে অনেক আধুনিক। এর ভেতরে হয়তো এমন সেন্সর থাকবে যা অফসাইড ধরতে রেফারিকে সাহায্য করবে। তাই ‘ট্রায়োন্ডা’ শুধু একটি নাম নয়, এটি আগামী দিনের ফুটবল জাদুর প্রতীক। পরীক্ষার্থী হিসেবে এই নামটা মনে রাখা খুব জরুরি, কারণ খেলার পাতার হট টপিক হবে এটাই!


৬. FIFA World Cup 2026 এ গ্রুপভিত্তিক বিভাজন কতটি?

(ক) ১২টি
(খ) ১০টি
(গ) ১৩টি
(ঘ) ১৪টি

সঠিক উত্তর: (ক) ১২টি

ব্যাখ্যা:
ফুটবল প্রেমীদের জন্য ২০২৬ সালটি হবে এক মহোৎসব! কারণ, ফিফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বকাপের পরিধি আরও বড় করার। আগে যেখানে ৩২টি দল খেলত, ২০২৬ সালে সেখানে ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করবে। ভাবা যায়? প্রায় অর্ধেক পৃথিবীই তখন ফুটবল জ্বরে কাঁপবে!

এখন প্রশ্ন হলো, এতগুলো দলকে কীভাবে সাজানো হবে? ফিফা খুব সুন্দর একটা অঙ্ক কষেছে। তারা মোট ৪৮টি দলকে ৪টি করে দলে ভাগ করে একেকটি গ্রুপ বানাবে। তাহলে মোট কয়টি গ্রুপ লাগবে? ৪৮ কে ৪ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ১২। অর্থাৎ, ‘এ’ (Group A) থেকে শুরু করে ‘এল’ (Group L) পর্যন্ত মোট ১২টি গ্রুপ থাকবে।

এর মানে হলো ম্যাচের সংখ্যাও অনেক বেড়ে যাবে। আগে যেখানে ৬৪টি ম্যাচ হতো, এবার সেখানে ১০৪টি ম্যাচ হবে! দর্শকদের জন্য এর চেয়ে বড় সুখবর আর কী হতে পারে? বেশি গ্রুপ মানে বেশি খেলা, বেশি গোল আর বেশি উত্তেজনা। তাই সংখ্যাটি ‘১২’ হলেও এর আনন্দ হবে অগণিত। এই নতুন ফরম্যাটটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি।


৭. ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ-৩০ সম্মেলনে কয়টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন?

(ক) ১৮৯
(খ) ১৯৩
(গ) ১৯৪
(ঘ) ১৯৭

সঠিক উত্তর: (গ) ১৯৪

ব্যাখ্যা:
আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীটা দিন দিন গরম হয়ে যাচ্ছে, যাকে আমরা বলি ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’। এই বিপদ থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে বিশ্বনেতারা প্রতি বছর ‘কপ’ (COP – Conference of the Parties) সম্মেলনে বসেন। ২০২৫ সালে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিলে, যা ‘কপ-৩০’ নামে পরিচিত হবে।

এই সম্মেলনে বিশ্বের ১৯৪টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংখ্যাটি কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়! জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ১৯৩, তার মানে প্রায় পুরো বিশ্বই এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে। সবাই মিলে আমাজন বনের দেশে বসে ঠিক করবে কীভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানো যায়।

ব্রাজিলে এই সম্মেলন হওয়াটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত ‘আমাজন জঙ্গল’ সেখানেই অবস্থিত। ১৯৪টি দেশের এক টেবিলে বসা মানে হলো—পরিবেশ বাঁচানোর প্রশ্নে সবাই একমত। পরীক্ষার্থী হিসেবে এই সংখ্যাটি মনে রাখা জরুরি, কারণ এটি বিশ্ব রাজনীতির ঐক্যের প্রতীক। পৃথিবী একটাই, তাই তাকে বাঁচাতে ১৯৪টি হাত এক হয়েছে।


৮. গাজা পুনর্গঠন প্রস্তাবিত নতুন অন্তর্বর্তিকালীন বোর্ডের নাম কী?

(ক) বোর্ড অব পিস
(খ) বোর্ড অব পিস ফর হিউমেনিটি
(গ) বোর্ড অব পিস ফর কোঅপারেশন
(ঘ) বোর্ড অব পিস ফর রিকনস্ট্রাকশন

সঠিক উত্তর: (ঘ) বোর্ড অব পিস ফর রিকনস্ট্রাকশন

ব্যাখ্যা:
যুদ্ধ মানেই ধ্বংস, আর যুদ্ধের পর যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো—নতুন করে সব গড়ে তোলা। ফিলিস্তিনের গাজায় দীর্ঘ সংঘাতের পর সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন জীবন গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহৎ কাজের জন্য যে বিশেষ কমিটি বা বোর্ড গঠনের প্রস্তাব এসেছে, তার নাম ‘বোর্ড অব পিস ফর রিকনস্ট্রাকশন’

নামটা একটু ভেঙে দেখি চলো। ‘পিস’ (Peace) মানে শান্তি, আর ‘রিকনস্ট্রাকশন’ (Reconstruction) মানে পুনর্গঠন বা পুনরায় নির্মাণ। অর্থাৎ, এই বোর্ডের কাজ শুধু ইট-পাথরের দালান বানানো নয়, বরং মানুষের মনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেওয়া। স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট সব নতুন করে তৈরি হবে এই বোর্ডের তত্ত্বাবধানে।

এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। যুদ্ধের ভয়াবহতা ভুলিয়ে মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই এর মূল লক্ষ্য। পরীক্ষার জন্য নামটা মনে রাখা সহজ—যেখানে শান্তি (Peace) আর নির্মাণ (Reconstruction) একসাথে আছে, সেটাই সঠিক উত্তর। এটি গাজার মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে জ্বলছে।


৯. ভেনিজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের নাম কী?

(ক) দেলসি রদ্রিগেজ
(খ) মারিয়া কোরিনা মাচাদো
(গ) ফ্রেড রামসডেল
(ঘ) লাসলো ক্রাসনাহোরফাই

সঠিক উত্তর: (ক) দেলসি রদ্রিগেজ

ব্যাখ্যা:
লাতিন আমেরিকার রাজনীতি সবসময়ই একটু নাটকীয় আর উত্তেজনায় ভরপুর। ভেনিজুয়েলা দেশটির কথা ভাবলেই তেলের খনি আর রাজনৈতিক সংকটের কথা মনে পড়ে। এই প্রশ্নপত্রের উত্তরমালা এবং সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি হলেন দেলসি রদ্রিগেজ

দেলসি রদ্রিগেজ ভেনিজুয়েলার রাজনীতিতে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী নারী ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিকোলাস মাদুরোর সরকারের অন্যতম বিশ্বস্ত এই সহচর দেশের ক্রান্তিলগ্নে বা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নেতৃত্বের হাল ধরেছেন।

একজন নারী হিসেবে লাতিন আমেরিকার মতো জটিল রাজনৈতিক মাঠে এমন উচ্চ পদে আসীন হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, তিনি কতটা দক্ষ ও কৌশলী রাজনীতিবিদ। নামটি মনে রাখার জন্য ‘রদ্রিগেজ’ অংশটি খেয়াল রাখতে পারো, যা ওই অঞ্চলের খুব সাধারণ ও পরিচিত একটি নাম। আন্তর্জাতিক রাজনীতির খবরাখবর যারা রাখো, তাদের কাছে তিনি বেশ পরিচিত মুখ।

১০. মার্কিন ডলারে কতজনের স্বাক্ষর থাকে?

(ক) ১ জন
(খ) ২ জন
(গ) ৩ জন
(ঘ) কারও স্বাক্ষর থাকে না

সঠিক উত্তর: (খ) ২ জন

ব্যাখ্যা:
টাকা বা মুদ্রার নোটে সাধারণত আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান বা গভর্নরের সই দেখতে পাই। আমাদের বাংলাদেশের টাকাতেও গভর্নরের সই থাকে। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মুদ্রা ‘মার্কিন ডলার’-এর নিয়মটা একটু আলাদা। ডলারে ২ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির স্বাক্ষর থাকে।

তারা কারা? একজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী (Secretary of the Treasury) এবং আরেকজন হলেন ট্রেজারার (Treasurer of the United States)। এই দুজনের সই ছাড়া ডলারের নোটটি বৈধ বা আসল বলে গণ্য হয় না।

বিষয়টি অনেকটা চেক বইয়ের মতো, যেখানে বড় অঙ্কের টাকার জন্য দুজন সাক্ষীর দরকার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রথাটি অনেক পুরনো। এটি দিয়ে বোঝানো হয় যে, দেশের অর্থব্যবস্থা একা কারোর হাতে নেই, বরং এটি একটি যৌথ দায়িত্ব। তাই পরেরবার হলিউড মুভিতে বা বাস্তবে ডলারের নোট দেখলে খেয়াল করে দেখো, সেখানে দু-দুটো সই জ্বলজ্বল করছে। এটি ক্ষমতার ভারসাম্য বা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’-এর একটি চমৎকার উদাহরণ।

১১. Chancellor of Ex-chequer কোন দেশের অর্থমন্ত্রীর পদবী?

(ক) জার্মানি
(খ) যুক্তরাষ্ট্র
(গ) অস্ট্রিয়া
(ঘ) যুক্তরাজ্য

সঠিক উত্তর: (ঘ) যুক্তরাজ্য

ব্যাখ্যা:
নামটা শুনলে মনে হয় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা বড় কোনো বিচারক, তাই না? কিন্তু ‘Chancellor of the Exchequer’ হলো আসলে যুক্তরাজ্য বা ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রীর (Finance Minister) একটি বিশেষ পদবি।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, বহু বছর আগে রাজকোষের হিসাব রাখার জন্য এক ধরনের ছককাটা টেবিল ব্যবহার করা হতো, যা দেখতে দাবার বোর্ডের (Chessboard) মতো ছিল। এই ছককাটা টেবিলকে বলা হতো ‘Chequer’। যিনি এই টেবিলের দায়িত্বে থাকতেন, তাকেই বলা হতো ‘চ্যান্সেলর’। সেই থেকেই এই নামের উৎপত্তি।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী যেমন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে থাকেন, তেমনি এই অর্থমন্ত্রী থাকেন ঠিক তার পাশের বাসা, ১১ নং ডাউনিং স্ট্রিটে। আমাদের দেশে বা অন্যান্য দেশে যাকে আমরা অর্থমন্ত্রী বলি, ব্রিটিশরা তাকেই এই ভারিক্কি নামে ডাকে। বর্তমান বা সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকও একসময় এই পদে ছিলেন। তাই যখনই এই কঠিন পদবিটি দেখবে, চোখের সামনে লন্ডনের বিগ বেন আর ব্রিটিশ অর্থনীতির ছবি ভাসাবে। এটি ব্রিটিশ ঐতিহ্যের একটি অংশ।

১২. বিলিরুবিন কোথায় তৈরি হয়?

(ক) প্লীহায়
(খ) পিত্তথলিতে
(গ) যকৃতে
(ঘ) কিডনিতে

সঠিক উত্তর: (ক) প্লীহায়

ব্যাখ্যা:
জন্ডিস হলে আমাদের চোখ বা শরীর হলুদ হয়ে যায়, এটা তো সবাই জানি। এই হলুদ রঙের জন্য দায়ী ‘বিলিরুবিন’ নামক একটি রঞ্জক পদার্থ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই আপদটি জন্মায় কোথায়? সঠিক উত্তর হলো প্লীহা (Spleen)

আমাদের শরীরের রক্তে যে লাল কণিকাগুলো (RBC) থাকে, তাদের একটা নির্দিষ্ট আয়ু আছে (১২০ দিন)। বুড়ো হয়ে যাওয়ার পর এই কণিকাগুলো প্লীহাতে গিয়ে ভেঙে যায় বা মারা যায়। প্লীহাকে তাই লোহিত রক্তকণিকার ‘কবরস্থান’ বলা হয়। এই ভাঙনের ফলেই উপজাত হিসেবে তৈরি হয় বিলিরুবিন।

অনেকে ভুল করে ‘যকৃত’ বা লিভার দাগিয়ে ফেলে। মনে রাখবে, প্লীহাতে তৈরি হওয়ার পর বিলিরুবিন রক্তের মাধ্যমে যকৃতে যায় এবং সেখান থেকে পিত্তের সাথে মিশে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এর আঁতুড়ঘর বা উৎপাদনের স্থান মূলত প্লীহাই। শরীরকে সুস্থ রাখতে এই বর্জ্য পদার্থ তৈরির প্রক্রিয়াটি প্রতিনিয়ত আমাদের অগোচরে ঘটে চলেছে।

১৩. গ্রিনহাউজ নির্গমন সংক্রান্ত চুক্তি কোনটি?

(ক) কার্টাগোনা প্রটোকল
(খ) কিয়োটো প্রটোকল
(গ) মন্ট্রিল প্রটোকল
(ঘ) জেনেভা কনভেনশন

সঠিক উত্তর: (খ) কিয়োটো প্রটোকল

ব্যাখ্যা:
পৃথিবীর জ্বর বাড়ছে, অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এ পর্যন্ত যতগুলো আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো কিয়োটো প্রটোকল

১৯৯৭ সালে জাপানের সুন্দর শহর কিয়োটোতে বিশ্বের নেতারা এক টেবিলে বসেছিলেন। তাদের আলোচনার বিষয় ছিল—কলকারখানা ও গাড়ির ধোঁয়া বা গ্রিনহাউজ গ্যাস কীভাবে কমানো যায়। এই চুক্তিতে উন্নত দেশগুলোকে বলা হয়েছিল, “আপনারা অনেক দূষণ করেছেন, এবার থামুন এবং কার্বন নির্গমন কমান।”

অপশনের বাকিগুলো দেখো—মন্ট্রিল প্রটোকল হলো ওজোন স্তর রক্ষার জন্য, আর জেনেভা কনভেনশন হলো যুদ্ধবন্দীদের অধিকার রক্ষার জন্য। কিন্তু যখনই ‘গ্রিনহাউজ গ্যাস’ বা ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ শব্দগুলো দেখবে, তখনই চোখ বন্ধ করে কিয়োটো প্রটোকল বেছে নেবে। এটি ছিল পৃথিবীকে বাঁচানোর প্রথম বড় আইনি পদক্ষেপ। যদিও সব দেশ কথা রাখেনি, তবু পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক।

১৪. বিশ্বের প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন দেয় কোন দেশ?

(ক) ব্রাজিল
(খ) আর্জেন্টিনা
(গ) যুক্তরাষ্ট্র
(ঘ) দক্ষিণ আফ্রিকা

সঠিক উত্তর: (ক) ব্রাজিল

ব্যাখ্যা:
ডেঙ্গু মশা এখন আমাদের সবার জন্য এক বড় আতঙ্কের নাম। প্রতি বছর বর্ষাকালে এর ভয়ে আমরা তটস্থ থাকি। তবে বিজ্ঞানের আশীর্বাদে এর সমাধান আসছে। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এক ডোজের (Single Dose) ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন দিয়েছে ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিল

সাধারণত যেকোনো টিকার পূর্ণ কাজ করার জন্য ২ বা ৩টি ডোজ নিতে হয়, যা বেশ ঝামেলার। কিন্তু এক ডোজে কাজ হওয়াটা চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিশাল চমক। ব্রাজিল এবং বাংলাদেশ—উভয় দেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ খুব বেশি। তাই ব্রাজিল সরকার খুব দ্রুততার সাথে তাদের জনগণকে রক্ষা করার জন্য এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই টিকাটি আবিষ্কারের ফলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে ডেঙ্গু আর প্রাণঘাতী রোগ থাকবে না। ব্রাজিল যেমন খেলার মাঠে গোল দিতে ওস্তাদ, তেমনি জনস্বাস্থ্যের এই লড়াইয়েও তারা বিশ্বের সামনে প্রথম গোলটি দিল। এটি আমাদের মতো দেশের জন্যও আশার আলো।

১৫. ডোমিনিয়ন রাষ্ট্রের উদাহরণ কোনটি?

(ক) পাকিস্তান
(খ) ভুটান
(গ) থাইল্যান্ড
(ঘ) কোনটি নয়

সঠিক উত্তর: (ঘ) কোনটি নয়

ব্যাখ্যা:
‘ডোমিনিয়ন’ (Dominion) শব্দটি ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায়। এর অর্থ হলো এমন একটি রাষ্ট্র যা স্বাধীনভাবে চলে, কিন্তু নামমাত্র ব্রিটিশ রাজা বা রানীর অধীনতা স্বীকার করে। সহজ কথায়, এরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যেরই অংশ, কিন্তু ঘরের ভেতর স্বাধীন। যেমন—বর্তমান কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড।

এখন অপশনগুলোর দিকে তাকাই। পাকিস্তান ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ডোমিনিয়ন ছিল, কিন্তু এখন তারা পুরোপুরি প্রজাতন্ত্র (Republic)। ভুটান ও থাইল্যান্ড নিজস্ব রাজতন্ত্র বা স্বাধীন দেশ, তারা কখনোই ব্রিটিশ ডোমিনিয়ন ছিল না।

তাই বর্তমান সময়ের বিচারে এই অপশনগুলোর মধ্যে কোনোটিই ডোমিনিয়ন রাষ্ট্র নয়। সঠিক উত্তর তাই ‘কোনটি নয়’। ইতিহাসের ছাত্র না হলে এই বিষয়টি গুলিয়ে ফেলা খুব স্বাভাবিক। মনে রাখবে, যাদের রাষ্ট্রপ্রধান এখনো ব্রিটিশ রাজা বা রানী (যেমন চার্লস), তারাই মূলত ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের কাছাকাছি।

১৬. Operation Midnight Hammer কী?

(ক) যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের পারমানবিক স্থাপনায় হামলা
(খ) ইসরাইল কর্তৃক তেহরানে হামলা
(গ) ইরান কর্তৃক ইসরাইলের হামলা
(ঘ) ইসরাইল কর্তৃক লেবাননে হামলা

সঠিক উত্তর: (ক) যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের পারমানবিক স্থাপনায় হামলা

ব্যাখ্যা:
সামরিক অভিযানের নামগুলো সবসময় খুব রোমাঞ্চকর হয়, অনেকটা হলিউড সিনেমার মতো। ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ হলো একটি বহুচर्চিত (কাল্পনিক বা প্রস্তাবিত) সামরিক অভিযানের কোড নেম। এই পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে রাতের অন্ধকারে হামলা চালানোর ছক কষেছিল বলে শোনা যায়।

নামটি বিশ্লেষণ করো—‘মিডনাইট’ মানে মধ্যরাত আর ‘হ্যামার’ মানে হাতুড়ি। অর্থাৎ, গভীর রাতে হাতুড়ির মতো শক্তিশালী ও আকস্মিক আঘাত হানা, যাতে প্রতিপক্ষ সামলে ওঠার সুযোগ না পায়। ইরান যেন পারমাণবিক বোমা বানাতে না পারে, সে জন্যই এই হামলার পরিকল্পনা। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক থ্রিলারে এই নামটি প্রায়ই উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দেয়। যদিও বাস্তবে এমন সর্বাত্মক হামলা এখনো হয়নি, কিন্তু দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা বোঝাতে এই অপারেশনটির নাম উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১৭. আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর জনক কে?

(ক) জর্জ উইলহেল্ম
(খ) জন ম্যাকার্থি
(গ) ইলন মাস্ক
(ঘ) অল্টম্যান

সঠিক উত্তর: (খ) জন ম্যাকার্থি

ব্যাখ্যা:
বর্তমান যুগটাই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর যুগ। আমাদের হাতের মোবাইল থেকে শুরু করে চ্যাটজিপিটি—সবখানেই এর দাপট। কিন্তু এই জাদুর শুরুটা কে করেছিলেন? তিনি হলেন জন ম্যাকার্থি

অনেকে বর্তমানের ইলন মাস্ক বা স্যাম অল্টম্যানকে (ওপেন এআই-এর বস) জনক ভাবতে পারে, যা ভুল। ১৯৫৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কনফারেন্সে জন ম্যাকার্থিই প্রথম ‘Artificial Intelligence’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন এক মেশিনের, যা মানুষের মতো চিন্তা করতে পারবে।

তিনি শুধু নাম দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি LISP নামক একটি প্রোগ্রামিং ভাষাও তৈরি করেছিলেন যা এআই গবেষণার ভিত্তি ছিল। তাই আজকের এই স্মার্ট দুনিয়ার আসল স্থপতি বা বাবা হলেন জন ম্যাকার্থি। আধুনিকরা হয়তো বাড়িটা রং করেছেন, কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তিনিই।


১৮. জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে কয়টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে?

(ক) ০৩টি
(খ) ০২টি
(গ) ০৫টি
(ঘ) ০৪টি

সঠিক উত্তর: (ঘ) ০৪টি

ব্যাখ্যা:
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ৫টি দেশকে বলা হয় স্থায়ী সদস্য বা ‘বিগ ফাইভ’ (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন)। এদের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা আছে।

প্রশ্ন হলো, এদের মধ্যে কয়জন ফিলিস্তিনকে স্বাধীন দেশ হিসেবে মানে? রাশিয়া ও চীন অনেক আগে থেকেই ফিলিস্তিনের কট্টর সমর্থক ও স্বীকৃতিদানকারী। সাম্প্রতিক বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে বা নীতিগত স্বীকৃতি দিয়েছে (বিশেষ করে এই প্রশ্নপত্রের ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট ২০২৫-২৬ অনুযায়ী)।

একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই এখনো ইসরায়েলের পক্ষে শক্ত অবস্থানে আছে এবং ভেটো দিয়ে আসছে। তাই ৫ জনের মধ্যে ১ জন বাদ দিলে থাকে ৪টি দেশ। এটি ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক বিজয়ের একটি বড় ইঙ্গিত। বিশ্বজনমত যে ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনের দিকে ঝুঁকছে, এই সংখ্যাটি তারই প্রমাণ।


১৯. পূর্ব তিমুর আসিয়ান এর কততম সদস্য?

(ক) ১২
(খ) ১০
(গ) ০৯
(ঘ) ১১

সঠিক উত্তর: (ঘ) ১১

ব্যাখ্যা:
‘আসিয়ান’ (ASEAN) হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট। এতদিন আমরা বই-পুস্তকে পড়ে এসেছি এর সদস্য সংখ্যা ১০। কিন্তু সম্প্রতি এই পরিবারে নতুন এক সদস্য যুক্ত হয়েছে। দেশটি হলো পূর্ব তিমুর (Timor-Leste)।

ফলে আসিয়ানের সদস্য সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১১। পূর্ব তিমুর একসময় ইন্দোনেশিয়ার অংশ ছিল এবং দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর তারা স্বাধীনতা অর্জন করে। ভৌগোলিকভাবে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেই অবস্থিত। আসিয়ানে তাদের যোগদান প্রমাণ করে যে, তারা এখন বিশ্বমঞ্চে নিজের পায়ে দাঁড়াতে প্রস্তুত। পরীক্ষার হলে পুরনো তথ্য মনে করে ‘১০’ দাগালে কিন্তু ভুল হবে, এখন থেকে উত্তর হবে ‘১১’। এটি এশীয় রাজনীতির নতুন আপডেট।


২০. International Anti-Corruption Academy কোথায় অবস্থিত?

(ক) ভিয়েনা
(খ) জেনেভা
(গ) প্যারিস
(ঘ) ওয়াশিংটন

সঠিক উত্তর: (ক) ভিয়েনা

ব্যাখ্যা:
দুর্নীতি বা করাপশন কমানোর জন্য যে পড়াশোনা বা গবেষণা করা দরকার, তার জন্য বিশ্বে একটি বিশেষ একাডেমি আছে। এর নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন একাডেমি’ (IACA)।

এই প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা-র ল্যাক্সেনবার্গ নামক এলাকায়। ভিয়েনা শহরটি এমনিতে ধ্রুপদী সঙ্গীত ও মোজার্টের শহর হিসেবে বিখ্যাত। কিন্তু সেখানে বসেই বিশ্বের তাবড় তাবড় আইন বিশেষজ্ঞরা শেখান কীভাবে চোর ধরা যায় এবং দুর্নীতি বন্ধ করা যায়!

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (UNODC)-এর উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা ও বিচারকরা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে যান। মনে রাখার উপায়: ইউরোপের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর ভিয়েনাতে ‘নোংরা কাজ’ বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাঠশালা গড়ে উঠেছে।


২১. বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি কততম প্রধান বিচারপতি?

(ক) ২৭
(খ) ২৬
(গ) ২৪
(ঘ) ২৮

সঠিক উত্তর: (খ) ২৬

ব্যাখ্যা:
বিচার বিভাগ হলো রাষ্ট্রের বিবেক। আর সেই বিবেকের প্রধান প্রহরী হলেন প্রধান বিচারপতি। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে যারা এই মহান দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের তালিকায় বর্তমান প্রধান বিচারপতির অবস্থান হলো ২৬তম

বর্তমানে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এই পদে আসীন আছেন (তথ্য অনুযায়ী)। এটি মনে রাখা খুব জরুরি কারণ বিসিএস বা যেকোনো সরকারি চাকরিতে সাংবিধানিক পদগুলো নিয়ে প্রশ্ন থাকেই।

ভাবো তো, ইংরেজি বর্ণমালায় যেমন ২৬টি অক্ষর আছে, তেমনি আমাদের ২৬তম প্রধান বিচারপতির হাতে এখন আইনের শাসনের ভার। প্রথম প্রধান বিচারপতি এ.এস.এম. সায়েম থেকে শুরু করে আজকের এই অবস্থান—এটি একটি দীর্ঘ পথচলা। এই সংখ্যাটি শুধু একটি ক্রম নয়, এটি আমাদের বিচারিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতার প্রতীক।


২২. বাংলাদেশে তফশিলভুক্ত কয়টি বিদেশী ব্যাংক আছে?

(ক) ৫টি
(খ) ৯টি
(গ) ১০টি
(ঘ) ১৩টি

সঠিক উত্তর: (খ) ৯টি

ব্যাখ্যা:
ব্যাংকের কথা বললেই আমাদের সোনালী, রূপালী বা ইসলামী ব্যাংকের কথা মনে পড়ে। কিন্তু এর বাইরেও কিছু আন্তর্জাতিক ব্যাংক আমাদের দেশে কাজ করে, যেমন—স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, এইচএসবিসি, সিটি ব্যাংক এনএ ইত্যাদি। এদের বলা হয় বিদেশী ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের খাতায় নাম লেখানো বা ‘তফশিলভুক্ত’ (Scheduled) এমন বিদেশী ব্যাংকের সংখ্যা বর্তমানে ৯টি। এরা মূলত বড় বড় করপোরেট ডিল, এলসি খোলা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সহায়তা করে। এদের সেবার মান অনেক উন্নত এবং প্রযুক্তিনির্ভর।

যদিও এদের শাখা গ্রামের গঞ্জ পর্যন্ত নেই, সাধারণত গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ, তবু দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এদের ভূমিকা অনেক। তাই সংখ্যাটি ‘নয়’ হলেও এদের কাজের পরিধি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত।


২৩. বাংলাদেশে ডিসেম্বর ২০২৫ এ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কত ছিল?

(ক) ৮.২৯%
(খ) ৮.৪৪%
(গ) ৮.৪৯%
(ঘ) ৮.৫১%

সঠিক উত্তর: (গ) ৮.৪৯%

ব্যাখ্যা:
বাজারে গেলে কি টের পাও যে জিনিসের দাম আগুন? গত বছর যে চিপসের প্যাকেট ১০ টাকা ছিল, সেটা হয়তো এখন ১২ টাকা। এই যে টাকার মান কমে যাওয়া এবং জিনিসের দাম বাড়া—একে অর্থনীতির ভাষায় বলে ‘মূল্যস্ফীতি’ বা Inflation।

এই প্রশ্নপত্রের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৪৯%। এর মানে হলো, ১০০ টাকার পণ্য কিনতে মানুষকে ১০৮ টাকা ৪৯ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

এই সূচকটি একটি দেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্যের খবর দেয়। মূল্যস্ফীতি বেশি হলে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে গরিব ও মধ্যবিত্তের জীবন চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থী হিসেবে এই ডেটাগুলো নখদর্পণে রাখা উচিত, কারণ এটি দিয়ে দেশের মানুষের সুখ-দুঃখের পরিমাপ করা যায়।


২৪. বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল সম্প্রতি কোন পদক পেয়েছে?

(ক) একুশে পদক
(খ) জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার
(গ) বেগম রোকেয়া পদক
(ঘ) স্বাধীনতা পদক

সঠিক উত্তর: (ক) একুশে পদক
(দ্রষ্টব্য: এটি প্রশ্নপত্রের প্রদত্ত অপশন ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটের উত্তর। বাস্তবে নারী দলকে ভিন্ন সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তবে পরীক্ষার জন্য অপশন ‘ক’ বা ‘ঘ’ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এখানে বইয়ের উত্তর অনুসরণ করা হলো)

ব্যাখ্যা:
আমাদের নারী ফুটবলাররা, যারা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে, তারা সত্যিকারের বীর। সাবিনা-সানজিদারা প্রমাণ করেছে যে, সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মেয়েরা বিশ্বজয় করতে পারে। তাদের এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্র তাদের সম্মানিত করেছে।

প্রশ্নপত্র অনুযায়ী সঠিক উত্তর একুশে পদক। সাধারণত শিল্প-সাহিত্য বা সমাজসেবায় এই পদক দেওয়া হলেও, জাতীয় জীবনে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য খেলার জগতেও এটি দেওয়া হতে পারে। এই পদক শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি নারী জাগরণের প্রতীক। তারা যখন ট্রফি নিয়ে ছাদখোলা বাসে করে শহরে ফেরে, তখন পুরো বাংলাদেশ তাদের স্যালুট জানায়। এই সম্মান তাদের প্রাপ্য ছিল।


২৫. জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী জনসংখ্যা কত শতাংশ?

(ক) ১.৪৪%
(খ) ১.৩৭%
(গ) ১.৪১%
(ঘ) ১.২৪%

সঠিক উত্তর: (খ) ১.৩৭%

ব্যাখ্যা:
একটি দেশের উন্নয়ন মানে সবার উন্নয়ন। কাউকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া যায় না। ২০২২ সালের জনশুমারির চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, আমাদের দেশে মোট জনসংখ্যার ১.৩৭ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী।

এই সংখ্যাটি আমাদের জন্য একটি বার্তা। আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা হয়তো ঠিকমতো হাঁটতে পারে না, চোখে দেখে না বা কানে শোনে না। এই ১.৩৭% মানুষ আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের ভাই-বোন। তাদের অবহেলা না করে, তাদের জন্য স্কুল, অফিস ও রাস্তাঘাট এমনভাবে বানাতে হবে যেন তারাও সমান সুযোগ পায়। পরীক্ষার্থী হিসেবে এই ডেটা জানা জরুরি, কারণ ভবিষ্যতে তোমরাই নীতিনির্ধারক হবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে।

অবশ্যই! আপনার আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ। নিচে ২৬ থেকে ৪০ পর্যন্ত প্রশ্নের উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া হলো। প্রতিটি ব্যাখ্যা আগের মতোই প্রাঞ্জল এবং তথ্যবহুল রাখা হয়েছে।


২৬. বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা চালু হয় কত তারিখে?

(ক) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
(খ) ২৬ মার্চ, ১৯৭২
(গ) ০৩ মার্চ, ১৯৭২
(ঘ) ০৪ মার্চ, ১৯৭২

সঠিক উত্তর: (ঘ) ০৪ মার্চ, ১৯৭২

ব্যাখ্যা:
টাকা শুধু বিনিময়ের মাধ্যম নয়, এটি একটি স্বাধীন দেশের আত্মমর্যাদার প্রতীক। আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর, কিন্তু আমাদের নিজস্ব টাকা চালু করতে একটু সময় লেগেছিল। সঠিক উত্তরটি হলো ০৪ মার্চ, ১৯৭২

যুদ্ধের পরপর আমাদের হাতে নিজস্ব কোনো মুদ্রা ছিল না। তখনো আমরা পাকিস্তানি রুপি ব্যবহার করতাম, যার ওপর ‘বাংলাদেশ’ লেখা সিল বা রাবার স্ট্যাম্প মারা থাকত। বঙ্গবন্ধু সরকার খুব দ্রুততার সাথে ভারত থেকে ১ টাকা ও ১০০ টাকার নোট ছাপিয়ে আনে এবং ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ তা বাজারে ছাড়ে।

সেই দিনটি ছিল বাঙালির জন্য এক গর্বের দিন। পকেটে নিজের দেশের ছবিওয়ালা নোট, যাতে লেখা ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’—সে এক অন্যরকম অনুভূতি! তাই ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চের মতোই ৪ মার্চ তারিখটি আমাদের অর্থনীতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। এটি ছিল আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রথম পদক্ষেপ।


২৭. হালদা নদীকে সরকার ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে কত তারিখে?

(ক) ২৯ অক্টোবর ২০২৫
(খ) ১ নভেম্বর ২০২৫
(গ) ১৬ জুলাই ২০২৫
(ঘ) ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
(নোট: বইয়ের প্রশ্নে ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপট দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে এটি ২০২০ সালে হয়েছিল। আমরা বইয়ের উত্তরটিই ব্যাখ্যা করব)

সঠিক উত্তর: (ঘ) ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্যাখ্যা:
চট্টগ্রামের হালদা নদী হলো পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী যেখানে রুই জাতীয় মাছেরা প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়ে এবং জেলেরা সেই ডিম সংগ্রহ করে। এই নদীটি প্রকৃতির এক অদ্ভুত বিস্ময়। কিন্তু দূষণ ও দখলের কারণে এটি আজ বিপন্ন।

নদীটিকে বাঁচাতে সরকার একে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ বা ঐতিহ্য ঘোষণা করেছে। প্রশ্নপত্র অনুযায়ী তারিখটি ৩ ডিসেম্বর ২০২৫। ‘হেরিটেজ’ মানে হলো এমন সম্পদ যা আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া এবং যা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।

এই ঘোষণার ফলে নদীতে মাছ ধরা, বালি তোলা বা কলকারখানার বর্জ্য ফেলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হালদা বাঁচলে আমাদের দেশের মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্র বাঁচবে। এটি শুধু একটি নদী নয়, এটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতির প্রাণভোমরা।


২৮. ‘সংসদ ও অতিরিক্ত মন্ত্রী’ (প্রকৃতপক্ষে: সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী) বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বিবৃত হয়েছে?

(ক) ৮৮
(খ) ৮৯
(গ) ৯০
(ঘ) ৯১

সঠিক উত্তর: (ঘ) ৯১

ব্যাখ্যা:
প্রশ্নে মুদ্রণজনিত ভুল আছে, এটি হবে ‘সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী’। সঠিক উত্তর সংবিধানের ৯১ নং অনুচ্ছেদ

সরকার বছরের শুরুতে বাজেট করে ঠিক করে কোথায় কত খরচ করবে। কিন্তু বছরের মাঝপথে যদি দেখা যায় বরাদ্দ করা টাকা ফুরিয়ে গেছে বা নতুন কোনো জরুরি কাজের জন্য আরও টাকার দরকার, তখন কী হবে? কাজ কি থেমে থাকবে? না।

তখন সরকার সংসদের কাছে ‘অতিরিক্ত’ টাকা চায় বা আগের হিসাবের সাথে মিল রেখে ‘সম্পূরক’ বাজেট পেশ করে। সংবিধানের ৯১ অনুচ্ছেদ সরকারকে এই বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে। এটি অনেকটা তোমার হাতখরচের মতো—বাবা মাসের শুরুতে যে টাকা দিলেন তা ২০ তারিখে শেষ হয়ে গেলে যেমন আবার চাইতে হয়, সরকারও তেমনি প্রয়োজনে সংসদের অনুমতি নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে পারে। এই নিয়মটিই ৯১ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে লেখা আছে।


২৯. আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস কত তারিখে পালিত হয়?

(ক) ২০ নভেম্বর
(খ) ৯ ডিসেম্বর
(গ) ২১ নভেম্বর
(ঘ) ২১ ডিসেম্বর

সঠিক উত্তর: (খ) ৯ ডিসেম্বর

ব্যাখ্যা:
তোমরা যেহেতু দুদকের পদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ, তাই এই প্রশ্নটি তোমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক উত্তর ৯ ডিসেম্বর

২০০৩ সালে জাতিসংঘ সারা বিশ্বকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক হওয়ার ডাক দেয় এবং এই দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস’ ঘোষণা করে। দুর্নীতি হলো সমাজের উইপোকা, যা উন্নয়নের ভিত নড়বড়ে করে দেয়।

প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর তারিখে শপথ নেওয়া হয়—আমরা ঘুষ দেব না, নেব না এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। এই দিবসের মূল বার্তা হলো সততা ও স্বচ্ছতা। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ভবিষ্যতে তোমাদের কাজই হবে এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা। তাই ক্যালেন্ডারে ৯ ডিসেম্বর তারিখটি লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে রাখো, কারণ এটিই হবে তোমাদের পেশাগত জীবনের শপথ নেওয়ার দিন।


৩০. বাংলাদেশে বেসরকারি ইপিজেড (EPZ) কয়টি?

(ক) ২টি
(খ) ৪টি
(গ) ৩টি
(ঘ) ৫টি

সঠিক উত্তর: (ক) ২টি

ব্যাখ্যা:
ইপিজেড (EPZ) মানে হলো ‘এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন’। এখানে বিদেশিরা ফ্যাক্টরি বানায় এবং পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে। সরকারি ইপিজেড (যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম) অনেকগুলো থাকলেও, বেসরকারি বা প্রাইভেট ইপিজেড আছে মাত্র ২টি

এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হলো চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কেইপিজেড (KEPZ) বা কোরিয়ান ইপিজেড, যা ইয়ংওয়ান কোম্পানি চালায়। সরকার যখন দেখল একা সব করা সম্ভব নয়, তখন বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও সুযোগ দিল। এই জোনগুলোতে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। জুতা, পোশাক আর টেক্সটাইল পণ্য এখান থেকে সারা বিশ্বে যায়। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের এই মিলন আমাদের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।


৩১. DML এর পূর্ণরূপ কোনটি?

(ক) Data Managament Language
(খ) Data Manipulation Language
(গ) Data Maintenance Language
(ঘ) Database Management Language

সঠিক উত্তর: (খ) Data Manipulation Language

ব্যাখ্যা:
কম্পিউটার বা ডেটাবেসের জগতে DML খুব পরিচিত একটি শব্দ। এর পূর্ণরূপ হলো Data Manipulation Language

মনে করো, তোমার কাছে একটি বড় রেজিস্টার খাতা (Database) আছে। এখন তুমি সেখানে নতুন কোনো নাম লিখলে (Insert), কোনো ভুল নাম ঠিক করলে (Update), কিংবা কোনো নাম কেটে দিলে (Delete)। এই যে ডেটা নিয়ে নাড়াচাড়া বা পরিবর্তন করা—এটাই হলো ম্যানিপুলেশন।

SQL বা ডেটাবেস ল্যাঙ্গুয়েজে এই কাজগুলো করার জন্য যে কমান্ডগুলো (যেমন: INSERT, UPDATE, DELETE) ব্যবহার করা হয়, তাদের সমষ্টিকেই DML বলা হয়। এটি ডেটাবেস ম্যানেজমেন্টের (DBMS) একটি অংশ, কিন্তু পুরোটা নয়। তাই সঠিক উত্তর ‘ম্যানিপুলেশন’, ম্যানেজমেন্ট নয়।


৩২. বাংলাদেশের ৬২তম GI পণ্য কোনটি?

(ক) কুমারখালীর বেডশিট
(খ) বগুড়ার দই
(গ) কালিগঞ্জের তোয়ালে
(ঘ) কুমিল্লার রসমালাই

সঠিক উত্তর: (গ) কালিগঞ্জের তোয়ালে

ব্যাখ্যা:
জিআই (GI) বা ‘Geographical Indication’ মানে হলো ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য। যখন কোনো পণ্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মাটি, পানি ও মানুষের দক্ষতার কারণে অনন্য হয়ে ওঠে, তখন তাকে জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এই তালিকার ৬২তম সদস্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে গাজীপুরের কালিগঞ্জের তোয়ালে। কালিগঞ্জের তাঁতশিল্পের ইতিহাস অনেক পুরনো। সেখানকার কারিগররা হাতে বুনে যে তোয়ালে বা গামছা তৈরি করেন, তার গুণমান ও স্থায়িত্ব অসাধারণ। এই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে এখন বিশ্ববাজারে ‘কালিগঞ্জের তোয়ালে’ নামেই এটি পরিচিত হবে এবং এর কদর বাড়বে। বগুড়ার দই বা কুমিল্লার রসমালাই আগেই স্বীকৃতি পেয়েছে, এবার পালা তোয়ালের!


৩৩. আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবর্তক কে?

(ক) প্লাঙ্ক
(খ) নিউটন
(গ) হাইগেন
(ঘ) আইনস্টাইন

সঠিক উত্তর: (ক) প্লাঙ্ক

ব্যাখ্যা:
আলো জিনিসটা আসলে কী? কণা নাকি ঢেউ? এই নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেকদিন ধরে ঝগড়া ছিল। ১৯০০ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাঙ্ক এক যুগান্তকারী তথ্য দিলেন। তিনি বললেন, আলো বা শক্তি নিরবচ্ছিন্নভাবে আসে না, বরং ছোট ছোট প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে আসে।

এই শক্তির প্যাকেটকে তিনি নাম দিলেন ‘কোয়ান্টা’ বা ‘ফোটন’। তাঁর এই তত্ত্বটিই হলো ‘কোয়ান্টাম তত্ত্ব’ (Quantum Theory)। এটি পদার্থবিজ্ঞানের জগতকে পুরো পাল্টে দিয়েছিল। পরে আইনস্টাইন এই তত্ত্ব ব্যবহার করেই নোবেল পুরস্কার পান, কিন্তু মূল ধারণাটি এসেছিল ম্যাক্স প্লাঙ্কের মাথা থেকেই। তাই তাকেই কোয়ান্টাম তত্ত্বের জনক বলা হয়।


৩৪. বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশে চরম দারিদ্রের হার কত?

(ক) ৮.৬%
(খ) ৫.৬%
(গ) ৯.৬%
(ঘ) ১০.৬%

সঠিক উত্তর: (খ) ৫.৬%

ব্যাখ্যা:
দারিদ্র্য হলো আমাদের প্রধান শত্রু। তবে সুখবর হলো, আমরা এই শত্রুর বিরুদ্ধে জয়ের পথে আছি। ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশে চরম দারিদ্র্যের হার (Extreme Poverty Rate) কমে দাঁড়িয়েছে ৫.৬%-এ।

‘চরম দরিদ্র’ কারা? যারা দিনে ঠিকমতো দুবেলা খেতে পায় না বা যাদের দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ অনেক কম। একসময় এই হার অনেক বেশি ছিল। সরকারের নানা উদ্যোগ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং মানুষের আয় বাড়ার ফলে এই হার কমে এসেছে। ৫.৬% মানে হলো আমরা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। বিশ্বব্যাংকের মতে, ৩% এর নিচে নামলে সেটাকে শূন্যের কোঠায় ধরা হয়। আমরা সেই লক্ষ্যের দিকেই হাঁটছি।


৩৫. বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং শুরু করে কোন ব্যাংক?

(ক) সোনালী ব্যাংক
(খ) ব্র্যাক ব্যাংক
(গ) ইস্টার্ন ব্যাংক
(ঘ) ডাচ-বাংলা ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (ঘ) ডাচ-বাংলা ব্যাংক

ব্যাখ্যা:
আজকাল তো পকেটে টাকা না থাকলেও চলে, মোবাইল থাকলেই হলো! বিকাশ, নগদ, রকেটের যুগে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু বাংলাদেশে এই বিপ্লবটা কে শুরু করেছিল জানো? ডাচ-বাংলা ব্যাংক

২০১১ সালের ৩১ মার্চ তারা প্রথম ‘ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংক’ (যা এখন ‘রকেট’ নামে পরিচিত) চালু করে। ব্র্যাক ব্যাংকের ‘বিকাশ’ এর কিছুদিন পরে আসে। ডাচ-বাংলা ব্যাংক গ্রামের সেই সব মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়েছিল, যাদের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। মোবাইলের বোতাম টিপেই টাকা পাঠানোর এই জাদু তারাই প্রথম দেখিয়েছিল। তাই পাইওনিয়ার বা পথিকৃৎ হিসেবে তাদের নামই ইতিহাসে থাকবে।


৩৬. বাংলাদেশে প্রথম ই-বুক কোনটি?

(ক) একুশে ই-বুক
(খ) বায়ান্ন ই-বুক
(গ) একাত্তর ই-বুক
(ঘ) চব্বিশ ই-বুক

সঠিক উত্তর: (ক) একুশে ই-বুক

ব্যাখ্যা:
বই পড়ার অভ্যাস এখন কাগজের পাতা থেকে মোবাইলের স্ক্রিনে চলে এসেছে। বাংলাদেশে প্রথম যে ডিজিটাল বই বা ই-বুক (Electronic Book) তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়, তার নাম ছিল ‘একুশে ই-বুক’

ভাষার মাস একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনাকে ধারণ করে এবং প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাংলা সাহিত্যকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই নাম রাখা হয়েছিল। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে বাঙালিরা তাদের প্রিয় বাংলা বই পড়তে পারে। এটি ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি ছোট্ট কিন্তু সুন্দর পদক্ষেপ। কাগজের গন্ধ না থাকলেও, জ্ঞানের আলো ছড়াতে এই ই-বুক অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।


৩৭. Facebook এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?

(ক) ওয়াশিংটন
(খ) সিয়াটেল
(গ) ক্যালিফোর্নিয়া
(ঘ) নিউইয়র্ক

সঠিক উত্তর: (গ) ক্যালিফোর্নিয়া

ব্যাখ্যা:
ফেসবুক ছাড়া তো আমাদের দিনই কাটে না! মার্ক জাকারবার্গের এই বিশাল সাম্রাজ্যের মূল কেন্দ্র বা হেডকোয়ার্টার অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মেনলো পার্ক (Menlo Park) নামক শহরে।

ক্যালিফোর্নিয়াকে বলা হয় প্রযুক্তির সিলিকন ভ্যালি। গুগল, অ্যাপল, ফেসবুক—সব বড় বড় টেক জায়ান্টেদের বাড়ি এখানেই। ওখানকার পরিবেশটাই এমন যে, নতুন নতুন আইডিয়া আর প্রযুক্তির জন্ম হয়। তাই ফেসবুকে লগ-ইন করার সময় মনে করবে, তোমার সিগন্যালটা সুদূর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ঘুরে আসছে!


৩৮. বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধিস্থল কোন জেলায় অবস্থিত?

(ক) যশোর
(খ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
(গ) ঢাকা
(ঘ) খুলনা

সঠিক উত্তর: (খ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ব্যাখ্যা:
আমাদের স্বাধীনতার সূর্যসন্তান ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের একজন হলেন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি শহীদ হন। তাঁর সমাধি বা কবর অবস্থিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে।

তিনি চেয়েছিলেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সোনাঝরা রোদে হাসবে বাংলাদেশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত করার লড়াইয়ে তিনি অসীম সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদের শান্ত ছায়ায় তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। ওখানে গেলে আজও মনে হয়, তিনি যেন সীমান্তের পাহারায় জেগে আছেন। দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি।


৩৯. ওমবিরোধ আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশ কত তারিখে স্বাক্ষর করে?

(ক) ২০ আগস্ট, ২০২৪
(খ) ২৯ আগস্ট, ২০২৪
(গ) ৩১ আগস্ট, ২০২৪
(ঘ) ০৩ আগস্ট, ২০২৪

সঠিক উত্তর: (খ) ২৯ আগস্ট, ২০২৪

ব্যাখ্যা:
‘ওমবিরোধ’ বা ‘Enforced Disappearance’ (গুম) বিরোধী আন্তর্জাতিক সনদটি মানবাধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এই সনদে স্বাক্ষর করে ২৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে।

গুম বা বলপূর্বক নিখোঁজ হওয়া একটি জঘন্য অপরাধ। কোনো মানুষকে তার পরিবার থেকে আইনবহির্ভূতভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং তার খোঁজ না দেওয়া—এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। বাংলাদেশ এই সনদে সই করার মাধ্যমে বিশ্বকে জানিয়ে দিল যে, আমরাও গুমমুক্ত একটি সমাজ চাই। এই পদক্ষেপটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস, ঠিক তার আগের দিনই এই স্বাক্ষর করাটা ছিল খুব প্রতীকী।


৪০. কে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ১৯৭২ এবং স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫ প্রত্যাখ্যান করেন?

(ক) আনোয়ার হোসেন
(খ) বদরুদ্দীন উমর
(গ) যতীন সরকার
(ঘ) সিরাজুল ইসলাম

সঠিক উত্তর: (খ) বদরুদ্দীন উমর

ব্যাখ্যা:
বদরুদ্দীন উমর হলেন আমাদের দেশের একজন প্রখ্যাত বামপন্থী তাত্ত্বিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তিনি আজীবন তার আদর্শের প্রতি এতটাই অটল যে, সরকারের দেওয়া বড় বড় পুরস্কারও তিনি বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, লেখকের কাজ হলো সত্য বলা, পুরস্কারের আশায় লেখা নয়। ১৯৭২ সালে তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দিতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি নেননি। আবার এই প্রশ্নপত্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমন নির্লোভ ও নীতিবান মানুষ খুব কমই দেখা যায়। তার লেখা ‘পূর্বলবাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি’ বইটি আমাদের ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল। পুরস্কারের চেয়েও পাঠকের ভালোবাসাই তার কাছে বড়।

দুদক সহকারী পরিচালক পদের গণিত প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

নিচে দুদক সহকারী পরিচালক পদের গণিত প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ তুলে ধরা হলো।

দুদক সহকারী পরিচালক পদের বাংলা ইংরেজি গণিত প্রশ্ন সমাধান ২০২৬
দুদক সহকারী পরিচালক পদের বাংলা ইংরেজি গণিত প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

৪১. টাকায় n সংখ্যক কমলা বিক্রয় করায় p% ক্ষতি হয়। q% লাভ করতে হলে টাকায় কয়টি কমলা বিক্রয় করতে হবে?

(ক) n(100 – p) / (100 + q)
(খ) n(p – 100) / (100 + q)
(গ) n(100 – p) / 100q
(ঘ) n(100 – q) / (100 + p)

সঠিক উত্তর: (ক) n(100 – p) / (100 + q)

ব্যাখ্যা:
এটি লাভ-ক্ষতির একটি ক্লাসিক শর্টকাট অংক। এসো, সূত্রটা বুঝে নিই।
ব্যবসায়ী যখন কমলায় p% ক্ষতি করেন, তখন তার বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ক্রয়মূল্যের (100 – p)%।
আবার যখন তিনি q% লাভ করতে চান, তখন তাকে বিক্রি করতে হবে (100 + q)% দামে।

টাকার পরিমাণ যেহেতু সমান (এক টাকা), তাই দাম বাড়লে জিনিসের সংখ্যা কমাতে হবে। নিয়ম হলো—আগের দাম ও পরের দামের অনুপাত উল্টে যাবে।
বিক্রয় সংখ্যার সূত্র:
নতুন সংখ্যা = পুরাতন সংখ্যা × (ক্ষতির সময় মূল্য / লাভের সময় মূল্য)
= n × (100 – p) / (100 + q)

সহজ কথায়, ক্ষতি পুষিয়ে লাভ করতে হলে তাকে কম কমলা দিতে হবে। তাই উপরের লব (100 – p) ছোট হবে এবং নিচের হর (100 + q) বড় হবে।


৪২. 1/3, 1/√3, 1… ধারাটির কোন পদ 9 হবে?

(ক) ১০ম
(খ) ৭ম
(গ) ৬ষ্ঠ
(ঘ) ৮ম

সঠিক উত্তর: (ক) ১০ম
(নোট: প্রশ্নটির ধারা ও উত্তরে গাণিতিক অসামঞ্জস্য থাকতে পারে, তবে সাধারণ গুণোত্তর ধারার নিয়ম অনুযায়ী ব্যাখ্যা করছি)

ব্যাখ্যা:
ধারাটি লক্ষ্য করো:
১ম পদ (a) = 1/3
২য় পদ = 1/√3
অনুপাত (r) = ২য় পদ / ১ম পদ = (1/√3) ÷ (1/3) = √3।

যেহেতু অনুপাত সমান, তাই এটি একটি গুণোত্তর ধারা।
আমাদের বের করতে হবে কোন পদটি 9।
ধরি, n-তম পদ = 9
সূত্র: a × r^(n-1) = 9
বা, (1/3) × (√3)^(n-1) = 9
বা, (√3)^(n-1) = 27
বা, (√3)^(n-1) = 3^3 = (√3)^6
বা, n – 1 = 6 × ? (এখানে √3 এর পাওয়ার হিসাব করলে n-1 = 6 হবে না, কারণ 27 = 3^3 = (√3)^6)।
সুতরাং, n – 1 = 6 হলে n = 7। (অপশনে ৭ম আছে)।
কিন্তু যদি ধারাটি ভিন্নভাবে সাজানো থাকে বা প্রশ্নে টাইপো থাকে তবে উত্তর ভিন্ন হতে পারে। অপশন ‘১০ম’ হতে হলে ধারাটির লজিক ভিন্ন হবে। তবে গুণোত্তর ধারার সাধারণ নিয়মে এটি ৭ম পদ হওয়ার কথা। বইয়ের উত্তর ‘১০ম’ হলে সম্ভবত প্রশ্নে কোনো ভুল আছে বা ধারাটি ১ থেকে শুরু হয়েছে।


৪৩. A এর গতিবেগ B এর গতিবেগের দ্বিগুণ, আবার B এর গতিবেগ C এর গতিবেগের ৩ গুণ। C এর ৪২ মিনিট লাগলে A এর কত সময় লাগবে?

(ক) ৬ মিনিট
(খ) ৫ মিনিট
(গ) ৮ মিনিট
(ঘ) ৭ মিনিট

সঠিক উত্তর: (ঘ) ৭ মিনিট

ব্যাখ্যা:
গতিবেগ ও সময়ের সম্পর্ক হলো উল্টো। যার গতি যত বেশি, তার সময় তত কম লাগে।
ধরি, C এর গতিবেগ = x
তাহলে B এর গতিবেগ = 3x (৩ গুণ)
A এর গতিবেগ = 2 × (3x) = 6x (B এর দ্বিগুণ মানে C এর ৬ গুণ)।

A এর গতি C এর চেয়ে ৬ গুণ বেশি
তাই A এর সময় লাগবে C এর সময়ের ৬ ভাগ
C এর সময় লাগে = ৪২ মিনিট।
সুতরাং, A এর সময় লাগবে = ৪২ ÷ ৬ = ৭ মিনিট
খুবই সহজ, তাই না? গতি ৬ গুণ বাড়লে সময় ৬ গুণ কমবে!


৪৪. ৩৬০০ জন চাকুরিজীবীর মধ্যে 1/3 অংশ কম্পিউটার অপারেটর। যদি অপারেটরদের 1/3 অংশ হ্রাস করা হয়, তবে অবশিষ্টদের শতকরা কতজন অপারেটর?

(ক) ৩০
(খ) ২৫
(গ) ৩৫
(ঘ) ৪০

সঠিক উত্তর: (খ) ২৫

ব্যাখ্যা:
মোট কর্মী = ৩৬০০
কম্পিউটার অপারেটর = ৩৬০০ এর ১/৩ = ১২০০ জন।
অন্যান্য কর্মী = ৩৬০০ – ১২০০ = ২৪০০ জন।

এখন অপারেটরদের ১/৩ চলে গেল।
১২০০ এর ১/৩ = ৪০০ জন চলে গেল।
বাকি অপারেটর = ১২০০ – ৪০০ = ৮০০ জন।

নতুন মোট কর্মী সংখ্যা = (বাকি অপারেটর ৮০০) + (অন্যান্য ২৪০০) = ৩২০০ জন।
এখন শতকরা অপারেটর কত?
(৮০০ ÷ ৩২০০) × ১০০%
= (১ ÷ ৪) × ১০০%
= ২৫%


৪৫. আয়তক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য ১২, প্রস্থ ৫। একে বৃহত্তর বাহুর চতুর্দিকে ঘোরালে উৎপন্ন ঘনবস্তুর পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল কত?

(ক) ৫২৫ ব. সে.মি.
(খ) ৫৩০.০১ ব. সে.মি.
(গ) ৫৩৪.০৭ ব. সে.মি.
(ঘ) ৫৩৮.০৩ ব. সে.মি.

সঠিক উত্তর: (গ) ৫৩৪.০৭ ব. সে.মি.

ব্যাখ্যা:
একটি আয়তক্ষেত্রকে তার বড় বাহুর (১২ সে.মি.) চারপাশে ঘোরালে একটি সিলিন্ডার বা বেলন তৈরি হবে।
এখানে, উচ্চতা (h) = ১২ সে.মি. (যার চারপাশে ঘুরছে)।
ব্যাসার্ধ (r) = ৫ সে.মি. (যে বাহুটি ঘুরছে)।

সমগ্রতলের ক্ষেত্রফল = ২πr(r + h)
= ২ × ৩.১৪১৬ × ৫ × (৫ + ১২)
= ৩১.৪১৬ × ১৭
= ৫৩৪.০৭২ ব. সে.মি.
এটি দেখতে অনেকটা টিনের কৌটার মতো হবে, যার ওপর-নিচ ও চারপাশ মিলে এই ক্ষেত্রফল।


৪৬. সুষম ষড়ভুজের কেন্দ্র থেকে কৌণিক দূরত্ব ৪ মিটার হলে ক্ষেত্রফল কত?

(ক) 24√3 ব.মি.
(খ) 24√3 ব.মি.
(গ) 27√3 ব.মি.
(ঘ) 21√2 ব.মি.

সঠিক উত্তর: (খ) 24√3 ব.মি.

ব্যাখ্যা:
সুষম ষড়ভুজের (Hexagon) একটি মজার বৈশিষ্ট্য হলো, এর কেন্দ্র থেকে কোণা পর্যন্ত দূরত্ব (ব্যাসার্ধ) আর বাহুর দৈর্ঘ্য (a) সমান হয়।
তাই এখানে বাহুর দৈর্ঘ্য a = ৪ মিটার।

সুষম ষড়ভুজের ক্ষেত্রফলের সূত্র: (3√3 / 2) × a²
= (3√3 / 2) × (৪)²
= (3√3 / 2) × ১৬
= 3√3 × ৮
= 24√3 বর্গমিটার
ষড়ভুজটি আসলে ৬টি সমবাহু ত্রিভুজের সমষ্টি, তাই এভাবেও ভাবা যায়।


৪৭. সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ভূমি ৬০ সে.মি., ক্ষেত্রফল ১২০০ হলে পরিসীমা কত?

(ক) ১৬০ সে.মি.
(খ) ১৪০ সে.মি.
(গ) ১২০ সে.মি.
(ঘ) ১৪৪ সে.মি.

সঠিক উত্তর: (ক) ১৬০ সে.মি.

ব্যাখ্যা:
ক্ষেত্রফল = (ভূমি × উচ্চতা) / ২
১২০০ = (৬০ × h) / ২
১২০০ = ৩০h
h = ৪০ সে.মি.।

এখন পিথাগোরাসের সূত্র দিয়ে সমান বাহু (a) বের করি।
সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের উচ্চতা ভূমিকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে (৩০ করে)।
অতিভুজ² = লম্ব² + ভূমি²
a² = ৪০² + ৩০²
a² = ১৬০০ + ৯০০ = ২৫০০
a = ৫০ সে.মি.।

পরিসীমা = ২a + b (দুইটি সমান বাহু + ভূমি)
= (২ × ৫০) + ৬০
= ১০০ + ৬০ = ১৬০ সে.মি.


৪৮. 256 + 128 + 64 + ….. ধারাটির সাধারণ পদ কত?

(ক) 1 / 2^(n-6)
(খ) 1 / 2^(n-7)
(গ) 1 / 2^(n-8)
(ঘ) 1 / 2^(n-9)

সঠিক উত্তর: (ঘ) 1 / 2^(n-9)

ব্যাখ্যা:
এটি একটি গুণোত্তর ধারা। ১ম পদ (a) = ২৫৬ = ২^৮।
সাধারণ অনুপাত (r) = ১২৮/২৫৬ = ১/২ = ২^(-১)।

n-তম পদ = a × r^(n-1)
= ২^৮ × (২^-১)^(n-1)
= ২^৮ × ২^(-n+1)
= ২^(৮ – n + 1)
= ২^(৯ – n)
= 1 / 2^(n-9) (সূচকের নিয়মে নিচে নামালে পাওয়ারের চিহ্ন পাল্টে যায়)।

সহজভাবে, ১ম পদে n=1 বসালে: ১/২^(১-৯) = ১/২^-৮ = ২^৮ = ২৫৬। মিলে গেছে!


৪৯. খুঁটিটি ৭ মিটার উঁচুতে সোজা করা হলো, অবনতি কোণ ৩০°। বাঁশটির দৈর্ঘ্য কত?

(ক) ১২ মিটার
(খ) ১৩ মিটার
(গ) ১৫ মিটার
(ঘ) ১৪ মিটার

সঠিক উত্তর: (ঘ) ১৪ মিটার

ব্যাখ্যা:
এখানে বাঁশটি হলো একটি সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজ।
খুঁটির উচ্চতা (লম্ব) = ৭ মিটার।
অবনতি কোণ ৩০° মানে উন্নতি কোণও ৩০° (একান্তর কোণ)।

আমরা জানি, sin(θ) = লম্ব / অতিভুজ
sin(৩০°) = ৭ / বাঁশ
১/২ = ৭ / বাঁশ
বাঁশ = ৭ × ২ = ১৪ মিটার
অংকটি আসলে সাইন থিটার খুব সাধারণ প্রয়োগ।


৫০. বৃত্তের অন্তর্লিখিত সামান্তরিক একটি-

(ক) বর্গক্ষেত্র
(খ) আয়তক্ষেত্র
(গ) রম্বস
(ঘ) ট্রাপিজিয়াম

সঠিক উত্তর: (খ) আয়তক্ষেত্র

ব্যাখ্যা:
জ্যামিতির একটি চিরন্তন সত্য বা উপপাদ্য আছে: “বৃত্তে অন্তরলিখিত যেকোনো সামান্তরিক অবশ্যই একটি আয়তক্ষেত্র হবে।”

কেন? কারণ সামান্তরিকের বিপরীত কোণগুলো সমান। আবার বৃত্তস্থ চতুর্ভুজের বিপরীত কোণগুলোর সমষ্টি ১৮০°।
তাহলে, কোণ A + কোণ C = ১৮০°। আবার A = C।
সুতরাং, ২A = ১৮০° বা A = ৯০°।
যে সামান্তরিকের কোণ ৯০°, সেটিই তো আয়তক্ষেত্র!


৫১. log_√3 81 + log_5 5√5 এর মান কত?

(ক) 19/2
(খ) 17/√3
(গ) 19/√2
(ঘ) 17/√2

সঠিক উত্তর: (ক) 19/2

ব্যাখ্যা:
প্রথম অংশ: log_√3 (81)
81 = 3^4 = (√3)^8
তাই log_√3 (√3)^8 = 8

দ্বিতীয় অংশ: log_5 (5√5)
5√5 = 5^1 × 5^(1/2) = 5^(3/2)
তাই log_5 (5^(3/2)) = 3/2 = 1.5

মোট মান = 8 + 1.5 = 9.5 = 19/2


৫২. x – 1/x = √3 হলে x² – √3x এর মান কত?

(ক) 2
(খ) √3
(গ) √2
(ঘ) 1

সঠিক উত্তর: (ঘ) 1

ব্যাখ্যা:
দেওয়া আছে: x – 1/x = √3
বা, (x² – 1) / x = √3
বা, x² – 1 = √3x
বা, x² – √3x = 1
খুবই সহজ, শুধু পক্ষান্তর করলেই উত্তর মিলে যায়!


৫৩. P + 2^(1/3) + 2^(2/3) = 0 হলে P³ + 6 এর মান কত?

(ক) 4P
(খ) 5P
(গ) 6P
(ঘ) 3P

সঠিক উত্তর: (গ) 6P

ব্যাখ্যা:
P = – (2^(1/3) + 2^(2/3))
উভয় পক্ষকে ঘন (Cube) করি।
P³ = – [2 + 4 + 3.2^(1/3).2^(2/3) (2^(1/3)+2^(2/3))]
P³ = – [6 + 3.2 (-P)] (মান বসিয়ে)
P³ = -6 + 6P
সুতরাং, P³ + 6 = 6P


৫৪. MISSISSIPPI শব্দটির সবগুলো বর্ণ একত্রে রেখে কতভাবে সাজানো যায়?

(ক) 34550
(খ) 34650
(গ) 34850
(ঘ) 34750

সঠিক উত্তর: (খ) 34650

ব্যাখ্যা:
মোট অক্ষর = ১১টি।
M=1, I=4, S=4, P=2।
বিন্যাস সংখ্যা = ১১! / (৪! × ৪! × ২!)
= ৩৯৯১৬৮০০ / (২৪ × ২৪ × ২)
= ৩৯৯১৬৮০০ / ১১৫২
= ৩৪৬৫০


৫৫. ৩টি লাল, ৪টি সবুজ ও ৫টি নীল বল। ৩টি বলে অন্তত ১টি নীল বল পাবার সম্ভাবনা?

(ক) 37/44
(খ) 27/88
(গ) 5/12
(ঘ) 9/12

সঠিক উত্তর: (ক) 37/44

ব্যাখ্যা:
মোট বল = ৩+৪+৫ = ১২টি।
মোট উপায় = 12C3 = (১২×১১×১০)/(৩×২×১) = ২২০।
‘নীল বল না পাওয়ার’ (সব বল লাল বা সবুজ থেকে আসবে) উপায় বের করি।
লাল+সবুজ = ৭টি। এখান থেকে ৩টি নেওয়ার উপায় = 7C3 = ৩৫।
নীল বল না পাওয়ার সম্ভাবনা = ৩৫/২২০ = ৭/৪৪।
অন্তত ১টি নীল পাওয়ার সম্ভাবনা = ১ – (নীল না পাওয়ার সম্ভাবনা)
= ১ – ৭/৪৪ = ৩৭/৪৪


৫৬. 5, 8, 1, 4 দ্বারা 5000 এর চেয়ে বড় কতগুলো সংখ্যা তৈরী করা যাবে?

(ক) 6টি
(খ) 9টি
(গ) 4টি
(ঘ) 12টি

সঠিক উত্তর: (ঘ) 12টি

ব্যাখ্যা:
সংখ্যাটি ৪ অঙ্কের হতে হবে এবং ৫০০০ এর বড়।
তার মানে হাজার এর ঘরে অবশ্যই 5 অথবা 8 বসতে হবে।
১. যদি শুরুতে 5 থাকে: বাকি ৩টি ঘরে (8,1,4) সাজানো যায় = ৩! = ৬ ভাবে।
২. যদি শুরুতে 8 থাকে: বাকি ৩টি ঘরে (5,1,4) সাজানো যায় = ৩! = ৬ ভাবে।
মোট সংখ্যা = ৬ + ৬ = ১২টি


৫৭. সমদ্বিবাহু সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজ 12 সে.মি. হলে ক্ষেত্রফল?

(ক) 18
(খ) 24
(গ) 36
(ঘ) 42

সঠিক উত্তর: (গ) 36 ব. সে.মি.

ব্যাখ্যা:
সমদ্বিবাহু সমকোণী ত্রিভুজের লম্ব ও ভূমি সমান (x)।
পিথাগোরাস অনুযায়ী: x² + x² = ১২²
2x² = ১৪৪
x² = ৭২
ক্ষেত্রফল = ১/২ × ভূমি × উচ্চতা
= ১/২ × x²
= ১/২ × ৭২ = ৩৬


৫৮. ১৩ সে.মি. ব্যাসার্ধের বৃত্তের কেন্দ্র হতে ৫ সে.মি. দূরত্বে অবস্থিত জ্যা এর দৈর্ঘ্য কত?

(ক) ১২
(খ) ২৪
(গ) ১৬
(ঘ) ২০

সঠিক উত্তর: (খ) ২৪ সে.মি.

ব্যাখ্যা:
পিথাগোরাসের সূত্র প্রয়োগ করি।
অতিভুজ (ব্যাসার্ধ) = ১৩।
লম্ব (কেন্দ্র থেকে দূরত্ব) = ৫।
ভূমি (অর্ধ জ্যা) = √(১৩² – ৫²) = √(১৬৯ – ২৫) = √১৪৪ = ১২।
পুরো জ্যা = ২ × ১২ = ২৪ সে.মি.


৫৯. f(x) = x³ + kx² – 6x – 9; k এর মান কত হলে f(3) = 0 হবে?

(ক) 1
(খ) -1
(গ) 2
(ঘ) 0

সঠিক উত্তর: (ঘ) 0
(বাস্তবে ক্যালকুলেশন করলে: 27 + 9k – 18 – 9 = 0 => 9k = 0 => k=0)

ব্যাখ্যা:
x এর জায়গায় 3 বসাই:
f(3) = (3)³ + k(3)² – 6(3) – 9
0 = 27 + 9k – 18 – 9
0 = 27 – 27 + 9k
0 = 9k
সুতরাং k = 0


৬০. ১০০ জনের মধ্যে ৯৪ বাংলায়, ৮০ গণিতে পাশ। ৭৫ জন উভয় বিষয়ে পাশ। উভয় বিষয়ে ফেল কত?

(ক) ১
(খ) ২
(গ) ৩
(ঘ) ৪

সঠিক উত্তর: (ক) ১

ব্যাখ্যা:
শুধুমাত্র বাংলায় পাশ = ৯৪ – ৭৫ = ১৯ জন।
শুধুমাত্র গণিতে পাশ = ৮০ – ৭৫ = ৫ জন।
উভয় বিষয়ে পাশ = ৭৫ জন।
মোট পাশ করা ছাত্র = ১৯ + ৫ + ৭৫ = ৯৯ জন।
মোট ছাত্র ১০০ জন।
তাহলে ফেল করেছে = ১০০ – ৯৯ = ১ জন

দুদক সহকারী পরিচালক পদের ইংরেজি প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

নিম্নে দুদক সহকারী পরিচালক পদের ইংরেজি প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ আলোচনা করছি।

৬১. What is an ‘Epic’?

(ক) a prose composition
(খ) a romance
(গ) a novel
(ঘ) a long poem

সঠিক উত্তর: (ঘ) a long poem

ব্যাখ্যা:
‘Epic’ বা মহাকাব্য হলো সাহিত্যের এক বিশাল ও রাজকীয় রূপ। এটি মূলত একটি দীর্ঘ কবিতা (Long Poem)। এতে কোনো বীর যোদ্ধার বীরত্বগাঁথা বা জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছন্দে ছন্দে বর্ণনা করা হয়। হোমারের ‘ইলিয়াড’ বা আমাদের মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো এর সেরা উদাহরণ। এটি উপন্যাস বা গদ্য নয়, বরং পদ্যের এক মহাকাব্যিক রূপ।


৬২. What is the adverb of the word ‘Miser’?

(ক) miserly
(খ) miserily
(গ) miserably
(ঘ) miser

সঠিক উত্তর: (ক) miserly
(সতর্কতা: সাধারণত -ly থাকলে Adverb হয়, কিন্তু Miserly শব্দটি Adjective হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তবে ব্যাকরণগতভাবে কৃপণের মতো কাজ করা বোঝাতে Adverb হিসেবে Miserly-ই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য অপশন)

ব্যাখ্যা:
‘Miser’ মানে কৃপণ ব্যক্তি (Noun)। এর বিশেষণ বা Adjective হলো ‘Miserly’ (কৃপণস্বভাব)। মজার ব্যাপার হলো, ইংরেজিতে কিছু শব্দে -ly থাকলেও তারা Adjective (যেমন: Friendly)। তবে অপশনগুলোর মধ্যে ‘Miserly’ ছাড়া সঠিক কোনো রূপ নেই। সঠিকভাবে অ্যাডভার্ব করতে হলে বলতে হয় ‘in a miserly manner’। কিন্তু পরীক্ষার অপশনে (ক) miserly কেই সঠিক ধরা হয়।


৬৩. Find out the correct sentence:

(ক) What happened to you yesterday?
(খ) Are you agree with me?
(গ) Where you told him the matter?
(ঘ) If youy came, I would have gone.

সঠিক উত্তর: (ক) What happened to you yesterday?

ব্যাখ্যা:
(ক) বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক। ‘গতকাল তোমার কী হয়েছিল?’
(খ) ভুল। সঠিক হবে ‘Do you agree with me?’ (Agree নিজেই ভার্ব)।
(গ) ভুল। প্রশ্নবোধক হলে ‘Did’ বা সাহায্যকারী ভার্ব লাগত।
(ঘ) ভুল। বানান ভুল (youy) এবং কন্ডিশনাল টেন্সের নিয়ম মানা হয়নি।
তাই (ক) ই একমাত্র শুদ্ধ বাক্য।


৬৪. The then Prime Minister misled the nation. The underlined word (then) belongs to-

(ক) Adverb
(খ) Adjective
(গ) Preposition
(ঘ) Both and adjective

সঠিক উত্তর: (খ) Adjective

ব্যাখ্যা:
সাধারণত ‘then’ একটি Adverb (তখন)। কিন্তু যখন এটি কোনো Noun-এর আগে বসে সেই Noun-এর সময়কাল নির্দেশ করে, তখন তা Adjective হয়ে যায়।
এখানে ‘then Prime Minister’ মানে ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী’। ‘Prime Minister’ (Noun)-কে মডিফাই করার কারণে এখানে ‘then’ শব্দটি Adjective-এর কাজ করছে। ইংরেজির এই জাদুকরী নিয়মটি মনে রাখা খুব জরুরি।


৬৫. Change into indirect: He said, “The horse died in the night.”

(ক) He said that the horse died in the night.
(খ) He said that the horse had died in the night.
(গ) He said that the horse was died in the night.
(ঘ) He said that the horse has died in the night.

সঠিক উত্তর: (খ) He said that the horse had died in the night.

ব্যাখ্যা:
Reporting verb (said) পাস্ট টেন্সে আছে। আর রিপোর্টেড স্পিচটি ‘died’ (Past Indefinite) এ আছে।
ন্যারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, Past Indefinite পাল্টে Past Perfect হয়ে যায়।
গঠন: had + V3।
তাই সঠিক বাক্য: He said that the horse had died in the night.


৬৬. Choose the correct sentence.

(ক) Rima is talller than her four sisters.
(খ) Rima is taller than all of her four sisters.
(গ) Rima is taller than anyone of her four sisters.
(ঘ) Rima is taller than either of her four sisters.

সঠিক উত্তর: (খ) Rima is taller than all of her four sisters.
(অথবা ‘any of her sisters’ হলে ভালো হতো, তবে প্রদত্ত অপশনে ‘all of’ দিয়ে তুলনাটি স্পষ্ট যে সে সবার চেয়ে লম্বা)

ব্যাখ্যা:
তুলনা করার সময় ‘than’ এর পরে সঠিক গ্রুপটি বসাতে হয়। রিমা তার চার বোনের সবার চেয়ে লম্বা, এটা বোঝাতে ‘all of her four sisters’ সবচেয়ে উপযুক্ত। অপশন (ক)-এ বানান ভুল (talller)। (ঘ)-তে ‘either’ দুজনকে বোঝায়, চারজনকে নয়। তাই (খ) ই সঠিক।


৬৭. Had I been rich, I (help) her.

(ক) would have help
(খ) will help
(গ) would have helped
(ঘ) will have helped

সঠিক উত্তর: (গ) would have helped

ব্যাখ্যা:
এটি 3rd Conditional বা অসম্ভব শর্তের বাক্য।
শুরুতে ‘Had I been’ (Past Perfect) থাকলে, পরের অংশে would have + V3 বসে।
অর্থ: আমি যদি ধনী হতাম (আসলে হইনি), তবে তাকে সাহায্য করতাম।
সঠিক রূপ: would have helped


৬৮. Philology is the-

(ক) Study of philosophical thouhgts.
(খ) Study of languages.
(গ) Study of artchitecture.
(ঘ) Study of bones and muscles.

সঠিক উত্তর: (খ) Study of languages.

ব্যাখ্যা:
‘Philology’ শব্দটি গ্রিক থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘শব্দের প্রতি ভালোবাসা’। এটি মূলত ভাষাবিজ্ঞান বা ভাষার ইতিহাস (Study of languages) নিয়ে পড়াশোনা। প্রাচীন পুঁথি, শব্দের উৎপত্তি এবং ভাষার ক্রমবিকাশ—এসবই ফিলোলজির বিষয়বস্তু। দর্শন বা হাড়গোড় নিয়ে নয়, এটি শব্দের জগত নিয়ে কাজ করে।


৬৯. The word “evil-eye” is a-

(ক) Noun
(খ) Adjective
(গ) Adverb
(ঘ) None of the above

সঠিক উত্তর: (খ) Adjective (বা Compound Adjective হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে Noun ও হতে পারে ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে। প্রশ্নে সাধারণত Adjective হিসেবে এর গুণবাচক দিকটি জানতে চাওয়া হয়)।
(নোট: ‘Evil eye’ নিজে একটি Noun Phrase, কিন্তু ‘He has an evil eye’ বাক্যে এটি গুণের মতো কাজ করে। তবে সরাসরি পার্টস অফ স্পিচ হিসেবে এটি Noun হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। কিন্তু অনেক গাইডবইয়ে একে Adjective বলে। স্ট্যান্ডার্ড গ্রামার অনুযায়ী এটি Noun। অপশন ও উত্তরদাতার মানসিকতা অনুযায়ী উত্তর ভিন্ন হতে পারে। এখানে সেফ অপশন Noun, কিন্তু বইতে Adjective থাকলে সেটি ভিন্ন কথা)

ব্যাখ্যা (সংশোধিত): ‘Evil eye’ (কুনজর) একটি জিনিসের নাম, তাই এটি Noun। তবে যদি হাইফেন দিয়ে ‘evil-eye’ (যেমন evil-eye beads) থাকে, তবে তা Adjective। প্রশ্নটি কিছুটা বিভ্রান্তিকর। তবে সাধারণ অর্থে এটি একটি বিশ্বাস বা বস্তু, তাই Noun।


৭০. Choose the correct sentence.

(ক) All of if depend on you.
(খ) All of it are depending on you.
(গ) All of it depends on you.
(ঘ) All of if are denpended on you.

সঠিক উত্তর: (গ) All of it depends on you.

ব্যাখ্যা:
‘All of it’ (এটার সবটুকু) একটি সিঙ্গুলার বা একবচন সাবজেক্ট হিসেবে কাজ করে। তাই এর ভার্বও সিঙ্গুলার হবে।
‘Depend’ এর সাথে ‘s’ যুক্ত হয়ে ‘depends’ হবে।
বাকিগুলোতে বানান ভুল (if, denpended) বা গ্রামার ভুল (are) আছে।
অর্থ: “এটার পুরোটাই তোমার ওপর নির্ভর করছে।”

অবশ্যই! আপনার ধৈর্য ও আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ। একসাথে শেষ ধাপের ৭১ থেকে ১০০ পর্যন্ত প্রশ্নগুলোর (ইংরেজি ও বাংলা সাহিত্য-ব্যাকরণ) সমাধান ও ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো।


৭১. “One should always strive not to be a/an … presenter, who makes the audience’s interest …”

(ক) vivacious/diminish
(খ) languid/amplify
(গ) rampant/flounder
(ঘ) insipid/dwindle

সঠিক উত্তর: (ঘ) insipid/dwindle

ব্যাখ্যা:
বাক্যটির অর্থ মেলাতে হবে। বলা হচ্ছে—একজন বক্তার এমন হওয়া উচিত নয় যা দর্শকদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়।

  • Insipid মানে হলো নিরস বা বিস্বাদ (যাতে মজা নেই)।
  • Dwindle মানে হলো কমে যাওয়া বা হ্রাস পাওয়া।
    পুরো বাক্য: “একজন বক্তার কখনো ‘নিরস’ হওয়া উচিত নয়, যা দর্শকদের আগ্রহ ‘কমিয়ে’ দেয়।”
    বাকি অপশনগুলো অর্থের সাথে খাপ খায় না। যেমন Vivacious (প্রাণবন্ত) হলে তো আগ্রহ কমবে না, বাড়বে। তাই (ঘ) ই সঠিক।

৭২. The news eventually filtered through to me. Which expresses the best meaning?

(ক) made its way to
(খ) was known by all
(গ) burst through
(ঘ) suprised

সঠিক উত্তর: (ক) made its way to

ব্যাখ্যা:
‘Filter through’ একটি ফ্রেজ যার অর্থ হলো কোনো খবর বা তথ্য অনেক বাধা বা পথ পেরিয়ে ধীরে ধীরে কারো কাছে পৌঁছানো।
যেমন ছাঁকনি দিয়ে পানি ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ে, তেমনি খবরটি মানুষের মুখে মুখে ঘুরে আমার কাছে এসেছে।
এর সমার্থক হলো ‘made its way to’ (আমার কাছে পৌঁছেছে)। এটি হঠাৎ করে আসা বা সবাই জানা নয়, বরং পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটিই এখানে মুখ্য।


৭৩. Choose the correctly spelled word.

(ক) Treacharous
(খ) Treacherous
(গ) Trecherous
(ঘ) Trecharous

সঠিক উত্তর: (খ) Treacherous

ব্যাখ্যা:
শব্দটি হলো Treacherous, যার অর্থ বিশ্বাসঘাতক বা বিপজ্জনক।
বানানের কৌশল: প্রথমে T-r-e-a (ট্রি), তারপর c-h-e-r (চার), শেষে o-u-s (আস)।
উচ্চারণ: ট্রে-চা-রাস।
সঠিক বানানটিতে ‘ea’ এবং ‘er’ আছে, যা মনে রাখা জরুরি। বাকিগুলো ভুল।


৭৪. Mr. Gani glanced … us once. Fill in the blank.

(ক) at
(খ) to
(গ) down
(ঘ) up

সঠিক উত্তর: (ক) at

ব্যাখ্যা:
‘Glance’ মানে একনজর তাকানো। এর সাথে প্রিপজিশন হিসেবে সাধারণত ‘at’ বসে।
“Glanced at us” মানে তিনি আমাদের দিকে একপলক তাকালেন।
নির্দিষ্ট কোনো দিক বা বস্তুর দিকে তাকানো বোঝালে ‘at’ ব্যবহার করা হয় (যেমন: Look at, Stare at)। তাই সঠিক উত্তর ‘at’।


৭৫. Mother laughs. The word ‘laughs’ is a/an-

(ক) Intransitive verb
(খ) Auxiliary verb
(গ) Transitive verb
(ঘ) Causative verb

সঠিক উত্তর: (ক) Intransitive verb

ব্যাখ্যা:
যে ভার্বের কাজের জন্য কোনো অবজেক্ট বা কর্মের প্রয়োজন হয় না, তাকে Intransitive Verb (অকর্মক ক্রিয়া) বলে।
“Mother laughs” (মা হাসেন)—এখানে মা নিজেই হাসছেন, হাসার জন্য তাকে অন্য কিছুকে ‘হাসাতে’ হচ্ছে না বা বাক্যের অর্থ পূর্ণ করতে অন্য শব্দের দরকার নেই।
পক্ষান্তরে, ‘Transitive’ হলে অবজেক্ট লাগত (যেমন: He eats rice)। তাই হাসি বা কান্না সবসময়ই অকর্মক।


৭৬. Find the odd word from the list.

(ক) Fugitive
(খ) Deserter
(গ) Allegiance
(ঘ) Apostate
(নোট: অপশন ঘ-তে বানান ভুল আছে, সম্ভবত Apostate হবে)

সঠিক উত্তর: (গ) Allegiance

ব্যাখ্যা:
শব্দগুলোর অর্থ দেখি:
১. Fugitive = পলাতক।
২. Deserter = যে দায়িত্ব ছেড়ে পালায়।
৩. Apostate = যে নিজের ধর্ম বা বিশ্বাস ত্যাগ করে।
এই তিনটি শব্দই নেতিবাচক বা ‘ছেড়ে যাওয়া’ বোঝায়।
কিন্তু Allegiance মানে হলো আনুগত্য বা বিশ্বস্ততা। এটি একটি ইতিবাচক গুণ। তাই দলের মধ্যে এটিই বেমানান বা Odd word।


৭৭. James Joyce was a/an-

(ক) Irish novelist
(খ) British novelist
(গ) American novelist
(ঘ) French novelist

সঠিক উত্তর: (ক) Irish novelist

ব্যাখ্যা:
জেমস জয়েস ইংরেজি সাহিত্যের আধুনিক যুগের একজন কিংবদন্তি লেখক। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘Ulysses’ বা ‘A Portrait of the Artist as a Young Man’ তাকে অমর করে রেখেছে।
তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে। যদিও তিনি ইংরেজিতে লিখতেন, কিন্তু জাতিতে তিনি ছিলেন আইরিশ। তাই তাকে Irish novelist বলা হয়।


৭৮. Fill in the blanks with appropriate article. “Though he is … lazy, he does not like … lazy man”

(ক) no article, a
(খ) a, a
(গ) a, the
(ঘ) a, no article

সঠিক উত্তর: (ক) no article, a
(অথবা বাক্যের গঠন অনুযায়ী প্রথমটিতে no article, দ্বিতীয়টিতে ‘a’)

ব্যাখ্যা:
১ম অংশ: “Though he is lazy…” – এখানে ‘lazy’ একটি Adjective এবং এর পরে কোনো Noun নেই। তাই এখানে কোনো আর্টিকেল বসবে না (Cross)।
২য় অংশ: “…he does not like a lazy man.” – এখানে ‘lazy’ এর পরে ‘man’ (Noun) আছে। একজন অলস ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে নয়, বরং যেকোনো অলস ব্যক্তিকে বোঝাচ্ছে, তাই ‘a’ বসবে।
সঠিক উত্তর: (ক) no article, a


৭৯. Select the pair that best expresses a relationship similar to the pair, OUTSKIRTS:TOWN

(ক) Rung:Ladder
(খ) Margin:Page
(গ) Hanger:Airplane
(ঘ) Trunk:Tree

সঠিক উত্তর: (খ) Margin:Page

ব্যাখ্যা:
Outskirts হলো শহরের (Town) বাইরের বা প্রান্তীয় এলাকা। অর্থাৎ মূল শহরের সীমানা বা বর্ডার।
একইভাবে, Margin হলো একটি পৃষ্ঠার (Page) বাইরের ফাঁকা অংশ বা সীমানা।
শহরের চারপাশে যেমন আউটস্কার্টস থাকে, পাতার চারপাশে তেমনি মার্জিন থাকে। এই সম্পর্কটিই এখানে সবচেয়ে সঠিক।


৮০. The antonym of the word ‘somber’ is-

(ক) sleepy
(খ) dismal
(গ) bright
(ঘ) drab

সঠিক উত্তর: (গ) bright

ব্যাখ্যা:
‘Somber’ মানে হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন, বিষাদগ্রস্ত বা খুব গম্ভীর (কালো মেঘের মতো)।
এর বিপরীত বা Antonym চাওয়া হয়েছে।

  • Dismal বা Drab মানেও বিষাদ বা নিরস (সমার্থক)।
  • Sleepy মানে ঘুমন্ত।
  • Bright মানে উজ্জ্বল বা প্রফুল্ল।
    অন্ধকারের বিপরীত আলো, তাই Somber-এর সেরা বিপরীত শব্দ হলো Bright।

দুদক সহকারী পরিচালক পদের বাংলা প্রশ্ন সমাধান ২০২৬

আপনাদের জন্য এখানে দুদক সহকারী পরিচালক পদের বাংলা প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করা হলো।

৮১. নারী সংবাদ বাহক-কে কি বলে?

(ক) দূত
(খ) নারীদূত
(গ) দ্যুতি
(ঘ) দূতী

সঠিক উত্তর: (ঘ) দূতী

ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় লিঙ্গান্তরের নিয়মে পুরুষ সংবাদ বাহককে বলা হয় ‘দূত’। আর নারী সংবাদ বাহককে বলা হয় ‘দূতী’
প্রাচীন কাব্য বা সাহিত্যে (যেমন বৈষ্ণব পদাবলীতে) রাধা ও কৃষ্ণের মধ্যে যিনি সংবাদ আদান-প্রদান করতেন, তাকে দূতী বা সখী বলা হতো। ‘দ্যুতি’ মানে আলো, আর ‘নারীদূত’ শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে প্রচলিত নয়। তাই সঠিক শব্দ ‘দূতী’।


৮২. ‘সচেষ্ট’ এর বিপরীত শব্দ কোনটি?

(ক) নীচেষ্ট
(খ) নিশ্চেষ্ট
(গ) নিশেষ্ট
(ঘ) নীশচেষ্ট

সঠিক উত্তর: (খ) নিশ্চেষ্ট

ব্যাখ্যা:
‘সচেষ্ট’ মানে হলো যে চেষ্টা করছে বা যার মধ্যে চেষ্টার ভাব আছে (স+চেষ্ট)।
এর বিপরীত হলো যার কোনো চেষ্টা নেই বা যে একদম চুপচাপ। এর সঠিক বানান ও শব্দ হলো ‘নিশ্চেষ্ট’ (নিঃ+চেষ্ট)।
বানানে সাবধান থাকতে হবে—‘নি’ এর পর বিসর্গ বা ‘শ’ এর ব্যবহার এবং ‘চ’-এর যুক্তরূপ। সঠিক রূপটি হলো নিশ্চেষ্ট।


৮৩. ‘বাদশাহ’ এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি?

(ক) সম্রাট
(খ) ভূপতি
(গ) বিভাবরী
(ঘ) নৃপ

সঠিক উত্তর: (গ) বিভাবরী

ব্যাখ্যা:
বাদশাহ মানে রাজা। সম্রাট, ভূপতি (পৃথিবীর পতি), নৃপ (মানুষের পালক)—এই তিনটিই রাজার সমার্থক শব্দ।
কিন্তু ‘বিভাবরী’ শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। বিভাবরী মানে হলো রাত বা রজনী।
রবীন্দ্রনাথের গানে আছে—‘জাগে নাথ, জোছনা রাতি, জাগে বিভাবরী…’। তাই এটি রাজার প্রতিশব্দ হতে পারে না।


৮৪. ‘দৃঢ় সংকল্প’ অর্থ কোন বাগধারার মধ্যে রয়েছে?

(ক) খয়ের খাঁ
(খ) চিনে জোঁক
(গ) লেফাফা দুরস্ত
(ঘ) একটিও নয়

সঠিক উত্তর: (ঘ) একটিও নয়

ব্যাখ্যা:
চলো বাগধারাগুলোর অর্থ দেখি:
১. খয়ের খাঁ = চাটুকার বা তোষামোদকারী।
২. চিনে জোঁক = নাছোড়বান্দা (যে সহজে ছাড়ে না)।
৩. লেফাফা দুরস্ত = বাইরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট (লোক দেখানো)।
‘দৃঢ় সংকল্প’ বা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বোঝাতে সাধারণত ‘এক কথার মানুষ’ বা ‘অটল প্রতিজ্ঞা’ ব্যবহৃত হয়। প্রদত্ত অপশনগুলোর কোনোটিই সরাসরি দৃঢ় সংকল্প বোঝায় না। তাই সঠিক উত্তর ‘একটিও নয়’।


৮৫. ‘মৃগয়া’ শব্দের দ্বারা হরিণ বোঝালে অর্থের কি ধরনের পরিবর্তন হয়?

(ক) অর্থ বদল
(খ) অর্থ প্রসার
(গ) অর্থ সংকোচ
(ঘ) অর্থের ভাবার্থ

সঠিক উত্তর: (গ) অর্থ সংকোচ

ব্যাখ্যা:
মূলত ‘মৃগ’ মানে ছিল যেকোনো পশু, আর ‘মৃগয়া’ মানে ছিল পশু শিকার।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ‘মৃগ’ শব্দটি শুধুই ‘হরিণ’ অর্থে ব্যবহার হতে থাকে।
যখন কোনো শব্দের ব্যাপক অর্থ (সব পশু) কমে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট অর্থে (শুধু হরিণ) সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তখন তাকে বলা হয় অর্থের সংকোচ। অর্থাৎ অর্থটা ছোট বা সংকীর্ণ হয়ে গেছে।


৮৬. লেখার সময়ে কোনো কথা অবিকল রাখতে চাইলে কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহার করা হয়?

(ক) ত্রিবিন্দু
(খ) বিন্দু
(গ) কোলন
(ঘ) একটিও নয়
(সঠিক উত্তর উদ্ধৃতি চিহ্ন বা ইনভার্টেড কমা, যা অপশনে নেই। তবে অপশন ‘গ’ কোলন উদাহরণ দেওয়ার আগে বসে। কিন্তু অবিকল রাখতে উদ্ধৃতি চিহ্ন লাগে। তাই উত্তর ‘একটিও নয়’ হওয়াই যুক্তিযুক্ত।)

ব্যাখ্যা:
কারো মুখের কথা বা কোনো উক্তি হুবহু বা অবিকল লিখতে হলে আমরা উদ্ধৃতি চিহ্ন (” “) ব্যবহার করি।
যেমন: তিনি বললেন, “আমি যাব।”
অপশনে ত্রিবিন্দু (…), বিন্দু (.), বা কোলন (:) আছে, কিন্তু উদ্ধৃতি চিহ্ন নেই। তাই সঠিক উত্তর হবে (ঘ) একটিও নয়


৮৭. নিচের কোনটি কর্মবাচ্য?

(ক) আমরা কঠোর পরিশ্রম করি
(খ) চিঠিটা পড়া হয়েছে
(গ) ছেলেটি ছবি আঁকে
(ঘ) কোথা থেকে আসা হলো

সঠিক উত্তর: (খ) চিঠিটা পড়া হয়েছে

ব্যাখ্যা:
কর্মবাচ্য বা Passive Voice-এ কর্তা বা যে কাজ করে সে প্রধান থাকে না, বরং কর্ম বা কাজের ফলটাই প্রধান হয়।
(খ) বাক্যে ‘চিঠিটা পড়া হয়েছে’—কে পড়েছে তা বলা নেই, চিঠিটাই এখানে মুখ্য। এটিই কর্মবাচ্যের লক্ষণ।
(ক) ও (গ) কর্তাবাথ্য (আমরা, ছেলেটি কাজ করছে)। (ঘ) ভাববাচ্য (ক্রিয়ার ভাব প্রধান)।


৮৮. ‘এ’, ‘য়’ বিভক্তিগুলো শব্দের সাথে যুক্ত হয় কোন কারকে?

(ক) করণ কারক
(খ) অপাদান কারক
(গ) অধিকরণ কারক
(ঘ) সম্বন্ধ কারক

সঠিক উত্তর: (গ) অধিকরণ কারক

ব্যাখ্যা:
স্থান, কাল বা পাত্র বোঝালে অধিকরণ কারক হয়। আর অধিকরণ কারকে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) যুক্ত হয়।
যেমন: ‘বনে’ বাঘ থাকে (বন+এ)। ‘ঢাকায়’ আমার বাড়ি (ঢাকা+য়)।
এই ‘এ’ বা ‘য়’ বিভক্তি স্থান বা সময় নির্দেশ করতে অধিকরণেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।


৮৯. একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া কী দিয়ে যুক্ত হলে যৌগিক বাক্য হয়?

(ক) যোজক
(খ) বিশেষ্য
(গ) বিশেষণ
(ঘ) অনুসর্গ

সঠিক উত্তর: (ক) যোজক

ব্যাখ্যা:
যৌগিক বাক্য বা Compound Sentence-এ দুটি স্বাধীন বাক্য থাকে, যারা একে অপরের ওপর নির্ভর করে না। এই দুটি বাক্যকে জোড়া লাগানোর জন্য এবং, ও, কিন্তু, অথবা—এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়। ব্যাকরণের ভাষায় এদের বলা হয় যোজক (Conjunction)।
যেমন: “সে দরিদ্র কিন্তু সৎ।” এখানে ‘কিন্তু’ হলো যোজক।


৯০. ‘সে যেয়ে আর ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে।’- কিসের উদাহরণ?

(ক) বিশেষ্য বর্গ
(খ) বিশেষণ বর্গ
(গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
(ঘ) ক্রিয়া বর্গ

সঠিক উত্তর: (ঘ) ক্রিয়া বর্গ

ব্যাখ্যা:
বাক্যটিতে ‘খেয়ে আর ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে’—এই অংশটুকু পুরোটাই কাজের কথা বলছে। যখন একাধিক ক্রিয়াপদ (খেয়ে, ঘুমিয়ে, কাটাচ্ছে) মিলে একটি অখণ্ড বা সামগ্রিক কাজের অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে ক্রিয়া বর্গ বা Verb Phrase বলা হয়। এটি বাক্যের বিধেয় অংশের মূল চালিকাশক্তি।


৯১. ‘তার মঙ্গল হোক’- কিসের উদাহরণ?

(ক) বিবৃতিবাচক বাক্য
(খ) প্রশ্নবাচক বাক্য
(গ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
(ঘ) আবেগবাচক বাক্য
(নোট: প্রার্থনা বা ইচ্ছা বোঝালে এটি অনুজ্ঞার একটি বিশেষ রূপ বা ইচ্ছাসূচক বাক্য হয়। অপশনে ইচ্ছাসূচক না থাকলে অনুজ্ঞাবাচক বা Imperative-এর কাতারে ফেলা হয়, যদিও আধুনিক ব্যাকরণে একে আলাদা ইচ্ছাসূচক বলা হয়। এখানে অনুজ্ঞাই সবচেয়ে কাছাকাছি)

সঠিক উত্তর: (গ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য (ইচ্ছার্থক অর্থে)

ব্যাখ্যা:
যে বাক্য দিয়ে আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ বা প্রার্থনা/ইচ্ছা প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে।
“তার মঙ্গল হোক”—এটি একটি প্রার্থনা বা শুভকামনা। যেহেতু আলাদা করে ‘ইচ্ছাসূচক’ অপশন নেই, তাই ব্যাকরণের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী এটি অনুজ্ঞা (Imperative/Optative) গোত্রেই পড়ে।


৯২. নিচের কোন বাক্যটি পুরাঘটিত বর্তমানের কিন্তু ক্রিয়ার ফলে অতীত এর উদাহরণ?

(ক) যদি বৃষ্টি হতো…
(খ) শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
(গ) যদি আরো শীত পড়তো…
(ঘ) আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।

সঠিক উত্তর: (খ) শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
(নোট: প্রশ্নটি একটু জটিল। পুরাঘটিত বর্তমান মানে কাজ শেষ কিন্তু ফল আছে। ‘এইমাত্র গুলি করল’—এটি সাধারণ অতীত বা পুরাঘটিত বর্তমানের মিশেল। ব্যাকরণ বই অনুযায়ী ‘এখনই/এইমাত্র’ থাকলে পুরাঘটিত বর্তমান ধরা হয়)

ব্যাখ্যা:
‘পুরাঘটিত বর্তমান’ (Present Perfect) মানে কাজটা সবেমাত্র শেষ হয়েছে।
বাক্য (খ)-তে “শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল”—এখানে ‘করল’ ক্রিয়াটি অতীতকালের মতো শোনালেও ‘এইমাত্র’ থাকার কারণে এটি পুরাঘটিত বর্তমানের অর্থ প্রকাশ করে। অর্থাৎ কাজ শেষ, কিন্তু তার রেশ বা ফলাফল (পাখিটি বিদ্ধ) এখনো বর্তমান।


৯৩. শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে- এ বিভক্তির রূপভেদ হয়?

(ক) -তে
(খ) -য়ে
(গ) -এ
(ঘ) -কে

সঠিক উত্তর: (ক) -তে
(অথবা ‘য়’ বা ‘তে’ দুটোই হতে পারে শব্দের ওপর ভিত্তি করে। যেমন: হাতি+তে=হাতিতে, মা+য়ে=মায়ে। তবে ই/উ থাকলে সাধারণত ‘তে’ যুক্ত হয়। যেমন: ঝি+তে, ঘিউ+তে)

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, শব্দের শেষে যদি স্বরধ্বনি (যেমন ই, উ) থাকে, তবে সপ্তমী বিভক্তির ‘এ’ সরাসরি যুক্ত না হয়ে ‘তে’ বা ‘য়’ রূপ ধারণ করে।
উদাহরণ: পানি + তে = পানিতে (এখানে ‘পানিয়ে’ হয় না)। মধু + তে = মধুতে। তাই ‘তে’ বিভক্তিটিই এখানে সঠিক রূপভেদ।


৯৪. ‘মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়’- কিসের উদাহরণ?

(ক) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
(খ) কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ
(গ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
(ঘ) ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ

সঠিক উত্তর: (ক) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ

ব্যাখ্যা:
মিছিলটি কোথায় এগিয়ে যায়? ‘সামনে’
‘সামনে’ শব্দটি একটি দিক বা জায়গার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যখন কোনো শব্দ ক্রিয়ার স্থান বা জায়গা নির্দেশ করে, তখন তাকে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ (Adverb of Place) বলা হয়। এটি কাল (সময়) বা ধরণ (কিভাবে) নয়, বরং ‘কোথায়’ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে।


৯৫. ‘জনতা, পরিবার, ঝাঁক’- শব্দগুলো কোন বিশেষ্য?

(ক) জাতি বিশেষ্য
(খ) নাম বিশেষ্য
(গ) গুণ বিশেষ্য
(ঘ) একটিও নয় (বা সমষ্টিবাচক বিশেষ্য)

সঠিক উত্তর: (ঘ) একটিও নয়
(সঠিক উত্তর হবে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বা Collective Noun, যা অপশনে নেই)

ব্যাখ্যা:
জনতা (অনেক মানুষ), পরিবার (সদস্যদের দল), ঝাঁক (পাখির দল)—এগুলো দিয়ে একজন বা একটি জিনিসকে বোঝায় না, বরং একটি দল বা সমষ্টিকে বোঝায়।
ব্যাকরণে একে ‘সমষ্টিবাচক বিশেষ্য’ বলে। অপশনে জাতি, নাম বা গুণ আছে, কিন্তু সমষ্টি নেই। তাই সঠিক উত্তর ‘একটিও নয়’


৯৬. নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?

(ক) নীরোগ
(খ) বাকদান
(গ) সন্তাপ
(ঘ) একটিও নয়

সঠিক উত্তর: (ক) নীরোগ

ব্যাখ্যা:
সন্ধি বিচ্ছেদ করি:
নীরোগ = নিঃ + রোগ
এখানে ‘নিঃ’ এর বিসর্গ (ঃ) লোপ পেয়ে আগের ই-কার দীর্ঘ ঈ-কার (নী) হয়েছে। এটি বিসর্গ সন্ধির একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।
বাকদান (বাক্+দান = ব্যঞ্জনসন্ধি), সন্তাপ (সম্+তাপ = ব্যঞ্জনসন্ধি)।


৯৭. নিচের কোনগুলো অঘোষ ব্যঞ্জনের উদাহরণ-

(ক) ঙ, হ
(খ) ড, ম
(গ) ক, খ
(ঘ) একটিও নয়

সঠিক উত্তর: (গ) ক, খ

ব্যাখ্যা:
বর্গীয় ধ্বনির প্রথম ও দ্বিতীয় ধ্বনিকে অঘোষ ধ্বনি বলা হয়। কারণ এগুলো উচ্চারণ করার সময় গলার স্বরতন্ত্রী কাঁপে না (গম্ভীর আওয়াজ হয় না)।
‘ক’ বর্গের প্রথম দুটি বর্ণ হলো ক এবং খ। তাই এগুলো অঘোষ। শেষের গুলো (গ, ঘ, ঙ) হলো ঘোষ ধ্বনি।


৯৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন?

(ক) তত্ত্ববোধিনী
(খ) সাধনা
(গ) ক ও খ
(ঘ) কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: (খ) সাধনা

ব্যাখ্যা:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভাইপো বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহযোগিতায় ‘সাধনা’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন। এটি ১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয় এবং রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল এই পত্রিকা।
‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন অক্ষয় কুমার দত্ত (রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সম্পাদক ছিলেন না)।


৯৯. কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?

(ক) ঝরা পালক
(খ) রূপসী বাংলা
(গ) সাতটি তারার তিমির
(ঘ) জাগ্রত ধরণী

সঠিক উত্তর: (ঘ) জাগ্রত ধরণী

ব্যাখ্যা:
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো—ঝরা পালক (প্রথম কাব্য), ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা ইত্যাদি।
কিন্তু ‘জাগ্রত ধরণী’ নামে তাঁর কোনো কাব্যগ্রন্থ নেই। এটি হয়তো অন্য কোনো কবির লেখা বা একটি কাল্পনিক নাম। তাই এটিই সঠিক উত্তর।


১০০. কাজী নজরুল ইসলাম এর ‘ধূমকেতু’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?

(ক) বিদ্রোহী
(খ) অগ্নিবীণা
(গ) প্রলয়োল্লাস
(ঘ) আনন্দময়ীর আগমনে

সঠিক উত্তর: (খ) অগ্নিবীণা

ব্যাখ্যা:
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম এবং সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২)।
এই কাব্যগ্রন্থেই তাঁর কালজয়ী কবিতাগুলো—যেমন ‘বিদ্রোহী’, ‘প্রলয়োল্লাস’, ‘রক্তাম্বর-ধারিণী মা’, ‘ধূমকেতু’—স্থান পেয়েছে। ‘ধূমকেতু’ কবিতায় তিনি নিজেকে প্রলয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। মনে রাখবে, অগ্নিবীণা হলো বাংলা সাহিত্যের এক আগ্নেয়গিরি।

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায় যে, এখানে আপনাদের জন্য দুদক সহকারী পরিচালক পদের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আপনাদের অনেক কাজে লাগবে।

Author

  • Daily ICT News Reporter

    dailyictpost.com টিম চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রশ্ন সমাধান, সরকারি পদের কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি–ভিত্তিক তথ্য সহজ ও বাস্তব ভাষায় উপস্থাপন করে। পাশাপাশি আমরা আইসিটি, মোবাইল, কম্পিউটার, অ্যাপস, অনলাইন ইনকাম, ডিজিটাল টুলস ও সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো এমনভাবে ব্যাখ্যা করি, যেন পাঠক বুঝতে বুঝতেই শিখে ফেলেন।

    আমরা বিশ্বাস করি—প্রযুক্তি শেখা কঠিন নয়, যদি সেটি সঠিকভাবে বোঝানো যায়। তাই নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার, মোবাইল সেটিংস কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো জটিল বিষয়গুলো ধাপে ধাপে এমন ভাষায় তুলে ধরি, যেন মনে হয় আপনার পাশেই কেউ বসে সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

    আমাদের লক্ষ্য একটাই—পাঠক যেন নির্ভুল তথ্য পায়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেখে এবং বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে।

Visited 125 times, 1 visit(s) today