নির্বাচনের আর মাত্র ৫০ দিন বাকি। গ্রামে গ্রামে অথবা শহরে উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। ঠিক এই সময়ে আপনি আলমারি থেকে আপনার এনআইডি কার্ডটি বের করলেন। ধুলো ঝেড়ে ভালো করে তাকিয়ে দেখলেন যে, আপনার নামের বানানে বড় একটা ভুল, কিংবা জন্ম তারিখটা একদম উল্টা। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল তখন। এখন আপনার মনে নানান চিন্তা বাধা বেধেছে “এই ভুল কার্ড নিয়ে কি আমি ভোট দিতে পারব? কেন্দ্রে গেলে যদি ফিরিয়ে দেয়?”
এই দুশ্চিন্তা এখন হাজার হাজার ভোটারের। সবাই এখন ভোটের আগে ভোটার আইডি কার্ডের ভুল সংশোধন করার জন্য নির্বাচন অফিসের দিকে দৌড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নির্বাচনের এই শেষ মুহূর্তে এসে কি আদৌ ভুলগুলো সংশোধন করা সম্ভব? নির্বাচন কমিশন কি ভুল সংশোধন করার জন্য এখন আবেদন গ্রহণ করছে?
আমরা সকলেই জানি যে, নির্বাচনের ঠিক আগে কমিশনের ব্যস্ততা তুঙ্গে থাকে। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমার এই পোস্টের মাধ্যমে আজ জানতে পারবেন কিভাবে ভোটের আগে ভোটার আইডি কার্ডের ভুল সংশোধন করবেন।
ভোটের আগে ভোটার আইডি কার্ডের ভুল সংশোধন বিষয়টি একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝাই। ধরুন, আপনার বাড়িতে সপ্তাহখানেক পর বিয়ের অনুষ্ঠান। এখন কি আপনি বাড়ির ছাদ ভাঙা বা বড় কোনো সংস্কার কাজে হাত দেবেন? অবশ্যই না। এখন আপনার মনযোগ শুধু অনুষ্ঠান ঠিকঠাক শেষ করার দিকে।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থাও এখন ঠিক এরকম। তাদের মূল ফোকাস এখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। এই মুহূর্তে লাখ লাখ মানুষের এনআইডি সংশোধনের কাজ তাদের জন্য বড় চাপ।
অর্থাৎ, যখনই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল (Schedule) ঘোষণা হয়ে যায়, তখন থেকে ভোটার তালিকা কার্যত “লক” বা সিলগালা হয়ে যায়। এরপর বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ভোটার তালিকা লক
ভোটের আগে ভোটার আইডি কার্ডের কি কি ভুল সংশোধন সম্ভব?
ভোটের আগে ভোটার আইডি কার্ডের ভুল সংশোধন করার জন্য কিন্তু সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। ভুলের ধরনের ওপর নির্ভর করছে আপনার আবেদন এখন টিকবে কিনা বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করাতে পারবেন কিনা।
১. ছোটখাটো ভুল:
ধরুন, আপনার নাম ‘Karim’ কিন্তু কার্ডে এসেছে ‘Rarim’, অথবা ঠিকানায় বাড়ির হোল্ডিং নম্বরে সামান্য ভুল। অথবা বাবার নাম ভুল এসেছে। মায়ের নামও ভুল আসতে পারে। এই ধরনের ছোটখাটো করণিক ভুলগুলো এখনো সংশোধন সম্ভব।
এই সামান্য ভুল সংশোধন করতে আপনাকে দ্রুত অনলাইনে আবেদন করতে হবে। যদি ভাগ্য ভালো থাকে এবং লোকাল নির্বাচন অফিসে কাজের চাপ কম থাকে, তাহলে ভোটের আগেই ভোটার আইডি কার্ডের ভুল সংশোধন করতঃ আপনি সংশোধিত কার্ড বা অনলাইন কপি পেয়ে যেতে পারেন।
ভোটের আগে ভোটার আইডি কার্ডের কি কি ভুল সংশোধন সম্ভব
২. বড় ধরনের পরিবর্তন:
যদি আপনার পুরো নাম পরিবর্তন করতে চান, কিংবা জন্ম সাল ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ অথবা Karim থেকে Rarim করতে চান তাহলে দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে, ভোটের আগে এই বড় ধরণের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এই ধরনের পরিবর্তনের জন্য অনেক তদন্ত ও ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়, যার সময় এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই।
ভোটের আগে ভোটার আইডি কার্ডের ভুল জরুরি সংশোধনের নিয়ম
আপনি যদি মনে করেন আপনার ভুলটি সংশোধন করা এখনই জরুরি, তবে শুধু অনলাইনে আবেদন করে বসে থাকবেন না। ভোটের আগে ভোটার আইডি কার্ডের ভুল জরুরি সংশোধনের নিয়ম নিচ থেকে দেখে নিন।
নিয়ম ২: আবেদনের রিসিভ কপি এবং ভুলের স্বপক্ষে প্রমাণ (যেমন: এসএসসি সনদ, জন্ম নিবন্ধন বা পাসপোর্ট/ নাগরিকত্ব সনদ) নিয়ে সরাসরি আপনার উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান।
নিয়ম ৩: সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করুন যে নির্বাচনের কারণে আপনার নামটি সংশোধন করা জরুরি। অনেক সময় অফিসারেরা মানবিক বিবেচনায় ছোটখাটো ভুলগুলো দ্রুত অনুমোদন করেন।
ভোট কেন্দ্রে পোলিং অফিসারের প্রধান কাজ হলো আপনাকে শনাক্ত করা যে আপনিই সেই আসল নাগরিক কিনা। আপনার কার্ডে যদি নামের বানানে সামান্য ভুলও থাকে, কিন্তু ভোটার তালিকায় থাকা ছবির সাথে আপনার চেহারা মিলে যায়, তাহলে অফিসার আপনাকে ভোট দিতে বাধা দেবেন না।
তাই কার্ডে ছোটখাটো ভুল নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। যদি সংশোধন করার সময় না পান, তবুও আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যান। আপনার পরিচয় নিশ্চিত হলে, আপনি ভোট দিতে পারবেন।
Please don’t forget to leave a review of my article
dailyictpost.com টিম চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রশ্ন সমাধান, সরকারি পদের কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি–ভিত্তিক তথ্য সহজ ও বাস্তব ভাষায় উপস্থাপন করে। পাশাপাশি আমরা আইসিটি, মোবাইল, কম্পিউটার, অ্যাপস, অনলাইন ইনকাম, ডিজিটাল টুলস ও সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো এমনভাবে ব্যাখ্যা করি, যেন পাঠক বুঝতে বুঝতেই শিখে ফেলেন।
আমরা বিশ্বাস করি—প্রযুক্তি শেখা কঠিন নয়, যদি সেটি সঠিকভাবে বোঝানো যায়। তাই নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার, মোবাইল সেটিংস কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো জটিল বিষয়গুলো ধাপে ধাপে এমন ভাষায় তুলে ধরি, যেন মনে হয় আপনার পাশেই কেউ বসে সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছে।
আমাদের লক্ষ্য একটাই—পাঠক যেন নির্ভুল তথ্য পায়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেখে এবং বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে।