NTRCA Rules 2026 : বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা ২০২৬

শিক্ষকতার মহান পেশায় যারা ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি হলো বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা ২০২৬। এনটিআরসিএ (NTRCA) তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে এবারের বিধিমালায় এমন কিছু নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে, যা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একই সাথে চ্যালেঞ্জিং এবং সম্ভাবনাময়।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের নতুন গেজেট বা বিধিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা পদ্ধতি, মানবণ্টন এবং ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনি যদি নিজেকে একজন ভবিষ্যৎ শিক্ষক হিসেবে দেখতে চান, তবে এই নিয়মগুলো জানা আপনার প্রস্তুতির অর্ধেক কাজ এগিয়ে রাখবে।

এনটিআরসিএ নতুন বিধিমালা ২০২৬ (NTRCA Rules 2026) – এক নজরে

  • পরীক্ষা পদ্ধতি: ১০০% MCQ
  • পাশ নম্বর: লিখিত ও ভাইভা – উভয়েই ৪০%
  • ফলাফল প্রকাশ: পদভিত্তিক ১:২ অনুপাতে
  • ভাইভা নম্বর: ২০ (পাশ ৮)
  • বড় পরিবর্তন: সীমিত সনদ, দ্রুত নিয়োগ
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা ২০২৬
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা ২০২৬

 

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা ২০২৬ (NTRCA Rules 2026) 

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০২৬ (NTRCA Rules 2026) ।

  • পরীক্ষা পদ্ধতি
  • পরীক্ষা MCQ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে।
  • নির্বাচনি বা বাছাই পরীক্ষার বিষয়, ব্যাপ্তি ও নম্বর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হবে
  • নির্বাচনি বা বাছাই পরীক্ষায় পাশ নম্বর হবে মোট নম্বরের অন্যূন ৪০% নম্বর।
  • শূন্যপদের ১:২ অনুপাতে বিষয় ও পদভিত্তিক নির্বাচনি বা বাছাই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে
  • ফলাফল প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করবে, যাতে মোট ২০ নম্বর থাকিবে এবং পাশ নম্বর হবে মোট নম্বরের অন্যূন ৪০% নম্বর।

আরো পড়ুনঃ [UPDATED] ১৯ তম নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস ২০২৬ | 19th NTRCA Syllabus 2026

১. পরীক্ষা পদ্ধতি: সম্পূর্ণ এমসিকিউ (MCQ) নির্ভর বাছাই প্রক্রিয়া

আগের নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোতে আমরা সাধারণত প্রিলিমিনারি এবং লিখিত—এই দুই ধরনের ধাপ দেখে অভ্যস্ত ছিলাম। তবে ২০২৬ সালের বিধিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষা পদ্ধতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

  • পদ্ধতি: এবারের সম্পূর্ণ পরীক্ষাটি এমসিকিউ (MCQ) বা বহু নির্বাচনী প্রশ্ন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে।
  • বাছাই পরীক্ষা: এই এমসিকিউ পরীক্ষাকেই মূলত ‘নির্বাচনি বা বাছাই পরীক্ষা’ হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, প্রার্থীদের জ্ঞানের গভীরতা এবং দক্ষতা যাচাই করা হবে এই একটি ধাপের মাধ্যমেই। তাই প্রতিটি টিক চিহ্ন দেওয়ার আগে আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে।

২. সিলেবাস ও মানবণ্টন: 

অনেকেই প্রশ্ন করেন, কোন বিষয় থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন আসবে? এই জায়গাটায় বিধিমালা বেশ পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে।

  • বিষয় ও ব্যাপ্তি: নির্বাচনি বা বাছাই পরীক্ষার সিলেবাস, প্রশ্নের বিষয়বস্তু এবং পূর্ণমান এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।
  • সতর্কতা: যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো ফিক্সড বা ধরাবাঁধা মানবণ্টন গেজেটে উল্লেখ নেই, তাই প্রার্থীদের নিয়মিত এনটিআরসিএ-এর নোটিশ বোর্ডের দিকে নজর রাখতে হবে। তবে সাধারণ জ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি এবং নিজ নিজ বিষয়ের ওপর দখল রাখাটা যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্যই জরুরি।

৩. লিখিত বা বাছাই পরীক্ষায় পাশের মানদণ্ড

পরীক্ষা তো দিলেন, কিন্তু পাশ করবেন কত পেলে? এখানে খুব স্পষ্ট একটি সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।

  • ন্যূনতম পাশ নম্বর: নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে একজন প্রার্থীকে মোট নম্বরের অন্তত ৪০% নম্বর পেতে হবে।
  • বাস্তবতা: মনে রাখবেন, ৪০% নম্বর কেবল ‘পাশ নম্বর’। যেহেতু এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক বাছাই পরীক্ষা, তাই চাকরি নিশ্চিত করতে হলে আপনাকে কেবল পাশ করলেই চলবে না, বরং সর্বোচ্চ নম্বর তুলে মেধা তালিকার শীর্ষে থাকতে হবে।

৪. ফলাফলের অনুপাত ১:২ 

এই বিধিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত পরিবর্তনটি হলো ফলাফল প্রকাশের নিয়ম। এটি প্রার্থীদের জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে।

  • পদভিত্তিক ফলাফল: ফলাফল প্রকাশ করা হবে বিষয় ও পদভিত্তিক শূন্যপদের ভিত্তিতে।
  • ১:২ অনুপাত: সহজ ভাষায় বলতে গেলে, একটি পদের বিপরীতে মাত্র দুইজন প্রার্থীকে টিকিয়ে রাখা হবে। আগে যেখানে হাজার হাজার প্রার্থীকে সনদ দিয়ে রাখা হতো এবং তারা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতেন, এই নতুন নিয়মে সেই সুযোগ থাকছে না।
  • তাৎপর্য: এর মানে হলো, আপনি যদি বাছাই পরীক্ষায় উতরে যেতে পারেন এবং ১:২ অনুপাতে নিজের জায়গা করে নিতে পারেন, তবে আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে যায়। এখানে কোয়ান্টিটি বা সংখ্যার চেয়ে কোয়ালিটি বা যোগ্যতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস ২০২৬ (ntrca syllabus 2026) স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের

৫. মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা (Viva Voce)

বাছাই পরীক্ষার কঠিন ধাপ পার হওয়ার পর, চূড়ান্ত নিয়োগের আগে আপনাকে মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ভাইভার নিয়মগুলো নিম্নরূপ:

  • মোট নম্বর: মৌখিক পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকবে ২০ নম্বর
  • পাশ নম্বর: ভাইভাতেও আপনাকে আলাদাভাবে পাশ করতে হবে। এখানে পাশ নম্বর মোট নম্বরের ৪০%। অর্থাৎ, ২০ এর মধ্যে আপনাকে অন্তত ৮ নম্বর পেতেই হবে।
  • উদ্দেশ্য: এই ধাপে প্রার্থীর বাচনভঙ্গি, জড়তা, এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মানসিকতা যাচাই করা হবে। যেহেতু লিখিত পরীক্ষায় ১:২ অনুপাতে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে, তাই ভাইভাতে নিজের সেরাটা দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

চূড়ান্ত পরামর্শ ও প্রস্তুতি

নতুন এই বিধিমালার আলোকে আপনার প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত? অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:

  1. গভীর প্রস্তুতি (In-depth Preparation): যেহেতু একটি পদের জন্য মাত্র দুজনকে ডাকা হবে, তাই ওপর-ওপর পড়ে পাশ করার দিন শেষ। প্রতিটি টপিক গভীরভাবে পড়তে হবে যেন এমসিকিউ-তে কোনো কনফিউশন না থাকে।
  2. নির্ভুল উত্তর: এমসিকিউ পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং থাকুক বা না থাকুক, অনুমানের ওপর ভিত্তি করে উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন।
  3. আপডেট থাকা: এনটিআরসিএ কখন সিলেবাস বা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করছে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।

শেষ কথা

‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০২৬’ (NTRCA Rules 2026) মূলত যোগ্য এবং মেধাবী শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া। ১:২ অনুপাতের বিষয়টি প্রথমে কঠিন মনে হলেও, এটি আসলে প্রকৃত মেধাবীদের জন্য আশীর্বাদ। কারণ, সনদ নিয়ে বছরের পর বছর ঘোরার চেয়ে সরাসরি তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করা অনেক বেশি সম্মানজনক।

এখনই সময় নিজেকে প্রস্তুত করার। সঠিক পরিকল্পনা আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে আপনিও হতে পারেন আগামী দিনের মানুষ গড়ার কারিগর। শুভকামনা সবার জন্য।

“এই আর্টিকেলটি শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত গেজেট বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত”

Author

  • Daily ICT News Reporter

    dailyictpost.com টিম চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রশ্ন সমাধান, সরকারি পদের কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি–ভিত্তিক তথ্য সহজ ও বাস্তব ভাষায় উপস্থাপন করে। পাশাপাশি আমরা আইসিটি, মোবাইল, কম্পিউটার, অ্যাপস, অনলাইন ইনকাম, ডিজিটাল টুলস ও সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো এমনভাবে ব্যাখ্যা করি, যেন পাঠক বুঝতে বুঝতেই শিখে ফেলেন।

    আমরা বিশ্বাস করি—প্রযুক্তি শেখা কঠিন নয়, যদি সেটি সঠিকভাবে বোঝানো যায়। তাই নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার, মোবাইল সেটিংস কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো জটিল বিষয়গুলো ধাপে ধাপে এমন ভাষায় তুলে ধরি, যেন মনে হয় আপনার পাশেই কেউ বসে সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

    আমাদের লক্ষ্য একটাই—পাঠক যেন নির্ভুল তথ্য পায়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেখে এবং বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে।

Visited 50 times, 3 visit(s) today