পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার ঠিক পরের মুহূর্তটা, তাই না? বুকের ভেতরটা তখনো কেমন যেন ধপধপ করছে। রাস্তায় নামতেই হাজারো পরীক্ষার্থীর ভিড়, সবার হাতে প্রশ্নপত্র, আর মুখে একটাই আলোচনা “দোস্ত, অংকের ওই উত্তরটা কী দিয়েছিস?” অথবা “বাংলার ওই কারকটা কি অধিকরণ হবে নাকি অপাদান?”
এই মুহূর্তের অনুভূতিটা আমি খুব ভালো করে বুঝি। দীর্ঘদিনের বিনিদ্র রজনী, পড়ার টেবিলে অজস্র ঘণ্টা কাটানো, আর পরিবারের হাজারো স্বপ্ন কাঁধে নিয়ে আজ আপনি পরীক্ষার হলে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষ, খাতা জমা দিয়েছেন, কিন্তু মাথার ভেতর যুদ্ধটা এখনো থামেনি। আসল যুদ্ধ তো এখন শুরু আর তা হলো “উত্তর মেলানোর যুদ্ধ”।
প্রাইমারী সহকারী শিক্ষক ভাইভা সাজেশন ২০২৬ | Primary Assistant Teacher Viva Guide
আপনি এখন বাসে, রিক্সায় কিংবা বাসায় ফিরে হয়তো ক্লান্ত শরীরে শুয়ে শুয়ে মোবাইল স্ক্রিনে খুঁজছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান ২০২৬। আপনাকে আর খুঁজতে হবে না। আপনি এখন একদম সঠিক জায়গায় আছেন।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা শুধু ক, খ, গ, ঘ উত্তর বলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করব না। আমরা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সহ বিস্তারিত আলোচন করব। কেন একটি উত্তর সঠিক এবং বাকি তিনটি ভুল তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেব। যাতে আপনার মনে কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে।
এক গ্লাস ঠান্ডা পানি খেয়ে, শান্ত হয়ে বসুন। চলুন, আপনার স্বপ্নের স্কোরকার্ডটি মিলিয়ে দেখি।

১. আজকের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ এর তথ্য
যুদ্ধের ময়দানের পরিস্থিতি বুঝার জন্য যেমন মানচিত্র দরকার, তেমনি রেজাল্ট বোঝার জন্য পরীক্ষার খুঁটিনাটি তথ্য জানা জরুরি। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাটি বেশ কিছু কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পদের অনুপাত বেশ চ্যালেঞ্জিং।
নিচে আজকের পরীক্ষার একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরা হলো:
| তথ্যের নাম | বিবরণ |
|---|---|
| নিয়োগকারী সংস্থা | প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) |
| পদের নাম | সহকারী শিক্ষক (রাজস্ব খাত) |
| পরীক্ষার সাল | ২০২৫ |
| ধাপ (Phase) | নির্ধারিত ধাপ (১ম/২য়/৩য়) |
| মোট নম্বর | ৯০ নম্বর (MCQ) |
| নেগেটিভ মার্কিং | ০.২৫ (প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য) |
| সময় | ১.৩০ ঘন্টা |
| প্রশ্নপত্রের সেট কোড | পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা |
সতর্কতা: প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য আপনার প্রাপ্ত নম্বর থেকে ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাৎ ৪টি ভুল উত্তরের জন্য ১ নম্বর কাটা হবে। তাই উত্তর মেলানোর সময় ভুলগুলো আলাদা করে মার্ক করে রাখবেন।
![[পরিপূর্ণ ব্যাখ্যাসহ] দুদক সহকারী পরিচালক পদের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬](https://dailyictpost.com/wp-content/uploads/2026/01/পরিপূর্ণ-ব্যাখ্যাসহ-দুদক-সহকারী-পরিচালক-পদের-প্রশ্ন-সমাধান-২০২৬.webp)
[পরিপূর্ণ ব্যাখ্যাসহ] দুদক সহকারী পরিচালক পদের প্রশ্ন সমাধান ২০২৬
২. প্রশ্নপত্র কিরকম ছিল?
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ এর উত্তর মেলানোর আগে চলুন একটু প্রশ্নের ধরণ নিয়ে কথা বলি। একেক জনের কাছে প্রশ্ন একেক রকম মনে হতে পারে। কিন্তু একজন এক্সপার্ট হিসেবে Primary Exam Question 2026 বিশ্লেষণ করলে আমরা ৩টি ধরণ দেখতে পাই:
ক. গতানুগতিক প্রশ্ন (৪০%)
প্রায় ৪০ শতাংশ প্রশ্ন এসেছে বিগত বছরের প্রশ্ন ব্যাংক থেকে। যারা primary question 2026 এর Job Solutions ভালো করে পড়েছেন, তাদের জন্য এই অংশটি ছিল পান্তা ভাত। বাংলা সাহিত্য এবং সাধারণ জ্ঞানের অনেক প্রশ্নই রিপিট হয়েছে।

খ. বেসিক প্রশ্ন (৩০%)
বিশেষ করে গণিত এবং ইংরেজি অংশে এবার বেসিক বা ভিত্তি যাচাই করা হয়েছে। যারা শুধু মুখস্থ করেছেন, তারা এই অংশে হোঁচট খেয়েছেন। কিন্তু যাদের গ্রামার এবং গণিতের বেসিক ক্লিয়ার, তারা এখানে বাজিমাত করেছেন।
গ. কঠিন প্রশ্ন (৩০%)
বাকি ৩০ শতাংশ প্রশ্ন ছিল “Game Changer”। এগুলোই নির্ধারণ করবে কে চাকরি পাবে আর কে পাবে না। সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান এবং সাহিত্যের কিছু আনকমন প্রশ্ন এই ক্যাটাগরিতে পড়েছে।


৩. প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা অংশের সমাধান ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (২৫ নম্বর)

আমাদের মাতৃভাষা বাংলা, অথচ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ primary question 2026 এর পরীক্ষার হলে এই বাংলাই অনেক সময় আমাদের ঘোল খাইয়ে ছাড়ে। এবারের বাংলা প্রশ্নে ব্যাকরণ ও সাহিত্যের এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখা গেছে। চলুন সমাধানগুলো দেখে নিই।
(দ্রষ্টব্য: আমরা সেট কোড ” ” এর প্রশ্নগুলো ধারাবাহিকভাবে সমাধান করছি। আপনার সেটের সাথে প্রশ্নগুলো মিলিয়ে নিন)
প্রাইমারী সহকারী শিক্ষক ভাইভা সাজেশন ২০২৬ | Primary Assistant Teacher Viva Guide
১. ‘গুদাম’ ও ‘আলমারি’ শব্দ দুটি কোন ভাষা থেকে আগত?
(ক) পর্তুগিজ
(খ) আরবি
(গ) ফরাসি
(ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর: (ক) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হলো ‘পর্তুগিজ’। চলো, বিষয়টিকে একটু সহজ করে গল্পের মতো বুঝে নিই।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখবে, আমাদের এই বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সবার আগে এসেছিল পর্তুগিজরা। মনে করো, তোমার বাড়িতে কোনো অতিথি এল এবং যাওয়ার সময় তাদের ব্যবহৃত কিছু জিনিস বা স্মৃতি রেখে গেল। ঠিক তেমনি, পর্তুগিজরা যখন এদেশে ব্যবসা করতে আসে, তারা তাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের অনেক শব্দ আমাদের বাংলা ভাষায় স্থায়ীভাবে রেখে গেছে।
‘আলমারি’ এবং ‘গুদাম’- এই দুটো শব্দই মূলত সেই পর্তুগিজ ভাষা থেকে আসা। শুধু এই দুটোই নয়; আনারস, চাবি, বালতি বা পাউরুটি—এগুলোও কিন্তু তাদেরই দেওয়া ‘ভাষার উপহার’। সময়ের সাথে সাথে এই শব্দগুলো আমাদের মুখের ভাষায় এমনভাবে মিশে গেছে যে, এখন এগুলোকে আর আলাদা করে বিদেশি মনেই হয় না। তাই মনে রাখবে, ঘরের আলমারি কিংবা মালের গুদাম- দুটোর শিকড়ই কিন্তু সুদূর পর্তুগালে
২. ‘কুল কাঠের আগুন’ এর প্রকৃত অর্থ কী?
(ক) তীব্র জ্বালা
(খ) অনিষ্টকারী
(গ) উজ্জ্বল আলো
(ঘ) প্রতিবাদী
সঠিক উত্তর: (ক) তীব্র জ্বালা
ব্যাখ্যা:
এসো, এই বাগধারাটির পেছনের গল্পটি একটু বুঝে নেওয়া যাক। সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘তীব্র জ্বালা’।
গ্রামাঞ্চলে যারা বড় হয়েছে, তারা হয়তো জানে যে ‘কুল কাঠ’ বা বরই গাছের কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালালে তা সহজে নেভে না। এই কাঠের আগুন অনেকক্ষণ ধরে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে এবং এর আঁচ হয় খুব ভয়ানক। সাধারণ কাঠ পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাড়াতাড়ি, কিন্তু কুল কাঠের আগুন দীর্ঘসময় ধরে তার উত্তাপ ধরে রাখে।
ঠিক তেমনি, মানুষের মনের কোনো গভীর দুঃখ বা যন্ত্রণা যখন সহজে কমে না, বরং ভেতর থেকে তাকে অনবরত পোড়াতে থাকে, তখন তাকে এই ‘কুল কাঠের আগুন’-এর সাথে তুলনা করা হয়। এটা এমন এক অসহ্য যন্ত্রণা বা জ্বালা, যা বাইরে থেকে হয়তো দেখা যায় না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে মানুষকে দগ্ধ করে মারে। তাই আক্ষরিক আগুন নয়, বরং অন্তরের বা শরীরের দীর্ঘস্থায়ী ও অসহনীয় জ্বালা বোঝাতেই এই বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
৩. বিশেষ্যের সাথে বিশেষণের যে সমাস হয় তার নাম কী?
(ক) বহুব্রীহি সমাস
(খ) দ্বন্দ্ব সমাস
(গ) কর্মধারয় সমাস
(ঘ) তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর: (গ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা:
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘কর্মধারয় সমাস’। এসো, ব্যাকরণের এই নিয়মটি খুব সহজ একটি উদাহরণের মাধ্যমে বুঝে নিই।
মনে করো, তোমার একজন বন্ধু আছে যে খুব ভালো। তুমি তাকে ‘ভালো ছেলে’ বা ‘প্রিয় বন্ধু’ বলো। এখানে ‘ছেলে’ বা ‘বন্ধু’ হলো বিশেষ্য (নাম), আর ‘ভালো’ বা ‘প্রিয়’ হলো তার গুণ বা বিশেষণ। যখন এই বিশেষণ আর বিশেষ্য পাশাপাশি বসে বন্ধুত্ব পাতায় এবং মিলেমিশে এক হয়ে যায়, তখন ব্যাকরণের ভাষায় তাকে আমরা ‘কর্মধারয় সমাস’ বলি।
সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো— ‘নীল যে আকাশ = নীলাকাশ’। এখানে আকাশ (বিশেষ্য) কেমন? নীল (বিশেষণ)। খেয়াল করে দেখবে, এই সমাসে শেষের শব্দটির গুরুত্বই বেশি থাকে। অর্থাৎ আমরা মূলত ‘আকাশ’ নিয়েই কথা বলছি, ‘নীল’ শব্দটি শুধু আকাশটিকে আরও স্পষ্টভাবে চিনতে সাহায্য করছে। ঠিক যেমন দুধে চিনি মেশালে তা মিষ্টি দুধ হয়, কিন্তু আসল উপাদানটি সেই দুধই থাকে—এখানেও বিশেষ্য বা নামপদটিই আসল।
৪. বাগধারা যুগলের মধ্যে কোন জোড়া সর্বাধিক সমার্থক?
(ক) অমাবস্যার চাঁদ, আকাশ কুসুম
(খ) বক ধার্মিক, বিড়াল তপস্বী
(গ) রুই কাতলা, কেঁচো গণ্ডূষ
(ঘ) বক ধার্মিক, ভিজে বিড়াল
সঠিক উত্তর: (খ) বক ধার্মিক, বিড়াল তপস্বী
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘বক ধার্মিক, বিড়াল তপস্বী’। চলো, একটু মজার ছলে বিষয়টির গভীরে যাওয়া যাক।
আমরা সবাই বক দেখেছি, তাই না? বিলের ধারে বক যখন এক পায়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে, তখন মনে হয় যেন সে গভীর ধ্যানে মগ্ন কোনো সাধু। কিন্তু আসলে তার সব মনোযোগ থাকে কখন একটা মাছ আসবে আর সে খপ করে ধরে ফেলবে! ঠিক একইভাবে, ‘বিড়াল তপস্বী’ কথাটিও এমন এক বিড়ালকে বোঝায় যে সাধু সেজে বসে আছে, কিন্তু তার আসল লক্ষ্য মাছ বা ইঁদুর ধরা।
অর্থাৎ, এই দুটি বাগধারাই এমন মানুষকে নির্দেশ করে, যারা বাইরে ভালো মানুষের বা সাধুর মুখোশ পরে থাকে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা অসৎ বা ভণ্ড। সহজ কথায়, দুটোর অর্থই হলো ‘ভণ্ড সাধু’। অন্য অপশনগুলোর অর্থ কিন্তু ভিন্ন। যেমন, ‘অমাবস্যার চাঁদ’ মানে যা খুব কম দেখা যায়, আর ‘আকাশ কুসুম’ মানে অসম্ভব কল্পনা। তাই অর্থের বিচারে ‘বক ধার্মিক’ আর ‘বিড়াল তপস্বী’ যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
৫. ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ এই পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
(ক) বিবেকানন্দ
(খ) চণ্ডীদাস
(গ) বিদ্যাপতি
(ঘ) রামকৃষ্ণ
সঠিক উত্তর: (খ) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি ‘চণ্ডীদাস’।
এসো, লাইনটির গভীরতা একটু অনুভব করি। একটা সময় ছিল যখন সমাজে জাত-পাত, ধর্ম আর বর্ণের অনেক ভেদাভেদ ছিল। মানুষে মানুষে ছিল অনেক দূরত্ব। ঠিক সেই সময়ে কবি চণ্ডীদাস এক সাহসী এবং বিপ্লবী কথা শুনিয়েছিলেন। তিনি বললেন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে হলো ‘মানুষ’। অর্থাৎ, মন্দিরে বা মসজিদে ঈশ্বরকে খোঁজার আগে মানুষের সেবা করা বা মানুষকে ভালোবাসাটাই আসল ধর্ম।
সহজ করে বললে, তিনি মানুষকে সৃষ্টির সেরা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। যেমন একটি ফুলের বাগানে নানা রঙের ফুল থাকলেও সবগুলোর পরিচয় ‘ফুল’, তেমনি আমরা যে ধর্মের বা বর্ণের হই না কেন, আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা ‘মানুষ’। চণ্ডীদাসের এই উক্তিটি বাংলা সাহিত্যে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তাই যখনই দেখবে মানুষের জয়গান গাওয়া হচ্ছে, তখনই মনে করবে এই অমর বাণীর স্রষ্টা চণ্ডীদাস।
৬. কোন বানানটি শুদ্ধ?
(ক) নিরীক্ষন
(খ) নীরিক্ষন
(গ) নিরিক্ষন
(ঘ) নিরীক্ষণ
সঠিক উত্তর: (ঘ) নিরীক্ষণ
ব্যাখ্যা:
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো ‘নিরীক্ষণ’। চলো, বানানটি মুখস্থ না করে এর পেছনের কৌশলটি শিখে নিই।
এই শব্দটি মূলত দুটি অংশ মিলে তৈরি—উপসর্গ ‘নি’ এবং মূল শব্দ ‘ঈক্ষণ’। ‘ঈক্ষণ’ মানে হলো কোনো কিছু খুব মনোযোগ দিয়ে দেখা। বানানের ক্ষেত্রে মনে রাখার সহজ উপায় হলো ‘ছোট-বড়’ সূত্র। প্রথমে ‘ন’-এর সাথে হবে ছোট ই-কার (নি), আর পরে ‘র’-এর সাথে হবে বড় বা দীর্ঘ ঈ-কার (রী)। অনেকটা ঢেউয়ের মতো—প্রথমে নিচু, তারপর উঁচু।
সবশেষে কেন ‘ণ’ (মূর্ধন্য-ণ) হলো? ব্যাকরণের ‘ণত্ব বিধান’ নিয়ম অনুযায়ী, ‘ক্ষ’-এর পরে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ বসে, দন্ত-ন নয়। তাই সব নিয়ম মিলিয়ে শুদ্ধ রূপটি দাঁড়ায় ‘নিরীক্ষণ’। এর মানে হলো কোনো কিছুকে ভাসা-ভাসা না দেখে, আতশ কাঁচ দিয়ে দেখার মতো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
৭. সমার্থক শব্দগুচ্ছ সনাক্ত করুন-
(ক) বীথি, ননী, প্রসূন
(খ) শৈবালিনী, তরঙ্গিনী, সরিৎ
(গ) গাঙ, তটিনী, অর্ণব
(ঘ) স্রোতস্বিনী, নির্ঝরিণী, সিন্ধু
সঠিক উত্তর: (খ) শৈবালিনী, তরঙ্গিনী, সরিৎ
ব্যাখ্যা:
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হলো ‘শৈবালিনী, তরঙ্গিনী, সরিৎ’। এসো, বিষয়টি একটু সহজ করে বুঝে নিই।
তোমরা নিশ্চয়ই জানো, একই মানুষের যেমন বাড়িতে, স্কুলে বা বন্ধুদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকে, ঠিক তেমনি বাংলা ভাষায় ‘নদী’রও অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর নাম বা প্রতিশব্দ আছে। এখানে দেওয়া অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র ‘খ’ নম্বরের তিনটি শব্দই—শৈবালিনী, তরঙ্গিনী এবং সরিৎ—একই অর্থ বহন করে, আর তা হলো ‘নদী’।
বাকি অপশনগুলোতে একটু গড়মিল আছে। যেমন, ‘গ’ নম্বরে ‘অর্ণব’ এবং ‘ঘ’ নম্বরে ‘সিন্ধু’—এই দুটি শব্দের অর্থ হলো বিশাল সমুদ্র বা সাগর। নদী গিয়ে সাগরে মেশে ঠিকই, কিন্তু নদী আর সাগর তো এক নয়! তাই ওগুলো সমার্থক গুচ্ছ হতে পারেনি। কিন্তু ‘শৈবালিনী’ (যার শ্যাওলা আছে), ‘তরঙ্গিনী’ (যার ঢেউ আছে) আর ‘সরিৎ’—এই তিনটি শব্দই আমাদের চিরচেনা নদীকেই ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকাশ করছে।
৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তোতা কাহিনী’ গল্পে তোতা কিসের প্রতীক?
(ক) শিক্ষকের
(খ) গণকঠাকুরের
(গ) শিশুর
(ঘ) গবেষকের
সঠিক উত্তর: (গ) শিশুর
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই চমৎকার প্রশ্নটির সঠিক উত্তর হলো ‘শিশুর’। এসো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই রূপক গল্পটির পেছনের বার্তাটি একটু বুঝে নিই।
গল্পে দেখা যায়, রাজা তার শখের তোতা পাখিটিকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য বিশাল আয়োজন করলেন। খাঁচা বানানো হলো সোনা দিয়ে, পণ্ডিতরা দিনরাত পুঁথির পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে পাখির মুখে ঠুসে দিতে লাগলেন। কিন্তু কেউ একবারও ভাবল না, পাখিটার আসলে কী দরকার? সে চায় খোলা আকাশে উড়তে, গান গাইতে আর দানা খেতে। পুঁথির চাপে শেষ পর্যন্ত পাখিটি মারা গেল, কিন্তু শিক্ষার নামে বাহাদুরি থামল না।
রবীন্দ্রনাথ এখানে তোতা পাখি দিয়ে আসলে আমাদের সমাজের অবুঝ শিশুদের বুঝিয়েছেন। শিশুরা চায় আনন্দ, খেলা আর প্রকৃতির মাঝে শিখতে। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেক সময় তাদের কাঁধে বইয়ের ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয়। তাদের মনের খবর কেউ নেয় না, শুধু জোর করে মুখস্থ বিদ্যা গিলিয়ে দেওয়া হয়। ফলে শিশুর ভেতরের প্রাণচঞ্চল সত্তাটি তোতার মতোই হারিয়ে যায়।
৯. ‘উল্লাস’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
(ক) উল + লাস
(খ) উৎ + লাস
(গ) উ + লাস
(ঘ) উঃ + লাস
সঠিক উত্তর: (খ) উৎ + লাস
ব্যাখ্যা:
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘উৎ + লাস’। এসো, সন্ধির এই জাদুটা একটু ভেঙে দেখি।
ব্যাকরণে ব্যঞ্জনসন্ধির একটা খুব সুন্দর নিয়ম আছে। নিয়মটা হলো, যদি কখনো শব্দের শুরুতে ‘ত’ (অথবা এর খণ্ড রূপ ‘ৎ’) থাকে এবং তার ঠিক পরেই ‘ল’ আসে, তখন ওই ‘ত’ বা ‘ৎ’ বদলে গিয়ে নিজের চেহারা পাল্টে ফেলে। সে তখন পরের ‘ল’-এর মতোই হয়ে যায়।
ব্যাপারটা অনেকটা খেলার মতো—বন্ধুর দলে গিয়ে বন্ধুর মতো হয়ে যাওয়া! এখানে ‘উৎ’ শব্দের শেষে আছে ‘ৎ’ এবং ‘লাস’ শব্দের শুরুতে আছে ‘ল’। যখন তারা পাশাপাশি বসল, তখন ‘ৎ’ পাল্টে গিয়ে ‘ল’ হয়ে গেল। ফলে ‘উৎ + লাস’ মিলেমিশে তৈরি করল ‘উল্লাস’। ‘উল্লাস’ মানে হলো খুব আনন্দ বা ফুর্তি করা। তাই মনে রাখবে, এই শব্দের মূলে লুকিয়ে আছে ‘উৎ’, যা ‘লাস’-এর সাথে মিশে আনন্দে একাকার হয়ে গেছে
১০. বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
(ক) শব্দ
(খ) চিহ্ন
(গ) বর্ণ
(ঘ) ধ্বনি
সঠিক উত্তর: (ক) শব্দ
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এর সঠিক উত্তর হলো ‘শব্দ’। তবে কেন ‘শব্দ’ উত্তর হলো, চলো তা একটু গল্পের মতো করে বুঝে নিই।
মনে করো, একটি বাক্য হলো একটি ইটের দেয়াল। এই দেয়ালটি তৈরি করতে আমাদের কী লাগে? অবশ্যই ইট। ঠিক তেমনি, একটি মনের ভাব বা বাক্য তৈরি করতে আমাদের মূল উপকরণ হিসেবে যা লাগে, তা হলো ‘শব্দ’। ব্যাকরণের ভাষায়, বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ‘পদ’ দিয়েই আমরা বাক্য তৈরি করি। তাই বাক্যের কাঠামোর দিকে তাকালে, এর সবচেয়ে ছোট অর্থপূর্ণ একক হলো শব্দ।
অনেকের মনে হতে পারে ‘ধ্বনি’ বা ‘বর্ণ’ কেন নয়? দেখো, ধ্বনি বা বর্ণ হলো শব্দেরও ক্ষুদ্র অংশ, ঠিক যেমন ইটের টুকরো বা বালু। শুধু ‘ক’ বা ‘আ’ বললে কোনো মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তাই এগুলো বাক্যের সরাসরি একক হতে পারে না। কিন্তু যখন কয়েকটি ধ্বনি মিলে ‘কলম’ বা ‘বই’ হয়, তখনই তা বাক্যের অংশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।
১১. ‘হৃদয় মাঝে মেঘ উদয় করি, নয়নের মাঝে ভড়িল বারি’, এখানে কী ধরনের অলংকারের প্রয়োগ হয়েছে?
(ক) বিষম
(খ) বিরোধাভাস
(গ) অসংগতি
(ঘ) বিভাবনা
সঠিক উত্তর: (গ) অসংগতি
ব্যাখ্যা:
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো ‘অসংগতি’। চলো, এই অলংকারের মজাটা একটু বুঝে নিই।
সাধারণত কী হয়? আকাশে মেঘ জমলে বৃষ্টি হয় মাটিতে। এটাই তো প্রকৃতির নিয়ম, তাই না? কারণ আর কাজের জায়গাটা সাধারণত একই বা কাছাকাছি থাকে। কিন্তু কবিতায় কবিরা মাঝে মাঝে জাদুর মতো এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটান। তারা বলেন, কারণ ঘটছে এক জায়গায়, কিন্তু তার ফল দেখা যাচ্ছে একদম ভিন্ন আরেক জায়গায়! একেই বলা হয় ‘অসংগতি’ অলংকার।
এই লাইনটি খেয়াল করো—‘হৃদয় মাঝে মেঘ উদয় করি’। অর্থাৎ মেঘ বা দুঃখ জমেছে কবির মনের বা হৃদয়ের আকাশে। কিন্তু বৃষ্টি বা জল ঝরছে কোথায়? ‘নয়নের মাঝে’ বা চোখে! মেঘ হৃদয়ে আর বৃষ্টি চোখে—এই যে কারণ (মেঘ) আর কার্যের (বৃষ্টি) স্থান আলাদা হয়ে গেল, এটাই হলো অসংগতি। যেন মনে হচ্ছে, মেঘ করল ঢাকায়, আর বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রামে! এই চমৎকার অমিলটাই কবিতার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
১২. জোসনা’ কোন শ্রেণির শব্দ?
(ক) যৌগিক
(খ) তৎসম
(গ) দেশি
(ঘ) অর্ধ-তৎসম
সঠিক উত্তর: (ঘ) অর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘অর্ধ-তৎসম’। এসো, শব্দটির পরিবর্তনের গল্পটি একটু শুনে নিই।
আমরা জানি, বাংলা ভাষার অনেক শব্দ সংস্কৃত বা তৎসম ভাষা থেকে এসেছে। মূল সংস্কৃত শব্দটি ছিল ‘জ্যোৎস্না’। এই শব্দটি উচ্চারণ করতে গিয়ে আমাদের জিহ্বায় একটু কষ্ট হতো, তাই না? সাধারণ মানুষ যখন কথা বলে, তারা কঠিন শব্দগুলোকে নিজেদের মতো করে একটু সহজ বা নরম করে নেয়।
সময়ের সাথে সাথে মানুষের মুখে মুখে ঘুরতে ঘুরতে সেই কঠিন ‘জ্যোৎস্না’ শব্দটি ভেঙেচুরে একটু বদলে গিয়ে হয়ে গেল ‘জোসনা’। যেহেতু এটি পুরোপুরি সংস্কৃত (তৎসম) থাকেনি, আবার একদম খাঁটি বাংলা (তদ্ভব) হয়েও যায়নি—বরং মাঝপথে আটকে আছে, তাই একে বলা হয় ‘অর্ধ-তৎসম’ বা আধা-সংস্কৃত শব্দ। অনেকটা যেমন দামী মিষ্টির প্যাকেট ছিঁড়ে ফেলার পর মিষ্টিটা একটু ভাঙা ভাঙা দেখায়, ঠিক তেমনই মূল শব্দের এই ভাঙা রূপটিই হলো অর্ধ-তৎসম।
১৩. কোনটি নঞ তৎপুরুষ নয়?
(ক) অনেক
(খ) অপরাহ্ন
(গ) অনিষ্ট
(ঘ) অনৈক্য
সঠিক উত্তর: (ঘ) অনেকা
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘অনেকা’। তবে কেন এটি অন্যদের থেকে আলাদা, চলো তা একটু সহজ করে বুঝে নিই।
‘নঞ তৎপুরুষ’ সমাসের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো—শুরুতে একটি ‘না’ বোধক শব্দ থাকবে এবং শেষের পদটির অর্থই প্রধান হবে। যেমন—‘নয় এক = অনেক’। এখানে ‘এক’ নেই বলেই তা অনেক। একইভাবে ‘নয় রূপ = অপরূপ’, ‘নয় মিত = অমিত’। এগুলো সবই নঞ তৎপুরুষের উদাহরণ কারণ এগুলো মূলত বিশেষ্য বা বিশেষণের অভাব বোঝাচ্ছে।
কিন্তু ‘অনেকা’ শব্দটি খেয়াল করো। ‘অনেকা’ মানে হলো—‘নয় এক (একক) যা = অনেকা’। এখানে ‘যা’ বলে একটি তৃতীয় কোনো বস্তুকে নির্দেশ করা হচ্ছে। যখন সমাসের মাধ্যমে নিজেরা প্রধান না হয়ে তৃতীয় কাউকে বোঝায়, তখন তাকে আমরা বলি ‘বহুব্রীহি’ সমাস। তাই ‘অনেকা’ হলো নঞ বহুব্রীহি সমাস। অন্য তিনটি অপশন যেখানে সরাসরি ‘না’ অর্থ বোঝাচ্ছে, ‘অনেকা’ সেখানে অন্য একটি বস্তুর গুণ বোঝাচ্ছে। তাই এটি দলের বাইরে।
১৪. ‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই’ পঙক্তি কার?
(ক) সিকান্দার আবু জাফর
(খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
(গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর: (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো বিশ্বকবি ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’।
এই বিখ্যাত চরণটি তাঁর ‘কড়ি ও কোমল’ কাব্যের ‘প্রাণ’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এসো, কবির মনের ভাবটা একটু সহজ করে বুঝি। মনে করো, একটা সুন্দর বাগানে তুমি বন্ধুদের সাথে আনন্দে খেলছ। তখন কি তোমার ইচ্ছে করবে খেলা ছেড়ে একা একা চলে যেতে? নিশ্চয়ই না! রবীন্দ্রনাথও এই পৃথিবীকে এতটাই ভালোবাসতেন যে, তিনি মৃত্যুর পর স্বর্গে যাওয়ার চেয়ে এই সুন্দর পৃথিবীতে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকাকেই বেশি পছন্দ করতেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের ভালোবাসা আর স্মৃতির মধ্যেই আসল বেঁচে থাকা। স্বর্গ বা মোক্ষলাভের চেয়ে এই ধুলোমাখা পৃথিবীর মানুষের হাসি-কান্নাই তাঁর কাছে বেশি দামী ছিল। তাই তিনি সন্ন্যাসী হয়ে জগত ছেড়ে যাওয়ার বদলে, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে তাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন।
১৫. দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন কোনটি?
(ক) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
(খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
(গ) কিঞ্চিত জলযোগ
(ঘ) লীলাবতী
সঠিক উত্তর: (খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা:
সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’।
আমরা দীনবন্ধু মিত্রকে সাধারণত চিনি তাঁর বিখ্যাত ‘নীলদর্পণ’ নাটকের জন্য, যা ছিল খুব গম্ভীর এবং প্রতিবাদের নাটক। কিন্তু তিনি যে সমাজকে শুধরানোর জন্য হাসির ছলে চাবুক মারতে জানতেন, তার প্রমাণ হলো এই প্রহসনটি।
‘প্রহসন’ মানে হলো এমন এক ধরনের নাটক, যেখানে সমাজের নানা অসঙ্গতি বা বোকামিকে ঠাট্টা-তামাশার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। এই নাটকে তিনি এমন এক বৃদ্ধকে দেখিয়েছেন, যার চুল পেকে গেছে, দাঁত পড়ে গেছে, কিন্তু বিয়ের শখ মেটেনি! সমাজের এই ‘বুড়ো বয়সের ভীমরতি’ বা নৈতিক অবক্ষয়কে তিনি খুব রসালোভাবে আমাদের সামনে এনেছেন।
বাকি অপশনগুলোর মধ্যে ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা বিখ্যাত প্রহসন। আর ‘লীলাবতী’ দীনবন্ধু মিত্রের লেখা হলেও এটি প্রহসন নয়, বরং একটি সামাজিক নাটক। তাই হাসির মোড়কে সমাজ সংস্কারের উদাহরণ হিসেবে ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’-ই এখানে সঠিক উত্তর।
১৬. কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন ছন্দে লিখিত?
(ক) অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
(খ) গদ্য ছন্দ
(গ) মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
(ঘ) স্বরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর: (গ) মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো ‘মাত্রাবৃত্ত ছন্দ’। এসো, একটু সহজ করে বুঝি কেন এই ছন্দটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য একদম পারফেক্ট।
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটির কথা ভাবলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অদম্য শক্তি আর গতির ছবি, তাই না? যেন ঝড়ের বেগে কোনো বীর ছুটে চলেছে! কবিতার লাইনগুলো পড়ার সময় দেখবে একটা বিশেষ তাল বা সুর কাজ করে, যা আমাদের রক্তে দোলা দেয়। এই যে দুলুনি বা সুরের মাধুর্য, এটাই হলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য।
মাত্রাবৃত্ত ছন্দে শব্দগুলোকে একটু টেনে টেনে বা দুলিয়ে দুলিয়ে পড়তে হয়, যা কবিতার আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে। নজরুল তাঁর বিদ্রোহ, ক্ষোভ আর বীরত্বকে প্রকাশ করার জন্য এই ছন্দটি বেছে নিয়েছিলেন কারণ এতে শব্দের ঝনঝনানি আর ছন্দের দোলা একসাথে পাওয়া যায়। তাই মনে রাখবে, বিদ্রোহীর সেই গর্জন আসলে মাত্রাবৃত্তের তালে তালে ধ্বনিত হয়েছে।
১৭. ‘অধ্যয়ন’ শব্দের বিশ্লেষণ কী?
(ক) অধ্যায়নকৃত
(খ) অধীত
(গ) অধ্যয়নরত
(ঘ) পঠিত
সঠিক উত্তর: (খ) অধীত
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নটি একটু কৌশলী, তাই চলো খুব সহজভাবে এর সমাধানটা বুঝে নিই। সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘অধীত’।
প্রশ্নটিতে আসলে জানতে চাওয়া হয়েছে, ‘অধ্যয়ন’ শব্দটিকে যদি আমরা বিশেষণে রূপান্তর করি বা এর কাজের ফলাফলটা কী—তা এক কথায় প্রকাশ করি, তবে সেটি কী হবে? সহজ কথায়, ‘অধ্যয়ন করা হয়েছে যা’—একে এক কথায় বলা হয় ‘অধীত’।
মনে করো, তুমি একটি বই খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ে শেষ করেছ। তখন আমরা বলতে পারি, বইটি তোমার ‘অধীত’ হয়েছে। অর্থাৎ, ‘অধ্যয়ন’ হলো কাজটির নাম (বিশেষ্য), আর সেই কাজের ফলে যা অর্জিত হলো তা হলো ‘অধীত’ (বিশেষণ)। অন্য অপশনগুলোর মধ্যে ‘পঠিত’ মানে যা পড়া হয়েছে (পাঠ থেকে পঠিত), কিন্তু ব্যাকরণগতভাবে ‘অধ্যয়ন’-এর সরাসরি বিশেষণ রূপ বা কৃদন্ত পদ হলো ‘অধীত’। তাই সঠিক মিলটি এখানেই।
১৮. কোন শব্দে ‘সম্যক’ অর্থে ‘পরা’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
(ক) পরাধীন
(খ) পরায়ণ
(গ) পরামর্শ
(ঘ) পরাক্রান্ত
সঠিক উত্তর: (ঘ) পরাক্রান্ত
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘পরাক্রান্ত’। এসো, একটু ভেঙেচুরে দেখি কেন এটি সঠিক।
‘পরা’ উপসর্গটি অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন—‘পরাজয়’ মানে হেরে যাওয়া (বিপরীত অর্থে), আবার ‘পরাধীন’ মানে অন্যের অধীনে থাকা। কিন্তু এখানে জানতে চাওয়া হয়েছে ‘সমাক’ অর্থ। ‘সমাক’ মানে হলো—সম্পূর্ণ, অতিশয় বা খুব ভালোভাবে।
‘পরাক্রান্ত’ শব্দটির দিকে তাকালে দেখবে, এর মানে হলো—যার অনেক ক্ষমতা বা বিক্রম আছে। অর্থাৎ, যিনি শক্তিতে পরিপূর্ণ বা অতিশয় শক্তিশালী। এখানে ‘পরা’ উপসর্গটি ‘ক্রান্ত’ (বিক্রম)-এর আগে বসে তার শক্তির মাত্রাটিকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে বা পূর্ণতা দিয়েছে। অন্য অপশনগুলোতে যেমন ‘পরায়ণ’ বা ‘পরামর্শ’—সেগুলোতে ‘পরা’ অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু একমাত্র ‘পরাক্রান্ত’ শব্দেই এটি শক্তির চূড়ান্ত বা ‘সমাক’ রূপটি প্রকাশ করছে।
১৯. লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
(ক) সাহেব
(খ) বিয়াই
(গ) সঙ্গী
(ঘ) কবিরাজ
সঠিক উত্তর: (ঘ) কবিরাজ
ব্যাখ্যা:
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘কবিরাজ’। চলো, ‘জোড়া মেলানো’ খেলার মাধ্যমে বিষয়টি বুঝে নিই।
বাংলা ব্যাকরণে অধিকাংশ পুরুষবাচক শব্দেরই একটা স্ত্রী-বাচক সঙ্গী বা জোড়া থাকে। যেমন ধরো—‘সাহেব’-এর বিপরীতে আমরা বলি ‘মেম’ বা ‘বিবি’, ‘বিয়াই’-এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো ‘বিয়াইন’, আর ‘সঙ্গী’র ক্ষেত্রে হয় ‘সঙ্গিনী’। এদের সবারই চেহারায় পরিবর্তন এনে লিঙ্গান্তর করা যায়।
কিন্তু ‘কবিরাজ’ শব্দটি একটু একগুঁয়ে! এটি এমন একটি শব্দ যা ব্যাকরণগতভাবে ‘নিত্য পুরুষবাচক শব্দ’ হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ, এর কোনো সাধারণ স্ত্রী-বাচক রূপ নেই। গ্রামবাংলায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা যারা করেন, তাদের কবিরাজ বলা হয়। যদি কোনো নারী এই পেশায় থাকেন, তবে শব্দের আগে ‘মহিলা’ যোগ করে ‘মহিলা কবিরাজ’ বলতে হয়, কিন্তু ‘কবিরাজ’ শব্দটি নিজে পাল্টে যায় না। তাই এটি লিঙ্গান্তরের নিয়মের বাইরেই থেকে যায়।
২০. বিজ্ঞান শব্দের যুক্ত বর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
(ক) জ্ + ঞ
(খ) ঞ + জ
(গ) ণ + জ
(ঘ) গ + ঞ
সঠিক উত্তর: (ক) জ্ + ঞ
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘জ্ + ঞ’। এসো, এই যুক্তবর্ণের রহস্যটি একটু ভেঙে দেখি।
‘বিজ্ঞান’, ‘জ্ঞান’ বা ‘অজ্ঞ’—এই শব্দগুলোতে আমরা যে প্যাঁচানো বর্ণটি দেখি, তা দেখতে অনেকটা ‘গ’-এর মতো মনে হলেও আসলে কিন্তু তা নয়। এটি মূলত দুটি বর্ণের বন্ধুত্বের ফল। প্রথম বন্ধুটি হলো ‘জ’ (বর্গীয় জ) আর দ্বিতীয় বন্ধুটি হলো ‘ঞ’ (ইও)।
যখন আমরা ‘বিজ্ঞান’ উচ্চারণ করি, তখন অনেক সময় ‘গ’ বা ‘জ্ঞ’ এর মতো আওয়াজ হয়, তাই অনেকেই ভুল করে ‘গ + ঞ’ বা ‘জ্ঞ + ন’ ভেবে বসে। কিন্তু মনে রাখার সহজ উপায় হলো, বর্ণমালার ক্রম অনুযায়ী ‘জ’ আগে আসে, তাই সে থাকে উপরে বা প্রথমে, আর ‘ঞ’ আসে পরে। এই দুয়ে মিলেই তৈরি হয় আমাদের পরিচিত ‘জ্ঞ’ যুক্তবর্ণটি। তাই সঠিক ভাঙন হলো—জ্ + ঞ।
২১. ‘অরণ্যে রোদন’ বাগধারার ইংরেজি অনুবাদ করুন।
(ক) Wild cries
(খ) Wild forest
(গ) Cry in the wilderness
(ঘ) Weep at forest
সঠিক উত্তর: (গ) Cry in the wilderness
ব্যাখ্যা:
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘Cry in the wilderness’। চলো, বাগধারাটির পেছনের দৃশ্যটা কল্পনা করে নিই।
‘অরণ্য’ মানে হলো গভীর জঙ্গল আর ‘রোদন’ মানে কান্না। এখন ভাবো তো, তুমি যদি কোনো জনমানবহীন গভীর জঙ্গলের ভেতরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদো বা সাহায্য চাও, কেউ কি তা শুনবে? না, কেউ শুনবে না। তোমার সেই কান্না বা অনুরোধ একদম বিফলে যাবে।
বাংলায় এই ‘অরণ্যে রোদন’ বলতে আমরা এমন কোনো অনুরোধ বা আবেদনকে বুঝি, যা কেউ কানে তোলে না বা যার কোনো ফল পাওয়া যায় না—অর্থাৎ ‘নিষ্ফল আবেদন’। ইংরেজির ‘Cry in the wilderness’ কথাটিও ঠিক একই ভাব প্রকাশ করে। এর মানে হলো এমন জায়গায় বা এমন কারো কাছে নালিশ করা, যেখানে সাড়া পাওয়ার কোনো আশাই নেই। তাই আক্ষরিক জঙ্গলের চেয়ে এখানে প্রচেষ্টার ব্যর্থতাটাই আসল কথা।
২২.প্রত্যেক ভাষার ৩টি মৌলিক অংশ হলো-
(ক) ধ্বনি, শব্দ, বাক্য
(খ) বর্ণ, সমাস, সন্ধি
(গ) সমাস, কারক, ধ্বনি
(ঘ) পদ, বর্ণ, ধ্বনি
সঠিক উত্তর: (ক) ধ্বনি, শব্দ, বাক্য
ব্যাখ্যা:
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো ‘ধ্বনি, শব্দ, বাক্য’। এসো, একটি দালান বা বিল্ডিং তৈরির উদাহরণের মাধ্যমে এই মৌলিক বিষয়টি বুঝে নিই।
মনে করো, আমরা একটি ভাষা বা ভাষার দালান তৈরি করব। সবার আগে আমাদের কী লাগবে? সবচেয়ে ছোট একক, যেমন ইট বা বালু। ভাষার ক্ষেত্রে এই সবচেয়ে ছোট ইট হলো ‘ধ্বনি’ (উচ্চারিত আওয়াজ)।
এরপর, অনেকগুলো ইট সিমেন্ট দিয়ে গেঁথে আমরা কী বানাই? একটা দেয়াল। ভাষার ক্ষেত্রে কয়েকটি ধ্বনি মিলে যখন অর্থপূর্ণ কিছু তৈরি করে, তখন তাকে আমরা বলি ‘শব্দ’।
সবশেষে, দেয়াল, ছাদ আর মেঝের সমন্বয়ে তৈরি হয় পুরো দালানটি, যেখানে মানুষ বাস করতে পারে। ঠিক তেমনি, কয়েকটি শব্দ সুশৃঙ্খলভাবে বসে যখন মনের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে, তখন তা হয়ে যায় ‘বাক্য’।
তাই ভাষার মূল ভিত্তি বা খুঁটি হলো এই তিনটিই—ধ্বনি (Sound), শব্দ (Word) এবং বাক্য (Sentence)। ব্যাকরণের অন্য সব বিষয় (যেমন সমাস, কারক, সন্ধি) আসলে এই তিনটিরই ভেতরের অলংকরণ বা নিয়মকানুন মাত্র।
২৩.সাবান ও আনারস শব্দ দুটি কোন ভাষা থেকে আগত?
(ক) পর্তুগিজ (খ) আরবি (গ) ফরাসি (ঘ) ফার্সি
সঠিক উত্তর: (ক) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো ‘পর্তুগিজ’।
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজ নাবিকেরাই সবার আগে আমাদের এই বাংলায় এসেছিল ব্যবসার উদ্দেশ্যে। তারা যখন আমাদের দেশে আসে, তখন শুধু ব্যবসাই করেনি, সাথে করে নিয়ে এসেছিল তাদের নিত্যদিনের ব্যবহারের অনেক জিনিস।
যেমন—গোসলের ‘সাবান’, খাওয়ার ‘আনারস’, ঘরের ‘আলমারি’ কিংবা ‘চাবি’। এই জিনিসগুলো আগে আমাদের দেশে ছিল না, তাই তাদের দেওয়া নামগুলোই আমরা গ্রহণ করেছি। মেহমান যেমন বাড়িতে এলে উপহার নিয়ে আসে, তেমনি পর্তুগিজরা আমাদের ভাষাকে এই শব্দগুলো উপহার দিয়ে গেছে। তাই এগুলো এখন আমাদের বাংলা ভাষারই আপন শব্দ হয়ে গেছে।
আপনি যদি বাংলা ব্যাকরণে দুর্বলতা অনুভব করেন, তবে NCTB Bangla Grammar Book নবম-দশম শ্রেণির বইটি আরেকবার রিভিশন দিতে পারেন।
৪. প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ইংরেজি অংশের সমাধান ও গ্রামার রুলস (২৫ নম্বর)
ইংরেজিতে অনেকেই “ফেইল” করার ভয়ে থাকেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন, Primary Assistant Teacher Exam Question Solution 2026 -এর ইংরেজি অংশটি বেশ লজিক্যাল ছিল। গ্রামারের গভীরে না গিয়েও কমন সেন্স দিয়ে অনেক উত্তর করা সম্ভব ছিল। primary question 2026 এর ইংরেজি সমাধা দেখুন।
১. Find out the correct sentence.
(ক) Knowing little algebra, the problem was difficult to solve.
(খ) Knowing little algebra, I found it difficult to solve the problem.
(গ) Knowing little algebra, solving the problem was difficult.
(ঘ) Knowing little algebra, it was difficult to solve the problem.
সঠিক উত্তর: (খ) Knowing little algebra, I found it difficult to solve the problem.
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে (খ) Knowing little algebra, I found it difficult to solve the problem. চলো, গ্রামারের এই মজার নিয়মটি একটু গল্পের ছলে বুঝে নিই।
ইংরেজিতে একটা নিয়ম আছে যাকে বলে ‘Dangling Modifier’ বা ‘ঝুলে থাকা বিশেষণ’। সহজ কথায়, বাক্যের শুরুতে যদি এমন কোনো কথা থাকে যা দিয়ে কাজ বোঝায় (যেমন: Knowing little algebra – অল্প বীজগণিত জেনে), তবে তার ঠিক পরেই সেই ব্যক্তি বা কর্তা (Subject)-কে বসাতে হবে যে কাজটি করেছে।
এখন ভাবো, ‘অল্প বীজগণিত জানা’—এটা কার কাজ? নিশ্চয়ই কোনো মানুষের, তাই না? জড়বস্তু বা সমস্যার (problem) তো আর জ্ঞান থাকে না!
- অপশন (ক)-তে বলা হয়েছে ‘the problem was difficult’—যেন সমস্যাটি নিজেই বীজগণিত জানে না! এটা ভুল।
- অপশন (গ) এবং (ঘ)-তেও ‘solving’ বা ‘it’ দিয়ে বাক্য শুরু হওয়ায় আসল মানুষটি হারিয়ে গেছে।
কিন্তু অপশন (খ)-তে ‘Knowing…’-এর ঠিক পরেই ‘I’ (আমি) বসেছে। অর্থাৎ, আমিই সেই ব্যক্তি যে অল্প বীজগণিত জানে এবং তাই আমার জন্য সমস্যাটি সমাধান করা কঠিন ছিল। এখানে কর্তার সাথে কাজের মিল একদম ঠিকঠাক।
২. Bank close at 4 pm ___? Make a tag question.
(ক) must they
(খ) don’t they
(গ) isn’t they
(ঘ) do they
সঠিক উত্তর: (খ) don’t they
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, ট্যাগ কোশ্চেনের এই নিয়মটা খুব মজার। খেয়াল করো, বাক্যটিতে বলা হয়েছে ‘Banks close at 4 pm’ (প্রশ্নটিতে সম্ভবত ‘Bank’ বহুবচনে বা ভাবার্থে ‘They’ ধরা হয়েছে, অথবা এটি সাধারণ সত্য হিসেবে সব ব্যাংকের কথা বলছে)।
এখানে মূল ভার্ব হলো ‘close’, যা Present Indefinite Tense-এ আছে। নিয়ম অনুযায়ী, বাক্যে যদি সাহায্যকারী ভার্ব (am, is, are ইত্যাদি) না থাকে, তবে ট্যাগ করার সময় আমাদের ‘do’ বা ‘does’ ধার করতে হয়। যেহেতু এখানে ‘Banks’ বা তাদের কথা বলা হচ্ছে (বহুবচন অর্থে ‘They’), তাই আমরা ‘do’ ব্যবহার করব।
আর বাক্যটি যেহেতু হ্যাঁ-বোধক (Affirmative), তাই ট্যাগটি হবে না-বোধক (Negative)। অর্থাৎ ‘do’ হয়ে যাবে ‘don’t’। সব মিলিয়ে উত্তর দাঁড়ায়—don’t they? (তাই নয় কি?)।
৩. Fill in the blank with right option: ‘I am looking forward ___ you’.
(ক) to seeing
(খ) to have seen
(গ) seeing
(ঘ) to see
সঠিক উত্তর: (ক) to seeing
ব্যাখ্যা:
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, ইংরেজিতে কিছু বিশেষ ফ্রেজ বা শব্দগুচ্ছ আছে, যাদের পরে সবসময় ভার্বের সাথে ‘ing’ যুক্ত করতে হয়। ‘Look forward to’ হলো ঠিক এমনই একটি বিশেষ ফ্রেজ।
আমরা সাধারণত জানি ‘to’-এর পরে ভার্বের বেস ফর্ম (যেমন: to see) বসে। কিন্তু ‘Look forward to’ মানে হলো কোনো কিছুর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা। এই পুরো ফ্রেজটির পর নিয়মটি একটু বদলে যায়। এখানে ‘to’ একটি প্রিপজিশনের মতো কাজ করে, আর আমরা জানি প্রিপজিশনের পর ভার্ব আসলে তার সাথে ‘ing’ যোগ করতে হয়।
তাই সঠিক বাক্যটি হবে: “I am looking forward to seeing you.” মানে, আমি তোমার সাথে দেখা করার জন্য খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।
৪. ‘To beat about the bush’ means-
(ক) to hide the truth
(খ) to speak directly
(গ) to delay the matter
(ঘ) to talk irrelevantly
সঠিক উত্তর: (ঘ) to talk irrelevantly
ব্যাখ্যা:
এই ইডিয়ম বা বাগধারাটির পেছনের গল্পটি বেশ মজার। পুরনো দিনে শিকারিরা যখন পাখি শিকারে যেত, তখন কিছু লোক ঝোপের (bush) চারপাশে লাঠি দিয়ে পেটাত যাতে পাখিগুলো ভয় পেয়ে বেরিয়ে আসে। তারা কিন্তু সরাসরি ঝোপের ভেতরে আঘাত করত না, শুধু চারপাশে ভান করত।
সেই থেকেই ‘Beat about the bush’ কথাটি চালু হয়েছে। এর মানে হলো—আসল কথায় না এসে ঘুরিয়ে-প্যাঁচিয়ে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা। কেউ যখন মূল বিষয় এড়িয়ে আজেবাজে বা অবান্তর কথা বলে সময় নষ্ট করে, তখন আমরা বলি, “আসল কথায় আসো, ঝোপের চারপাশে বাড়ি দিও না!” অর্থাৎ ‘to talk irrelevantly’।
৫. Which period is known as the ‘golden age’ of English literature?
(ক) the Eighteen century
(খ) the Victorian age
(গ) the Elizabethan age
(ঘ) the Restoration age
সঠিক উত্তর: (গ) the Elizabethan age
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ইংল্যান্ডের রানী প্রথম এলিজাবেথের শাসনকাল (১৫৫৮-১৬০৩) ছিল ইংরেজি সাহিত্যের জন্য এক আশীর্বাদ। এই সময়টিতেই শেক্সপিয়র, ক্রিস্টোফার মার্লো, এডমন্ড স্পেন্সারের মতো বিশ্ববিখ্যাত লেখকরা তাদের সেরা নাটক ও কবিতাগুলো রচনা করেছেন।
সাহিত্য, নাটক, কবিতা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই অসামান্য উন্নতির জন্যই এই যুগটিকে বলা হয় ‘The Golden Age’ বা স্বর্ণযুগ। যেমন বসন্তকালে প্রকৃতি সবচেয়ে সুন্দর সাজে সাজে, তেমনি ইংরেজি সাহিত্যও এই এলিজাবেথান যুগে তার পূর্ণ যৌবন ও সৌন্দর্য লাভ করেছিল। তাই সাহিত্যের ইতিহাসে এই যুগটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।
৬. Which one is wrong spelling?
(ক) Happiness
(খ) Necessary
(গ) Prosparity
(ঘ) Influence
সঠিক উত্তর: (গ) Prosparity
ব্যাখ্যা:
শব্দগুলো ভালো করে লক্ষ্য করো বন্ধুরা। এখানে ভুল বানানটি লুকিয়ে আছে ‘Prosparity’ শব্দটির মধ্যে।
সঠিক শব্দটি হলো ‘Prosperity’ (সমৃদ্ধি)। এখানে ‘P-r-o-s’ এর পরে ‘p-a’ হবে না, হবে ‘p-e’। অর্থাৎ সঠিক বানান: P-r-o-s-p-e-r-i-t-y। উচ্চারণ করার সময় খেয়াল করবে, আমরা বলি ‘প্রস-প্যা-রি-টি’ (Prosperity), ‘পারিটি’ নয়।
বাকি শব্দগুলো—Happiness (সুখ), Necessary (প্রয়োজনীয়), Influence (প্রভাব)—সবগুলোর বানান একদম ঠিক আছে। তাই ভুল বা বেমানান শব্দটি হলো ‘Prosparity’।
৭. Who wrote the novel “The god of small things”?
(ক) Kiran Deshai
(খ) Anita Desai
(গ) Arundhati Ray
(ঘ) Orhan Pamuk
সঠিক উত্তর: (গ) Arundhati Ray
ব্যাখ্যা:
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ভারতের বিখ্যাত লেখিকা অরুন্ধতী রায় (Arundhati Roy)।
১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি সারা বিশ্বে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল এবং সম্মানজনক বুকার পুরস্কার জিতেছিল। বইটিতে কেরালা রাজ্যের এক যমজ ভাই-বোনের ছোটবেলার স্মৃতি, তাদের পরিবারের জটিলতা এবং ছোট ছোট জিনিসের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ঈশ্বরের মতো বড় আবেগের গল্প বলা হয়েছে।
লেখিকা খুব সুন্দর করে দেখিয়েছেন যে, জীবনে বড় ঘটনার চেয়ে ছোট ছোট মুহূর্তগুলো কীভাবে আমাদের ভাগ্য বদলে দেয়। কিরণ দেশাই বা অনিতা দেশাইও বিখ্যাত লেখক, কিন্তু ‘The God of Small Things’-এর জাদুকরী স্রষ্টা শুধুই অরুন্ধতী রায়।
৮. Ayesha is a good girl. বাক্যে girl শব্দটি –
(ক) material noun
(খ) proper noun
(গ) common noun
(ঘ) collective noun
সঠিক উত্তর: (গ) common noun
ব্যাখ্যা:
এসো, নাম বা Noun-এর প্রকারভেদটা একটু ঝালাই করে নিই।
এখানে ‘Ayesha’ হলো একজন নির্দিষ্ট মেয়ের নাম, তাই এটি Proper Noun। কিন্তু ‘girl’ (মেয়ে) শব্দটি দিয়ে কি কোনো নির্দিষ্ট কাউকে বোঝাচ্ছে? না। ‘মেয়ে’ বললে পৃথিবীর যেকোনো মেয়েকেই বোঝানো যেতে পারে—সে আয়েশা হতে পারে, ফাতেমা হতে পারে বা মিতু হতে পারে।
যে নাম দিয়ে নির্দিষ্ট কাউকে না বুঝিয়ে একই জাতীয় বা শ্রেণীর সবাইকে সাধারণভাবে বোঝানো হয়, তাকেই বলা হয় Common Noun বা জাতিবাচক বিশেষ্য। যেমন—নদী (River), ফুল (Flower), মানুষ (Man)—এগুলো সবই Common Noun। তাই এখানে ‘girl’ হলো নারী জাতির সাধারণ নাম।
৯. ‘To err is human, forgive divine’, is a line of a poem by-
(ক) Pope
(খ) Shelley
(গ) Milton
(ঘ) Shakespeare
সঠিক উত্তর: (ক) Pope
ব্যাখ্যা:
এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন অষ্টাদশ শতাব্দীর মহান ইংরেজ কবি আলেকজান্ডার পোপ (Alexander Pope)।
লাইনটির অর্থ খুব গভীর—‘মানুষ মাত্রই ভুল করে, আর ক্ষমা করা হলো স্বর্গীয় বা ঈশ্বরের গুণ’। পোপ তাঁর ‘An Essay on Criticism’ কবিতায় এই কথাটি বলেছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষ হিসেবে আমাদের ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ যদি সেই ভুলকে ক্ষমা করে দিতে পারে, তবে সে যেন ঈশ্বরের মতো মহৎ গুণের অধিকারী হয়।
সহজ কথায়, ভুল করাটা মানুষের স্বভাব, আর ক্ষমা করাটা দেবতার স্বভাব। এই চিরন্তন সত্য কথাটি পোপ ছাড়া আর কে এত সুন্দর করে বলতে পারতেন!
১০. ‘Syntax’ means-
(ক) Sentence building
(খ) Suplimentary tax
(গ) Synchronizing act
(ঘ) Manner of speech
সঠিক উত্তর: (ক) Sentence building
ব্যাখ্যা:
ভাষার রাজ্যে ‘Syntax’ হলো অনেকটা ঘরবাড়ি বানানোর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো। সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘Sentence building’ বা বাক্য গঠন।
আমরা জানি, কতগুলো শব্দ পাশাপাশি বসালেই কিন্তু বাক্য হয় না। যেমন—‘ভাত আমি খাই’ বললে কেমন উল্টোপাল্টা শোনায়, তাই না? সঠিক হলো—‘আমি ভাত খাই’। এই যে কোন শব্দের পর কোন শব্দ বসবে, কর্তা কোথায় থাকবে, ক্রিয়া কোথায় বসবে—এই নিয়মকানুন বা সজ্জার নামই হলো সিনট্যাক্স।
সহজ কথায়, শব্দের মালা গেঁথে কীভাবে একটি সুন্দর ও অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি করতে হয়, ব্যাকরণের যে অংশটি তা শেখায়, তাকেই সিনট্যাক্স বলা হয়।
১১. Amin said, “I shall go to school,” change the sentence to indirect speech.
(ক) Amin said that he would go to school.
(খ) Amin said that I shall go to school.
(গ) Amin said that I would go to school.
(ঘ) Amin said that he will go to school.
সঠিক উত্তর: (ক) Amin said that he would go to school.
ব্যাখ্যা:
নরেশনের এই নিয়মটি অনেকটা ‘ভবিষ্যৎবাণী পাল্টে ফেলার’ মতো।
যখন আমরা Direct থেকে Indirect করি, তখন বক্তার কথাগুলো আমাদের নিজের ভাষায় বলতে হয়। এখানে আমিন বলেছিল, “আমি স্কুলে যাব” (I shall go)। কিন্তু যখন আমরা আমিনের হয়ে কথাটা বলছি, তখন ‘আমি’ পাল্টে হয়ে যাবে ‘সে’ (he)।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো টেন্সের পরিবর্তন। বাইরের অংশটি (Reporting Verb) যেহেতু অতীতে (said) আছে, তাই ভেতরের ‘shall’ বা ‘will’ পাল্টে গিয়ে তার অতীত রূপ ‘would’ হয়ে যাবে। ‘should’ সাধারণত বসে না, কারণ ‘would’ দিয়েই ভবিষ্যতের অতীত রূপ বোঝানো হয়। তাই সঠিক বাক্য: Amin said that he would go to school.
১২. ‘Out and Out’ means-
(ক) Thoroughly
(খ) Whole heartedly
(গ) Not at all
(ঘ) Brave
সঠিক উত্তর: (ক) Thoroughly
ব্যাখ্যা:
‘Out and Out’—কথাটি শুনলে মনে হতে পারে কেউ বাইরে চলে গেছে, তাই না? কিন্তু এটি একটি ইডিয়ম যার অর্থ একদম ভিন্ন। এর মানে হলো—পুরোপুরি, হাড়েমজ্জায় বা আগাগোড়া।
সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘Thoroughly’। ধরো, কেউ একজন খুব বড় মিথ্যাবাদী। আমরা তাকে বলি, “সে একজন পাক্কা মিথ্যাবাদী” (He is an out and out liar)। অর্থাৎ তার মিথ্যার মধ্যে কোনো ভেজাল নেই, সে পুরোপুরিই তাই।
কোনো কিছু যখন আংশিক নয়, বরং সম্পূর্ণ বা ১৬ আনা বোঝাতে চাই, তখন আমরা এই ফ্রেজটি ব্যবহার করি। তাই এর সহজ অর্থ হলো—সম্পূর্ণরূপে বা তন্ন তন্ন করে।
১৩. Profession of teaching-
(ক) History
(খ) Linguistic
(গ) Teachership
(ঘ) Pedagogy
সঠিক উত্তর: (ঘ) Pedagogy
ব্যাখ্যা:
শিক্ষকতা কি শুধুই পড়ানো? না, এটি একটি শিল্প ও বিজ্ঞান। শিক্ষকতা বা শিক্ষাদানের এই বিশেষ কৌশল বা পদ্ধতিকে এক কথায় বলা হয় ‘Pedagogy’।
‘Teachership’ বলে কোনো আনুষ্ঠানিক শব্দ ইংরেজিতে সেভাবে নেই। ‘Pedagogy’ শব্দটি এসেছে গ্রিক ভাষা থেকে, যার মানে হলো শিশুদের নেতৃত্ব দেওয়া বা শেখানো। একজন শিক্ষক কীভাবে ক্লাসে পড়াবেন, কীভাবে ছাত্রদের মন বুঝবেন এবং কঠিন বিষয় সহজ করে বোঝাবেন—এই পুরো বিদ্যাটিই হলো পেডাগজি।
তাই মনে রাখবে, ডাক্তারি পেশাকে যেমন ‘Medicine’ বলা হয়, তেমনি শিক্ষকতার পেশা বা বিজ্ঞানকে বলা হয় ‘Pedagogy’।
১৪. The correct passive form of “you must shut these doors” is-
(ক) These doors must be shut
(খ) These must be shut doors
(গ) Shut must be the doors
(ঘ) Shut the doors you must
সঠিক উত্তর: (ক) These doors must be shut
ব্যাখ্যা:
ভয়েস চেঞ্জ করার সময় আমাদের ‘স্থান পরিবর্তন’ খেলা খেলতে হয়।
এখানে অবজেক্ট হলো ‘these doors’, যা প্যাসিভ বাক্যে সাবজেক্ট হয়ে সামনে চলে আসবে। বাক্যে ‘must’ (মডাল ভার্ব) আছে। নিয়ম অনুযায়ী, মডাল ভার্বের পরে প্যাসিভ করতে হলে একটি বাড়তি ‘be’ বসাতে হয় এবং মূল ভার্বের পাস্ট পার্টিসিপল রূপ ব্যবহার করতে হয়।
‘shut’ ভার্বটি খুব মজার, কারণ এর তিনটি রূপই এক (shut-shut-shut)। তাই গঠনটি হবে:
Subject (These doors) + must be + V3 (shut)।
পুরো বাক্য: “These doors must be shut.” (দরজাগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে)। এখানে ‘by you’ উহ্য রাখা হয়েছে কারণ আদেশের ভাবটাই এখানে প্রধান।
১৫. Never tell a lie. what is the passive form?
(ক) A lie is never told
(খ) A lie is never be told
(গ) Let a lie never be told
(ঘ) Let not a lie be told ever.
সঠিক উত্তর: (গ) Let a lie never be told
ব্যাখ্যা:
উপদেশ বা আদেশমূলক বাক্য (Imperative Sentence) প্যাসিভ করার নিয়মটা একটু আলাদা।
বাক্যটি শুরু হয়েছে ‘Never’ দিয়ে, যা একটি নিষেধ বা উপদেশ। এসব ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত ‘Let’ দিয়ে বাক্য শুরু করি। নিয়মটি হলো:
Let + object + never + be + V3 (Past Participle)
এখানে অবজেক্ট হলো ‘a lie’। তাই সাজালে পাই—
Let a lie never be told. (মিথ্যা যেন কখনো বলা না হয়)।
অপশন (ঘ)-তে ‘Let not’ আছে, কিন্তু ‘never’ থাকলে ‘not’ এর প্রয়োজন নেই, কারণ ‘never’ নিজেই না-বোধক। তাই (গ)-ই সবচেয়ে সঠিক এবং স্ট্যান্ডার্ড উত্তর।
১৬. Which sentence is correct?
(ক) He is an MA
(খ) He is an LMAF
(গ) All of them
(ঘ) You are an MBBS
সঠিক উত্তর: (গ) All of them
ব্যাখ্যা:
এই প্রশ্নটি আর্টিকেলের ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এসো দেখি কেন সবকটি বাক্যই সঠিক।
আমরা জানি, শব্দের শুরুতে Consonant থাকলে সাধারণত ‘a’ বসে। কিন্তু যদি সেই অক্ষরের উচ্চারণ Vowel-এর মতো (যেমন: A, E, O) হয়, তবে তার আগে ‘an’ বসে।
- MA: উচ্চারণ করতে গেলে প্রথমে আসে ‘M’ (এম = এ+ম)। শুরুতে ‘এ’ সাউন্ড আসছে, তাই ‘an MA’.
- LMAF: উচ্চারণ ‘L’ (এল = এ+ল)। এখানেও ‘এ’ আছে, তাই ‘an LMAF’.
- MBBS: উচ্চারণ ‘M’ (এম = এ+ম)। এখানেও শুরুতে স্বরধ্বনি, তাই ‘an MBBS’.
যেহেতু তিনটি ক্ষেত্রেই উচ্চারণের শুরুতে ভাওয়েল সাউন্ড আসছে, তাই তিনটিতেই ‘an’ ব্যবহার করা ব্যাকরণগতভাবে ১০০% সঠিক।
১৭. The most famous poet of English literature is-
(ক) William Wordsworth
(খ) T. S. Eliot
(গ) John Dryden
(ঘ) Alexander Pope
সঠিক উত্তর: (ক) William Wordsworth (এখানে উত্তরের ভিন্নতা হতে পারে, তবে অপশন অনুযায়ী ব্যাখ্যা নিচে)
(নোট: ইংরেজি সাহিত্যে শেক্সপিয়র সেরা হলেও তিনি মূলত নাট্যকার। কবি হিসেবে অপশনগুলোর মধ্যে ওয়ার্ডসওয়ার্থ অন্যতম প্রধান)
ব্যাখ্যা:
প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে সবচেয়ে বিখ্যাত কবির কথা। অপশনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় সবাই বিখ্যাত, কিন্তু উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ (William Wordsworth)-এর স্থান সাধারণ মানুষের হৃদয়ে একটু আলাদা।
তিনি হলেন ‘প্রকৃতির কবি’। আমাদের যেমন জসীমউদ্দীন পল্লীকবি, তেমনি ওয়ার্ডসওয়ার্থ ইংরেজি কবিতাকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে সাধারণ মানুষ আর প্রকৃতির মাঝে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর ‘Daffodils’ বা ‘Lucy’ কবিতাগুলো পড়েনি এমন ছাত্র খুঁজে পাওয়া ভার। রোমান্টিক যুগের এই মহান কবির সহজ-সরল ভাষা তাকে সবার কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
যদিও আলেকজান্ডার পোপ বা টি.এস. এলিয়টও বিখ্যাত, কিন্তু জনপ্রিয়তার বিচারে ওয়ার্ডসওয়ার্থের আবেদন সর্বজনীন।
১৮. Neither the moon nor the stars ___ visible last night. The verb to fill in the gap should be-
(ক) are
(খ) were
(গ) had been
(ঘ) was
সঠিক উত্তর: (খ) were
ব্যাখ্যা:
‘Neither…nor’ এর নিয়মটি হলো—এটি সবসময় দ্বিতীয় বা শেষের সাবজেক্ট অনুযায়ী ভার্ব গ্রহণ করে। একে বলা হয় ‘Proximity Rule’ বা কাছে থাকার নিয়ম।
এখানে দুটি সাবজেক্ট আছে:
১. The moon (একবচন)
২. The stars (বহুবচন)
ভার্বটি বসবে ‘nor’-এর ঠিক পরেই থাকা ‘the stars’-এর সাথে তাল মিলিয়ে। যেহেতু তারারা অনেকগুলো (plural), তাই ভার্বও হবে প্লুরাল। আর বাক্যটি ‘last night’ বা অতীতের ঘটনা, তাই ‘are’ হবে না, হবে ‘were’।
সঠিক বাক্য: Neither the moon nor the stars were visible last night. (চাঁদ বা তারা—কোনোটিই গত রাতে দেখা যায়নি)।
১৯. The writer was popular ___ young readers (fill in the blank)
(ক) at
(খ) of
(গ) with
(ঘ) for
সঠিক উত্তর: (গ) with
ব্যাখ্যা:
জনপ্রিয়তা বা ‘Popular’ শব্দটির সাথে প্রিপজিশন ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে।
যখন কেউ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয় হয়, তখন ‘popular with’ বসে। যেমন—একজন শিক্ষক ছাত্রদের কাছে জনপ্রিয় (popular with students)।
আর যদি কোনো গুণের জন্য জনপ্রিয় হয়, তবে ‘popular for’ বসে (যেমন: popular for his honesty)।
এখানে বলা হয়েছে ‘young readers’ বা তরুণ পাঠকদের কথা, যারা ব্যক্তি। তাই সঠিক প্রিপজিশনটি হবে ‘with’। মানে, লেখক তরুণ পাঠকদের কাছে বা তাদের মাঝে খুব জনপ্রিয় ছিলেন।
২০. Who, Which, What are-
(ক) Reflexive pronoun
(খ) Indefinite pronoun
(গ) Demonstrative pronoun
(ঘ) Relative pronoun
সঠিক উত্তর: (ঘ) Relative pronoun (এবং Interrogative pronoun-ও হতে পারে, তবে অপশনে রিলেটিভ বেশি উপযুক্ত বাক্যের সংযোগকারী হিসেবে)
ব্যাখ্যা:
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই শব্দগুলো—Who (কে/যে), Which (কোনটি/যেটি), What (কী/যা)—দ্বিমুখী ভূমিকা পালন করে।
যখন এগুলো দিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন এরা Interrogative Pronoun। কিন্তু যখন এগুলো দুটি বাক্যের মাঝখানে বসে তাদের জোড়া লাগিয়ে দেয় বা আগের কোনো নাউনকে নির্দেশ করে, তখন এদের বলা হয় Relative Pronoun বা সম্বন্ধবাচক সর্বনাম।
যেমন: “I know the man who came here.” (আমি লোকটিকে চিনি যে এখানে এসেছিল)। এখানে ‘who’ লোকটির সাথে সম্পর্কের সেতু তৈরি করেছে। পরীক্ষার অপশনে সাধারণত এদের এই সংযোগকারী রূপটিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাই সঠিক উত্তর Relative Pronoun।
২১. Find the appropriate meaning (synonym) of truce
(ক) strong
(খ) trifle
(গ) ceasefire
(ঘ) turbulent
সঠিক উত্তর: (গ) ceasefire
ব্যাখ্যা:
‘Truce’ শব্দটির বাংলা অর্থ হলো সাময়িক যুদ্ধবিরতি। যুদ্ধের ময়দানে যখন দুপক্ষ কিছুক্ষণের জন্য মারামারি বন্ধ রাখতে রাজি হয়, তখন তাকে ট্রুস বলে।
অপশনগুলোর মধ্যে ‘Ceasefire’ শব্দটির অর্থও হুবহু এক। ‘Cease’ মানে থামানো আর ‘Fire’ মানে গোলাগুলি। অর্থাৎ গোলাগুলি থামানো বা যুদ্ধবিরতি।
বাকি শব্দগুলোর অর্থ দেখো:
- Strong (শক্তিশালী)
- Trifle (তুচ্ছ বা নগণ্য বিষয়)
- Turbulent (অশান্ত বা বিশৃঙ্খল)
তাই অর্থের দিক থেকে ‘Truce’ আর ‘Ceasefire’ একে অপরের পরম বন্ধু বা সমার্থক।
২২. Identify the imperative sentence.
(ক) It has been raining since morning
(খ) I shall go to college
(গ) Stand up
(ঘ) Momin is singing a song
সঠিক উত্তর: (গ) Stand up
ব্যাখ্যা:
Imperative Sentence বা অনুজ্ঞা সূচক বাক্য চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো—এতে সাধারণত কোনো Subject (কর্তা) থাকে না। বাক্যটি সরাসরি মূল ভার্ব (Verb) দিয়ে শুরু হয়।
এখানে অপশন (গ)-তে বলা হয়েছে ‘Stand up’ (দাঁড়াও)। এখানে কাউকে আদেশ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু ‘তুমি’ (You) শব্দটি উহ্য আছে। এটিই হলো ইম্পারেটিভ সেন্টেন্সের খাঁটি লক্ষণ। আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ বা নিষেধ বোঝাতে আমরা এই ধরনের বাক্য ব্যবহার করি।
বাকি বাক্যগুলোতে দেখো কর্তা আছে (It, I, Momin) এবং সেগুলো দিয়ে সাধারণ বর্ণনা বা বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে, আদেশ নয়। তাই ‘Stand up’-ই সঠিক উত্তর।
সঠিক উত্তর: (খ) তাকে আমার অসহ্য লাগে
২৩. বাংলায় অনুবাদ করুন: I am sick of him. (ক) সে আমাকে অসুস্থ করে দিয়েছে (খ) তাকে আমার অসহ্য লাগে (গ) সে যে অসুস্থ আমি তা জানি (ঘ) আমি তার কারণে অসুস্থ
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে ‘তাকে আমার অসহ্য লাগে’। চলো, অনুবাদের এই প্যাঁচটা একটু সহজ করে খুলি।
আমরা সাধারণত জানি ‘Sick’ মানে অসুস্থ বা রুগ্ন। তাই অনেকেই ভাবতে পারো এর অর্থ হয়তো ‘আমি অসুস্থ’। কিন্তু ইংরেজির মজাটা এখানেই! যখন ‘Sick’ শব্দের পর ‘of’ বসে, তখন এটি আর শরীরের জ্বর বা অসুখ বোঝায় না। এটি হয়ে যায় একটি ইডিয়ম বা বাগধারা, যার অর্থ হলো চরম বিরক্তি।
বিষয়টা অনেকটা এমন—ধরো, তোমাকে প্রতিদিন সকালে, দুপুরে ও রাতে একই খাবার খেতে দেওয়া হচ্ছে। খেতে খেতে একসময় তোমার খাবারের প্রতি যেমন অরুচি বা বিরক্তি চলে আসে, ঠিক তেমনি কারো আচরণে যখন তুমি খুব বিরক্ত হয়ে যাও বা তাকে আর সহ্য করতে পারো না, তখন ইংরেজিতে বলা হয়, “I am sick of him.”
তাই এখানে ডাক্তার ডাকার দরকার নেই, দরকার শুধু বিরক্তি প্রকাশ করা। সহজ বাংলায় এর ভাবানুবাদ হলো—তাকে আমার আর সহ্য হচ্ছে না বা তাকে আমার অসহ্য লাগে।
২৪.Salt of life stands for
a. Saline water
b. Sodium Chloride
c. Valuable things
d. Sorrows of life
সঠিক উত্তর: c. Valuable things
ব্যাখ্যা:
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি হচ্ছে (c) Valuable things। এসো, এর পেছনের কারণটা একটু মজার ছলে বুঝে নিই।
আমরা জানি ‘Salt’ মানে লবণ। কিন্তু ইংরেজিতে যখন এটি একটি Idiom বা বাগধারা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ আর খাওয়ার লবণে সীমাবদ্ধ থাকে না।
ভাবো তো, লবণ ছাড়া তরকারি কেমন লাগে? একদম বিস্বাদ, তাই না? লবণের কাজ হলো খাবারে স্বাদ ও পূর্ণতা আনা। ঠিক তেমনি, ‘Salt of life’ বলতে এমন কিছুকে বোঝায় যা জীবনকে সুন্দর, অর্থবহ এবং মূল্যবান করে তোলে।
প্রাচীনকালে লবণ অনেক দুর্লভ এবং দামী বস্তু ছিল (এমনকি রোমান সৈন্যদের লবণের মাধ্যমে বেতন বা Salary দেওয়া হতো)। তাই রূপক অর্থে ‘Salt of life’ দিয়ে জীবনের তুচ্ছ কোনো দুঃখ বা রাসায়নিক পদার্থকে না বুঝিয়ে জীবনের মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোকে (Valuable things) বোঝানো হয়।
৫. প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার গণিত ও বিজ্ঞান অংশের সমাধান ও শর্টকাট টেকনিক (২০ নম্বর)
গণিত অনেকের কাছে আতঙ্কের নাম, আবার অনেকের কাছে নম্বর তোলার খনি। আজকের পরীক্ষায় পাটিগণিত থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে। বীজগণিত ও জ্যামিতি ছিল তুলনামূলক সহজ। চলুন, খাতা-কলম ছাড়াই কিভাবে সমাধান করা যায় তা দেখি।
১. নিচের কোন সংখ্যাটি সবচেয়ে বড়?
(ক) $\sqrt{০.৩}$
(খ) $\sqrt{০.৫}$
(গ) ২/৩
(ঘ) ০.২
সঠিক উত্তর: (খ) $\sqrt{০.৫}$
ব্যাখ্যা:
এসো, আমরা সংখ্যাগুলোর মুখোশ খুলে তাদের আসল রূপটা দেখি। দশমিকের অংকে কে বড় আর কে ছোট, তা বুঝতে হলে সবাইকে দশমিকে নিয়ে আসতে হবে।
(ক) $\sqrt{০.৩} \approx ০.৫৪৭$
(খ) $\sqrt{০.৫} \approx ০.৭০৭$
(গ) ২/৩ = ০.৬৬৬…
(ঘ) ০.২
মজার ব্যাপার হলো, ১-এর চেয়ে ছোট কোনো দশমিক সংখ্যাকে বর্গমূল (Root) করলে সেটি ছোট না হয়ে উল্টো বড় হয়ে যায়! যেমন ০.৫-কে রুট করলে তা বেড়ে ০.৭০ হয়ে যায়। এখানে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে ০.৭০৭ সংখ্যাটিই সবার চেয়ে বড়। তাই সঠিক উত্তর $\sqrt{০.৫}$।
২. $f(x) = x^3 – 2x + 10$ হলে $f(0)$ কত?
(ক) 1
(খ) 5
(গ) 8
(ঘ) 10
সঠিক উত্তর: (ঘ) 10
ব্যাখ্যা:
ফাংশন হলো একটা জাদুর মেশিনের মতো। এই মেশিনে তুমি একদিক দিয়ে যা ঢোকাবে, ভেতরে প্রসেস হয়ে অন্যদিক দিয়ে ফলাফল বের হবে।
এখানে মেশিনের নাম $f(x)$। আমাদের বলা হয়েছে মেশিনের ভেতরে $x$-এর জায়গায় $0$ বসাতে। চলো বসিয়ে দেখি:
$f(0) = (0)^3 – 2(0) + 10$
শূন্যের শক্তি দেখো—সে যার সাথেই গুণ হয়, তাকেই শূন্য বানিয়ে দেয়!
$0 – 0 + 10 = 10$
অর্থাৎ, $x$ ওয়ালা সব পদ গায়েব হয়ে গেল, পড়ে রইল শুধু ধ্রুবক সংখ্যাটি। তাই মেশিনের আউটপুট হলো ১০।
৩. ১-০.৯৯৯=?=$ ?
(ক) ০.৯০০১
(খ) ০.১
(গ) ০.০০১
(ঘ) ০.০০০১
সঠিক উত্তর: (গ) ০.০০১
ব্যাখ্যা:
এই অংকটা অনেকটা টাকা-পয়সার হিসাবের মতো। মনে করো, তোমার কাছে ১ টাকা (১.০০০ টাকা) আছে। সেখান থেকে তুমি ৯৯.৯ পয়সা (০.৯৯৯ টাকা) খরচ করে ফেললে। তাহলে আর কত বাকি থাকল?
বিয়োগটা সাজিয়ে ফেলি:
১.০০০
-০.৯৯৯
০.০০১
সহজ কথায়, ১ হতে গেলে ০.৯৯৯-এর সাথে আর কতটুকু ক্ষুদ্র অংশ দরকার? উত্তর হলো ১-এর হাজার ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ০.০০১।
৪. বৃত্তের ব্যাস তিনগুণ বৃদ্ধি করলে ক্ষেত্রফল কতগুণ বৃদ্ধি পাবে?
(ক) ৯
(খ) ১২
(গ) ১৬
(ঘ) ৪
সঠিক উত্তর: (ক) ৯
ব্যাখ্যা:
বৃত্তের একটা মজার নিয়ম আছে—একে বলে ‘বর্গের নিয়ম’। বৃত্তের ব্যাস বা ব্যাসার্ধকে তুমি যতগুণ বাড়াবে, তার পেটের ভেতরকার জায়গা বা ক্ষেত্রফল সেই সংখ্যার ‘বর্গ’ (Square) হারে বাড়বে।
এখানে ব্যাস বাড়ানো হয়েছে ৩ গুণ। তাহলে ক্ষেত্রফল বাড়বে $৩ \times ৩ = ৯$ গুণ। যদি ৪ গুণ বাড়াত, তবে ক্ষেত্রফল বাড়ত ১৬ গুণ। মনে রাখবে, দৈর্ঘ্য বা ব্যাস হলো এক লাইনের মাপ, কিন্তু ক্ষেত্রফল হলো পুরো জায়গার মাপ, তাই এর পাওয়ার বা শক্তিও দ্বিগুণ হয়ে যায়।
৫. গ.সা.গু নির্ণয় করুন: 4a^2-1, 2a^2+a-1
(ক) a + 1
(খ) 2a + 1
(গ) a – 1
(ঘ) 2a – 1
সঠিক উত্তর: (ঘ) 2a – 1
ব্যাখ্যা:
গ.সা.গু মানে হলো ‘সবার মধ্যে মিল আছে এমন জিনিস’। চলো রাশিগুলোকে ভেঙে দেখি।
প্রথম রাশি: $4a^2-1$
একে আমরা $(2a)^2 – 1^2$ লিখতে পারি। সূত্র অনুযায়ী: $(2a+1)(2a-1)$।
দ্বিতীয় রাশি: $2a^2+a-1$
একে মিডল টার্ম ব্রেক করলে পাই:
$2a^2+2a-a-1$
$= 2a(a+1) – 1(a+1)$
$= (a+1)(2a-1)$
এখন দেখো তো, দুই জায়গাতেই কোন টুকরোটা কমন আছে? ঠিক ধরেছ, $(2a-1)$। এটাই হলো নির্ণেয় গ.সা.গু।
৬. ১৬ ফুট উঁচু একটি খুঁটি এমনভাবে ভেঙে গেল যে ভাঙা অংশটি বিচ্ছিন্ন না হয়ে ৩০° কোণে মাটি স্পর্শ করল। খুঁটিটি মাটি হতে কত উঁচুতে ভেঙেছিল?
(ক) ৩ ফুট
(খ) ১২ ফুট
(গ) ৯ ফুট
(ঘ) ৬ ফুট
সঠিক উত্তর: (ঘ) ৬ ফুট (নোট: প্রশ্ন ও অপশনে কিছুটা গড়মিল আছে, সাধারণত এটি ১৮ ফুট খুঁটির অংক হয়। তবে ১৬ ফুটের ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর ৫.৩৩ ফুট। অপশন অনুযায়ী কাছাকাছি বা সাধারণ ভুল হিসেবে ৬ ফুট ধরা হতে পারে, অথবা প্রশ্নে ১৮ ফুট থাকার কথা ছিল।)
ব্যাখ্যা (সঠিক নিয়ম):
মনে করি খুঁটিটি $h$ উচ্চতায় ভেঙেছিল। ভাঙা অংশটি হলো অতিভুজ, যার দৈর্ঘ্য $(১৬-h)$।
সূত্র: $\sin ৩০^{\circ} = \frac{\text{লম্ব}}{\text{অতিভুজ}}$
বা, $\frac{১}{২} = \frac{h}{১৬-h}$
বা, $২h = ১৬ – h$
বা, $৩h = ১৬$
সুতরাং, $h = ৫.৩৩$ ফুট।
যেহেতু ৫.৩৩ অপশনে নেই, এবং এটি একটি খুব কমন প্রশ্ন যা সাধারণত ১৮ ফুট দিয়ে আসে (যার উত্তর হয় ৬ ফুট), তাই পরীক্ষকের ভুল বা টাইপো ধরে নিয়ে ৬ ফুট দাগানো যেতে পারে। তবে গাণিতিক সত্য হলো ৫.৩৩ ফুট।
৭. কোনো ত্রিভুজের তিনটি বাহুকে বর্ধিত করলে উৎপন্ন বহিঃস্থ কোণ তিনটির সমষ্টি কত?
(ক) ৩৬০°
(খ) ১৮০°
(গ) ১৫০°
(ঘ) ২৭০°
সঠিক উত্তর: (ক) ৩৬০°
ব্যাখ্যা:
বন্ধুরা, এটা জ্যামিতির একটা জাদুকরী নিয়ম। শুধু ত্রিভুজ নয়—চতুর্ভুজ, পঞ্চভুজ বা যেকোনো বহুভুজের বাইরের কোণগুলো (Exterior Angles) যোগ করলে সব সময় ৩৬০° হবে।
কেন জানো? মনে করো তুমি ত্রিভুজের একটা বাহু ধরে হাঁটছ। প্রতিটি কোণায় তুমি একটু করে ঘুরলে। এভাবে পুরো ত্রিভুজটা ঘুরে যখন আবার আগের জায়গায় আসবে, তুমি আসলে নিজের অজান্তেই একবার পূর্ণ চক্কর বা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ফেলেছ। তাই বাইরের কোণগুলোর যোগফল সবসময় এক রাউন্ড বা ৩৬০°।
৮. ARRANGE শব্দটির বর্ণগুলো কত প্রকারে সাজানো যায়, যাতে R-দুটি পাশাপাশি না থাকে?
(ক) ৩৬০
(খ) ১৪০
(গ) ৯০০
(ঘ) ১২৬০
সঠিক উত্তর: (গ) ৯০০
ব্যাখ্যা:
প্রথমে দেখি মোট কতভাবে সাজানো যায়। শব্দটিতে মোট ৭টি অক্ষর, যার মধ্যে ২টি A এবং ২টি R।
মোট সাজানো = $\frac{৭!}{২! \times ২!} = \frac{৫০৪০}{৪} = ১২৬০
এখন ধরি, দুটি R যেন যমজ ভাই, তারা সবসময় একসাথে থাকবে। তাহলে (RR)-কে ১টি অক্ষর ধরলে মোট অক্ষর হয় ৬টি।
একসাথে থাকার উপায় = $\frac{৬!}{২!} = ৩৬০ (শুধু A-এর জন্য ২ দিয়ে ভাগ)।
আমাদের চাই ‘পাশাপাশি না থাকা’।
অতএব, মোট উপায় থেকে ‘পাশাপাশি থাকার’ উপায় বাদ দিলেই উত্তর পেয়ে যাব।
উত্তর = ১২৬০ – ৩৬০ = ৯০০।
৯. $\frac{a^2 b^2}{c^2 d} \div \frac{a^3 b^2}{c d^2}$ দ্বারা ভাগ করলে ভাগফল কত হবে?
(ক) $\frac{d}{ac}$
(খ) $\frac{ab^2}{cd}$
(গ) $\frac{b^2c}{ad}$
(ঘ) $\frac{bd^2}{ac}$
সঠিক উত্তর: (ক) $\frac{d}{ac}$
ব্যাখ্যা:
ভগ্নাংশের ভাগের নিয়ম হলো—‘উল্টে দিয়ে গুণ করা’। চলো, দ্বিতীয় ভগ্নাংশটিকে উল্টে দিই।
$\frac{a^2 b^2}{c^2 d} \times \frac{c d^2}{a^3 b^2}$
এবার শুরু হবে কাটাকাটি খেলা:
১. উপরে $b^2$ আর নিচে $b^2$ কাটা।
২. নিচে $c^2$ (দুইটা c) আর উপরে একটা $c$ কাটলে, নিচে একটা $c$ থাকে।
৩. উপরে $d^2$ (দুইটা d) আর নিচে একটা $d$ কাটলে, উপরে একটা $d$ থাকে।
৪. উপরে $a^2$ আর নিচে $a^3$ কাটলে, নিচে একটা $a$ থাকে।
সবশেষে যা থাকল: উপরে শুধু $d$, আর নিচে $a$ এবং $c$।
উত্তর: $\frac{d}{ac}$
১০. বাতাসের কোন উপাদান মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে?
(ক) নাইট্রোজেন
(খ) জলীয় বাষ্প
(গ) অক্সিজেন
(ঘ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর: (ক) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা:
গাছপালার বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে জরুরি খাবার হলো নাইট্রোজেন। বাতাসে প্রচুর নাইট্রোজেন আছে, কিন্তু গাছ তা সরাসরি খেতে পারে না।
কিছু বিশেষ ব্যাকটেরিয়া (যেমন রাইজোবিয়াম) বাতাসের এই নাইট্রোজেনকে ধরে মাটিতে মিশিয়ে দেয়, যা মাটির উর্বরতা বাড়ায়। ইউরিয়া সারেও কিন্তু এই নাইট্রোজেনই থাকে। অক্সিজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইড গাছের শ্বাসের জন্য লাগলেও, মাটির শক্তি বা উর্বরতা বাড়ানোর আসল নায়ক হলো এই নাইট্রোজেন।
১১. $\frac{৫}{৮}$ এর $\frac{৩}{৫}$ এর সাথে কত যোগ করলে যোগফল ১ হবে?
(ক) $\frac{৫}{৮}$
(খ) $\frac{৩}{৮}$
(গ) $\frac{৩}{৫}$
(ঘ) $\frac{৫}{৩}$
সঠিক উত্তর: (ক) $\frac{৫}{৮}$
ব্যাখ্যা:
অংকটি ধাপে ধাপে সমাধান করি। ‘এর’ মানে হলো গুণ।
প্রথমে: $\frac{৫}{৮} \times \frac{৩}{৫}$
এখানে উপরের ৫ আর নিচের ৫ কাটা গিয়ে থাকে $\frac{৩}{৮}$।
এখন প্রশ্ন হলো, এই $\frac{৩}{৮}$-এর সাথে কত যোগ করলে ১ হবে? ১ মানে হলো সম্পূর্ণ অংশ বা $\frac{৮}{৮}$।
তোমার কাছে ৮ ভাগের ৩ ভাগ আছে, আর কত ভাগ হলে ৮ ভাগ পূর্ণ হবে?
$৮ – ৩ = ৫$ ভাগ।
অর্থাৎ, দরকার $\frac{৫}{৮}$।
১২. ৩০ টাকা ৭৫ টাকার শতকরা কত?
(ক) ৪০%
(খ) ৩৫%
(গ) ২৫%
(ঘ) ৩৭ $\frac{১}{২}$%
সঠিক উত্তর: (ক) ৪০%
ব্যাখ্যা:
শতকরার অংক মানেই ১০০-তে কত তা বের করা।
ঐকিক নিয়মে ভাবো: ৭৫ টাকার মধ্যে ৩০ টাকা।
তাহলে ১ টাকার মধ্যে $\frac{৩০}{৭৫}$।
আর ১০০ টাকার মধ্যে $\frac{৩০ \times ১০০}{৭৫}$।
কাটাকাটি করি:
২৫ দিয়ে কাটলে: ৭৫-এর মধ্যে ৩ বার, ১০০-এর মধ্যে ৪ বার।
৩ দিয়ে ৩০-কে কাটলে ১০।
বাকি রইল $১০ \times ৪ = ৪০$।
সুতরাং উত্তর ৪০%।
১৩. একটি স্কুলের ৭০% ছাত্র ফুটবল, ৭৫% ছাত্র হকি এবং ৮০% ছাত্র ক্রিকেট পছন্দ করে। ঐ স্কুলের কত শতাংশ ছাত্র তিনটি খেলাই পছন্দ করে?
(ক) ৩৫%
(খ) ৫০%
(গ) ২৫%
(ঘ) ৩০%
সঠিক উত্তর: (গ) ২৫%
ব্যাখ্যা:
এই ধরনের অংকে আমরা বের করব কারা খেলা ‘পছন্দ করে না’।
ফুটবল অপছন্দ = ১০০ – ৭০ = ৩০%
হকি অপছন্দ = ১০০ – ৭৫ = ২৫%
ক্রিকেট অপছন্দ = ১০০ – ৮০ = ২০%
মোট অপছন্দকারীর হার = ৩০ + ২৫ + ২০ = ৭৫%।
(ধরে নেওয়া হচ্ছে এদের মধ্যে কোনো কমন অপছন্দকারী নেই বা মিনিমাম ইন্টারসেকশন চাওয়া হয়েছে)।
তাহলে, তিনটি খেলাই পছন্দ করে এমন ছাত্র হবে বাকি অংশটুকু।
$১০০ – ৭৫ = ২৫%$।
অর্থাৎ ক্লাসের ২৫ জন ছাত্র সব খেলাতেই আছে।
১৪. পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি ৭০ বছর। ০৭ বছর আগে তাদের বয়সের অনুপাত ছিল ৫:২। ০৫ বছর পর তাদের বয়সের অনুপাত কত হবে?
(ক) ৩:১
(খ) ৫:১
(গ) ৭:২
(ঘ) ৪:১
সঠিক উত্তর: (অপশন ভুল, সঠিক উত্তর ১৩:৭)
ব্যাখ্যা:
বর্তমান বয়সের সমষ্টি ৭০।
৭ বছর আগে দুজনের বয়স কম ছিল: $৭+৭=১৪$ বছর।
৭ বছর আগে সমষ্টি ছিল: $৭০-১৪=৫৬$ বছর।
অনুপাত ছিল ৫:২। মানে ৭ ভাগে ভাগ করলে ১ ভাগ = $৫৬/৭ = ৮$ বছর।
৭ বছর আগে বাবার বয়স $৫ \times ৮ = ৪০$, ছেলের $২ \times ৮ = ১৬$।
বর্তমান বয়স: বাবা $৪০+৭=৪৭$, ছেলে $১৬+৭=২৩$।
৫ বছর পর বয়স হবে: বাবা $৪৭+৫=৫২$, ছেলে $২৩+৫=২৮$।
অনুপাত: $৫২ : ২৮$। ৪ দিয়ে কাটলে পাই ১৩ : ৭।
(যেহেতু অপশনে সঠিক উত্তর নেই, তাই এটি বোনাস মার্ক বা প্রিন্টিং মিস্টেক হতে পারে)।
১৫. ১০ টাকায় ১২টি ও ১০ টাকায় ৮টি দরে সমান সংখ্যক লিচু কিনে সব লিচু টাকায় ১০টি করে বিক্রয় করলে শতকরা কত লাভ বা ক্ষতি হবে?
(ক) ৫০% লাভ
(খ) লাভ বা ক্ষতি কিছুই হবে না
(গ) ২৫% লাভ
(ঘ) ৪% ক্ষতি
সঠিক উত্তর: (ঘ) ৪% ক্ষতি
ব্যাখ্যা:
মনে করি, দুই প্রকারের ১২টি ও ৮টি, অর্থাৎ ২৪টি করে লিচু কেনা হলো (লসাগু ধরে)।
১ম প্রকার: ১২টায় ১০ টাকা $\rightarrow$ ২৪টায় ২০ টাকা।
২য় প্রকার: ৮টায় ১০ টাকা $\rightarrow$ ২৪টায় ৩০ টাকা।
মোট কেনা ৪৮টি লিচুর দাম = $২০+৩০=৫০$ টাকা।
বিক্রয়ের সময়: ১০টায় ১০ টাকা (১টায় ১ টাকা)।
তাহলে ৪৮টি লিচু বিক্রি করে পেল ৪৮ টাকা।
কিনেছে ৫০ টাকায়, বেচেছে ৪৮ টাকায়। ক্ষতি হলো ২ টাকা।
শতকরা ক্ষতি = $\frac{২}{৫০} \times ১০০ = ৪%$।
১৬. নবায়নযোগ্য জ্বালানী কোনটি?
(ক) কয়লা
(খ) পেট্রোল
(গ) পরমাণু শক্তি
(ঘ) প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর: (গ) পরমাণু শক্তি (অপশন সাপেক্ষে)
ব্যাখ্যা:
সাধারণত কয়লা, পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হলো জীবাশ্ম জ্বালানি, যা একবার পোড়ালে শেষ হয়ে যায়। এগুলো নবায়নযোগ্য নয়।
অন্যদিকে পরমাণু শক্তি বা নিউক্লিয়ার এনার্জি জীবাশ্ম জ্বালানি নয় এবং এটি খুব সামান্য কাঁচামাল দিয়ে দীর্ঘসময় শক্তি দিতে পারে। যদিও এটি পুরোপুরি নবায়নযোগ্য (সূর্যের মতো) নয়, কিন্তু কয়লা-গ্যাসের তুলনায় একে ‘বিকল্প’ বা ‘ক্লিন এনার্জি’ হিসেবে ধরা হয়। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে এটিই একমাত্র যা জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, তাই পরীক্ষার খাতায় এটিই গ্রহণযোগ্য উত্তর।
১৭. $(০.০০৩)^২$ = ?
(ক) ০.০০৯
(খ) ০.০০৩৯
(গ) ০.০০০৯
(ঘ) ০.০০০০৯
সঠিক উত্তর: (ঘ) ০.০০০০৯ (কাছাকাছি সঠিক)
ব্যাখ্যা:
দশমিকের গুণের নিয়মটা খুব সোজা। প্রথমে সংখ্যাগুলোর গুণ করো: $৩ \times ৩ = ৯$।
এবার দশমিকের ঘর গুনতে হবে। $০.০০৩$-এ দশমিকের পর ৩টি ঘর আছে। স্কয়ার করলে ($০.০০৩ \times ০.০০৩$) মোট ঘর হবে ৩ + ৩ = ৬টি।
তাহলে ৯-এর আগে ৫টি শূন্য বসিয়ে মোট ৬ ঘর বানাতে হবে।
সঠিক উত্তর: ০.০০০০০৯।
অপশন (ঘ)-তে ৪টি শূন্য আছে (০.০০০০৯), যা সঠিক উত্তরের সবচেয়ে কাছাকাছি বা টাইপিং মিস্টেক। তাই এটিকেই উত্তর হিসেবে ধরা হয়।
১৮. ০, ১, ২, ৩ ও ৪ দ্বারা গঠিত ০৫ অঙ্কের বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম সংখ্যা যোগ করলে যোগফল কত হবে?
(ক) ৫৩৪৪৪
(খ) ৫৩২৪৪
(গ) ৫৩৪৪২
(ঘ) ৫৩৪৪৬
সঠিক উত্তর: (ক) ৫৩৪৪৪
ব্যাখ্যা:
অঙ্কগুলো: ০, ১, ২, ৩, ৪।
বৃহত্তম সংখ্যা বানাতে বড় থেকে ছোট সাজাই: ৪৩২১০।
ক্ষুদ্রতম সংখ্যা বানাতে ছোট থেকে বড় সাজাব, কিন্তু ০ শুরুতে বসলে মান কমে যায়, তাই ১-কে আগে দেব: ১০২৩৪।
এবার যোগ করি:
৪৩২১০
১০২৩৪
৫৩৪৪৪
১৯. একটি বর্গাকার জমির দৈর্ঘ্য ২০% বাড়ালে এবং প্রস্থ ১০% কমালে ক্ষেত্রফল কতটুকু বৃদ্ধি/হ্রাস পাবে?
(ক) ৫% বৃদ্ধি
(খ) ১০% বৃদ্ধি
(গ) ৮% বৃদ্ধি
(ঘ) ২% বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর: (গ) ৮% বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা:
এর জন্য একটা শর্টকাট সূত্র আছে: $A + B + \frac{A \times B}{১০০}$।
এখানে দৈর্ঘ্য বাড়ছে তাই $A = +২০$।
প্রস্থ কমছে তাই $B = -১০$।
মান বসাই:
$২০ – ১০ + \frac{২০ \times (-১০)}{১০০}$
$= ১০ – ২$
$= ৮%$
যেহেতু উত্তর পজিটিভ এসেছে, তাই ক্ষেত্রফল ৮% বৃদ্ধি পাবে।
২০. কোন ভগ্নাংশটি ক্ষুদ্রতম?
(ক) $\frac{১১}{১৪}$
(খ) $\frac{১৭}{২১}$
(গ) $\frac{৫}{৬}$
(ঘ) $\frac{২}{৩}$
সঠিক উত্তর: (ঘ) $\frac{২}{৩}$
ব্যাখ্যা:
সবগুলোকে দশমিকে বা সমহরে নিয়ে তুলনা করা যায়। কিন্তু সহজ বুদ্ধি হলো ‘কোণাকুণি গুণ’।
যেমন (গ) ও (ঘ) চেক করি:
$\frac{৫}{৬}$ আর $\frac{২}{৩}$
গুণ করি: $৫ \times ৩ = ১৫$ এবং $৬ \times ২ = ১২$।
যেহেতু ১২ ছোট, তাই $\frac{২}{৩}$ ছোট।
বাকিগুলোর সাথে তুলনা করলেও দেখবে $\frac{২}{৩}$ (যার মান ০.৬৬…) সবার চেয়ে ছোট। বাকিরা সবাই ০.৭০-এর উপরে।
২১. দুটি সংখ্যার ল.সা.গু ৩৬ এবং গ.সা.গু ০৬। একটি সংখ্যা ১২ হলে অপরটি কত?
(ক) ১৮
(খ) ৯
(গ) ১২
(ঘ) ১৫
সঠিক উত্তর: (ক) ১৮
ব্যাখ্যা:
এটার একটা খুব সুন্দর সূত্র আছে:
দুটি সংখ্যার গুণফল = ল.সা.গু $\times$ গ.সা.গু
ধরি, অপর সংখ্যাটি ‘ক’।
তাহলে, $১২ \times \text{ক} = ৩৬ \times ৬$
বা, $\text{ক} = \frac{৩৬ \times ৬}{১২}$
১২ দিয়ে ৩৬ কে কাটলে ৩ হয়।
তাহলে, $\text{ক} = ৩ \times ৬ = ১৮$।
২২. $\frac{a – b + b(a-b)}{a-b}$ = কত?
(ক) 1+b
(খ) (1-b)(a-b)
(গ) $\frac{a-b}{1+b}$
(ঘ) $\frac{1-b}{a+b}$
সঠিক উত্তর: (ক) ১৮
ব্যাখ্যা:
এটার একটা খুব সুন্দর সূত্র আছে:
দুটি সংখ্যার গুণফল = ল.সা.গু x গ.সা.গু
ধরি, অপর সংখ্যাটি ‘ক’।
তাহলে, $১২ \times \text{ক} = ৩৬ \times ৬$
বা, $\text{ক} = \frac{৩৬ \times ৬}{১২}$
১২ দিয়ে ৩৬ কে কাটলে ৩ হয়।
তাহলে, $\text{ক} = ৩ \times ৬ = ১৮$।
গণিতের ভীতি কাটাতে Khan Academy Bangla এর ভিডিওগুলো দেখুন এতে আপনার বেসিক স্ট্রং হবে।
৬. প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশের সমাধান (২০ নম্বর)
এই অংশটি হলো আপনার পর্যবেক্ষণের পরীক্ষা। আপনি পৃথিবী সম্পর্কে কতটা খোঁজখবর রাখেন, তা এখানে যাচাই করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্ন সমাধান ২০২৬-এ বাংলাদেশ বিষয়াবলি থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে।
১. বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি?
(ক) অক্সফোর্ড
(খ) কেমব্রিজ
(গ) আল আজহার
(ঘ) নালন্দা
সঠিক উত্তর: (গ) আল আজহার (অপশন অনুযায়ী এটি সঠিক, তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেখুন)
ব্যাখ্যা:
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসটি বেশ রোমাঞ্চকর। যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর ইতিহাসে টিকে থাকা এবং এখনো চালু আছে এমন প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি? তবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী উত্তর হবে মরক্কোর ‘আল কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়’ (৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ)।
তবে, অপশনে যেহেতু আল কারাউইন নেই, তাই এখানের অপশনগুলোর মধ্যে মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় (৯৭০-৯৭২ খ্রিস্টাব্দ) সবচেয়ে প্রাচীন এবং এখনো শিক্ষাদান চালিয়ে যাচ্ছে। নালন্দা (৪২৭ খ্রিস্টাব্দ) অনেক পুরনো হলেও এটি মাঝখানে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং শত শত বছর বন্ধ ছিল, সম্প্রতি এটি আবার চালু হয়েছে। অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ আল আজহারের অনেক পরে প্রতিষ্ঠিত। তাই অপশনের বিচারে আল আজহারই প্রাচীনতম এবং চলমান।
২. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কে?
(ক) মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
(খ) সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
(গ) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
(ঘ) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
সঠিক উত্তর: (ঘ) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
ব্যাখ্যা:
শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি একটি চেইন অফ কমান্ড বা ধাপে ধাপে চলে। যদিও নিয়োগ পরীক্ষা ও তালিকা তৈরি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (কেন্দ্রীয়ভাবে), কিন্তু একজন সহকারী শিক্ষকের অফিশিয়াল বা দাপ্তরিক নিয়োগপত্র (Appointment Letter) যার স্বাক্ষরে দেওয়া হয়, তিনি হলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (DPEO)।
সহজ করে বললে, মহাপরিচালক বা মন্ত্রণালয় নীতি নির্ধারণ করে, কিন্তু মাঠে বা জেলায় বাস্তবায়ন করেন এই জেলা অফিসার। তবে মনে রাখবে, প্রধান শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। সহকারী শিক্ষকদের অভিভাবক বা বস হিসেবে জেলার এই অফিসারই মূল দায়িত্ব পালন করেন।
৩. UNFCCC এর পূর্ণ রূপ কী?
(ক) United Nations Fund for Climate Control Council
(খ) United Nations Framework Convention Climate Council
(গ) United Nations Framework Convention on Climate Change
(ঘ) United Nations Forest Conservation Climate Council
সঠিক উত্তর: (গ) United Nations Framework Convention on Climate Change
ব্যাখ্যা:
নামটি একটু বড় হলেও এর কাজটা আমাদের এই পৃথিবীর জন্য খুব জরুরি। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলনে এই সংস্থাটির জন্ম হয়।
এর মূল কাজ হলো আমাদের এই নীল গ্রহের জলবায়ু পরিবর্তন বা Climate Change নিয়ে কাজ করা। পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্ষতি থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে এই আন্তর্জাতিক চুক্তিটি তৈরি হয়েছে। তাই নামের শেষে ‘Climate Change’ কথাটি খেয়াল রাখবে। এটি জাতিসংঘের (UN) একটি ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো, যা দেশগুলোকে পরিবেশ রক্ষায় একত্রিত করে।
৪. বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
(ক) কুদরত-ই-খুদা কমিশন
(খ) মজিদ উদ্দিন কমিশন
(গ) শামসুল হক কমিশন
(ঘ) নাজমুল হুদা কমিশন
সঠিক উত্তর: (ক) কুদরত-ই-খুদা কমিশন
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুভব করলেন যে, একটি নতুন দেশের জন্য নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা দরকার। সেই লক্ষ্যেই স্বাধীনতার মাত্র কয়েক মাস পর, ১৯৭২ সালে তিনি বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরত-ই-খুদাকে প্রধান করে একটি কমিশন গঠন করেন।
এটিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন। এই কমিশন আমাদের শিক্ষার ভিত্তি বা ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে দিয়েছিল, যেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তাই কুদরত-ই-খুদা কমিশন আমাদের শিক্ষার ইতিহাসের প্রথম মাইলফলক।
৫. সহপাঠীর অনুভূতি বুঝতে পারা কোন ধরনের দক্ষতা?
(ক) ধারণা
(খ) জ্ঞানগত
(গ) আবেগীয়
(ঘ) ইমপ্যাক্ট
সঠিক উত্তর: (গ) আবেগীয়
ব্যাখ্যা:
সহপাঠীর অনুভূতি বুঝতে পারা—এটি কোনো বইয়ের পড়া বা অংকের হিসাব নয়, এটি হলো মনের ব্যাপার। একে বলা হয় ‘Empathy’ বা সহমর্মিতা।
যখন তুমি তোমার বন্ধুর দুঃখ দেখে নিজেও দুঃখ পাও বা তার আনন্দে খুশি হও, তখন তুমি আসলে তোমার আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence) ব্যবহার করছ। এটি এক ধরনের সামাজিক ও আবেগীয় দক্ষতা। গণিত বা বিজ্ঞানের জ্ঞান দিয়ে এটা মাপা যায় না, এটা মাপা হয় হৃদয় দিয়ে। তাই এটি নিঃসন্দেহে একটি আবেগীয় দক্ষতা।
৬. বিশ্ব মানবাধিকার দিবস কবে?
(ক) ২৬ জুন
(খ) ০১ আগস্ট
(গ) ১০ ডিসেম্বর
(ঘ) ০১ মে
সঠিক উত্তর: (গ) ১০ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর সারা বিশ্বের মানুষ বুঝতে পারল যে, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য একটি শক্ত দলিল দরকার। সেই লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ‘মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা’ গ্রহণ করে।
এই দিনটি সারা বিশ্বে মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং অধিকার রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন। তাই প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর আমরা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার দিবস পালন করি, যাতে কেউ যেন তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। এটি মানবতার বিজয়ের দিন।
৭. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কোন সালে স্বীকৃত হয়?
(ক) ১৯৯৮
(খ) ১৯৯৯
(গ) ২০০০
(ঘ) ২০০১
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৯৯
ব্যাখ্যা:
১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি আমরা রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষাকে রক্ষা করেছিলাম। কিন্তু এই গর্বের দিনটি সারা বিশ্বের স্বীকৃতি পায় অনেক পরে।
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) আমাদের অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এটি ছিল বাঙালি জাতির জন্য এক বিশাল আনন্দের সংবাদ। এরপর ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে এই দিনটি মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে। তবে স্বীকৃতির বা ঘোষণার সালটি হলো ১৯৯৯।
৮. একজন বাংলাভাষী শিশুর প্রাথমিক শিক্ষায় প্রথম ধাপ কী?
(ক) বাংলা ও গণিতের স্বাক্ষরতা
(খ) বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষতা
(গ) বাংলা ও আরবিতে দক্ষতা
(ঘ) স্বাক্ষরতা
সঠিক উত্তর: (ক) বাংলা ও গণিতের স্বাক্ষরতা (অপশন অনুযায়ী এটিই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক)
ব্যাখ্যা:
প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্যই হলো শিশুকে তার নিজের ভাষায় কথা বলতে, পড়তে ও লিখতে শেখানো এবং ছোটখাটো হিসাব বুঝতে সাহায্য করা।
একজন বাংলাভাষী শিশু যখন স্কুলে যায়, তার প্রথম কাজ হলো তার মাতৃভাষা অর্থাৎ বাংলায় অক্ষরজ্ঞান বা স্বাক্ষরতা অর্জন করা। এর সাথে সাথেই জীবনের প্রয়োজনে প্রাথমিক গণিত বা সংখ্যার ধারণা তৈরি করা। ইংরেজি বা অন্য বিদেশি ভাষা শেখার আগে নিজের ভাষা ও মৌলিক গাণিতিক যুক্তি শেখাটাই হলো শিক্ষার প্রথম সিঁড়ি। তাই ‘বাংলা ও গণিতের স্বাক্ষরতা’ উত্তরটি এখানে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
৯. নিচের কোনটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়?
(ক) ফেসবুক
(খ) টুইটার
(গ) লিংকড ইন
(ঘ) উইকিপিডিয়া
সঠিক উত্তর: (ঘ) উইকিপিডিয়া
ব্যাখ্যা:
এই প্রশ্নের উত্তরটি বের করার জন্য আমাদের ‘কাজের ধরন’ দেখতে হবে।
- ফেসবুক, টুইটার, লিংকড ইন: এই তিনটিই হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Social Media)। এখানে মানুষ একে অপরের সাথে কথা বলে, ছবি শেয়ার করে এবং যোগাযোগ রক্ষা করে।
- উইকিপিডিয়া: এটি কিন্তু যোগাযোগ করার জায়গা নয়। এটি হলো একটি অনলাইন বিশ্বকোষ বা এনসাইক্লোপিডিয়া, যেখানে আমরা তথ্য বা জ্ঞান খুঁজি। এটি একটি তথ্যের ভাণ্ডার, আড্ডার জায়গা নয়।
তাই দলের বাইরে বা বেমানান শব্দটি হলো উইকিপিডিয়া।
১০. নিচের কোন রেখাটি বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে গিয়েছে?
(ক) কর্কট ক্রান্তি রেখা
(খ) মকর ক্রান্তি রেখা
(গ) সুমেরু বৃত্ত
(ঘ) বিষুব রেখা
সঠিক উত্তর: (ক) কর্কট ক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখবে, ঠিক মাঝখান দিয়ে একটি কাল্পনিক রেখা চলে গেছে। এই রেখাটির নাম কর্কট ক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer)।
এটি ২৩.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ বরাবর চলে গেছে। এই রেখাটি বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি—এই জেলাগুলোর ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। এই রেখার কারণেই আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে বেশ গরম পড়ে এবং আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ থাকে।
১১. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
(ক) হামিদুর রহমান
(খ) হামিনুজ্জামান
(গ) Pamuk
ই কান
(ঘ) তানভীর কবির
সঠিক উত্তর: (ক) হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা:
আমাদের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত যে শহীদ মিনারটি আমরা দেখি, তার মূল নকশা বা ডিজাইন যিনি করেছিলেন, তিনি হলেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান।
১৯৫৬-৫৭ সালের দিকে তিনি এই অসাধারণ নকশাটি তৈরি করেন। তাঁর সাথে সহযোগী স্থপতি হিসেবে ছিলেন নভেরা আহমেদ। হামিদুর রহমান চেয়েছিলেন এমন এক মিনার তৈরি করতে, যা মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো বাঙালি মায়ের সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতীক হবে। তাঁর সেই অমর সৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়েই আমরা আজও ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই।
১২. শিক্ষাদানের প্রথম ধাপ কোনটি?
(ক) পাঠ পরিকল্পনা
(খ) প্রশ্নোত্তর
(গ) পর্যালোচনা
(ঘ) মূল্যায়ন
সঠিক উত্তর: (ক) পাঠ পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা:
একজন ভালো শিক্ষক হলেন একজন ভালো স্থপতির মতো। বাড়ি বানানোর আগে যেমন নকশা করতে হয়, তেমনি ক্লাসে পড়ানোর আগেও শিক্ষককে ঠিক করতে হয় তিনি কী পড়াবেন এবং কীভাবে পড়াবেন। একেই বলা হয় পাঠ পরিকল্পনা বা Lesson Plan।
ক্লাসে ঢুকে সরাসরি প্রশ্ন করা বা মূল্যায়ন করা যায় না। আগে ঠিক করতে হয় আজকের লক্ষ্য কী, কোন উপকরণ ব্যবহার হবে, কতটুকু সময় নেওয়া হবে। এই পূর্বপ্রস্তুতি বা পরিকল্পনাই হলো সফল শিক্ষাদানের প্রথম ও প্রধান ধাপ।
১৩. বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় কোন সালে?
(ক) ১৯৯০
(খ) ১৯৯১
(গ) ১৯৯২
(ঘ) ১৯৯৩
সঠিক উত্তর: (ক) ১৯৯০
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক আইন। ১৯৯০ সালে জাতীয় সংসদে ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন’ পাস করা হয়।
আইনটি পাস হওয়ার পর, ১৯৯২ সালে এটি দেশের ৬৮টি থানায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় এবং ১৯৯৩ সালে সারা দেশে কার্যকর করা হয়। তবে আইনের জন্ম বা পাসের সালটি জানতে চাইলে সঠিক উত্তর হবে ১৯৯০। এই আইনের ফলেই এখন সব শিশুর জন্য প্রাথমিক স্কুলে যাওয়া বাধ্যতামূলক।
১৪. কোন পদটি সাংবিধানিক পদ নয়?
(ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার
(খ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন
(গ) চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
(ঘ) মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
সঠিক উত্তর: (গ) চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
ব্যাখ্যা:
সাংবিধানিক পদ হলো সেই সব পদ, যার কথা বাংলাদেশের সংবিধানে সরাসরি লেখা আছে।
- নির্বাচন কমিশন (১১৮ অনুচ্ছেদ), সরকারি কর্ম কমিশন বা PSC (১৩৭ অনুচ্ছেদ) এবং মহা হিসাব নিরীক্ষক বা CAG (১২৭ অনুচ্ছেদ)—এগুলোর কথা সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
- কিন্তু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংবিধানের মাধ্যমে তৈরি হয়নি; এটি ২০০৯ সালে একটি সাধারণ আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এর চেয়ারম্যানের পদটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি সাংবিধানিক পদ নয়, বরং এটি একটি বিধিবদ্ধ (Statutory) পদ।
১৫. শিশুর কোন আচরণটি সামাজিক বিকাশের উদাহরণ?
(ক) পড়াশোনায় ভালো ফল করা
(খ) ছবি আঁকায় পারদর্শিতা
(গ) বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা
(ঘ) শ্রেণিকক্ষে নির্দেশ মেনে চলা
সঠিক উত্তর: (গ) বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা
ব্যাখ্যা:
‘সামাজিক বিকাশ’ মানে হলো একা একা না থেকে অন্যের সাথে মিশতে শেখা।
পড়াশোনা বা ছবি আঁকা—এগুলো শিশু একা একাও করতে পারে, এগুলো তার ব্যক্তিগত বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ। নির্দেশ মেনে চলা হলো নিয়মুবর্তিতা। কিন্তু যখন একটি শিশু বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করে, তখন তাকে অন্যের মতামত মানতে হয়, দলের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে হয়, হার-জিত মেনে নিতে হয়। এই যে ‘মিলেমিশে থাকা’র শিক্ষা, এটাই হলো প্রকৃত সামাজিকীকরণ বা সামাজিক বিকাশ।
১৬. বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কোন সালে টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা লাভ করে?
(ক) ১৯৯৯
(খ) ২০০০
(গ) ২০০১
(ঘ) ১৯৯৮
সঠিক উত্তর: (খ) ২০০০
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিনগুলোর একটি হলো ২৬ জুন ২০০০ সাল। এই দিনেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) বাংলাদেশকে ১০ম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে মর্যাদা দেয়।
এর আগে ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয় ছিল আমাদের প্রথম বড় সাফল্য, যা আমাদের বিশ্বকাপের দরজা খুলে দেয়। আর ২০০০ সালের এই টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার মাধ্যমেই আমরা ক্রিকেটের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করি। সেই বছরের নভেম্বরেই ভারতের বিপক্ষে আমরা আমাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলি।
১৭. বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “সকল শিশুর জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা” উল্লেখ করা হয়েছে?
(ক) ১৮ অনুচ্ছেদ
(খ) ১৪ অনুচ্ছেদ
(গ) ১৫ অনুচ্ছেদ
(ঘ) ১৭ অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর: (ঘ) ১৭ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে।
সংবিধানের এই অনুচ্ছেদটিতে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন তারা একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত (বর্তমানে যা প্রাথমিক পর্যায়) সকল শিশুর জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করে এবং তা হবে সম্পূর্ণ ফ্রি বা অবৈতনিক। এই অনুচ্ছেদটিই আমাদের দেশের সব শিশুর শিক্ষার অধিকারের আইনি ভিত্তি। মনে রাখার উপায়: ১৭ বছর বয়সের আগেই যেন স্কুলের পাঠ শেষ হয়, এমন একটা ইঙ্গিত মনে রাখতে পারো!
১৮. জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা হলো-
(ক) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
(খ) পারিবারিক শিক্ষা
(গ) অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা
(ঘ) আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর: (গ) অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা (Informal Education)
ব্যাখ্যা:
শিক্ষা মানেই যে শুধু স্কুল-কলেজের চার দেয়ালের মধ্যে বই পড়া, তা কিন্তু নয়। মানুষ জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তে শিখছে।
রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে, বড়দের কথা শুনে, প্রকৃতির কাছ থেকে বা ঠেকে শেখা—এই যে জীবনের পাঠশালা থেকে শেখা, এর কোনো সিলেবাস নেই, কোনো পরীক্ষা নেই। একেই বলা হয় অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা। পারিবারিক শিক্ষা এর একটা অংশ মাত্র, কিন্তু পুরো জীবনব্যাপী এই শেখার প্রক্রিয়াটিকে সামগ্রিকভাবে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা বলা হয়।
১৯. ‘ব্রেটন উডস ইনস্টিটিউট’ বলতে কোন সংস্থাকে বোঝায়?
(ক) ক ও খ উভয়ই
(খ) আইএমএফ
(গ) বিশ্বব্যাংক
(ঘ) এডিবি
সঠিক উত্তর: (ক) ক ও খ উভয়ই (অর্থাৎ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক)
ব্যাখ্যা:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে, ১৯৪৪ সালে আমেরিকার নিউ হ্যাম্পশায়ারের ‘ব্রেটন উডস’ নামক স্থানে একটি বিখ্যাত সম্মেলন হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বের অর্থনীতিকে আবার দাঁড় করানো।
সেই সম্মেলন থেকেই জমজ দুই ভাই বা বোনের মতো দুটি বড় অর্থনৈতিক সংস্থার জন্ম হয়—
১. IMF (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল)
২. World Bank (বিশ্বব্যাংক)
যেহেতু এই দুটির জন্ম একই স্থানে এবং একই সম্মেলনে, তাই এই দুটি সংস্থাকে একত্রে ‘ব্রেটন উডস ইনস্টিটিউট’ বা ব্রেটন উডস যমজ (Twins) বলা হয়।
২০. ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হলেন-
(ক) ওলেং সে ইয়াতি
(খ) জন এস ম্যাতিস
(গ) মারিয়া জেসিনো মাচাতো
(ঘ) নার্গিস মোহাম্মদী
সঠিক উত্তর: (ঘ) নার্গিস মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা:
২০২৩ সালে সাহসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ইরানের মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মোহাম্মদী।
তিনি ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং সবার জন্য মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করার জন্য এই সম্মাননা পান। পুরস্কার ঘোষণার সময়ও তিনি ইরানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। তাঁর এই সংগ্রাম সারা বিশ্বের নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে এক নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে। তাই শান্তির দূত হিসেবে ২০২৩ সালে তাঁর নামই ইতিহাসের পাতায় উঠে এসেছে।
সাধারণ জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে Banglapedia এবং প্রতিদিনের পত্রিকা পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
৭. প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ এর প্রশ্নপত্র (PDF)
আপনি কি প্রশ্নপত্রটি আপনার সংগ্রহে রাখতে চান? হয়তো আপনার ছোট ভাই বা বোন আগামীতে পরীক্ষা দেবে, কিংবা আপনি নিজেই ভুলগুলো শুধরে নিতে চান। সোশ্যাল মিডিয়ার ঝাপসা ছবি দেখে চোখ নষ্ট না করে, নিচে দেওয়া লিংক থেকে ঝকঝকে পরিষ্কার PDF ফাইলটি পড়ে নিন।
Primary Question Solution 2026 PDF
(নোট: পিডিএফ ফাইলটি ওপেন করতে আপনার ফোনে Adobe Reader বা যেকোনো PDF ভিউয়ার থাকতে হবে)
৮. কাট মার্ক বা সেফ জোন:
পরীক্ষা দেওয়ার পর যে প্রশ্নটি পরীক্ষার্থীদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, তা হলো “কাট মার্ক কত হবে?”। ইউটিউব বা ফেসবুকে অনেকেই মনগড়া কাট মার্ক বলে ভিউ বাড়াতে চায়। কিন্তু আমরা এখানে একটি বিজ্ঞানসম্মত এবং লজিক্যাল বিশ্লেষণ দেব।

কাট মার্ক মূলত ৩টি ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে:
- ১. প্রশ্নের কাঠিন্য: প্রশ্ন সহজ হলে কাট মার্ক বাড়ে, কঠিন হলে কমে।
- ২. শূন্য পদ: আপনার উপজেলায় পদ সংখ্যা কত?
- ৩. পরীক্ষার্থীর মান: আপনার উপজেলার বাকিরা কেমন পরীক্ষা দিয়েছে?
আমাদের বিশ্লেষণ:
- নিরাপদ জোন (Safe Zone): আপনি যদি ৬০+ নম্বর পান, তবে বলা যায় আপনি ভাইভার জন্য ডাক পাবেনই। এটি একটি খুব ভালো স্কোর।
- ফাইটিং জোন (Fighting Zone):৫৫-৫৯ নম্বরধারীরাও প্রবল সম্ভাবনায় আছেন। বিশেষ করে যেসব উপজেলায় পদ বেশি, সেখানে ৫৫ পেলেও চাকরি হতে পারে।
- রিস্কি জোন (Risky Zone):৫০-৫৪ নম্বর যারা পেয়েছেন, তাদের আশা ছাড়লে চলবে না। প্রশ্ন কঠিন হলে অনেক সময় ৫০-এও ভাইভার ডাক আসে। বিশেষ করে কোটা (নারী/পাস্য) থাকলে সম্ভাবনা থাকে।
সতর্কতা: ছেলেদের ক্ষেত্রে কাট মার্ক সাধারণত মেয়েদের চেয়ে ২-৩ নম্বর বেশি থাকে। তাই ছেলেদের টার্গেট সবসময় ৬০+ রাখা উচিত।
৯. প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ এর ফলাফল দেখার নিয়ম
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ পরীক্ষা তো দিলেন, রেজাল্ট কখন জানেন? সাধারণত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ১ মাসের মধ্যেই প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে আপনার মোবাইলে এসএমএস চলে আসবে (যদি আপনি পাস করেন)।
তাছাড়া আপনি অনলাইনেও ফলাফল দেখতে পারবেন:
১. ভিজিট করুন: dpe.gov.bd
২. নোটিশ বোর্ডে “Primary Assistant Teacher Result 2026” লিংকে ক্লিক করুন।
৩. আপনার রোল নম্বর দিয়ে সার্চ দিন।
রেজাল্ট না দেওয়া পর্যন্ত অযথা দুশ্চিন্তা করে সময় নষ্ট করবেন না। এই সময়টা নিজেকে স্কিল্ড করুন। কম্পিউটার শিখতে পারেন, কিংবা ইংরেজিতে কথা বলা প্র্যাকটিস করতে পারেন। এগুলো ভাইভা এবং পরবর্তী জীবনে কাজে লাগবে।
১০. প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ এর ভাইভা প্রস্তুতি:
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ লিখিত পরীক্ষায় পাস করা মানে যুদ্ধের অর্ধেক জয় করা। বাকি অর্ধেক হলো ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা। ভাইভায় সাধারণত ২০ নম্বর থাকে। লিখিত পরীক্ষার নম্বরের সাথে ভাইভার নম্বর যোগ করেই চূড়ান্ত মেধা তালিকা করা হয়।
ভাইভার জন্য কিছু টিপস:
নিজ জেলা সম্পর্কে জানুন: আপনার জেলার ইতিহাস, বিখ্যাত ব্যক্তি, নদ-নদী এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নখদর্পণে রাখুন।
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং কারাগারের রোজনামচা বইগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখুন। Liberation War Museum এর ওয়েবসাইট থেকে অথেনটিক তথ্য পাবেন।
প্রাথমিক শিক্ষা: প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো জানুন।
বাচনভঙ্গি: মার্জিত পোশাক এবং শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার অভ্যাস করুন।
মনে রাখবেন, ভাইভা বোর্ডে তারা আপনার জ্ঞান পরীক্ষার চেয়ে বেশি দেখেন আপনার স্মার্টনেস এবং শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা।
১১. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
পরীক্ষার্থীদের মনে জমে থাকা কিছু কমন প্রশ্নের উত্তর এখানে দেওয়া হলো:
প্রশ্ন: নেগেটিভ মার্কিং কি সব প্রশ্নের জন্যই প্রযোজ্য?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। উত্তর না দিলে কোনো নম্বর কাটা যাবে না।
প্রশ্ন: আমি যদি ৬০ পাই, আমার কি চাকরি হবে?
উত্তর: এটি নির্ভর করে আপনার উপজেলার প্রতিযোগীদের ওপর। তবে ৬০ নম্বর একটি অত্যন্ত ভালো স্কোর এবং চাকরি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
প্রশ্ন: কোটা পদ্ধতি কি এবারও থাকছে?
উত্তর: সরকারি বিধি মোতাবেক কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। তবে গেজেট বা সার্কুলারে কোনো পরিবর্তন আসলে তা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেবে।
প্রশ্ন: ভাইভা পরীক্ষা কি লিখিত পরীক্ষার রেজাল্টের পরপরই হবে?
উত্তর: সাধারণত লিখিত পরীক্ষার রেজাল্টের ১৫-২০ দিন পর থেকে জেলাভিত্তিক ভাইভা শুরু হয়।
শেষ কথা: হার-জিতের ঊর্ধ্বে
প্রিয় হবু শিক্ষক,
আজকের পরীক্ষার ফলাফল যাই হোক না কেন, মনে রাখবেন—একটি মাত্র পরীক্ষা আপনার জীবনের সবটুকু নির্ধারণ করতে পারে না। যদি আপনার পরীক্ষা ভালো হয়ে থাকে, তবে শুকরিয়া আদায় করুন এবং ভাইভার প্রস্তুতি নিন। আর যদি কোনো কারণে পরীক্ষা খারাপ হয়ে থাকে, তবে হতাশ হয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেবেন না।
হয়তো সৃষ্টিকর্তা আপনার জন্য এর চেয়েও ভালো কিছু অপেক্ষা করিয়ে রেখেছেন। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিন। কেন গণিতে কম পারলেন? কেন ইংরেজিটা কঠিন লাগল? আজই বসে সেই দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করুন এবং আগামীর জন্য দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।
ক্যারিয়ার বিষয়ক যেকোনো পরামর্শ, মোটিভেশন এবং সঠিক গাইডলাইন পেতে LinkedIn Career Advice বা বাংলাদেশের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম 10 Minute School Blog নিয়মিত পড়তে পারেন।
আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা ও দোয়া রইল। আপনার সফলতাই আমাদের অনুপ্রেরণা।
আমাদের এই আর্টিকেলটি যদি আপনার সামান্যতম উপকারেও আসে, তবেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক। আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও তাদের কনফিউশন দূর করতে পারে।
সবসময় সঠিক, নির্ভুল এবং দ্রুত চাকরির খবর ও সমাধান পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বুকমার্ক করে রাখুন।
References:
- Textbook curriculum verified from National Curriculum and Textbook Board (NCTB).
- Data regarding primary education structure referenced from Directorate of Primary Education (DPE).
- Grammar rules and explanations consulted with British Council Learn English.
- Historical facts checked against Banglapedia – National Encyclopedia of Bangladesh.
- Vocabulary definitions sourced from Oxford Learner’s Dictionaries.
- Mathematics learning resources referenced from Khan Academy.
- Career advice principles adapted from LinkedIn Learning.
Please don’t forget to leave a review of my article.




![[16.01.2026] ব্যাখ্যাসহ সহকারী পরিচালক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ । AD MCQ প্রশ্ন উত্তর ২০২৬ ব্যাখ্যাসহ সহকারী পরিচালক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ । AD MCQ প্রশ্ন উত্তর ২০২৬](https://dailyictpost.com/wp-content/uploads/2026/01/ব্যাখ্যাসহ-সহকারী-পরিচালক-প্রশ্ন-সমাধান-২০২৬-।-AD-MCQ-প্রশ্ন-উত্তর-২০২৬.webp)


Comments are closed.