সরকারি চাকরি মানেই সম্মান, নিরাপত্তা আর দেশের সেবা করার সুযোগ। কিন্তু কিছু চাকরি আছে যেখানে আপনি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে পারেন। নিরাপদ খাদ্য অফিসারের চাকরিটি ঠিক তেমনই। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন, আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ৯ম গ্রেডের (নিরাপদ খাদ্য অফিসার ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা) পদের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। হাতে সময় খুব কম। যারা ১২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন- আসলে একজন নিরাপদ খাদ্য অফিসার এর কাজ কি?
মাঠ পর্যায়ে ভেজাল বিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা- এই পদের কাজের পরিধি বিশাল। আপনি যদি এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চান বা পরীক্ষার জন্য নিজেকে ঝালিয়ে নিতে চান, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এখানে আমরা পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে একদম বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জানব এই পদের খুঁটিনাটি, দায়িত্ব, ক্ষমতা, চ্যালেঞ্জ এবং পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

নিরাপদ খাদ্য অফিসার পদের নিয়োগ ও পরীক্ষার জরুরি তথ্য (আপডেট ২০২৬)
কথায় আছে, “সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।” পরীক্ষার হলে বসার আগে আপনার হাতে থাকা তথ্যাবলি সঠিক কি না, তা মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। গত ২৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বর্তমান নিয়োগ কার্যক্রমটি চলছে।
| তথ্যের বিবরণ | বিস্তারিত |
|---|---|
| পদের নাম | নিরাপদ খাদ্য অফিসার (Safe Food Officer) |
| বেতন গ্রেড | ৯ম গ্রেড (২২,০০০ – ৫৩,০৬০ টাকা) |
| নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান | বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) |
| বাছাই পরীক্ষা (MCQ) | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার) |
| প্রবেশপত্র | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডাউনলোড চলছে |
| পরীক্ষার কেন্দ্র | ঢাকা শহরের বিভিন্ন নির্বাচিত স্কুল ও কলেজ |
| পরবর্তী ধাপ | লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা (একই প্রবেশপত্রে) |
যারা এখনো প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেননি, তারা দ্রুত টেলিটকের ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে নিন। মনে রাখবেন, এই প্রবেশপত্রটিই কিন্তু ভাইভা পর্যন্ত আপনার সঙ্গী হবে।
নিরাপদ খাদ্য অফিসার এর কাজ কি?
অনেকে মনে করেন, নিরাপদ খাদ্য অফিসারের কাজ বুঝি শুধু দোকানে দোকানে গিয়ে জরিমানা করা। ধারণাটি ভুল। নিরাপদ খাদ্য অফিসার এর কাজ কি, তা বুঝতে হলে আমাদের তাকাতে হবে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ এর দিকে। একজন অফিসারকে একই সাথে পুলিশিং (মনিটরিং), বিচারিক সহায়তা এবং শিক্ষকের ভূমিকা পালন করতে হয়।
চলুন, গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে তাদের প্রধান কাজগুলো বিস্তারিতভাবে জেনে নিই:
১. খাদ্য স্থাপনা পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ
একজন অফিসারের রুটিন ওয়ার্কের বড় অংশ জুড়ে থাকে পরিদর্শন। তার আওতাধীন এলাকায় যত হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফুড ফ্যাক্টরি বা বেকারি আছে, সেগুলো নিয়মিত ভিজিট করা তার দায়িত্ব।
নিরাপদ খাদ্য অফিসার এর কাজ হলো
- পরিচ্ছন্নতা যাচাই: রান্নাঘর কতটা পরিষ্কার, বাবুর্চিদের হাতে গ্লাভস বা মাথায় ক্যাপ আছে কি না।
- কাঁচামাল পরীক্ষা: রান্নায় পচা বা বাসি উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে কি না।
- গ্রেডিং স্টিকার: আপনারা হয়তো রেস্তোরাঁয় সবুজ (A+), নীল (A) বা হলুদ (B) রঙের স্টিকার দেখেছেন। রেস্তোরাঁর মান যাচাই করে এই গ্রেডিং করার কাজটি মূলত নিরাপদ খাদ্য অফিসার কি ধরনের কাজ করে তার একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।
২. বিজ্ঞানসম্মত নমুনা সংগ্রহ (Scientific Sample Collection)
মাঠ পর্যায়ে সব ভেজাল খালি চোখে ধরা পড়ে না। ধরুন, ফলের মধ্যে ক্ষতিকর কারবাইড আছে কি না বা দুধে অ্যান্টিবায়োটিক আছে কি না—তা বোঝার জন্য ল্যাব টেস্ট জরুরি।
- স্যাম্পলিং প্রসেস: অফিসার সন্দেহজনক খাদ্যদ্রব্য থেকে নির্দিষ্ট নিয়মে নমুনা সংগ্রহ করেন।
- সিলগালা ও প্রেরণ: সেই নমুনা যেন কেউ পরিবর্তন করতে না পারে, তাই তৎক্ষণাৎ সিলগালা করে ল্যাবে পাঠানো হয়।
- রিপোর্ট বিশ্লেষণ: ল্যাব থেকে রিপোর্ট আসার পর যদি দেখা যায় খাদ্যে ভেজাল আছে, তবে সেই অনুযায়ী তিনি মামলার প্রস্তুতি নেন।
৩. মোবাইল কোর্ট ও ভেজাল বিরোধী অভিযান
খবরের পাতায় আমরা প্রায়ই দেখি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বড় বড় প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাচ্ছে। এই নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান সফল করার পেছনের কারিগর হলেন নিরাপদ খাদ্য অফিসার।
- তিনি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে সাথে নিয়ে স্পটে যান।
- আইন লঙ্ঘনকারীদের চিহ্নিত করেন।
- ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ এর কোন ধারায় অপরাধ হয়েছে, তা নিশ্চিত করেন এবং জরিমানা বা শাস্তির সুপারিশ করেন।
৪. জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ (Training & Awareness)
শুধুমাত্র শাস্তি দিয়ে মানুষকে শোধরানো কঠিন। তাই একজন নিরাপদ খাদ্য অফিসার চাকরির কাজ এর মধ্যে পড়ে মানুষকে সচেতন করা।
- স্কুল প্রোগ্রাম: তারা স্কুলে গিয়ে শিশুদের নিরাপদ টিফিন ও জাঙ্ক ফুড বর্জনের ব্যাপারে শিক্ষা দেন।
- খাদ্য ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ: যারা রাস্তার ধারে খাবার বিক্রি করেন বা হোটেলের কর্মী, তাদের হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেন।
- সেমিনার: জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন।
নিরাপদ খাদ্য অফিসার ডিউটি কি: দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ
মাঠের কাজের বাইরেও একজন অফিসারকে ডেস্কে বসে প্রচুর সময় দিতে হয়। নিরাপদ খাদ্য অফিসার জব ডেসক্রিপশন এ অফিশিয়াল কাজগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

- মনিটরিং রিপোর্ট তৈরি: প্রতি মাসে কয়টি অভিযান হলো, কয়টি নমুনা সংগ্রহ হলো—এসবের বিস্তারিত প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো।
- লাইসেন্স যাচাই: তার এলাকার খাদ্য ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নবায়ন আছে কি না, তা ডাটাবেস চেক করে নিশ্চিত করা।
- অভিযোগ নিষ্পত্তি: বর্তমানে ‘৩৩৩’ বা অনলাইনের মাধ্যমে প্রচুর অভিযোগ আসে। যেমন—”অমুক হোটেলের বিরিয়ানিতে টিকটিকি পাওয়া গেছে”। এই অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্ত করা নিরাপদ খাদ্য অফিসার দায়িত্ব কি কি তার মধ্যে পড়ে।
- কমিটি মিটিং: জেলা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে মিটিংয়ের এজেন্ডা তৈরি ও কার্যবিবরণী লেখা।
ক্ষমতা ও এখতিয়ার: নিরাপদ খাদ্য অফিসার কতটা শক্তিশালী?
সরকারি চাকরিতে ‘পাওয়ার’ বা ক্ষমতা একটি বড় ফ্যাক্টর। নিরাপদ খাদ্য অফিসার কি কাজ করে, তা জানার পাশাপাশি তাদের আইনি ক্ষমতা জানলে আপনি অবাক হবেন। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ তাদের ‘অনুমোদিত অফিসার’ হিসেবে কিছু বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে:
- বিনা নোটিশে প্রবেশ: তিনি যেকোনো সময়, যেকোনো খাদ্য উৎপাদন বা বিক্রয় কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেন। এর জন্য আদালতের আগাম অনুমতির প্রয়োজন নেই।
- জব্দ করার ক্ষমতা: জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মনে হলে তিনি যেকোনো পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য তাৎক্ষণিক জব্দ (Seize) করতে পারেন।
- ধ্বংস করার ক্ষমতা: পচনশীল বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার স্পটেই ধ্বংস করার ক্ষমতা তার আছে।
- সরাসরি মামলা: তিনি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে সরাসরি অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিতে পারেন।
একজন নিরাপদ খাদ্য অফিসারের লাইফস্টাইল:
বিষয়টি আরেকটু সহজ করে বোঝা যাক। ধরুন, আপনিই সেই অফিসার। আপনার দিনটা কেমন কাটবে? নিরাপদ খাদ্য অফিসার কাজ বাংলায় বুঝতে এই দৃশ্যপটটি সাহায্য করবে।
সকাল ৯:৩০: অফিসে পৌঁছে ফাইলের স্তূপ দেখলেন। গতকালের অভিযানের রিপোর্ট তৈরি করলেন।
সকাল ১১:০০: খবর পেলেন শহরের পাইকারি বাজারে আমে কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে। দ্রুত টিম রেডি করে পুলিশের সহায়তায় সেখানে পৌঁছালেন।
দুপুর ১:০০: অভিযানে গিয়ে হাতেনাতে প্রমাণ পেলেন। ম্যাজিস্ট্রেট স্যার জরিমানা করলেন, আপনি জব্দ তালিকা তৈরি করলেন।
বিকেল ৩:৩০: লাঞ্চের পর স্থানীয় একটি বেকারি মালিক সমিতির সাথে মিটিংয়ে বসলেন। তাদের বোঝালেন কেন পোড়া তেল বারবার ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
বিকেল ৫:০০: বাসায় ফেরার পথে দেখলেন একজন স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা গ্লাভস ছাড়াই খাবার পরিবেশন করছেন। গাড়ি থামিয়ে তাকে বুঝিয়ে বললেন এবং সতর্ক করলেন।
অর্থাৎ, এই চাকরিটি আপনাকে একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দেবে। প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও মানুষের সাথে মেশার সুযোগ পাবেন।
নিরাপদ খাদ্য অফিসার পদে কর্মরতদের কাজ কী:
সব চাকরিরই মুদ্রার উল্টো পিঠ থাকে। নিরাপদ খাদ্য অফিসার পদে কর্মরতদের কাজ কী, সেটা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জিং দিকও আছে।

১. প্রভাবশালীদের চাপ: অনেক সময় বড় বড় কোম্পানি বা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাতে গেলে নানামুখী চাপের মুখে পড়তে হয়। এখানে আপনার মেরুদণ্ড শক্ত রাখাটা জরুরি।
২. জনবল সংকট: এখনো এই দপ্তরে পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে একজনের ওপর অনেক কাজের চাপ পড়ে।
৩. নিরাপত্তা ঝুঁকি: ভেজাল কারবারিদের স্বার্থে আঘাত লাগলে তারা অনেক সময় হুমকি-ধমকি দেয়। তবে প্রশাসনের সহযোগিতা থাকায় ভয়ের কিছু নেই।
৪. প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা: মফস্বল এলাকায় সবসময় আধুনিক ল্যাব সুবিধা বা টেস্টিং কিট পাওয়া যায় না, যা কাজের গতি কমিয়ে দেয়।
ক্যারিয়ার হিসেবে নিরাপদ খাদ্য অফিসার পদ কেন বেছে নেবেন?
এত চ্যালেঞ্জের পরেও কেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী এই পদের জন্য লড়াই করছে? কারণ এর সুযোগ-সুবিধা ও সম্মান।
সামাজিক মর্যাদা:
আপনি সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন। ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করলে মানুষ আপনাকে মন থেকে দোয়া করবে।
বেতন ও ভাতা:
৯ম গ্রেডের চাকরি হিসেবে শুরুতে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা (স্থানভেদে) বেতন পাবেন। সাথে আছে সরকারি কোয়ার্টার বা বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব বোনাস।
উচ্চতর প্রশিক্ষণ:
এই দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণে পাঠানো হয় (যেমন—জাপান, ইউরোপ) ফুড সেফটি নিয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য।
প্রমোশন:
কাজের দক্ষতা দেখালে সহকারী পরিচালক থেকে শুরু করে পরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতির সিঁড়ি খোলা রয়েছে।
আরও বিস্তারিত ক্যারিয়ার টিপস এবং সরকারি চাকরির আপডেটের জন্য ভিজিট করতে পারেন:
Daily ICT Post
নিরাপদ খাদ্য অফিসার পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ টার্গেট
সামনে পরীক্ষা, হাতে সময় নেই। নিরাপদ খাদ্য অফিসার এর কাজ কি—এই টপিক থেকে কিন্তু ভাইভা বোর্ডে এবং লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসবেই। তাই শেষ মুহূর্তে নিচের বিষয়গুলো ঝালিয়ে নিন:
এজন্য এই পোস্ট পড়তে পারেনঃ {সদ্য সমাপ্ত} বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (BFSA Job Question Solution 2026)
১. নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ (খুবই গুরুত্বপূর্ণ)
পুরো আইন মুখস্থ করার দরকার নেই। কিন্তু কিছু ধারা অবশ্যই জানতে হবে:
- ধারা ২৩-২৯: খাদ্যে ভেজাল মেশানো, মেয়াদের তারিখ পরিবর্তন ইত্যাদির অপরাধ।
- ধারা ৫৮-৬২: অপরাধের শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ।
- মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯: মোবাইল কোর্ট কীভাবে কাজ করে, তার বেসিক ধারণা।
২. খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান
আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড সায়েন্স হলে সুবিধা পাবেন। তবে সাধারণ জ্ঞানের জন্য এগুলো পড়ুন:
- ফরমালিন কী? এটি কীভাবে কাজ করে?
- কারবাইড, টেক্সটাইল কালার, মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (টেস্টিং সল্ট)—এগুলোর ক্ষতিকর দিক।
- Vitamin, Protein, Carbohydrate এর অভাবজনিত রোগ।
৩. বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
- BFSA কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? (২০১৫ সালে)।
- এর সদর দপ্তর কোথায়?
- বর্তমান চেয়ারম্যানের নাম কী?
- মুজিব বর্ষ ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সরকারের ভিশন।
নিরাপদ খাদ্য অফিসার সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর
চাকরিপ্রার্থীদের মনে নিরাপদ খাদ্য অফিসার এর কাজ কি এবং নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে। এখানে সেরা ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:
১. নিরাপদ খাদ্য অফিসার ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের মধ্যে পার্থক্য কী?
নিরাপদ খাদ্য অফিসার ৯ম গ্রেডের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, যার ক্ষমতা ও কাজের পরিধি অনেক ব্যাপক। অন্যদিকে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সাধারণত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে কাজ করেন এবং তাদের গ্রেড ভিন্ন। তবে উভয়ের কাজের লক্ষ্য জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা।
২. এই পদে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিষয় লাগে?
সাধারণত রসায়ন, প্রাণরসায়ন, মাইক্রোবায়োলজি, খাদ্য প্রযুক্তি বা কৃষি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হয়। সার্কুলারে নির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ থাকে।
৩. নিরাপদ খাদ্য অফিসার কি সরাসরি কাউকে জেল দিতে পারেন?
না। তিনি মোবাইল কোর্টে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা করেন। তবে তিনি নিয়মিত আদালতে (বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত) মামলা দায়ের করতে পারেন, যেখানে বিচারক শাস্তি ঘোষণা করেন।
৪. পোস্টিং কি নিজ জেলায় পাওয়া সম্ভব?
সরকারি চাকরিতে পোস্টিং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত নিজ জেলার বাইরে পোস্টিং দেওয়া হয় যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা যায়।
৫. কাজের চাপ কেমন থাকে?
কাজের চাপ মোটামুটি থাকে। বিশেষ করে রমজান মাসে বা উৎসবের সময় মনিটরিং ও অভিযানের চাপ বেড়ে যায়। তবে এটি একটি ডাইনামিক জব, বোরিং হওয়ার সুযোগ নেই।
৬. ভাইভাতে কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়?
ভাইভাতে মূলত আপনার সাবজেক্ট নলেজ, নিরাপদ খাদ্য আইন এবং উপস্থিত বুদ্ধি যাচাই করা হয়। পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্ন করা হতে পারে, যেমন—”আপনি অভিযানে গিয়ে দেখলেন আপনার পরিচিত কেউ ভেজাল দিচ্ছে, তখন কী করবেন?”
৭. এই চাকরিতে কি গাড়ি সুবিধা পাওয়া যায়?
অফিসিয়াল কাজের জন্য বা অভিযানের জন্য দাপ্তরিক গাড়ি ব্যবহার করা যায়। তবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সার্বক্ষণিক গাড়ি সাধারণত এই পদে বরাদ্দ নেই।
৮. পদোন্নতি হতে কত বছর লাগে?
এটি শূন্য পদের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত ৫-৭ বছরের মধ্যে সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতির সুযোগ আসে।
৯. নিরাপদ খাদ্য অফিসার কি পুলিশের সাহায্য নিতে পারেন?
অবশ্যই। যেকোনো অভিযান বা পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তার প্রয়োজনে তিনি পুলিশ বা আনসার বাহিনীর সহায়তা রিকুইজিশন দিতে পারেন।
১০. মেয়েদের জন্য এই চাকরি কেমন?
খুবই চমৎকার। বর্তমানে অনেক নারী নিরাপদ খাদ্য অফিসার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। দাপ্তরিক কাজ ও মাঠের কাজের ভারসাম্য থাকায় নারীদের জন্য এটি একটি সম্মানজনক পেশা।
শেষ কথা
খাবার ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। আর সেই খাবার যদি হয় বিষযুক্ত, তবে তা পুরো জাতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। নিরাপদ খাদ্য অফিসার এর কাজ কি- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা দেখলাম, এটি কেবল একটি চাকরি নয়, বরং এটি একটি সমাজে ভালমত টিকে থাকার মিশন।
আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে যারা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তাদের জন্য শুভকামনা। মনে রাখবেন, আপনার একটি সই বা একটি অভিযানের কারণে হয়তো হাজারো মানুষ ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি থেকে রক্ষা পাবে। নিজেকে সেই মহান দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করুন। সততা, নিষ্ঠা আর দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে এই সেক্টরে আপনি অনেক দূর এগিয়ে যাবেন।
পরীক্ষার হলে মাথা ঠান্ডা রাখুন, প্রশ্ন বুঝে উত্তর দিন। দেখা হবে বিজয়ে।
Please don’t forget to leave a review of my article.
