আপনি কি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আসন্ন নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন? কিংবা আপনি হয়তো জানতে চাইছেন যে একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এর কাজ কি এবং এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়লে ভবিষ্যৎ কেমন হবে?
যদি তাই হয়, তবে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। সরকারি চাকরির বাজারে ৯ম গ্রেডের এই পদটি যেমন সম্মানজনক, তেমনি এর দায়িত্বও অনেক। বিশেষ করে, আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার আগে এই পদের কাজের ধরন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা আপনার ভাইভা বা লিখিত পরীক্ষার জন্য বিশাল প্লাস পয়েন্ট হতে পারে। চলুন, একদম সহজ ভাষায় জেনে নিই এই পদের আদ্যপান্ত।

এক নজরে: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিয়োগ আপডেট ২০২৬
মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে, পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি কিছু রিমাইন্ডার দিয়ে রাখি। অবহেলায় যেন তারিখ পার না হয়ে যায়…..
Read more: নিরাপদ খাদ্য অফিসার এর কাজ কি : নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অফিস
- পদের নাম: নিরাপদ খাদ্য অফিসার ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা।
- পরীক্ষার তারিখ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ (এমসিকিউ)।
- প্রবেশপত্র ডাউনলোড: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে গেছে।
- কেন্দ্র: ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ।
যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, তাদের লিখিত এবং পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে। আর বিশ্বাস করুন, ভাইভা বোর্ডে আপনাকে টেকনিক্যাল প্রশ্নের পাশাপাশি অবশ্যই জিজ্ঞেস করবে—”বলুন তো, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কি কাজ করে?” তাই প্রস্তুতিটা এখন থেকেই নিন।
১. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এর কাজ কি?
গুগল বা বইয়ের ভাষায় না বলে চলুন সহজ করে বলি। একটি পরিবারের কথা চিন্তা করুন। পরিবারের বাবা বা মা যেমন আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখেন, ঠিক তেমনি একটি অফিসের ‘বাবা-মা’ বা আর্থিক অভিভাবক হলেন এই হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা।
একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বা Accounts Officer-এর মূল কাজ হলো প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পয়সার হিসাব রাখা। টাকা কোথা থেকে এলো, কোথায় গেল, কেন গেল এবং সেই খরচে সরকারি নিয়ম মানা হলো কিনা—এই সবকিছুর উত্তর তার কাছে থাকতে হয়। তিনি শুধু হিসাবই রাখেন না, বরং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ম্যানেজমেন্টকে সঠিক পরামর্শও দেন।
সারকথা: হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাজ কী—এর এক কথায় উত্তর হলো: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বাজেট নিয়ন্ত্রণ করা এবং সঠিক সময়ে অডিট রিপোর্ট প্রস্তুত করা।
২. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কি কাজ করে:
অফিসে ঢোকার পর একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কি কাজ করে, তা নিয়ে অনেকের মনেই ধোঁয়াশা থাকে। চলুন, এই ধোঁয়াশা কাটাই। নিচে তার কাজের বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:
ক) প্রতিদিনের লেনদেন লিপিবদ্ধ করা
অফিসে প্রতিদিন চা-নাস্তা থেকে শুরু করে কোটি টাকার প্রজেক্টের বিল আসে। এই প্রতিটি খরচের ভাউচার চেক করা এবং সেটি লেজার বুকে বা সফটওয়্যারে এন্ট্রি দেওয়া তার প্রধান কাজ।
খ) বিল ও ভাউচার যাচাই-বাছাই
কেউ একটা বিল জমা দিলেই কিন্তু তিনি সই করেন না। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দায়িত্ব কি—তা এখানে বোঝা যায়। তিনি দেখেন বিলটি ভুয়া কি না, পণ্যের দাম বাজারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন আছে কি না।
গ) বেতন-ভাতা বা স্যালারি ম্যানেজমেন্ট
মাস শেষ হওয়ার আগেই সবার মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব তার। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ওভারটাইম, উৎসব ভাতা এবং ইনক্রিমেন্ট ঠিকঠাক হিসাব করে ব্যাংকে এডভাইস পাঠানো তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ঘ) বাজেট কন্ট্রোলিং
বছরের শুরুতে অফিস পরিচালনার জন্য একটি বাজেট তৈরি করা হয়। কোন খাতে কত টাকা খরচ করা যাবে, তা নির্ধারণ করা এবং বছর জুড়ে সেই বাজেটের বাইরে যেন খরচ না হয়, তা মনিটর করা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা চাকরির কাজ এর বড় একটি অংশ।
Read more: {সদ্য সমাপ্ত} বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (BFSA Job Question Solution 2026)
৩. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাজ কী: সরকারি বনাম বেসরকারি
চাকরিটা যদি সরকারি হয়, তবে কাজের ধরন কিছুটা ভিন্ন হয়। আর বেসরকারি হলে সেখানে প্রফিট বা লাভের বিষয়টাই মুখ্য থাকে।
সরকারি অফিসে কাজের ধরন
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সরকারি চাকরির কাজ মূলত নিয়ম বা বিধি-বিধান কেন্দ্রিক। এখানে তাকে জিএফআর (General Financial Rules), পিপিআর (PPR), এবং ট্রেজারি রুলস নখদর্পণে রাখতে হয়। সরকারি টাকার যেন বিন্দুমাত্র অপচয় না হয়, সেদিকে তাকে কঠোর নজর রাখতে হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে তাকে iBAS++ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিল সাবমিট করতে হয়।
বেসরকারি অফিসে কাজের ধরন
বেসরকারি চাকরিতে মালিক পক্ষ চায় খরচ কমিয়ে লাভ বাড়াতে। তাই সেখানে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মানে কি—তা কিছুটা ভিন্ন। সেখানে তাকে কস্ট অডিটিং এবং ট্যাক্স প্ল্যানিং নিয়ে বেশি কাজ করতে হয়।
৪. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দায়িত্ব কি:
এই জায়গাটাতেই একজন অ্যাকাউন্স অফিসারের আসল দক্ষতা প্রমাণ পায়।
অডিট ও ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা
- অডিট ফেস করা: বছর শেষে যখন অডিট টিম আসে, তখন অফিসের ফাইলপত্র ঠিকঠাক বুঝিয়ে দেওয়া এবং তাদের যেকোনো আপত্তির (Audit Objection) জবাব দেওয়া বা সেটেল করা তার কাজ। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি সময়।
- ভ্যাট ও ট্যাক্স: সরকারি নিয়ম মেনে প্রতিটি বিল থেকে ভ্যাট এবং ট্যাক্স কেটে রাখা (VDS & TDS) এবং তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কি করতে হয়—তার মধ্যে অন্যতম। ভুল করলেই জরিমানা.
৫. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাজ কি ভাই:
অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, “ভাই, অফিসে গিয়ে আসলে কী করব? সারাদিন কি শুধু ক্যালকুলেটর চাপব?” তাদের জন্য একটি কাল্পনিক রুটিন নিচে দেওয়া হলো:
| সময় | কাজের বিবরণ |
|---|---|
| সকাল ৯:৩০ | অফিসে প্রবেশ, মেইল চেক করা এবং পেন্ডিং বিলের ফাইলগুলো বের করা। |
| সকাল ১০:৩০ | বিভিন্ন সেকশন থেকে আসা ভাউচারগুলো যাচাই করা এবং সাইন করা। |
| দুপুর ১২:০০ | ব্যাংকের কাজ তদারকি করা (চেক ইস্যু বা জমা)। |
| দুপুর ২:৩০ | লাঞ্চের পর সফটওয়্যারে (ট্যালি বা এক্সেল) ডাটা এন্ট্রি আপডেট দেখা। |
| বিকাল ৪:০০ | উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে মিটিং বা ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা। |
৬. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা চাকরির কাজ: রিপোর্ট তৈরি ও বিশ্লেষণ
মাস শেষে বসকে বলতে হয়, “স্যার, আমাদের আয় এত, ব্যয় এত।” এই তথ্যগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করাই হলো ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং। ইনকাম স্টেটমেন্ট, ব্যালেন্স শিট, এবং ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্ট তৈরি করা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ডিউটি কি—তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৭. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জব ডেসক্রিপশন: নিয়োগকর্তা যা চান
আপনি যখন কোনো জবের জন্য আবেদন করবেন, তখন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জব ডেসক্রিপশন এ সাধারণত নিচের দক্ষতাগুলো চাওয়া হয়:
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিসাববিজ্ঞান বা ফিন্যান্সে স্নাতক/স্নাতকোত্তর। (সিএ/সিএমএ থাকলে অগ্রাধিকার)।
- সফটওয়্যার দক্ষতা: এমএস এক্সেল (MS Excel) এর অ্যাডভান্সড কাজ, ট্যালি (Tally), বা ইআরপি সফটওয়্যার জানা।
- যোগাযোগ দক্ষতা: ব্যাংকের লোক বা ভেন্ডরদের সাথে কথা বলে কাজ আদায় করার ক্ষমতা।
আরও বিস্তারিত এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক টিপস পেতে ভিজিট করতে পারেন Daily ICT Post, যেখানে প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে হিসাবরক্ষণের আধুনিকায়ন নিয়েও আলোচনা করা হয়।
৮. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এর কাজ ও দায়িত্ব: টিম লিডিং
একজন অফিসার হিসেবে আপনার অধীনে ক্যাশিয়ার বা জুনিয়র অ্যাকাউন্টেন্টরা কাজ করবেন। তাদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া, ভুল হলে সংশোধন করা এবং টিমের মধ্যে কাজের সমন্বয় করা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এর কাজ ও দায়িত্ব। আপনি যদি ভালো লিডার না হন, তবে মাস শেষে হিসাবে গরমিল দেখা দিতে পারে।
৯. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা চাকরি কেমন: সুবিধা ও অসুবিধা
সব চাকরির মতো এখানেও মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ আছে। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা চাকরি কেমন—তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিচের পয়েন্টগুলো দেখুন:
কেন এই চাকরি করবেন? (সুবিধা)
- সম্মান ও ক্ষমতা: অফিসের ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার আপনার হাতে থাকে। সবাই আপনাকে সমীহ করে।
- ক্যারিয়ার গ্রোথ: অভিজ্ঞতা বাড়লে চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO) হওয়ার সুযোগ থাকে।
- স্থায়িত্ব: বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে এই পদের নিরাপত্তা ও পেনশন সুবিধা অনেক।
চ্যালেঞ্জগুলো কী কী? (অসুবিধা)
- কাজের চাপ: জুন মাস (অর্থবছরের শেষ) আসলে কাজের চাপে নিঃশ্বাস ফেলার সময় থাকে না।
- ঝুঁকি: টাকার হিসাবে সামান্য ভুল হলে বা ক্যাশ শর্ট হলে নিজের পকেট থেকে দিতে হতে পারে বা জবাবদিহি করতে হয়।
১০. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পরীক্ষার জন্য কাজ জানা: ভাইভা প্রস্তুতি
সামনে যেহেতু নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা, তাই হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পরীক্ষার জন্য কাজ জানা আপনার জন্য বোনাস। লিখিত পরীক্ষায় ম্যাথ বা জাবেদা আসলেও, ভাইভাতে আপনাকে প্র্যাকটিক্যাল প্রশ্ন করবে। যেমন:
- “একটা ভুয়া ভাউচার কিভাবে চিনবেন?”
- “বাজেট আর একচুয়াল খরচে পার্থক্য হলে কী করবেন?”
১১. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ভাইভায় কি কাজ জিজ্ঞেস করে
ভাইভা বোর্ডে নিজেকে প্রমাণ করতে হলে নিচের বিষয়গুলো ঝালিয়ে নিন:
- হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ভাইভায় কি কাজ জিজ্ঞেস করে—এর উত্তরে তারা জানতে চাইতে পারে ভ্যাট ক্যালকুলেশনের নিয়ম সম্পর্কে।
- ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া।
- সরকারি ক্রয় নীতি (PPR) সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা।
১২. সরকারি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এর কাজ: পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট
সরকারি অফিসে একজন কর্মী তার সারা জীবনের সঞ্চয় বা পেনশনের জন্য হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। সঠিক সময়ে জিপিএফ (GPF) ফান্ড বা পেনশনের ফাইল প্রসেস করে দেওয়া সরকারি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এর কাজ এর একটি মানবিক দিক। এখানে অযথা হয়রানি না করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব।
১৩. মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাজ: পলিসি ও বরাদ্দ
আপনি যদি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কাজ করেন, তবে মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাজ একটু হাই প্রোফাইল হয়। সেখানে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া এবং মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের ফান্ড রিলিজ করার কাজ করতে হয়।
১৪. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে কি দায়িত্ব থাকে: ইনভেন্টরি বা স্টক
শুধু নগদ টাকা নয়, অফিসের চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে গোডাউনের মালামাল—সবই কিন্তু সম্পদ। বছর শেষে এই সব সম্পদের ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করা বা গুনে দেখা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে কি দায়িত্ব থাকে তার মধ্যে পড়ে। একে বলা হয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট।
১৫. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অফিসে কি কাজ করে: সমন্বয়ক
সহজ কথায়, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অফিসে কি কাজ করে—তিনি হলেন অফিসের সেতুবন্ধন। এইচআর ডিপার্টমেন্ট বেতন চায়, মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট বিজ্ঞাপনের টাকা চায়, আর পারচেজ ডিপার্টমেন্ট কেনাকাটার টাকা চায়। সবার চাহিদা মিটিয়ে এবং নিয়ম মেনে টাকার জোগান দেওয়াই তার আর্ট বা দক্ষতা।
১৬. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাজ বাংলায়: শেষ কথা
এতক্ষণ অনেক কঠিন কথা হলো। একদম খাঁটি বাংলায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাজ বাংলায় বলতে গেলে—তিনি হলেন অফিসের সেই ব্যক্তি যাকে সবাই ‘কিপটে’ ভাবলেও দিনশেষে তার সততার ওপরই প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে। তার স্বাক্ষর ছাড়া এক টাকার চেকও ক্যাশ হয় না।
উপসংহার
পরিশেষে, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এর কাজ কি—এটা কেবল খাতা-কলমের হিসাব মেলানো নয়, বরং এটি একটি বিশাল দায়িত্ব। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতো প্রতিষ্ঠানে এই পদে কাজ করার সুযোগ পাওয়া গর্বের বিষয়।
আপনি যদি সংখ্যা ভালোবাসেন, যদি আপনার ধৈর্য থাকে এবং সততা আপনার শক্তি হয়, তবে এই পেশা আপনার জন্যই। আগামী ২৪ জানুয়ারির পরীক্ষার জন্য এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামুন। আপনার মেধা ও পরিশ্রম আপনাকে সাফল্যের দ্বারে পৌঁছে দেবে। শুভকামনা রইল আপনার আগামী দিনের জন্য!
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
আপনার মনে হয়তো আরও কিছু প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। চলুন, চট করে জেনে নিই উত্তরগুলো।
১. আর্টস বা সায়েন্স থেকে কি এই পদে আবেদন করা যায়?
সাধারণত না। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদের জন্য বাণিজ্য বিভাগ (Commerce) বা ব্যবসায় শিক্ষা থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকা আবশ্যক। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে শিথিলযোগ্য হতে পারে।
২. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাজ কি ভাই খুব বোরিং?
শুরুতে একটু একঘেয়ে লাগতে পারে, কিন্তু আপনি যখন কাজটা বুঝে যাবেন এবং বছর শেষে অডিট মিলিয়ে দেবেন, তখন যে তৃপ্তি পাবেন তা অন্য কোনো চাকরিতে নেই।
৩. চাকরিতে প্রমোশন কেমন?
খুবই ভালো। সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আপনি ফাইন্যান্স ম্যানেজার বা ডিরেক্টর পর্যন্ত হতে পারেন। সরকারি চাকরিতে গ্রেড আপগ্রেডেশনের সুযোগ থাকে।
৪. কম্পিউটার জানা কি বাধ্যতামূলক?
অবশ্যই! এখন আর কেউ বড় বড় খাতায় হাতে লিখে হিসাব রাখে না। এক্সেল এবং অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারে দক্ষতা থাকতেই হবে।
৫. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কি করতে হয় যদি ক্যাশ না মেলে?
এটি একজন অ্যাকাউন্টেন্টের জন্য দুঃস্বপ্ন। ক্যাশ না মিললে আপনাকে পুনরায় চেক করতে হবে, ভুল খুঁজে বের করতে হবে। আর যদি হারিয়ে যায়, তবে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে কাজের পরিবেশ কেমন?
সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজের পরিবেশ বেশ ভালো এবং নিরাপদ। এখানে কাজ করার মাধ্যমে আপনি জনস্বাস্থ্যেও পরোক্ষ অবদান রাখতে পারবেন।
৭. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জব ডেসক্রিপশন কি সব জায়গায় এক?
মূল কাজ একই, তবে প্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী দায়িত্বে কম-বেশি হতে পারে। ছোট অফিসে আপনাকে সব করতে হবে, বড় অফিসে হয়তো নির্দিষ্ট একটি পার্ট দেখতে হবে।
৮. সরকারি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এর কাজ কি ঝুঁকিপূর্ণ?
আর্থিক লেনদেন সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আপনি যদি নিয়ম বা রুলস মেনে কাজ করেন এবং কাগজে-কলমে স্বচ্ছ থাকেন, তবে ভয়ের কিছু নেই।
৯. এই পেশায় স্যালারি কেমন?
সরকারি চাকরিতে ৯ম গ্রেডে বেতন শুরু হয় (২২,০০০ টাকা বেসিক)। এর সাথে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা মিলিয়ে বেশ ভালো অংক দাঁড়ায়। বেসরকারি চাকরিতে অভিজ্ঞতা থাকলে বেতন অনেক বেশি হতে পারে।
১০. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পরীক্ষার জন্য কাজ জানা কতটা জরুরি?
খুবই জরুরি। ভাইভাতে আপনাকে কাজের প্র্যাকটিক্যাল নলেজ দিয়েই বিচার করা হবে। পুথিগত বিদ্যা এখানে খুব একটা কাজে আসে না।
Please don’t forget to leave a review of my article.
