কিভাবে মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটাবেন । ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

আপনার পরিবারের কোনো প্রিয়জন হয়তো কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। কিন্তু হঠাৎ ভোটার তালিকা চেক করতে গিয়ে দেখলেন যে, তার নাম এখনো ভোটার তালিকায় রয়েছে।

মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় থাকা মানেই “জাল ভোট” দেওয়ার জন্য আরেকটি উপায়। নির্বাচনের দিন হয়তো কেউ আপনার মৃত আত্মীয়ের নাম ব্যবহার করে ভোট দিয়ে আসবে। তাই হয়তো এই বিষয়টি আপনি জানতে পারলে মনের মধ্যে কেমন যেন করে উঠবে। 

মৃত ব্যক্তির নামে ভোট দেওয়া বা জালিয়াতি রোধ করা একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব। কিন্তু কিভাবে মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটাবেন? নির্বাচন অফিসে গেলেই কি নাম কাটা যাবে? নাকি এই কাজ করার জন্য অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হবে?

এই বিষয়টি অনেকে ঝামেলা মনে করে এই কাজটি এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমার এখানে দেখানো নিয়ম ফলো করে প্রক্রিয়াটি এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে বলে ধারণা পোষণ করি। 

তা এখানে কিভাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনের আগে মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেবেন, তার সঠিক এবং কার্যকরী উপায়গুলো চলুন জেনে নিই।

কিভাবে মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটাবেন । ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬
কিভাবে মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটাবেন । ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

কেন মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটাবেন

কেন মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটাবেন? মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকলে দুটি বড় সমস্যা হয়-

  • ১. জাল ভোটের ঝুঁকি: অসাধু ব্যক্তিরা এই সুযোগটি নেয়। তারা মৃত ব্যক্তির ভুয়া স্লিপ তৈরি করে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়। বিপক্ষ পার্টিরা ভোট দিয়ে জিতে যেতে পারে। 
  • ২. নির্বাচনী পরিসংখ্যানে ভুল: এলাকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ভুল দেখায় যা বিব্রতকর। এতে ভোট পড়ার হার সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায় না।

তাই  মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া শুধু আপনার পারিবারিক দায়িত্ব নয়, দেশের প্রতিও একটি দায়িত্বশীল আচরণ হিসেবে পরিগণিত। 

এই পোসটটি আপনাকে হেল্প করতে পারেঃ আপনার ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন করবেন কিভাবে? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটতে কখন আবেদন করবেন?

নির্বাচন কমিশন সারা বছরই মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটতে আবেদন গ্রহণ করে থাকেন। তাই নির্বাচনের ঠিক আগে, বিশেষ করে যখন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, তখন এই কাজটি করা সবচেয়ে সহজ বলে মনে করি। 

কারণ, এই সময়ে নির্বাচন কমিশন নিজেই তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করেন। তাই আপনার আবেদনটি দ্রুত আমলে নেওয়া হয়। তফসিল ঘোষণার (যা ইতিমধ্যে ঘোষিত হয়েছে) আগেই এই কাজটি সেরে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটার জন্য কি কি কাগজ প্রয়োজন? 

মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটার জন্য আবেদন করতে খুব বেশি কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই। শুধু নিচের দুটি ডকুমেন্ট অবশ্যই সাথে রাখবেন- 

মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটার জন্য কি কি কাগজ প্রয়োজন
মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে কাটার জন্য কি কি কাগজ প্রয়োজন
  • ১. মৃত ব্যক্তির এনআইডি কার্ডের ফটোকপি: যদি স্মার্ট কার্ড থাকে তাহলে সেটাই কাগজের সাথে জমা দিতে হবে। আর না থাকলে পুরোনো কার্ডের কপি।
  • ২. মৃত্যু সনদ: এই কাজের জন্য মৃত্যু সনদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া আসল মৃত্যু সনদ বা তার সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিবেন। 

মৃত ভোটারের নাম কাটতে আবেদন করার দুটি উপায়

মৃত ভোটারের নাম কাটতে আবেদন করার দুটি উপায় আছে। আপনি আপনার সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।

নিবন্ধনের স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয়ঃ নিবন্ধনের স্লিপ হারিয়ে গেছে? ২০২৬ সালে ভোট দেওয়ার নিয়ম জানুন

উপায় ১: ফর্ম-১২ পূরণ করে সরাসরি আবেদন

মৃত ভোটারের নাম কাটার জন্য ফর্ম-১২ পূরণ করে সরাসরি আবেদন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

মৃত ভোটারের নাম কাটার ফরম-১২
মৃত ভোটারের নাম কাটার ফরম-১২

স্টেপ ১: নির্বাচন অফিসে যাওয়া

মৃত ভোটারের নাম কাটতে আপনার এলাকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যান।

স্টেপ ২: ফর্ম-১২ সংগ্রহ

অফিস থেকে “ভোটার তালিকা হতে নাম কর্তনের আবেদন ফর্ম” বা ফর্ম-১২ সংগ্রহ করুন। 

স্টেপ ৩: ফর্ম পূরণ ও জমা

ফর্মে মৃত ব্যক্তির নাম, এনআইডি নম্বর এবং মৃত্যুর তারিখ সঠিকভাবে লিখুন। আবেদনকারী হিসেবে আপনার নিজের তথ্যও দিতে হবে। এরপর মৃত্যু সনদ ও এনআইডি কার্ডের ফটোকপি পিনআপ করে নির্বাচন অফিসারের কাছে জমা দিন।

নির্বাচন অফিসার আপনার কাগজপত্র দেখে আবেদনটি গ্রহণ করবেন এবং আপনাকে একটি রিসিভ কপি দেবেন। ব্যস, আপনার কাজ শেষ। বাকিটা অফিস তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

মৃত ভোটারের নাম কাটতে আবেদন করার ধাপ
মৃত ভোটারের নাম কাটতে আবেদন করার ধাপ

 

উপায় ২: তথ্য সংগ্রহকারীদের কাছে তথ্য জমা দেওয়া

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য হালনাগাদ (Update) করে, তখন তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া সবচেয়ে সহজ উপায় হতে পারে। 

যখন তথ্য সংগ্রহকারীরা আপনার বাড়িতে আসবেন, তখন তাদের কাছে মৃত ব্যক্তির তথ্য দিন। মৃত্যু সনদের একটি কপি তাদের হাতে দিন। তারা তাদের রেজিস্টার খাতায় মৃত ব্যক্তির নামের পাশে “মৃত” লিখে রিপোর্ট করবেন। এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই নির্বাচন কমিশন পরে নাম কেটে দেবে।

তথ্য সংগ্রহকারীদের কাছে তথ্য জমা দেওয়া
তথ্য সংগ্রহকারীদের কাছে তথ্য জমা দেওয়া

 

মৃত ভোটারের নাম কাটা অনলাইনে কি সম্ভব?

অনেকে প্রশ্ন করেন, “অনলাইনে কি মৃত ব্যক্তির নাম কাটার আবেদন করা যায়?”

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালে সরাসরি নাম কাটার কোনো অপশন নেই। তাই আপনি যদি মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট অনলাইনে অর্থাৎ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সার্ভারে এন্ট্রি করে থাকেন, তাহলে নির্বাচন কমিশনের সার্ভার অনেক সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই তথ্য আপডেট করে নেয়।

কিন্তু ১০০% নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়ে ফর্ম-১২ জমা দেওয়াই নিরাপদ হবে। 

তাই মৃত স্বজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ রাখতে আজই এই উদ্যোগ নিন। আপনার একটু সচেতনতাই একটি জাল ভোট বন্ধ করতে পারে।

Please don’t forget to leave a review of my article

Author

  • Daily ICT News Reporter

    dailyictpost.com টিম চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির প্রশ্ন সমাধান, সরকারি পদের কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি–ভিত্তিক তথ্য সহজ ও বাস্তব ভাষায় উপস্থাপন করে। পাশাপাশি আমরা আইসিটি, মোবাইল, কম্পিউটার, অ্যাপস, অনলাইন ইনকাম, ডিজিটাল টুলস ও সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো এমনভাবে ব্যাখ্যা করি, যেন পাঠক বুঝতে বুঝতেই শিখে ফেলেন।

    আমরা বিশ্বাস করি—প্রযুক্তি শেখা কঠিন নয়, যদি সেটি সঠিকভাবে বোঝানো যায়। তাই নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার, মোবাইল সেটিংস কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো জটিল বিষয়গুলো ধাপে ধাপে এমন ভাষায় তুলে ধরি, যেন মনে হয় আপনার পাশেই কেউ বসে সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

    আমাদের লক্ষ্য একটাই—পাঠক যেন নির্ভুল তথ্য পায়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেখে এবং বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে।

Visited 30 times, 1 visit(s) today

Comments are closed.