সুপ্রিয় চাকরিপ্রার্থী বন্ধুরা ও আমার স্নেহভাজন ছাত্রছাত্রীরা,সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনারা জানেন, আজ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026) পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি চাকরির বাজারে এই পদটি অত্যন্ত লোভনীয়, তাই প্রতিযোগিতাও ছিল বেশ তীব্র। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই সবার মনে একটাই প্রশ্ন- কেমন হলো পরীক্ষা? কাটমার্ক কত হতে পারে? কোন প্রশ্নের সঠিক উত্তর কী?
একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বিশ্লেষক হিসেবে, আমি আজকের এই প্রশ্নপত্রটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। প্রশ্নপত্রটি ছিল বেশ মানসম্মত- খুব কঠিনও নয়, আবার একদম পানির মতো সহজও নয়। যারা বেসিক কনসেপ্ট ক্লিয়ার রেখে নিয়মিত পড়াশোনা করেছেন, তাদের জন্য অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের খুব ভাল পরীক্ষা হয়েছে।
আজকের এই ব্লগে আমি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। শুধু উত্তর নয়, প্রতিটি প্রশ্নের পেছনের যুক্তি, ব্যাকরণিক নিয়ম এবং গণিতের শর্টকাট টেকনিকগুলো এমনভাবে ব্যাখ্যা করব, যেন আপনারা ক্লাসরুমে বসে শিখছেন। এই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ MCQ প্রশ্ন উত্তর এবং লিখিত অংশের বিশ্লেষণ আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। চলুন, আর দেরি না করে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক লিখিত পরীক্ষার সমাধান দেখে নিই।

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026)
এখানে বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ বিষয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026) আলোচনা করা হলো।
অংশ-১: বাংলা (Bangla) অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026)
বাংলা অংশে ব্যাকরণের মৌলিক বিষয়গুলো যেমন—সন্ধি, কারক, সমাস এবং এককথায় প্রকাশ থেকে প্রশ্ন এসেছে। এগুলো ভালোভাবে আয়ত্তে থাকলে পূর্ণ নম্বর তোলা সম্ভব। নিম্নে বাংলা বিষয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026) তুলে ধরা হলো।
Read more: শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস ২০২৬ (ntrca syllabus 2026) স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের
১. সন্ধি-বিচ্ছেদ করুন:
প্রশ্ন (ক): বনৌষধি
সঠিক উত্তর: বন + ওষধি
ব্যাখ্যা:
এটি স্বরসন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। নিয়মটি হলো: অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। এই ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। এখানে ‘বন’ শব্দের শেষে ‘অ’ ধ্বনি আছে এবং ‘ঔষধি’ শব্দের শুরুতে ‘ঔ’ ধ্বনি আছে। তাই (অ + ঔ) মিলে ‘ঔ’ কার হয়েছে, যা ‘ন’-এর সাথে যুক্ত হয়ে ‘বনৌষধি’ গঠিত হয়েছে। পরীক্ষায় প্রায়ই মহৌষধি (মহা + ঔষধি), পরমৌষধি (পরম + ঔষধি) শব্দগুলোও আসে। এই নিয়মটি মনে রাখলে এই ধরনের সন্ধি বিচ্ছেদে আর ভুল হবে না।
প্রশ্ন (খ): শীতার্ত
সঠিক উত্তর: শীত + ঋত
ব্যাখ্যা:
এটিও স্বরসন্ধির একটি বিশেষ নিয়ম। নিয়মটি হলো: অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘ঋ’ থাকলে উভয়ে মিলে ‘অর্’ হয়। এই ‘অর্’-এর ‘রেফ’ (র্) পরবর্তী বর্ণের মাথায় বসে। এখানে ‘শীত’ শব্দের শেষে ‘অ’ এবং ‘ঋত’ শব্দের শুরুতে ‘ঋ’ আছে। এই দুটি মিলে ‘অর্’ হয়েছে। এই ‘অর্’-এর ‘অ’ ত-এর সাথে মিশে গেছে এবং ‘র্’ (রেফ) পরবর্তী বর্ণ ‘ত’-এর মাথায় বসে ‘শীতার্ত’ হয়েছে। একইভাবে তৃষ্ণার্ত (তৃষ্ণা + ঋত), ক্ষুধার্ত (ক্ষুধা + ঋত) শব্দগুলো গঠিত হয়।
প্রশ্ন (গ): গবেষণা
সঠিক উত্তর: গো + এষণা
ব্যাখ্যা:
এটি সন্ধির নিপাতনে সিদ্ধ বা বিশেষ নিয়মের উদাহরণ। সাধারণ নিয়মে ও-কারের পর অ-কার থাকলে ‘অব्’ হওয়ার কথা। কিন্তু ‘গবেষণা’ শব্দটি সেই সাধারণ নিয়ম পুরোপুরি মানে না। এখানে ‘গো’ শব্দের ও-কার এবং ‘এষণা’ শব্দের এ-কার মিলে ‘অব’ ধ্বনির সৃষ্টি করেছে, যা গ-এর সাথে যুক্ত হয়ে ‘গব’ এবং পরে ‘এষণা’ যুক্ত হয়ে ‘গবেষণা’ হয়েছে। মনে রাখবেন, ‘এষণা’ মানে খোঁজা বা অন্বেষণ। ‘গরু খোঁজা’ থেকেই মূলত এই শব্দের উৎপত্তি, যা এখন ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন (ঘ): জাত্যভিমান
সঠিক উত্তর: জাতি + অভিমান
ব্যাখ্যা:
এটি য-ফলা সন্ধির উদাহরণ। নিয়মটি হলো: ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার বা ঈ-কার ছাড়া অন্য কোনো স্বরবর্ণ থাকলে, ই-কার বা ঈ-কারের জায়গায় য-ফলা (্য) হয়। এই য-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে যুক্ত হয়। এখানে ‘জাতি’ শব্দের শেষে ‘ই-কার’ এবং ‘অভিমান’ শব্দের শুরুতে ‘অ-কার’ (ভিন্ন স্বরবর্ণ) আছে। তাই ‘ই-কার’ টি য-ফলায় পরিণত হয়ে ত-এর সাথে যুক্ত হয়েছে (ত+্য = ত্য) এবং অভিমান-এর ‘অ’ সেই য-ফলার সাথে মিশে ‘জাত্যভিমান’ শব্দটি তৈরি করেছে।
প্রশ্ন (ঙ): পর্যালোচনা
সঠিক উত্তর: পরি + আলোচনা
ব্যাখ্যা:
এটিও য-ফলা সন্ধির একটি চমৎকার উদাহরণ। ‘পরি’ উপসর্গের শেষে ‘ই-কার’ আছে এবং ‘আলোচনা’ শব্দের শুরুতে ‘আ-কার’ আছে। নিয়ম অনুযায়ী, ই-কারের পর ভিন্ন স্বরবর্ণ (আ) থাকায় ই-কারটি য-ফলায় (্য) পরিণত হয়েছে। এই য-ফলা র-এর সাথে যুক্ত হয়ে ‘র্য’ (রেফ এবং য-ফলা) আকার ধারণ করেছে এবং ‘আলোচনা’র ‘আ’ কারের সাথে মিলে ‘পর্যালোচনা’ শব্দটি গঠিত হয়েছে। একই নিয়মে ইত্যাদি (ইতি + আদি), অত্যাবশ্যক (অতি + আবশ্যক) গঠিত হয়।
২. কারক ও বিভক্তি লিখুন:
প্রশ্ন (ক): ঝিনুকে মুক্তা আছে।
সঠিক উত্তর: অধিকরণে ৭মী।
ব্যাখ্যা:
কারক নির্ণয়ের মূল চাবিকাঠি হলো ক্রিয়াকে প্রশ্ন করা। এখানে ক্রিয়া হলো ‘আছে’। আমরা যদি ক্রিয়াকে প্রশ্ন করি—‘কোথায় আছে?’, উত্তর পাওয়া যায় ‘ঝিনুকে’। ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান, কাল বা বিষয়কে অধিকরণ কারক বলে। যেহেতু ঝিনুক একটি স্থান বোঝাচ্ছে যেখানে মুক্তা থাকে, তাই এটি অধিকরণ কারক। আর ‘ঝিনুক’ শব্দের সাথে ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত হওয়ায় এটি ৭মী বিভক্তি। মনে রাখবেন, স্থান বোঝালেই তা অধিকরণ কারক।
প্রশ্ন (খ): আলোয় আঁধার কাটে।
সঠিক উত্তর: করণ কারকে ৭মী।
ব্যাখ্যা:
এখানে ক্রিয়া হলো ‘কাটে’ (দূর হয়)। ক্রিয়াকে প্রশ্ন করুন—‘কীসের দ্বারা আঁধার কাটে?’ বা ‘কী উপায়ে আঁধার কাটে?’। উত্তর হলো ‘আলোর দ্বারা’ বা ‘আলোয়’। কর্তা যার সাহায্যে বা যে উপায়ে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এখানে আলো হলো আঁধার কাটার যন্ত্র বা উপায়। ‘আলো’ শব্দের সাথে ‘য়’ (অন্তস্থ অ-তে ৭মী বিভক্তি হয়) যুক্ত হওয়ায় এটি করণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
প্রশ্ন (গ): টাকায় টাকা আনে।
সঠিক উত্তর: কর্তৃকারকে ৭মী।
ব্যাখ্যা:
এই বাক্যটি একটু বিভ্রান্তিকর হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে টাকা বুঝি কোনো উপায়, তাই করণ কারক। কিন্তু ভালো করে লক্ষ্য করুন, এখানে ক্রিয়া হলো ‘আনে’। কে আনে? ‘টাকায়’ আনে। অর্থাৎ, এখানে টাকাকেই কর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, সেই কর্তা বা কর্তৃকারক। এখানে একটি টাকা যেন আরেকটি টাকাকে রোজগার করে আনছে। তাই ‘টাকায়’ এখানে কর্তৃকারক এবং ‘য়’ বিভক্তি থাকায় এটি ৭মী বিভক্তি।
প্রশ্ন (ঘ): রেখো মা দাসেরে মনে।
সঠিক উত্তর: কর্মে ২য়া।
ব্যাখ্যা:
মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত কবিতার লাইন এটি। এখানে ক্রিয়া হলো ‘রেখো’ বা ‘মনে রেখো’। ক্রিয়াকে প্রশ্ন করুন—‘কাকে মনে রেখো?’ উত্তর হলো ‘দাসেরে’ (নিজেকে দাস হিসেবে সম্বোধন করছেন)। যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে বা ক্রিয়ার বিষয়বস্তু যা, তাই কর্ম কারক। এখানে ‘কাকে’ প্রশ্নের উত্তরে ‘দাসেরে’ পাওয়া যাচ্ছে, তাই এটি কর্ম কারক। আর ‘দাস’ শব্দের সাথে ‘এরে’ বা ‘রে’ বিভক্তি যুক্ত হওয়ায় এটি ২য়া বিভক্তি।
প্রশ্ন (ঙ): আগুনে সেঁক দাও।
সঠিক উত্তর: করণে ৭মী।
ব্যাখ্যা:
এখানে ক্রিয়া হলো ‘দাও’ (সেঁক দাও)। প্রশ্ন করুন—‘কীসের দ্বারা সেঁক দাও?’ বা ‘কী উপায়ে সেঁক দেবে?’ উত্তর হলো ‘আগুনে’ বা ‘আগুনের দ্বারা’। আমরা জানি, ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়কে করণ কারক বলে। এখানে আগুন হলো সেঁক দেওয়ার উপায় বা মাধ্যম। তাই এটি করণ কারক। ‘আগুন’ শব্দের সাথে ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত থাকায় এটি করণে ৭মী বিভক্তি।
অংশ-২: ইংরেজি (English) অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026)
ইংরেজি অংশে বানান, শূন্যস্থান পূরণ, অনুবাদ এবং বাক্য তৈরির মতো মৌলিক বিষয়গুলো যাচাই করা হয়েছে। এখানে ইংরেজির ব্যাখ্যাসহ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026) আলোচনা করা হলো।
৬. Write the correct spelling:
- Hippopotamus: (জলহস্তী) এই শব্দটিতে অনেকেই ‘p’ এবং ‘o’-এর ব্যবহারে ভুল করেন। মনে রাখবেন, এখানে তিনটি ‘p’ আছে এবং ‘po-po’ এভাবে মনে রাখলে সুবিধা হয়।
- Conglomerate: (পুঞ্জীভূত করা) মূল শব্দটি হলো ‘Glomerate’। এর আগে ‘Con’ প্রিফিক্স যুক্ত হয়েছে। অনেকেই ‘e’ এর জায়গায় ‘a’ দিয়ে ভুল করেন।
- Maneuver: (কৌশল পরিচালনা) এটি একটি ফরাসি শব্দ থেকে এসেছে। এর বানানটি একটু জটিল। ‘eu’ এবং ‘ver’ এর অবস্থানটি ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। আমেরিকান ইংরেজিতে অনেক সময় ‘Maneuver’ লেখা হয়, কিন্তু ব্রিটিশ ইংরেজিতে ‘Manoeuvre’ ও প্রচলিত। প্রশ্নে প্রদত্ত অপশন অনুযায়ী ‘Maneuver’ সঠিক।
- Asthma: (হাঁপানি) এই শব্দে ‘th’ অনুচ্চারিত থাকে বা খুব মৃদু উচ্চারিত হয় (উচ্চারণ অনেকটা ‘অ্যাজমা’)। তাই লেখার সময় ‘th’ বাদ পড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। এটি একটি সাইলেন্ট লেটার-এর উদাহরণ।
- Reminiscence: (স্মৃতিচারণ) এই শব্দটি ‘Remind’ এর সাথে সম্পর্কিত। এখানে ‘sc’ এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ‘s’ অথবা ‘c’ এর যেকোনো একটি বাদ দিয়ে দেন। ‘Mini’ এবং ‘Scene’—এই দুটি অংশ মনে রাখলে বানানটি মনে রাখা সহজ হতে পারে।
৭. Fill in the gaps:
প্রশ্ন (ক): … Mr Jalal has been arrested.
সঠিক উত্তর: A
ব্যাখ্যা:
সাধারণত কারো নামের আগে Article বসে না। কিন্তু যখন বক্তা ওই ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে চেনেন না, শুধু নামটুকু জানেন, তখন নামের আগে ‘A’ বা ‘An’ বসে। এখানে ‘A Mr Jalal’ মানে হলো “জনাব জালাল নামে এক ব্যক্তি”। অর্থাৎ, বক্তা জালাল সাহেবকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, শুধু শুনেছেন যে এই নামের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিশেষ নিয়মটি আর্টিকেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম।
প্রশ্ন (খ): The legislation is still … draft from.
সঠিক উত্তর: in
ব্যাখ্যা:
এটি একটি Appropriate Preposition বা Phrase-এর ব্যবহার। “In draft form” মানে হলো খসড়া আকারে। যখন কোনো আইন বা দলিল চূড়ান্ত হয়নি, এখনো সংশোধনের পর্যায়ে আছে, তখন এই ফ্রেজটি ব্যবহার করা হয়। এখানে ‘from’ শব্দটি সম্ভবত প্রশ্নে ভুল প্রিন্ট হয়েছে, এটি ‘form’ হবে। সঠিক বাক্যটি হবে: “The legislation is still in draft form.”
প্রশ্ন (গ): He went … hunting.
সঠিক উত্তর: a
ব্যাখ্যা:
এটি একটি পুরনো ইংরেজির ব্যবহার যা এখনো কিছু কিছু ফ্রেজে টিকে আছে। এখানে ‘a’ মূলত preposition ‘on’-এর একটি দুর্বল রূপ। “He went a-hunting” মানে হলো “He went on hunting.” এই ধরনের ব্যবহারকে ‘Gerundial Infinitive’ বা ‘Predicative use of a’ বলা হতো। আধুনিক ইংরেজিতে এটি কম দেখা গেলেও “go a-begging”, “set the clock a-going” ইত্যাদি ফ্রেজে এখনো ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন (ঘ): We have five fingers … each hand.
সঠিক উত্তর: on
ব্যাখ্যা:
আঙুলগুলো হাতের ওপরে বা হাতের অংশ হিসেবে থাকে। যখন কোনো কিছু কোনো তলের ওপরে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে বোঝায়, তখন Preposition ‘on’ ব্যবহৃত হয়। আমাদের আঙুলগুলো হাতের তালুর সাথে বা হাতের কাঠামোর ওপরে অবস্থিত। তাই এখানে ‘in’ না হয়ে ‘on’ হবে। “On each hand” হলো সঠিক ব্যবহার।
প্রশ্ন (ঙ): Do you have any money … you?
সঠিক উত্তর: on
ব্যাখ্যা:
এটি একটি ইডিয়ম্যাটিক ব্যবহার। “Money on you” মানে হলো তোমার সাথে বা তোমার পকেটে এই মুহূর্তে টাকা আছে কিনা। এখানে ‘with’ ব্যবহার করলে গ্রামাটিক্যালি ভুল হতো না, কিন্তু নেটিভ স্পিকাররা সাধারণত এই পরিস্থিতিতে ‘on’ ব্যবহার করেন। এটি দ্বারা তাৎক্ষণিক সাথে থাকা বোঝায়।
৮. Translate into English:
প্রশ্ন (ক): আলমের পাঁচ ভাই।
সঠিক উত্তর: Alam has four brothers.
ব্যাখ্যা:
এই অনুবাদটিতে একটি সাধারণ বুদ্ধির পরীক্ষা বা ট্রিক আছে। বাংলায় যখন বলা হয় “আলমের পাঁচ ভাই”, তখন এর দুটি অর্থ হতে পারে: (১) আলমসহ তারা মোট পাঁচ ভাই, অথবা (২) আলম বাদে তার আরও পাঁচজন ভাই আছে। তবে বাঙালি সংস্কৃতিতে সাধারণত প্রথম অর্থটিই বেশি প্রচলিত। অর্থাৎ আলম এবং তার চার ভাই মিলে মোট পাঁচজন। তাই ইংরেজিতে অনুবাদ করার সময় “Alam has four brothers” (আলমের চারজন ভাই আছে) লিখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে তারা মোট পাঁচ ভাই। যদি “Alam has five brothers” লেখা হয়, তবে তারা মোট ছয় ভাই হয়ে যায়। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি বোঝা জরুরি।
প্রশ্ন (খ): বিপদ কখনো একা আসে না।
সঠিক উত্তর: Misfortune never comes alone.
ব্যাখ্যা:
এটি একটি ইংরেজি প্রবাদ বাক্য। বাংলা প্রবাদের হুবহু ইংরেজি প্রতিশব্দ ব্যবহার করতে হয়। এখানে আক্ষরিক অনুবাদ করার সুযোগ কম। “Danger never comes alone” বললেও অর্থ বোঝা যায়, কিন্তু প্রবাদ হিসেবে “Misfortune never comes alone” বা “Misfortunes never come singly” বেশি প্রচলিত এবং সঠিক।
প্রশ্ন (গ): মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় টাকার দাম কমেছে।
সঠিক উত্তর: As inflation is rising, the value of the Taka is decreasing.
ব্যাখ্যা:
এটি একটি কার্যকারণ সম্পর্কযুক্ত বাক্য। “মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায়”—এটি কারণ, তাই একে “As inflation is rising” (যেহেতু মূল্যস্ফীতি বাড়ছে) দিয়ে অনুবাদ করা হয়েছে। এখানে Present Continuous Tense ব্যবহার করা হয়েছে কারণ বাড়ার প্রক্রিয়াটি চলমান। “টাকার দাম কমেছে”—এটি ফলাফল। এর জন্য “the value of the Taka is decreasing” ব্যবহার করা হয়েছে। এখানেও চলমান প্রক্রিয়া বোঝাতে Continuous Tense ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রশ্ন (ঘ): তাকে একদিন অন্তর ঔষধ খেতে হয়।
সঠিক উত্তর: He has to take medicine on alternative days.
ব্যাখ্যা:
“একদিন অন্তর” এর ইংরেজি হলো “on alternative days” বা “every other day”। “খেতে হয়” দ্বারা বাধ্যবাধকতা বোঝানো হচ্ছে, তাই “has to” ব্যবহার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বাক্যটি দাঁড়ায়: “He has to take medicine on alternative days.” এটি একটি বহুল ব্যবহৃত ফ্রেজ।
প্রশ্ন (ঙ): সূর্য ডুবু ডুবু।
সঠিক উত্তর: The sun is about to set.
ব্যাখ্যা:
“ডুবু ডুবু” দ্বারা এমন একটি অবস্থা বোঝানো হচ্ছে যা খুব শীঘ্রই ঘটতে যাচ্ছে। ইংরেজিতে এই ধরনের আসন্ন ভবিষ্যৎ বোঝাতে “about to + verb base form” স্ট্রাকচারটি ব্যবহার করা হয়। তাই “সূর্য ডুবু ডুবু” এর সঠিক অনুবাদ হলো “The sun is about to set.”
অংশ-৩: গণিত (Mathematics) অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026)
গণিত অংশে ঐকিক নিয়ম, কাজ ও সময়, এবং বীজগণিতের সূত্র ও উৎপাদকে বিশ্লেষণ থেকে প্রশ্ন এসেছে। প্রশ্নগুলো বেসিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছে। এখানে গণিত বিষয়ে ব্যাখ্যাসহ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026) আলোচনা করা হলো।
১১. প্রশ্ন: ১৮টি ছাগলের দাম ৮টি গরুর দামের সমান হলে ৪৫টি ছাগলের পরিবর্তে কতটি গরু পাওয়া যাবে?
সমাধান:
এটি ঐকিক নিয়মের একটি সরল অঙ্ক। আমাদের ছাগলের সাথে গরুর সম্পর্ক দেওয়া আছে এবং ছাগলের পরিবর্তে গরু বের করতে হবে।
দেওয়া আছে,
১৮টি ছাগলের দাম = ৮টি গরুর দাম
∴ ১টি ছাগলের দাম = $\frac{৮}{১৮}$টি গরুর দাম
∴ ৪৫টি ছাগলের দাম = $\frac{৮ \times ৪৫}{১৮}$টি গরুর দাম
কাটাকাটি:
৯ দিয়ে ১৮ কে কাটলে ২, আর ৪৫ কে কাটলে ৫।
২ দিয়ে ৮ কে কাটলে ৪।
অবশিষ্ট থাকে ৪ × ৫ = ২০।
উত্তর: ২০টি গরু।
ব্যাখ্যা: ঐকিক নিয়মে প্রথমে একটির মান বের করে তারপর কাঙ্ক্ষিত সংখ্যার মান বের করতে হয়। এখানে সম্পর্কটি সরাসরি সমানুপাতিক। ছাগলের সংখ্যা বাড়লে গরুর সংখ্যাও আনুপাতিক হারে বাড়বে।
১২. প্রশ্ন: ২৫ জন শ্রমিক একটি কাজ ১৪ দিনে শেষ করতে পারে। ১০ দিনে কাজটি শেষ করতে হলে নতুন কতজন শ্রমিক লাগবে?
সমাধান:
এটি কাজ ও সময়ের অঙ্ক, যেখানে লোকসংখ্যা ও সময়ের মধ্যে ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক থাকে। অর্থাৎ, সময় কমাতে চাইলে লোকসংখ্যা বাড়াতে হবে।
এখানে,
১ম ক্ষেত্রে শ্রমিক সংখ্যা ($M_1$) = ২৫ জন, সময় ($D_1$) = ১৪ দিন
২য় ক্ষেত্রে সময় ($D_2$) = ১০ দিন, মোট শ্রমিক সংখ্যা ($M_2$) = ?
আমরা জানি, $M_1 \times D_1 = M_2 \times D_2$ (মোট কাজের পরিমাণ সমান)
বা, $২৫ \times ১৪ = M_2 \times ১০$
বা, $M_2 = \frac{২৫ \times ১৪}{১০}$
কাটাকাটি:
৫ দিয়ে ২৫ কে কাটলে ৫, ১০ কে কাটলে ২।
২ দিয়ে ১৪ কে কাটলে ৭।
অবশিষ্ট থাকে ৫ × ৭ = ৩৫।
সুতরাং, ১০ দিনে কাজটি শেষ করতে মোট ৩৫ জন শ্রমিক লাগবে।
আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে “নতুন কতজন শ্রমিক লাগবে”।
আগে শ্রমিক ছিল ২৫ জন, এখন লাগছে ৩৫ জন।
∴ নতুন শ্রমিক লাগবে = ৩৫ – ২৫ = ১০ জন।
উত্তর: ১০ জন।
ব্যাখ্যা: এই অঙ্কে অনেকেই মোট শ্রমিক সংখ্যা ৩৫ বের করে সেটাকেই উত্তর দিয়ে আসেন। কিন্তু প্রশ্নে “নতুন কতজন” চেয়েছে, তাই আগের শ্রমিক সংখ্যা বিয়োগ করতে হবে। এই ছোট ভুলটি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
১৩. প্রশ্ন: $a^2 + b^2 = ab$ হলে $a^3 + b^3 = ?$
সমাধান:
এটি বীজগণিতের মান নির্ণয়ের একটি অঙ্ক। আমাদের একটি শর্ত দেওয়া আছে এবং একটি রাশির মান বের করতে হবে।
দেওয়া আছে, $a^2 + b^2 = ab$
বা, $a^2 – ab + b^2 = 0$ (ab কে বাম পাশে এনে পাই)
প্রদত্ত রাশি = $a^3 + b^3$
আমরা জানি, $a^3 + b^3$ এর উৎপাদকের সূত্র হলো: $(a + b)(a^2 – ab + b^2)$
এখন, এই সূত্রে আমরা প্রাপ্ত মানটি বসিয়ে পাই:
= $(a + b) \times 0$ [যেহেতু, $a^2 – ab + b^2 = 0$]
= $0$
উত্তর: ০।
ব্যাখ্যা: এই অঙ্কের মূল কৌশল হলো দেওয়া শর্তটিকে ($a^2 + b^2 = ab$) একটু সাজিয়ে নেওয়া। যখনই দেখবেন $a^2 – ab + b^2$ বা $a^2 + ab + b^2$ এর মান শূন্য আসছে, তখন বুঝবেন ঘন এর সূত্র ($a^3 \pm b^3$) প্রয়োগ করলেই উত্তর শূন্য হয়ে যাবে। এটি একটি খুব কমন প্যাটার্নের অঙ্ক।
১৪. প্রশ্ন: উৎপাদকে বিশ্লেষণ করুন: $27x^2 + 15x – 2$
সমাধান:
এটি একটি দ্বিঘাত রাশির উৎপাদকে বিশ্লেষণ, যা সাধারণত ‘মিডল টার্ম ব্রেক’ (Middle Term Break) পদ্ধতিতে করা হয়।
প্রদত্ত রাশি: $27x^2 + 15x – 2$
নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পদের সহগ (27) এবং শেষ পদ (-2) গুণ করতে হবে।
গুণফল = $27 \times (-2) = -54$
এখন, মাঝের পদ অর্থাৎ $15x$-কে এমন দুটি অংশে ভাঙতে হবে, যাদের যোগফল বা বিয়োগফল হবে $15x$ এবং গুণফল হবে $-54x^2$।
আমরা যদি $+18x$ এবং $-3x$ নিই, তবে:
যোগফল: $18x – 3x = 15x$ (মিলেছে)
গুণফল: $18x \times (-3x) = -54x^2$ (মিলেছে)
সুতরাং, আমরা লিখতে পারি:
$= 27x^2 + 18x – 3x – 2$
এখন প্রথম দুটি পদ থেকে কমন নেওয়া যায় $9x$:
$= 9x(3x + 2)$
শেষ দুটি পদ থেকে কমন নেওয়া যায় $-1$:
$= -1(3x + 2)$
উভয় অংশ থেকে $(3x + 2)$ কমন নিলে পাই:
$= (3x + 2)(9x – 1)$
উত্তর: $(3x + 2)(9x – 1)$
ব্যাখ্যা: মিডল টার্ম ব্রেকের ক্ষেত্রে নামতা জানা খুব জরুরি। ৫৪ এর উৎপাদকগুলো (১×৫৪, ২×২৭, ৩×১৮, ৬×৯) মনে মনে চিন্তা করলেই ৩ এবং ১৮ এর জোড়াটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। চিহ্নের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। যেহেতু গুণফল ঋণাত্মক (-54), তাই ভাঙা অংশ দুটির একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক হবে।
এখানে ইংরেজির ব্যাখ্যাসহ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026) আলোচনা করা হলো।
অংশ-৪: সাধারণ জ্ঞান (General Knowledge) অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026)
সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল এবং সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে প্রশ্ন এসেছে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এক কথায় বা সংক্ষেপে দিতে বলা হলেও, আমি আপনাদের বোঝার সুবিধার জন্য সাধারণ জ্ঞানের ব্যাখ্যাসহ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026) বিস্তারিত প্রেক্ষাপটসহ আলোচনা করছি।
১৫. সংক্ষেপে উত্তর দিন:
প্রশ্ন (ক): হরমুজ প্রণালী কিসের জন্য বিখ্যাত? এটি কোন দুটি সাগরকে যুক্ত করেছে?
ব্যাখ্যা:
হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ বা ‘চোকপয়েন্ট’। এটি বিখ্যাত কারণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)-এর এক-তৃতীয়াংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভূ-রাজনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। এই প্রণালীটি পারস্য উপসাগর (Persian Gulf) এবং ওমান উপসাগর (Gulf of Oman)-কে যুক্ত করেছে। এর উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের মুসান্দাম ছিটমহল অবস্থিত।
প্রশ্ন (খ): সম্প্রতি আমেরিকা কর্তৃক অপহৃত ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টের নাম কি? এ লক্ষ্যে পরিচালিত অপারেশনের নাম কি?
ব্যাখ্যা:
এখানে প্রশ্নে তথ্যের কিছুটা বিভ্রান্তি থাকতে পারে। আমেরিকা সরাসরি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে ‘অপहरण’ করেনি, তবে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে বিপুল পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ভেনিজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম নিকোলাস মাদুরো (Nicolás Maduro)। তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য এবং ভেনিজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নামে আমেরিকা ও তার মিত্ররা যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযান চালিয়েছিল, তার একটি বড় অংশকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রেজোলিউশন’ (Operation Absolute Resolution) বা অনুরূপ নামে অভিহিত করেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে এটি কোনো একক সামরিক অভিযানের নাম নয়, বরং একটি সামগ্রিক নীতিগত পদক্ষেপ।
প্রশ্ন (গ): বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপের নাম কি এবং এটি বর্তমানে কোন দেশের মালিকানায় আছে?
ব্যাখ্যা:
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপের নাম গ্রিনল্যান্ড (Greenland)। এটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত, আর্কটিক এবং আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে। যদিও ভৌগোলিকভাবে এটি আমেরিকার কাছে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এটি ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের (Denmark) একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব সরকার ও সংসদ আছে, তবে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষার মতো বিষয়গুলো ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। দ্বীপটির সিংহভাগই বরফে ঢাকা।
প্রশ্ন (ঘ): জাতিসংঘের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কত সালে? ইউনিয়ন পরিষদ কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত?
ব্যাখ্যা:
এই প্রশ্নে দুটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে।
প্রথম অংশ: জাতিসংঘের প্রথম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংস্থার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে (লন্ডনে)। এর আগে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় অংশ: বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদ। একটি ইউনিয়ন পরিষদ মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ১ জন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৯ জন নির্বাচিত সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন নির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (প্রতি ৩টি ওয়ার্ডের জন্য ১ জন) থাকেন।
প্রশ্ন (ঙ): বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রের নাম কি এবং বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের নাম কি?
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও, প্রমাণিত মজুদের দিক থেকে বর্তমানে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র (Bibiyana Gas Field) কে বৃহত্তম হিসেবে গণ্য করা হয় (যদিও একসময় তিতাসকে বৃহত্তম বলা হতো এবং প্রশ্নে তিতাস উত্তর দেওয়া থাকতে পারে, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিবিয়ানা বেশি সঠিক)। আর বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় (অফশোর) আবিষ্কৃত প্রথম এবং একমাত্র উৎপাদনে যাওয়া গ্যাসক্ষেত্রটি হলো সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র (Sangu Gas Field)। এটি বঙ্গোপসাগরে চট্টগ্রামের নিকটে অবস্থিত। যদিও বর্তমানে এই ক্ষেত্রটি থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।
প্রশ্ন (চ): রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ে মিয়ানমারের বিচার হচ্ছে কোন আদালতে? কোন দেশ এ মামলা দায়ের করেছে?
ব্যাখ্যা:
মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যা ও নৃশংসতার বিচার হচ্ছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (ICJ) বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে। এই আদালতটি নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত। মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসি (OIC)-এর পক্ষে আফ্রিকার ক্ষুদ্র দেশ গাম্বিয়া (Gambia) ২০১৯ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক মামলাটি দায়ের করে।
প্রশ্ন (ছ): কোন নদীর উপর ভারত গজলডোবা বাঁধ নির্মাণ করেছে? গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে কত সালে?
ব্যাখ্যা:
ভারত বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের লাইফলাইন তিস্তা নদীর (Teesta River) উজানে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করেছে। এই বাঁধের মাধ্যমে ভারত তিস্তার পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে তীব্র পানিসংকট দেখা দেয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। সেই অনুযায়ী এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে।
প্রশ্ন (জ): আসিয়ান দেশ বলতে কোন অঞ্চলের দেশসমূহ বুঝায়? সম্প্রতি এ অঞ্চলের কোন দুটি দেশ যুদ্ধে জড়িয়েছে?
ব্যাখ্যা:
আসিয়ান (ASEAN – Association of Southeast Asian Nations) বলতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোটকে বোঝায়। দেশগুলো হলো—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়া।
সম্প্রতি এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো আন্তঃরাষ্ট্রীয় যুদ্ধ শুরু হয়নি। তবে মিয়ানমারে সামরিক জান্তা ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র গৃহযুদ্ধ চলছে, যার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোতেও পড়ছে। প্রশ্নে হয়তো এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত বা থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তের পুরোনো বিরোধের দিকে ইঙ্গিত করা হতে পারে, তবে সাম্প্রতিক বড় কোনো যুদ্ধের ঘটনা নেই।
প্রশ্ন (ঝ): বাংলাদেশের উপর দিয়ে কোন দ্রাঘিমা রেখা অতিক্রম করেছে? উক্ত দ্রাঘিমা রেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার ছেদবিন্দু কোন জেলায় অবস্থিত?
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের ওপর দিয়ে একাধিক দ্রাঘিমারেখা গেছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ মান হিসেবে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা (90° East Longitude)-র কথা বলা হয়, যা বাংলাদেশের প্রায় মধ্যাঞ্চল দিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ বা কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer)-ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গেছে। এই ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং কর্কটক্রান্তি রেখার ছেদবিন্দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা (Bhanga) উপজেলায় অবস্থিত। এই স্থানটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন (ঞ): মানব নির্মিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খালের নাম কি? প্রাকৃতিকভাবে তৈরি গ্র্যান্ড ক্যানেল কোন দেশে অবস্থিত?
ব্যাখ্যা:
মানব নির্মিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় (দীর্ঘতম) খাল হলো চীনের গ্র্যান্ড ক্যানেল (Grand Canal)। এটি বেইজিং থেকে হ্যাংঝু পর্যন্ত বিস্তৃত এবং প্রায় ১,৭৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বিশ্ববিখ্যাত ‘গ্র্যান্ড ক্যানেল’ (যেটি মূলত একটি বিশাল গিরিখাত বা Canyon) যুক্তরাষ্ট্রের (USA) অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। এটি কলোরাডো নদীর স্রোত দ্বারা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তৈরি হয়েছে। প্রশ্নে সম্ভবত এই প্রাকৃতিক বিস্ময়ের কথাই জানতে চাওয়া হয়েছে।
উপসংহার:
প্রিয় পরীক্ষার্থীরা, এই ছিল ১৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ MCQ প্রশ্ন উত্তর ও লিখিত পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ। আশা করি, এখানে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান ২০২৬ (Office Assistant Cum Computer Typist Question Solution 2026) আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ছেন। যারা পরীক্ষা দিয়েছেন, তারা মিলিয়ে নিন কত নম্বর পেতে পারেন। আর যারা ভবিষ্যতে এই ধরনের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ একটি রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে।
মনে রাখবেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য একদিনে আসে না। নিয়মিত অধ্যবসায়, সঠিক গাইডলাইন এবং বেসিক কনসেপ্ট ক্লিয়ার করাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আপনাদের সবার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। পরবর্তী যেকোনো পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধানের জন্য আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।
