সচিবালয় ভাতা বনাম ৯ম পে স্কেল । কর্মচারীদের জন্য কোনটি প্রয়োজন বেশি?

ফেসবুকে এখন তোলপাড় চলছে। চায়ের দোকান থেকে অফিসের টেবিল সবখানেই একই আলোচনা। একজন নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি সরকারি চাকরিজীবীদের নেতা ছিলেন। কিন্তু কেন তিনি গ্রেফতার হলেন? তিনি কি সবার জন্য লড়াই করছিলেন? নাকি নিজের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের জানা দরকার। বিশেষ করে আপনি যদি সরকারি চাকরিজীবী হোন। বিষয়টি কেবল একজন ব্যক্তির গ্রেফতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে আপনার এবং আমার চাকরির ভবিষ্যৎ। জড়িয়ে আছে আমাদের মাসের শেষের বাজারের ফর্দ। জড়িয়ে আছে আমাদের সন্তানদের স্কুলের বেতন।

আজ আমরা এই বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করব। কোনো কঠিন শব্দ ব্যবহার করব না। কোনো জটিল হিসাব নিকাশ করব না। একদম সাদা চোখে দেখব আসল ঘটনাটা কী। আমরা এখানে দেখব যে ‘সচিবালয় ভাতা বনাম ৯ম পে স্কেল’এর মধ্যকার বিশাল ফারাকটা কোথায়।

সচিবালয় ভাতা বনাম ৯ম পে স্কেল । কর্মচারীদের জন্য কোনটি প্রয়োজন বেশি
সচিবালয় ভাতা বনাম ৯ম পে স্কেল । কর্মচারীদের জন্য কোনটি প্রয়োজন বেশি

ভাইরাল ঘটনা যা আমাদের চোখ খুলে দিল

কয়েকদিন আগের কথা। সচিবালয়ের ভেতরে এক অদ্ভুত নাটক মঞ্চস্থ হলো। একজন নেতা এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে সচিবালয় ভাতার জন্য অর্থ উপদেষ্টাকে ঘিরে ধরলেন। দাবি একটাই সচিবালয় ভাতা দিতে হবে। তাও আবার এখনই।

তারা হয়তো ভেবেছিলেন, জোর করলেই সব পাওয়া যায়। তারা ভেবেছিলেন, সবাইকে ভয় দেখিয়ে দাবি আদায় করা যাবে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিলেন, সময় বদলেছে। এখন আর গায়ের জোর খাটে না।

ফলাফল কী হলো? পুলিশ শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করল। তার হাতে হাতকড়া পড়ল। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই হয়তো খুশি হয়েছেন। আবার অনেকেই অবাক হয়েছেন।

কিন্তু আমি বলব, এই ঘটনা আমাদের একটা বড় শিক্ষা দিয়েছে। এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, স্বার্থপরতা কখনো ভালো ফল বয়ে আনে না। যখন আপনি সবার কথা না ভেবে শুধু নিজের কথা ভাববেন, তখন আপনার পতন অনিবার্য। 

সচিবালয় ভাতা বনাম ৯ম পে স্কেল

আমরা এখানে সচিবালয় ভাতা বনাম ৯ম পে স্কেল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব যেখানে আপনি নিচ থেকে এই দুইয়ের মধ্যে তফাৎ বুঝতে পারবেন।

সচিবালয় ভাতা

আসুন আগে বুঝি, সচিবালয় ভাতা জিনিসটা আসলে কী। সহজ কথায়, ইহা শুধু সচিবালয় কর্মচারীদের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা। যারা সচিবালয়ের চার দেয়ালের ভেতর কাজ করেন, তারা এই সুবিধা দাবি করেন। আর বাইরের কর্মচারীদের জন্য তারা আর ভাবেনা। 

সচিবালয় ভাতা চাওয়ার পেছনে যুক্তি হলো- তারা নীতিনির্ধারণী কাজ করেন। তাদের কাজের চাপ বেশি। তাই তাদের বেতন বা ভাতার পরিমাণ অন্যদের চেয়ে বেশি হওয়া উচিত। তারা মূল বেতনের একটা বড় শতাংশ (যেমন ২০%) বাড়তি চান।

শুনতে হয়তো খুব একটা খারাপ লাগছে তাই না। কেউ যদি বেশি কাজ করে, সে বেশি পেতেই পারে। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়।

সরকারি চাকরি কি কেবল সচিবালয়েই হয়? একদম না। সচিবালয়ের বাইরে বিশাল এক জগত আছে। যাকে আমরা বলি ‘মাঠ প্রশাসন’ বা ফিল্ড লেভেল।

একজন ডিসি অফিস বা উপজেলা নির্বাহী অফিসের কর্মচারী। একজন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক। একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। একজন হাসপাতালের নার্স। তারা কি কাজ করেন না? তাদের কি কাজের চাপ নেই?

সচিবালয় যদি মাথা হয়, তবে মাঠ প্রশাসন হলো হাত-পা। মাথা ছাড়া যেমন শরীর অচল, তেমনি হাত-পা ছাড়াও শরীর অচল। তাহলে কেন কেবল মাথার যত্ন নেওয়া হবে? কেন হাত-পা অবহেলিত থাকবে?

এই সচিবালয় ভাতা মূলত একটি বৈষম্য। ইহা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে। ইহা বলে দেয়-“আমরা সেরা, তোমরা সাধারণ।” এই মানসিকতা একটি স্বাধীন দেশের জন্য ভয়ঙ্কর।

৯ম পে স্কেল

এখন আসি আসল কথায়। আমাদের আসলে কী দরকার? সচিবালয় ভাতা? নাকি ৯ম পে স্কেল?

উত্তরটা খুব সোজা। আমাদের দরকার ৯ম পে স্কেল।

পে স্কেল মানে হলো পুরো বেতন কাঠামোর পরিবর্তন। এই বেতন কাঠামো কারো একার জন্য নয়। ৯ম পে স্কেল সচিবালয়ের বড় কর্তা থেকে শুরু করে গ্রামের ইউনিয়ন অফিসের পিয়ন পর্যন্ত যা সবার জন্যই প্রযোজ্য।

সর্বশেষ পে স্কেল হয়েছিল ২০১৫ সালে। অর্থাৎ আজ থেকে ১০ বছর আগে। ভাবুন তো, ২০১৫ সালের ১০০ টাকার নোটের যে ক্ষমতা ছিল, ২০২৫ সালে কি তার অর্ধেকও আছে?

তখন এক কেজি চালের দাম যা ছিল, এখন তা দ্বিগুণ। মাছ-মাংসের কথা তো বাদই দিলাম। কাঁচা মরিচের দাম শুনলে এখন হার্ট অ্যাটাক হওয়ার জোগাড় হয়।

এই ১০ বছরে আমাদের বেতন বাড়েনি সেভাবে। কিন্তু খরচ বেড়েছে রকেটের গতিতে। প্রতি বছর যে সামান্য ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়, তা দিয়ে বাজারের এক সপ্তাহের খরচও মেটানো যায় না।

এই পরিস্থিতিতে ৯ম পে স্কেল কোনো বিলাসিতা নয়। ৯ম পে স্কেল আমাদের বাঁচার অধিকার। ইহা আমাদের পরিবারের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার লড়াই।

বাজারের আগুন বনাম আমাদের পকেট

আসুন একটু বাস্তবের মাটিতে পা ফেলি।

ধরুন, আপনি একজন ৩য় বা ৪র্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী। মাস শেষে আপনি হাতে কত টাকা পান? ২০ হাজার? ২৫ হাজার?

শহরের বুকে একটা ছোট বাসা ভাড়া নিতে গেলেই চলে যায় ১০-১২ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল ইত্যাদি দিতে দিতেই পকেট অর্ধেক ফাঁকা হয়ে যায়। 

বাকি টাকা দিয়ে পুরো মাস চলতে হয়। সকালে নাস্তা, দুপুরে ভাত, রাতে রুটি খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয়। এর মধ্যে যদি কেউ অসুস্থ হয়? ডাক্তারের ফি ৫০০ টাকার নিচে নেই। ওষুধের দাম তো আকাশছোঁয়া।

বাচ্চাদের স্কুলের খরচ আছে। প্রাইভেট টিউটরের বেতন আছে। খাতা-কলম কেনা আছে। ঈদের সময় বা পূজার সময় নতুন জামা কেনা তো এখন স্বপ্নের মতো মনে হয়।

এই পরিস্থিতিতে যদি কেবল সচিবালয় ভাতা কার্যকর হয়, তবে লাভ কার? মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে আপনি? আমি? আমাদের কী হবে? আমাদের পকেটের ছিদ্র তো আর বন্ধ হবে না।

তাই আমাদের দাবি হতে হবে এমন কিছু, যা সবার উপকারে আসে। আর সেটাই হলো ৯ম পে স্কেল।

নেতার ভুল এবং আমাদের শিক্ষা

যে নেতা গ্রেফতার হলেন, তিনি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে খারাপ লোক নন। কিন্তু তার কৌশল ভুল ছিল। তিনি চেয়েছিলেন শর্টকাটে সুবিধা (সচিবালয় ভাতা) আদায় করে নিতে। 

তিনি ভেবেছিলেন, সচিবালয়ের লোকদের খুশি করতে পারলেই তার ক্ষমতা বাড়বে। তিনি মাঠ পর্যায়ের লাখ লাখ কর্মচারীর ৯ম পে স্কেলের কথা ভাবেননি। তিনি ভুলে গিয়েছিলেন যে, প্রকৃত নেতা সবার কথা ভাবেন। অথচ তিনি যদি লাখ লাখ কর্মচারীর জন্য পে স্কেলের ব্যাপারে সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানাতেন তাহলে হয়তো সরকার আমাদের প্রতি সদয় হতেন। কিন্তু তার ভুলের জন্য বিষয়টি উলটো হয়ে গেল। 

তিনি যদি সেদিন অর্থ উপদেষ্টার কাছে গিয়ে বলতেন যে “স্যার, ১০ বছর হয়ে গেল। আমাদের পে স্কেল দিন। আমরা আর চলতে পারছি না।” তাহলে কী হতো?

সারা দেশের সরকারি কর্মচারীরা তার পাশে এসে দাঁড়াত। তাকে গ্রেফতার করার সাহস কেউ পেত না। কারণ তার পেছনে থাকত লাখো মানুষের সমর্থন।

কিন্তু তিনি চাইলেন শুধু ‘সচিবালয় ভাতা’। তিনি নিজেকে আলাদা করে ফেললেন। তিনি একা হয়ে গেলেন। আর একা মানুষ কখনোই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সাথে পারে না।

এই বিষয়টি আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। ভবিষ্যতে যারাই আমাদের নেতা হবেন, তাদের মনে রাখতে হবে-বিভাজন করে নেতা হওয়া যায় না। সবাইকে সাথে নিয়ে এগোতে হয়।

বৈষম্যের দেয়াল ভাঙতে হবে

আমাদের প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে একটি অদৃশ্য দেয়াল আছে। ক্যাডার বনাম নন-ক্যাডার। সচিবালয় বনাম মাঠ প্রশাসন।

এই দেয়াল আমাদের দুর্বল করে দিচ্ছে। আমরা এক টেবিলে বসে কাজ করি। কিন্তু আমাদের সুযোগ-সুবিধা আলাদা। এটা কি মেনে নেওয়া যায়?

একই বাজারে আমরা বাজার করি। সচিবালয়ের বসের জন্য আলুর দাম যা, আমার জন্যও তাইই। বাস ভাড়া সবার জন্য সমান। রিকশা ভাড়া সবার জন্য সমান। তাহলে বেতন বা ভাতার বেলায় কেন এই আকাশ-পাতাল তফাৎ থাকবে?

৯ম পে স্কেল এই বৈষম্য কমাতে পারত। পে স্কেলে সাধারণত নিচের দিকের গ্রেডগুলোর বেতন বেশি হারে বাড়ানো হয়। এতে সাধারণ কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হয়।

কিন্তু সচিবালয় ভাতা কেবল ওপরতলার মানুষদের আরও ওপরে তুলে দেয়। আর নিচের তলার মানুষরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। এই ব্যবধান আর বাড়তে দেওয়া যায় না।

কেন ৯ম পে স্কেল নিয়ে টালবাহানা?

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে ৯ম পে স্কেল দেওয়ার জন্য সরকারের ফান্ডে টাকা নেই। অর্থনীতির অবস্থা ভালো না। এখন ৯ম পে স্কেল দেওয়া সম্ভব না।

আমরা মানছি, দেশের পরিস্থিতি কঠিন। কিন্তু প্রশ্ন হলো উন্নয়ন কার জন্য? যদি দেশের মানুষই ঠিকমতো খেতে না পারে, তবে বড় বড় দালান দিয়ে কী হবে?

সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রের ইঞ্জিন। ইঞ্জিন যদি তেল না পায়, তবে গাড়ি চলবে কিভাবে? কর্মচারীরা যদি পেটের চিন্তায় অস্থির থাকে, তবে তারা কাজে মন দেবে কিভাবে?

দুর্নীতি কমলে টাকা পাওয়া যাবে। অপচয় কমলে টাকা পাওয়া যাবে। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়, তখন টাকার অভাব হয় না। কিন্তু কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর কথা এলেই ধানাই-পানাই শুরু হয়।

এই টালবাহানা বন্ধ হওয়া দরকার। পে কমিশন গঠন যেহেতু গঠন করা হয়েছে তাই সকল কর্মচারীর বেতনের ব্যাপারে সমাধান করা দরকার। বাজার দর যাচাই করে একটি সুষ্ঠু কাঠামো দাঁড় করা দরকার। এবং সেই অনুযায়ী একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো ঘোষণা করা দরকার।

সচিবালয় ভাতা: এক সুগভীর ষড়যন্ত্র?

সচিবালয় ভাতা কি এক সুগভীর ষড়যন্ত্র? অনেকে মনে করেন, সচিবালয় ভাতার এই দাবিটি আসলে একটি ফাঁদ। ইহা সরকারি কর্মচারীদের ঐক্য ভাঙার একটি ষড়যন্ত্র।

যখনই পে স্কেলের দাবি ওঠে, তখনই একটি গোষ্ঠী সচিবালয় ভাতার কথা তোলে। কেন? যাতে মূল ফোকাসটা সরে যায়।

সরকার তখন ভাবে “আচ্ছা, এদের কিছু একটা দিয়ে শান্ত করি।” তখন হয়তো সচিবালয় ভাতা বা অন্য কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। এতে সচিবালয়ের কর্মীরা খুশি হয়ে চুপ হয়ে যায়।

যেহেতু সচিবালয়ই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু, তাই তারা চুপ থাকলে আর কোনো আন্দোলন দানা বাঁধে না। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা চিৎকার করলেও তাদের কথা ঢাকায় পৌঁছায় না।

এভাবেই বছরের পর বছর ধরে পে স্কেল পিছিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা বোকার মতো নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছি। “ও কেন ভাতা পেল, আমি কেন পেলাম না” এই নিয়ে আমাদের মন কষাকষি। আর লাভের গুড় খাচ্ছে তৃতীয় পক্ষ।

আমাদের করণীয় কী?

এখন সময় এসেছে জেগে উঠার। সময় এসেছে ভুল শুধরে নেওয়ার। তাই ৯ম পে স্কেল পাওয়ার জন্য আমাদের কিছু করণীয় রয়েছেঃ 

১. বিভাজন ভুলে যান: আপনি সচিবালয়ে কাজ করেন নাকি উপজেলায়, সেটা বড় কথা নয়। আপনি সরকারি কর্মচারী। আপনার সমস্যা আর আমার সমস্যা এক।

২. সঠিক দাবি তুলুন: আমাদের মুখে একটাই কথা থাকতে হবে আর তা হচ্ছে ৯ম পে স্কেল। কোনো বিশেষ ভাতা নয়। কোনো খুচরো সুবিধা নয়। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই যা কেবল ৯ম পে স্কেল ঘোষণার মাধ্যমেই সমাধান হবে। 

৩. বাজারের সাথে সামঞ্জস্য: আমরা এমন পে স্কেল চাই যা বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ৫ বছর পর পর পে স্কেল রিভাইজ বা পরিবর্তন করতে হবে।

৪. মহার্ঘ ভাতা: পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে যদি সময় লাগে, তবে এখনই ‘মহার্ঘ ভাতা’ (Dearness Allowance) চালু করতে হবে। ইহা সবার অধিকার। এটি কোনো দয়া নয়। মুদ্রাস্ফীতির সাথে পাল্লা দিতে এটি জরুরি হয়ে পড়েছে।

৫. নেতৃত্ব নির্বাচন: এমন নেতা বাছাই করতে হবে যিনি নিজের পকেটের কথা ভাববেন না। যিনি মন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারবেন। যিনি সবার স্বার্থ রক্ষা করবেন।

আশার আলো এবং আগামীর পথ

হতাশ হওয়ার কিছু নেই। রাত যত গভীর হয়, ভোর তত কাছে আসে। আজ যে নেতা গ্রেফতার হয়েছেন, তার পতনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা এখন বুঝতে পারছি সঠিক পথ কোনটি।

সরকারও এখন বুঝতে পারছে যে, কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। এই ক্ষোভকে আর চেপে রাখা যাবে না।

আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া ভালো। কিন্তু সেটাই সব নয়। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে হবে। সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।

মনে রাখবেন, এক তলা থেকে দশ তলা সবাই মিলে যদি আওয়াজ তুলি, তবে সেই আওয়াজ কেউ উপেক্ষা করতে পারবে না।

সচিবালয় ভাতা আমাদের লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য একটি সুন্দর জীবন। আমাদের লক্ষ্য সম্মান। আমাদের লক্ষ্য পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।

৯ম পে স্কেল আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। তাই আসুন, ছোটখাটো স্বার্থ ভুলে আমরা বড় লক্ষ্যের দিকে তাকাই।

যেদিন আমরা সবাই এক হয়ে বলব”আমাদের পে স্কেল দিন” সেদিন আর কোনো অজুহাত টিকবে না। সেদিন আমাদের অধিকার আমাদের হাতে ধরা দেবেই।

আসুন, আমরা সচেতন হই। আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা আমাদের প্রাপ্য অধিকার বুঝে নিই।

শেষ কথা

ভাইরাল হওয়া সেই পোস্টে আমি বলেছিলাম, “উনি কাজটি ঠিক করেননি।” আজ আবার বলছি, তিনি ঠিক করেননি। তিনি আমাদের ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

কিন্তু আমরা আর ভুল পথে যাব না। আমরা সোজা পথে হাঁটব। যে পথ আমাদের সম্মানের। যে পথ আমাদের অধিকারের।

৯ম পে স্কেল আসুক। বৈষম্য দূর হোক। বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি কর্মচারী শান্তিতে কাজ করুক। এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।


(এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার জন্য। আপনার মতামত এবং যুক্তি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আসুন সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ গড়ে তুলি।)

Author

  • Daily ICT News Reporter

    The dailyictpost.com team presents job recruitment notices, various government and private job question solutions, government post activities and technology-based information in simple and practical language. Along with this, we explain ICT, mobile, computer, apps, online income, digital tools, government services, national elections and cyber security-related issues in such a way that the reader can understand and learn.

    We believe that learning technology is not difficult, if it is explained correctly. Therefore, we present complex topics like using new software, mobile settings or digital marketing step by step in such a language that it feels like someone is sitting next to you and explaining it in a simple way.

    Our goal is only one - that the reader gets accurate information, learns with confidence and can use that knowledge in real life.

Visited 45 times, 1 visit(s) today